Home » আন্তর্জাতিক » ফুকুশিমার প্রতিক্রিয়া – পঙ্গু শিশুর জন্ম, মৃত্যুহার বৃদ্ধি আর বিকৃত সব্জি

ফুকুশিমার প্রতিক্রিয়া – পঙ্গু শিশুর জন্ম, মৃত্যুহার বৃদ্ধি আর বিকৃত সব্জি

nuclearজাপানে ২০১১ সালের সুনামিতে ফুকুশিমা পারমাণবিক প্লান্টের ক্ষতিটি ছিল বিপর্যয়কর। ওই এলাকার আশপাশে প্রবীণ লোকদের মৃত্যুহার তিন গুণ বেড়েছে। পঙ্গু শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। খুব সম্ভবত তেজস্ক্রিয় মাটিতে খেলার কারণে শিশুদের পা খোঁড়া হয়ে যাচ্ছে। ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়তার শিকার হচ্ছে অন্য দেশের নবজাতকেরা পর্যন্ত। শিশুদের কণ্ঠস্বরে নানা ধরণের সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

ফুকুশিমার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া খাদ্য শৃঙ্খলেও দেখা যাচ্ছে এবং তা বেশ ভালোভাবেই। অনলাইনে জাপানের বিকৃত সব্জির অনেক ছবি দেখা যায়। টমেটোতে পিণ্ড, দ্বিগুণ আকারের পিচ, বিশালাকার পাতাকপি, পাঁচটি আঙুলযুক্ত শালগম, বীভৎস রূপের সূর্যমুখী ইত্যাদি এখন সাধারণ দৃশ্য। ফুকুশিমা পারমাণবিক প্লান্টের কাছে ভূগর্ভস্থ পানিতে উচ্চমাত্রায় বিষাক্ত তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ পাওয়া গেছে। এই দূষিত পানি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

অর্থাৎ এত দিন পরও ফুকুশিমা পারমাণবিক চুল্লি বিপর্যয়ের রেশ কাটেনি। এখনো নানা ধরণের বিপদ ছড়াচ্ছে। কেবল জাপানে নয়, বৈশ্বিক প্রতিবেশেও হুমকি সৃষ্টি করে চলেছে।

এমনকি প্লান্টটি থেকে এখনো মাঝে মাঝে তেজস্ক্রিয় পানি নির্গত হয়। প্লান্টটির পরিচালনা কোম্পানি টেপকো অবশ্য মনে করছে, বৃষ্টি পানি বাষ্পীভূত হয়ে সাম্প্রতিকতম তেজস্ক্রিয় নির্গমনের কারণ ঘটিয়েছে। কিন্তু নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞরা তা মনে করেন না।

কর্মকর্তারা অনেকবারই আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন যে বাণিজ্যি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্লান্ট কখনো বিস্ফোরিত হয় না। কিন্তু তাদের এই আশ্বাসের বিপরীতে সুনামিতে এক, দুই ও তিন নম্বর চুল্লি বিস্ফোরিত হয়েছিল। টেপকো প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছিল, ২০১১ সালের ১১ মার্চের বিপর্যয়ের পর থেকে সাগরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল। বিপর্যয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় অকুস্থলের কাছাকাছি একটি স্থানে সিজিয়ামের মাত্র ৯০ গুণ বেশি দেখা গিয়েছিল।

সম্প্রতি ফুকুশিমার সাবেক প্রধান অপারেটর মাসাও ইয়োশিদা মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি অন্ত্রনালীর ক্যান্সারে ভুগছিলেন। চুল্লি কমপ্লেক্সে যখন একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটছিল, তখন তিনি বীরের মতো দৃঢ়ভাবে কমান্ড পোস্টে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন। টেপকো দাবি করছে, এই লোকটির ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুবরণের সঙ্গে ফুকুশিমার তেজস্ক্রিয়তার সম্ভবত কোনো সম্পর্ক নেই।

অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্লান্টটিতে এবং আশপাশে কর্মরতদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাছাড়া আরেকটি বিপর্যয় এখনো ওত পেতে আছে। সুনামিতে চার নম্বর ইউনিটটি বিস্ফোতি হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ভবনটির কাঠামোতেও ক্ষতি ঘটেছিল। সেখানে জমা থাকা কয়েক টন উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বড় ধরণের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে আরেকটি ভূমিকম্প বা সুনামি যদি আঘাত করে, তবে ভবনটি টিকে থাকতে পারবে না। সেক্ষেত্রে ওই তেজস্ক্রিয় দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়বে। কেবল জাপানে নয়, আশপাশের অনেক দেশে তা বিপর্যয় বয়ে আনবে।

অর্থাৎ, ফুকুশিমা পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে যেকোনো সময়ে।।

(ওয়েবসাইট অবলম্বনে)

১টি মন্তব্য

  1. Amar mone hoy ”Amader Budhbar” Saptahik Budhbar er porimarjito rup, jai hok. Amader Budhbarer Analysis amar khub valo lage. amikoek din theke niomito porci. Authority ke onek Dhonnobad.