Home » বিশেষ নিবন্ধ » জামায়াত কি নতুন নামে দল করতে যাচ্ছে?

জামায়াত কি নতুন নামে দল করতে যাচ্ছে?

আমীর খসরু

jamaat-e-islamiহাইকোর্ট পহেলা আগস্টে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের রায় দিয়েছে। বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে। তাদের রায়ের উপরই সবকিছু নির্ভর করছে। যদি সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে তাহলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হবে এবং আগামী নির্বাচনসহ ভবিষ্যতে কোন নির্বাচনে জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। আর রায় যদি উল্টোটা হয় তবে ভিন্ন কথা। জামায়াত রাজনীতি করতে পারবে, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবে না একটি রাজনৈতিক দল যারা নির্বাচনের বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের জন্য নিবন্ধন বাতিলের আদেশ, দলটি বাতিল ঘোষণারই সমতুল্য। বর্তমানকে বিবেচনায় ধরে বিচার করলে, এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা একদিকে লাভবান হবে বলে তারা মনে করছে। কারণ তাদের বিশ্বাস এর ফলে জামায়াত বিরোধী সব শক্তি তাদের সঙ্গে চলে আসবে এবং পেছনে একত্রিত হবে। বিশেষ করে তরুণদের এক বড় অংশ তারা আবার ফিরে পাবে এটাই তাদের হিসাবনিকাশ। গত পৌনে পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডে এটা কতোটা সম্ভব হবে তা বলা মুশকিল। কিন্তু জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হলে বিরোধী দল বিএনপিই বেশি লাভবান হবে বলে মনে হয়। কারণ জামায়াতের সঙ্গে সরকারের বারংবার আঁতাত প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে বলে বিএনপি বেশ উৎফুল্ল। এছাড়া জামায়াত বিষয়ক নানাবিধ চাপ থেকে তারা রেহাই পাবে। এছাড়াও আগামী নির্বাচনে জামায়াতই নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে বিএনপিকে চরম ও পরম মিত্র হিসেবে তার পেছনে সর্বাত্মক শক্তি নিয়োগ করবে।

এখানে বিশাল বড় একটি যদিও শব্দ কাজ করবে। যেমন জামায়াত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনই যদি বিকল্প পথ গ্রহণ না করে তবে জামায়াতের একটি অংশ চলে যাবে বিএনপির দিকে, অপরটি কট্টরপন্থা অবলম্বন করে ভিন্ন পন্থা গ্রহণ করবে। শেষোক্তদের পথটি হবে মারাত্মক এবং এর ফলে পুরো রাষ্ট্র এবং সমাজে এর নেতিবাচক ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

জামায়াতের অবশ্য নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৫৯ সালে অর্থাৎ জামায়াত সৃষ্টির ১৮ বছরের মাথায় এসে দলটি প্রথম নিষিদ্ধ হয়। এরপর ১৯৬৪ সালে, আবার ১৯৭২ সালে (বাংলাদেশ) দলটি পুনরায় নিষিদ্ধ হয়েছিল ১৯৭১এ তাদের ভূমিকার কারণে। যদিও আগেকার নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি এবং আজকের অবস্থা পরিপূর্ণভাবে ভিন্ন। আবার জামায়াত সব বৈরি অবস্থা এবং পরিবেশ উপেক্ষা করে এমন কাউকে সমর্থন দিয়েছে, যাতে জামায়াতই সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরবর্তীকালে। ১৯৭১এর উদাহরণ ধরা যাক। তখন ইয়াহিয়ার সামরিক শাসন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশে যে হত্যাযজ্ঞ চলে তাতে জামায়াত শুধু সমর্থনই দেয়নি, সক্রিয় অংশগ্রহণও করেছে। যে ভুলের খেসারত তাদের এখনও টানতে হচ্ছে। পাকিস্তানে জামায়াত জেনারেল জিয়াউল হক এবং পরবর্তীকালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে সমর্থন দিয়ে রাজনৈতিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে।

তাহলে জামায়াত এখন নিবন্ধন বাতিল করার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে তাদের শক্তি প্রদর্শনের জন্যই। এই শক্তি প্রদর্শন কতোদিন অব্যাহত থাকবে, তার উপর নির্ভর করছে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা কতোটা বাড়বে সে প্রশ্নটি।

জামায়াতের অভ্যন্তরে বিতর্ক: যুদ্ধাপরাধী এবং ১৯৭১ সালে তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে জামায়াতের মধ্যেই ২০০৯ সালের আগে থেকেই জামায়াতের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিতর্ক এবং মতদ্বৈততা শুরু হয়। আর এর তীব্রতা দেখা দেয়, ২০০৯ সালে এসে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই। এই বিতর্কের কারণ হচ্ছে, জামায়াতের মধ্যে যারা যুদ্ধাপরাধী এবং যাদের ভূমিকা ১৯৭১ সালে প্রশ্নবিদ্ধ তাদের ভূমিকা দলের ভেতরে কতোটা থাকবে তা নিয়ে। কারণ দলের অপেক্ষাকৃত তরুণ অংশ এবং যারা ১৯৭১এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় তারা, যারা সম্পৃক্ত তাদেরকে দলের জন্য দায় হিসেবেই মনে করে এবং তারা ওই দায়ভার বহন করতে চায় না। এছাড়া সাম্প্রতিক বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামী ওই নামেই এ দেশের দলটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে কি রাখবে না তা নিয়েও বিতর্ক এবং মতভিন্নতা রয়েছে।

