Home » অর্থনীতি » ভবন ধসে জীবিত ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সীমাহীন দুর্গতি

ভবন ধসে জীবিত ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সীমাহীন দুর্গতি

কিন্তু রানাদের খবর কি?

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

rana plazaতিন মাস অতিক্রম করলো সাভারের নির্মম, নৃংশস মানবসৃষ্ট এক হত্যাযজ্ঞ। এই তিন মাসে নানা ঘটনা ঘটেছে, এখনো হাসপাতালে রয়েছেন সেই সব আহত দরিদ্র গার্মেন্টস শ্রমিকরা যারা দৈবক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন সেদিন। আর যারা বেঁচে নেই এবং যাদের মরদেহও পাওয়া যায়নি সে সব পরিবারগুলো এখন অসহায়, নিঃস্ব এবং স্বজন হারানোর বেদনায় বেদনার্ত। যারা সেদিন নিহত হয়েছেন অথবা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের অনেক পরিবারই হারিয়েছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে অথবা মেয়েকে। কিন্তু এতো সব ঘটনা যার কারণে, যাদের কারণে তাদের শাস্তির কি কোনো নিশানা দেখা যাচ্ছে। বরং ওই ঘটনায় যারা বেঁচে গেছেন এবং নিহতদের পরিবারই এখন আর্থিকভাবে শাস্তির শিকার।

সাভারের রানা প্লাজা ধসের তিন মাস পার হলেও ভবন মালিক রানা, সেখানে অবস্থিত গার্মেন্টস মালিকদের ও স্থানীয় মেয়রকে গ্রেফতার ভিন্ন দুর্ঘটনার আর কোনো কূলকিনারায় হয়নি। কারো শাস্তি নিশ্চিত দূরে থাক বিচার কার্যই শুরু করা যায়নি। বিজিএমইএ ও সরকার গঠিত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও তাতে রয়েছে গেছে নানা ধরণের গোজামিল আর ত্রুটি। পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণও মেলেনি। কয়েকজনকে অর্থ সহায়তা দেয়া হলেও পঙ্গু, আহত এবং চাকরিহারাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ খবর করছে না কেউই। প্রাথমিক অবস্থায় বিজিএমই ও সরকার আহতদের কিছুটা অর্থ সহায়তা দিলেও এখন তাও মিলছে না। তাদের অনেকেই চাকুরি হারিয়ে এখন পথে পথে সময় পার করছেন। এমনকি স্বেচ্ছায় উদ্ধার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অবস্থাও আমলে নিচ্ছে না কেউ। তবে বেসরকারি উদ্যোগ ও বিদেশী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে রানা প্লাজা ধসে আহতদের চিকিৎসা সেবায়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) চাকুরির ব্যবস্থা করেনি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় চাকুরি হারানোদের। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণে অর্থও প্রদান করেনি। জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি রানার অতি ঘনিষ্ঠ স্থানীয় এমপিকে। এদিকে, হরতালকারীদের পিলার ধরে ঝাকুনিতে রানা প্লাজা ধসের আবিস্কারক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রয়েছেন বহাল তবিয়তে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, গত ৩০ বছরের ইতিহাসে রানা প্লাজার ঘটনা তেমন কিছু নয়, এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

তিন মাস পেরিয়ে গেলেও থামেনি স্বজনদের আর্তনাদ। অনেকেই এখনও নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন দিনরাত। অনেক স্বজনের দাবি, এ ভবন ধসের ঘটনায় এখনও সেখানে অনেক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ভয়াবহ এই ভবন ধসের ঘটনায় সরকারি হিসাব মতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৩২ জন গার্মেন্ট শ্রমিককর্মচারী। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন সূত্র জানায়, এ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ৩৭৯ জন শ্রমিক। দুর্ঘটনার পরবর্তী ২০ দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে। মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৩১ জন। এছাড়া হাতপা কাটা ও পক্ষাঘাতগ্রস্তের শিকার হন ৩৬ জন।

যাদের সন্ধান পাওয়া গেছে কিংবা আহত হয়ে বেঁচে আছেন তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সামনে ঈদ, এখনও অনেক শ্রমিক তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা না পেয়ে অনাহারেঅর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ তাদের দেখার মতো কিংবা তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক, উদ্ধারকারী এবং নিহতনিখোঁজের স্বজনদের অনেকেই এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। প্রায়ই স্বজনরা ছুটে আসেন রানা প্লাজার সামনে।

