Home » রাজনীতি » হরতালের দুশ্চিন্তা নিয়েই এবারের ঈদ

হরতালের দুশ্চিন্তা নিয়েই এবারের ঈদ

আবীর হাসান

hartalরাজনীতির কলাকৌশল যদি দেশের ছাপোষা মানুষকে একটু আনন্দ দিতে না পারে তাহলে সে রাজনীতিকে গণমুখী বলা যায় না মোটেই। গণতন্ত্র বাংলাদেশকে ‘সোনার পাথরবাটি’ দেবে এসব আশা যদিও মানুষ করে না। কিন্তু রাজনীতিবিদরা নিশ্চয়ই করেন। তাই তারা মানুষকে হতবিহ্বল করে দিয়ে ছেলেমানুষি করে দলের আর মানুষকে উপহার দেন আনন্দের বদলে হতাশাবিমর্ষতা আর অনিশ্চয়তা।

এদেশের মানুষের আশা ছিল এ বছর ঈদের আগ দিয়ে অন্তত কিছু নতুন কথা শুনতে পাবে তারা। কিন্তু ২০ রোজার পরে অনেক ঘটনাই ঘটলো। রোজার শেষ পর্যায়ে এসে জামায়াতের নিবন্ধন স্থগিত হলো হাইকোর্টের একটি রায়ের মাধ্যমে। আর এরপরেই ঘোষণা এলো ঈদ শেষ হতে না হতেই জামায়াতের টানা ৪৮ ঘন্টা হরতালের। জামায়াত আপিল বিভাগে আপিল করেছিল হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে। কিন্তু আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি খারিজ করে দেন। ঈদের সময়ে এ রকম হরতাল মানুষকে বিপদগ্রস্ত যেমন করেছে তেমনি করেছে নতুন করে চিন্তিত। যুবলীগের একজন নেতাকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে ক্রসফায়ারের গল্প সাজানো হলো তা সচরাচর অন্তত ঢাকা শহরে শোনা যায়নি। এছাড়া এ সময়ে জয়ের আনুষ্ঠানিক আবির্ভাব ঘটলো রাজনীতিতে। তিনি এতোদিন আসি আসি করছিলেন। কিন্তু এসেই তিনি তার বক্তব্য দিয়ে গোল বাঁধিয়ে দিলেন। যে অভিষেক কিনা নিঝর্ঞ্ঝাট বা নিষ্কন্টক হতে পারতো, তা আর হলো না। এই রোজার মাসেই বিএনপি তারেক রহমানকে নিয়ে বেশ জোরেশোরে তৎপরতা চালাতে শুরু করলো। কাজেই রোজার প্রথমদিকে একেবারে কিছু হবে না এটা মনে করা হলেও আসলে কিন্তু বেশ কিছু প্রভাববিস্তারি ঘটনা ঘটে গেল এ সময়ে।

রোজার মাসে সাধারণত ইফতার মাহফিলে যাওয়া আসা দেখা সাক্ষাৎ আর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা বিবৃতি হয়। এবার কিন্তু ব্যতিক্রমই ঘটল। এ পর্যন্ত বিরোধী দলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া একটার পর একটা ইফতার পার্টি করলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তেমন একটা করেনি। আওয়ামী লীগ নেতারা রোজার মধ্যে দুপুর বেলা সাংবাদিকদের দৌড়পেটা করিয়েছেন। হরতাল হল পর পর তিনদিন। গুজব ছিল আরও কয়েকদিন হওয়ার কিন্তু তা হলো না। রোজার জন্যই সম্ভবত। হরতালে সমর্থন দিল না বিএনপিও। কাজেই ঢিলেঢালা হরতালও পছন্দ হয়নি জনগণের, পছন্দ হয়নি ঈদের কেনাকাটায় বাধা পড়ার বিষয়টাও। গোলাম আজম আর মুজাহিদের রায়ও রাজনীতিকে চাঙ্গা করতে পারলো না।

শেষ পর্যন্ত ২০ রজমানের পর থেকে ক্ষমতাসীন দল এবং আদালত উত্তপ্ত করে তুলেছে সার্বিক পরিস্থিতি। যুবলীগ নেতাদের অন্তদ্বর্ন্দ্বে মিল্কি হত্যাকাণ্ড এবং দুদিন পর দুটি বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড আবার সরকারি নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অথবা মুল পরিকল্পনাকারীকে আড়াল করতেই যে দুই সন্দেহভাজনকে (!) হত্যা করা হয়েছে তা সরলভাবেই বুঝেছে দেশবাসী। কারণ সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সবাই দেখেছে। দেখেছে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবিও।

এরই মধ্যে রাজনীতিতে অভিষেক হল প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়ের। রংপুরের পীরগঞ্জে জনসভা করে ঘটা করেই হল এই হাইপ্রোফাইল অভিষেক। রাষ্ট্রীয় হেলিকপ্টার করে ঢাকা থেকে পীরগঞ্জ গেলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা। বিরোধী দলের প্রতি বিষোদগার আর ভোট চাওয়ার মাধ্যমে শুরু হলো তরুণ জয়ের রাজনৈতিক অভিযাত্রা। তবে মায়ের পক্ষপুটে যে আরও কিছুদিন তাকে থাকতে হবে সেটা বলাই বাহুল্য।