এই ধরণের নবীন এবং মধ্য বয়সী নেতারা দলের মধ্যেই ওই সব প্রশ্ন প্রকাশ্যে উত্থাপন করেছিলেন এবং সীমিত আকারে তা প্রচারও হয়েছিল। ২০০৯ সালেই বিষয়টি সামনে চলে আসে। পরে অবশ্য যুদ্ধাপরাধের ট্রাইব্যুনাল যখন পুরোদমে বিচার কাজ শুরু করে তারপর থেকে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। অতিসম্প্রতি এই পুরো বিষয়টি নিয়ে আবার জামায়াতের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নামে নতুন, পুরনো দল: ২০০৯ সালের দিকে জামায়াতের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে একটি দল গঠনের প্রস্তাব উঠে। ওই বছরই জামায়াতের সর্বোচ্চ সংস্থা নির্বাহী পরিষদের প্রভাবশালী ৮ সদস্য এবং মাওলানা নিজামী ও এখন যারা জেলে আছেন তারাসহ ঊর্ধ্বতন নেতাদের উপস্থিতিতে দলটির কর্মকৌশলে ব্যাপক সংস্কার ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৫ দফা সম্বলিত বিশ্লেষণ পত্রটি উপস্থাপন করা হয়। ওই বিশ্লেষণ পত্রে বলা হয়েছিল, বর্তমান বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামীকে দিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। ২০০৯এর জুলাইয়ের দিকে উপস্থাপিত ওই বিশ্লেষণ পত্রে আরো বলা হয়, প্রচলিত পুরনো ধাচের ইসলামী দলগুলোর চেয়ে যেসব ইসলামী দল সমাজকল্যাণমূলক কাজ এবং সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বেশি বলছে ভোটাররা তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। এক্ষেত্রে তুরস্কের একে পার্টি, মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড, মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিমের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাফল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘকাল অপেক্ষাকৃত অনুকূল পরিবেশে কাজ করেও কেন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারছে না। একইভাবে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী কেন তেমন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। বিশ্লেষণপত্রে সাম্প্রতিক মুসলিম বিশ্বের ইসলামীর দলগুলোর কর্মকাণ্ড এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের নির্বাচনী ফলাফলের বিষয় নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়। ওই বিশ্লেষণপত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, এশিয়ার কোনো মুসলিম দেশে নির্বাচনে জয়লাভ করতে হলে ইসলামী এজেন্ডাকে গোপন রাখতে হবে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়, সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী দৌড়ে বেশ পেছনে পড়ে আছে। বাস্তবতা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সততার সুনাম থাকা সত্ত্বেও বর্তমান নেতৃত্ব দিয়ে জামায়াতের পক্ষে ভবিষ্যতে এককভাবে সরকার গঠনের মতো জনপ্রিয়তা অর্জন আদৌ সম্ভব নয়।