নিউওয়েভ স্টাইলে কাজ করতেন আনোয়ার হোসেন। স্ত্রী মারুফাও সেখানে কাজ করতেন। তাঁরা এসেছিলেন রাজশাহী থেকে। দুর্ঘটনায় নিহত হয় আনোয়ার। স্বামী হারানোর শোক বুকে নিয়ে মারুফা এখন কিছু ক্ষতিপূরণের আশায় ঘুরছেন। কিন্তু মারুফা এবং ইয়াসমিন আক্তার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গেলে তাদের বলা হয় বিজিএমইএতে যেতে। আর বিজিএমইএ’তে গেলে বলা হয় কাগজপত্র এখনো আসেনি। কিন্তু এই সব অল্প শিক্ষিত বা নিরক্ষর নারী শ্রমিকরা জানেন না কোথায় বা কার কাছে গেলে তাঁদের কাগজপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আসবে। মেয়ের কথা বলতে গেলেই দুচোখ ভরে যায় পানিতে। চোখ মুছে মা আছিয়া শোনালেন চিরতরে মেয়েকে হারানোর করুণ কাহিনী। মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার হাসনা আক্তার কাজ করতেন রানা প্লাজার পোশাক কারখানায়। তার স্বল্প আয়ে চার জনের পরিবার নির্ভরশীল ছিল। তার একটি বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় তিন মাস হতে চললেও এখনো মেয়ের কোনো খোঁজ পায়নি মা আছিয়া। একই সঙ্গে পায়নি কোন ধরণের ক্ষতিপূরণও। এভাবে গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে নিহত ও আহত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণের বড় বড় আশ্বাসের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে মিলছে ভিন্ন চিত্র। এমন অসংখ্য ইয়াসমীন, মারুফা আর আছিয়ারা প্রতিদিন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন হয় স্বজনের লাশের সন্ধানে আর ক্ষতিপূরণের ন্যায্য পাওনার আশায়। এখনো অসংখ্য নিহত বা আহত শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা বেতন, ক্ষতিপূরণ, গ্রাচ্যুইটিসহ প্রতিশ্রুত অনুদান পায়নি। নিহত এবং আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। পোশাক মালিকদের পক্ষ থেকে বিজিএমইএ এবং সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের কথা বললেও আদতে তেমন কোন অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। তাই প্রতিনিয়ত ক্ষোভ বাড়ছে স্বজন হারানো মানুষের মনে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে সহায়তা তহবিলের নামে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করছে। বিদেশী ক্রেতারা কোটি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। কারা কি পরিমাণ অর্থ সহায়তা দিয়েছে সেই বিষয়টি অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে।

গেল ২৪শে এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে মারা যায় ১১শ ৩১ জন শ্রমিক। স্বাধীনতার পর দেশের ইতিহাসে ঘটা সবচেয়ে বড় এ মর্মান্তিক বিপর্যয়ে আহত হয়েছে আরো অনেকে। বিপর্যয়ের পর পরই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সরকারের ৪টি সহ বিজিএমইএ গঠন করে তদন্ত কমিটি। দু’দফা সময় পেরিয়ে যা আলোর মুখ দেখে প্রায় দুমাস পর। বিজিএমইএ বলছে, ভবনের মালিক যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই ছয় তলার ভবনকে নয় তলা করেছে। নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে তৈরি ভবনটি ধারণ ক্ষমতার বেশি ভার বহন করছিল। ভবনে থাকা তিনটি জেনারেটর চালুর ফলে অতিরিক্ত কম্পনে তা ধসে পড়েছে। এর জন্য ভবন মালিক সোহেল রানাকে দায়ী করছে সংগঠনটি। দায়ী করেছে এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে। তবে ত্রুটি থাকা স্বত্ত্বেও কারখানা খোলা রাখায়, ভবনে থাকা পাঁচটি গার্মমেন্টের সাড়ে তিন হাজার শ্রমিকের ভাগ্যে এ বিপর্যয় ঘটেছে। প্রথমবারের মতো কোনো দুর্ঘটনার পর কারখানা মালিকদেরও দায়ী করেছে বিজিএমইএ।