২২ রমজানে ঘটল সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ঘটনাটি। হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের পক্ষে রায় দিল। যদিও বিভক্ত রায়। তবু যেহেতু তিন বিচারক ছিলেন ‘বৃহত্তর’ ডিভিশন বেঞ্চে সেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অর্থাৎ দুজনের মতামতেই জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের রায় হয়ে গেল। শুনানি শেষ হয়েছিল ১২ জুন। আর রিট হয়েছিল ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে। সেই সময় বিচারপতি এম খায়রুল হক এবং বিচারপতি মো. আবদুল হাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ রুল জারি করেছিল। এখন এই রায়ের ফলে যা হলো তা নজিরবিহীন অর্থাৎ ঈদের ঠিক পর থেকেই হরতাল। এবার দেশবাসীকে আগাম হরতালের ঘোষণা মাথায় নিয়ে ঈদ করতে হচ্ছে। ১৩ ও ১৪ আগস্ট হরতাল হওয়ায় ঈদের ছুটি শেষ রাজধানীতে যারা ফিরবেন তারা নিশ্চয়ই পড়বেন বিড়ম্বনায়। কাজেই অনেকের জন্যই নিরানন্দ হয়ে যাচ্ছে ঈদ। আস্থাহীন মানুষরা অবাক বিস্ময়ে দেখছে কতিপয়ের অসুস্থ চিন্তার প্রকোপ কী করে পড়ছে তাদের ওপর। ম্রিয়মাণ মুখগুলো যে অনিশ্চয়তায় আরও মলিন হয়ে উঠেছে তাতে আর সন্দেহ কি?

তবে আশা মানুষের ছিল অন্যরকম। তারা চেয়েছিল বিএনপির দিক থেকে ইতিবাচক চমক। অন্তত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের ভারমুক্ত হওয়ার খবর। কিন্তু তাও হলো না। উল্টো রনিকাণ্ড, হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগের ব্যাকফুটে চলে যাওয়াটাই খবর।

রোজার আগে থেকেই অনেকে মনে করেছিলেন আওয়ামী লীগ ইতিবাচক কিছু করবে। অনেক পত্রিকাও রিপোর্টকলাম ছেপেছিল দলটির ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে। পাঁচ সিটি করপোরেশন বিশেষ করে গাজীপুরের নির্বাচনে ভরাডুবির পর কৌশল পাল্টাতে আওয়ামী লীগ এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে। অন্তত এ্যগ্রেসিভ এ্যটিচুড থেকে সরে দলটি উত্তেজনাআশঙ্কাঅশান্তি নিরসনে বিরোধী দলের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবে এমন ধারণা করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সুযোগ নেয়নি। এরশাদের ইফতার মাহফিলে যেভাবে তাদের উপস্থিতি ছিল তা যেমন মানুষকে হাসিয়েছে , তেমনি ভাবিয়েছে বিএনপির ইফতার মাহফিলে দাওয়াত কবুল করেও শেষ মুহূর্তে না যাওয়ার ঘটনাটি।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতি উত্তেজিত ক্রোধান্বিত বক্রোক্তির নিরবচ্ছিন্নতা মানুষকে শঙ্কিতই করে তুলেছে। তবে শঙ্কিত মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নিজেকেও। যেভাবে তিনি চেয়েছিলেন সেভাবে বলেনি তার সরকার , বলেনি দলও। চমক দেখাতে মন্ত্রিসভা গড়ে ছিলেন কিন্তু ভাঙাচোরা, কারণে অকারণে বেশি কথা বলা লোক দিয়ে, তারা কেউ তার সম্মান রাখেনি। দলের কাউন্সিল করে তথাকথিত নতুনদের সামনে এনে সংস্কারপন্থী বলে চিহিৃতদের দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু নতুনরা তৃণমূল পর্যায়ের তৃণ মাড়াতে পারেনি। বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় ক্ষেত্রে বদনাম যত হয়েছে সুনাম ততো হয়নি। খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে, শিক্ষা ক্ষেত্রে পাসের হার বেড়েছে, স্বাস্থ্য সেবা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে তৃণমূলের কাছাকাছি। কিন্তুর মতো ব্যাপার সবক্ষেত্রেই আছে। যেমন খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও দাম কমেছি, উৎপাদক বা ভোক্তা কেউ সন্তুষ্ট নয়। ক্ষমতাসীনরা, তাদেরই আশ্রয়প্রশ্রয় প্রাপ্ত মধ্যসত্ত্বভোগী, পুলিশী চাঁদাবাজী আর পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এক্ষেত্রের সাফল্যকে খেয়ে ফেলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্যের চেয়েও বিশাল ভর্তুকি খেয়ে ফেলেছে কুইক রেন্টাল। শিক্ষা ক্ষেত্রে পাসের হার বাড়িয়ে বলা হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনার ফলে মান বাড়েনি এবং শিক্ষার্থী বা অভিভাবক কারোর বোধের মধ্যেই আসেনি সরকারের এই বদান্যতা। স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য অবকাঠামো নির্মাণের ঠিকাদার আর নিয়োগ বাণিজ্যের দলবাজ ডাক্তার কর্মকর্তারাই খেয়ে ফেলেছে। সরকারের সেবা বলে জনসাধারণের কাছে তা প্রতিভাত হয়নি। আর অন্য সব কিছুকেই খেয়ে ফেলেছে র‌্যারপুলিশি প্রতাপ, ছাত্রলীগের তাণ্ডব, আওয়ামী নেতাদের সম্পদের লিপ্সা। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ঘরে ঘরে তরুণদের চাকরি দেবেন। কিন্তু তা খেয়ে ফেলেছে ‘কোটায়।’ মেধা হয়েছে অবহেলিত। ছাত্রলীগের তাণ্ডবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মূহ্যমান।