বিশ্লেষণপত্রে জামায়াতে ইসলামীর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ৯টি কারণের উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রথমেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করায় জামায়াতে ইসলামীর প্রথমসারির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রচারণা রয়েছে। ফলে সর্বজনগ্রাহ্য জাতীয়ভিত্তিক ইমেজ তৈরি তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারতের আধিপত্যবাদী আচরণের আশঙ্কা থেকে জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার বিষয়টি রাজনৈতিক মতপার্থক্য হিসেবে গণ্য করা গেলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পক্ষে তারা যে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল দেশের জনগণের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলেরও পরাজয় ঘটেছে। বিশ্লেষণপত্রে এও বলা হয় যে, প্রায় চার দশকের ব্যবধানে বিষয়টি জাতি ভুলতে বসেছিল। কিন্তু সেক্যুলার রাজনৈতিক দল, মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটি বিষয়টিকে প্রচারপ্রপ্রাগান্ডার মাধ্যমে আবার জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এর কারণ হলো আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক জোট গঠন করা। বিশ্লেষণপত্রে উল্লেখিত অন্যান্য কারণের মধ্যে নেতৃত্বের দুর্বলতা, দলের রেজিমেন্টেড পরিবেশসহ বিভিন্ন বাধাসমূহের কথা উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষণপত্রে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, জনকল্যাণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়ে একটি উদারনৈতিক নতুন দল গঠনের কথা বলা হয়, যাতে এক, ওই দলটি ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বলে ঘোষণা দেবে, তবে ইসলামী রাষ্ট্র বা শরিয়া আইন চালু করার মতো হার্ডলাইন গ্রহণ করবে না। দুই, প্রস্তাবিত দল কোনো রেজিমেন্টেড বা ক্যাডারভিত্তিক দল হবে না। দলের নামকরণের ব্যাপারে কোনো ইসলামী শব্দ বা পরিভাষা ব্যবহার করবে না। এক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। তিন, প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করে তৃণমূল থেকে নতুন নেতৃত্ব বাছাই করতে হবে যাতে সঠিক নেতৃত্ব উঠে আসে। পাশ্চাত্যের ধাচে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেভাবে গড়ে তোলা হয় সেভাবেই এই দলটিকে গড়তে হবে। চার, দলটিতে জামায়াতের জনমুখী নেতৃত্বদানের যোগ্য বেশকিছু নেতাকর্মী যোগ দিতে পারে, অপরদিকে বিএনপির সত্য নিষ্ঠাবান ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতাকর্মীরা যোগ দেবে বলে ওই বিশ্লেষণে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল। দলের নেতৃত্বে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষণপত্রে নতুন রাজনৈতিক দলটি গঠনের ব্যাপারে বারবার বিভিন্ন মুসলিম দেশের এই ধরনের দলের কথা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৯ সালের অক্টোবরে এই প্রতিবেদক জামায়াতের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে বিষয়টির সত্যাসত্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে সাক্ষাত এবং মন্তব্য নিয়েছিলেন। কিন্তু জামায়াত নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তখন বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। যা এই প্রতিবেদকের ওই সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরেকটি বিশ্লেষণ: ২০১১ সালে যখন কথিত আরব বসন্ত চলছে তখন জামায়াতপন্থী দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় কলামে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক এক নিবন্ধে লিখেছিলেন। ওই নিবন্ধে তিনি তিউনিশিয়া, মরক্কো, তুরস্ক, মিশর এবং ভারতের উদাহরণ দিয়ে ওই সব দেশগুলোতে কিভাবে ইসলামীপন্থী দলগুলো খোলস অর্থাৎ নাম ও কৌশল বদল করে, সেক্যুলারিজমের কথা বলে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে এবং কথিত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তার বিবরণ দিয়েছেন। তুরস্ক সম্পর্কে তিনি ওই নিবন্ধে লিখেছেন, ‘এরদোগান ও আবদুল্লাহ গুল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি নামে নতুন দল গঠন করে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সেক্যুলারিজমকে এই বলে সংজ্ঞায়িত করেন যে, সেক্যুলারিজমের অধীনে ইসলামসহ সব ধর্ম পালনে স্বাধীনতা রয়েছে।’ মিশরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির নামে আলাদা একটি প্লাটফর্ম সৃষ্টি করেছেন। ঘোষণা করেছেন একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানকেও মিসরের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মেনে নিতে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।’ মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড (ইখওয়ানুল) বেশ কয়েকবার নাম পরিবর্তন করেছে। ব্যারিস্টার রাজ্জাকের মতে, মিশরের নির্বাচনে বিজয় আসলে তাদের নীতিকৌশল পরিবর্তনের কারণেই। ভারত সম্পর্কে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক তার নিবন্ধে বলেন, ভারতে ৬০ বছরের জামায়াত তার নাম পরিবর্তন করে ওয়েলফেয়ার পার্টি অব ইন্ডিয়া নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, পুরনো জামায়াতের ব্যর্থতার কারণে। ভারতের নতুন দলটিতে ১৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একজন ফাদারসহ ৫ জন অমুসলিমকে রাখা হয়েছে।

শেষ কথা: জামায়াতে ইসলামী সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দলের নাম পরিবর্তন, নতুন দল গঠন এবং পুরনো নেতৃত্ব সম্পর্কে তাদের আগের বিতর্কটি আবার নতুন করে সামনে চলে এসেছে। এ নিয়ে জামায়াতের মধ্যে ব্যাপক আলাপআলোচনা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্র খবর দিয়েছে। তবে যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং নিবন্ধন বাতিলের হাইকোর্টের রাযের কারণে সামগ্রিকভাবে জামায়াতের উপরে সরকারের যে আচরণ তাতে এটি যতোটা জোড়ালো হওয়ার কথা ছিল, তা হচ্ছে না বলে সূত্র খবর দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই পথেই জামায়াতের একটি অংশ চলে যাবে এমনটাই খবর দিয়েছে বিভিন্ন প্রভাবশালী সূত্র। মধ্য জুলাইএ প্রভাবশালী একজন কূটনৈতিকের বাসায় জামায়াতের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর বৈঠকেও নতুন দল গঠনের কথা উঠেছে এবং আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ ছাড়া অন্য মামলায় আটক জামায়াত নেতাকর্মীদের মুক্তি চেয়ে একটি তালিকাও জামায়াতের পক্ষ থেকে দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি আর বেশিদূর এগোয়নি।

এ অবস্থায় জামায়াতের নিবন্ধন যদি বাতিল হয় তাহলে জামায়াতের একটি অংশ, যারা নিজেদের উদারবাদী বলে পরিচয় দেন, তারা একটি নতুন দল গঠনের দিকে যাবেন এমনটাই খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে।।