এদিকে দায় এড়াতে মরিয়া সাভারের রানা প্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানা। ভবনটি নির্মাণে ত্রুটি থেকে শুরু করে ফাটল দেখা দেওয়ার পরও পোশাককর্মীদের মৃত্যুগহ্বরে ডেকে নেওয়ার দায়ভারও তিনি নিতে রাজি নন। এখন পর্যন্ত সোহেল রানাকে দুদফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের বিশেষ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে ডিবিও তাকে একাধিক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে বরাবরের মতো তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সর্বশেষ দফায় জিজ্ঞাসাবাদেও রানা দাবি করে, ভবনটি ত্রুটিপূর্ণভাবে নির্মাণের দায় প্রকৌশলী ও নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের। আর ফাটল দেখা দেওয়ার পরও রানা প্লাজার পোশাক কারখানা খুলে রাখার দায়ভার কারখানা মালিকের। গত ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত রানাসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে কারাবন্দি। তাদের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনজন। মামলার তদন্তের স্বার্থে বিদেশে থাকা দুই প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, সোহেল রানা নিজের দায় অস্বীকার করলেও এরই মধ্যে তার সম্পর্কে পাওয়া তথ্য তার বিরুদ্ধেই কথা বলছে। এদিকে সূত্র বলছে, মাস দুয়েকের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে। এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা রানা প্লাজার ঘটনায় যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিন রানা প্লাজা নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ওই দুর্ঘটনার পর রানা প্লাজায় কর্মরত শ্রমিকেরা এখন অনিশ্চিত জীবনের পথে। যারা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, তারা হয়তো আবার অন্য কোথাও চাকরি জুটিয়ে নেবে। কিন্তু যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার কালো মেঘে ঢাকা। টাইম লিখেছে, টাকা পাওয়া যাবেএমন খবর শুনেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে কয়েক হাজার মানুষ ছুটে এসেছিলেন সাভারের একটি স্কুলে। তাদের সবাই গত এপ্রিল মাসে ধসে পড়া বাণিজ্যিক ভবন রানা প্লাজার শ্রমিক। তবে টাকাপয়সা বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার চেয়েও এই শ্রমিকদের কাছে এখন বড় প্রশ্নকি করবেন তারা? রানা প্লাজা ধসে নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবে ১১২৯ জন, যাদের মধ্যে ৩০১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। অথচ শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। টাইম লিখেছে, ৭ তারিখ সকালে যারা নাম নিবন্ধন করার জন্য স্কুলটিতে জড়ো হয়েছিলেন, তারা জানতেন না কেন তাদের সেখানে আসতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে কে দিলো, তাও তাদের জানা নেই। রানা প্লাজার চারতলায় থাকা ফ্যান্টম অ্যাপারেলসে কাজ করতেন খাদিজা বেগম। তিনি জানান, একজন প্রতিবেশী তাকে এখানে আসতে বলেছে। বলেন, আমাকে এক হাজার টাকা দেয়া হলো, একটা তালিকায় নিজের নাম লিখলাম। কে টাকা দিলো, আমি জানি না। টাকাটা এসেছিল বৃটেনের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রিমাক্সের কাছ থেকে। রানা প্লাজার একটি কারখানা তারা থেকে তারা পোশাক কিনতো। জুনের ১ তারিখ তারা স্থানীয় পত্রিকাগুলোয় বিজ্ঞাপন দেয়, যাতে রানা প্লাজায় কর্মরত শ্রমিকদের ওই স্কুলমাঠে জড়ো হতে বলা হয়। সেখান থেকে শ্রমিকদের পূর্ণ তালিকা তৈরি করা হবে। প্রিমাক্সের মুখপাত্র ক্রিস ব্যারি জানান, নিবন্ধনকৃত সব রানাপ্লাজা শ্রমিককে তারা সাহায্য করতে চান, শ্রমিকদের তিন মাসের বেতনের সমান টাকা দিতে চান। যারা প্রিমাক্সএর পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তারাও অর্থ সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। ধসে পড়ার দিন ভবনে ঠিক কারা কারা ছিলেন, তাদের পরিচয় বের করার দায়িত্বটি নিলো একটি বিদেশি প্রাইভেট কোম্পানি। এখান থেকে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের ওই নিবন্ধে আরো বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে পোশাকখাত সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার অভাবে এ খাতের হাজার হাজার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করলেও কেউই সফল হয়নি।

রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে বড় বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা। মে মাসে দেশের গার্মেন্টস রপ্তানির হার ১৫ শতাংশ বেড়েছে। সরকারসহ নানা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ইতোমধ্যে কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। কিন্তু পঙ্গু হয়ে যাওয়া শ্রমিক ও তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কি সাহায্য দেয়া হবে, তা এখনও অজানা। সরকার তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে কিনা, শ্রম আইনের সংশোধন ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করবে কিনাতাও পরিষ্কার নয়। দুর্ঘটনার পর রানা প্লাজার মালিকসহ ওই ভবনে অবস্থিত কারখানাগুলোর মালিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অনিরাপদ পোশাক কারখানাগুলো শনাক্ত করে সেগুলো পরিদর্শন শুরু করেছে সরকার, এরই মধ্যে কিছু কারখানা বন্ধও করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এখানেও প্রশ্ন রয়েছে। কি হবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার শ্রমিকদের? সেসবে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার তো তাদের আয়ের উপরই নির্ভর করে।।