শেষ দিকে এসে প্রধানমন্ত্রী যে বেশ উত্তেজিত তা তার সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। তবে এ উত্তেজনা ভীতি থেকে। তিনি ঠিকই বুঝেছেন, এভাবে দল চলবে না, সরকারও টিকবে না। জনপ্রিয়তার পারদ নেমে গেছে। তিনি যে প্রক্রিয়ায় দেশে মানুষকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন, সেগুলো যে ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তা খানিকটা বুঝতে পারছেন। মন্ত্রিসভার ব্যাপারটাকে মানুষ নিয়েছে নিছক তামাশা হিসেবে। সমুদ্র বিজয়কে মনে করে অতিকথন। তিস্তার পানিবন্টন আর টিপাইমুখের কূটনীতিও ব্যর্থ। চুক্তির বাইরে তো নয়ই, চুক্তি করেও ভারতের কাছ থেকে কিছুই আদায় করতে পারেনি বলে দোষ দিচ্ছে মানুষ। সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের হত্যা, গোলাগুলি, অপহরণ না কমাতে পারা এর একটা কারণ অবশ্যই। ভারতীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতেই আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমেছে সবচেয়ে বেশি। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ পদ্মা সেতুর ব্যর্থতা, কুইক রেন্টালের দুর্নীতি, সার্বভৌমত্বের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামায় ঠিকই কিন্তু তারচেয়েও তারা বেশি উদ্বিগ্ন নিত্যদিনের ঘটনা যেমন কম দামে কৃষি পণ্য বেচা আর বেশি দামে শিল্প পণ্য কেনার বিষয়টা নিয়ে।

বোঝে ছাত্রলীগযুবলীগআওয়ামী লীগের অত্যাচার, সম্পদ হরণ, জমিজমা, দোকানপাট, নদী দখল। সাধারণ মানুষ খুব একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না সরলভাবে তারা কেবল চলে গেছে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে। তার চায় সামনে কোনো গোলযোগ নয়, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টাকেও খাটো করে দেখার কিছু নেই। একটু সচেতন যারা তারাও মনে করছেন ন্যায় ও ন্যায্যতা দুটো থেকেই বিচ্যুত হয়েছে আওয়ামী লীগ। আইনের শাসন কায়েম করার বদলে আইন নিয়ে তারা খেলেছে। আইন নিরাপত্তা দিয়েছে অত্যাচারীকে অত্যাচারিতকে নয়। মুখে আইনের ক্ষমতার কথা বলে নিজেরা আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান নিয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল থেকে নিয়ে দখলদারি, নির্যাতন, সবকিছুকেই নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়ে (সাগররুনী হত্যাকাণ্ডের বেডরুমের নিরাপত্তা দিতে অপারগতা) রানা প্লাজা ধসের ব্যাপারে নাড়াচাড়া থিওরি একেবারে ডুবিয়েছে আওয়ামী লীগকে। বারবারই প্রধানমন্ত্রী নিজেই জটিল ও প্যাঁচালো এবং নিকর্তান যুক্তি দিয়ে খাড়া করতে চেয়েছেন ব্যর্থতার পক্ষে অবস্থান।

রমজান মাসেও অনেকে ভেবেছিলেন এবার বোধ হয় সত্যিই কোন চমক দেখাবে আওয়ামী লীগ। মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি রায় দিয়ে তা শুরু হয়েছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি আওয়ামী লীগ তুলতে শুরু করেছিল। কিন্তু তার পরপরই রনি সংক্রান্ত হোঁচট আর যুবলীগের খুনোখুনি বেশ ভালো রকম হতাশাই উপহার দিয়েছে তাদের।

রমজানের অর্ধেক পার হতে না হতেই বিরোধী দলীয় নেতা গেলেন দশ দিনের সৌদি আরব সফরে। ফলে রমজানে বিএনপিকে সংগঠিত করার নতুন প্রয়াসও থমকে গেল। উল্টো ছাত্রদল চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে অপ্রত্যাশিতভাবেই। নির্বাচনমুখী রাজনীতির যে ঢেউ রমজানে বেগবান হয়ে ওঠার কথা ছিল তা হলো না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার অর্জনের যে প্রক্রিয়া সেটাকে ঝুলিয়ে রেখেই রমজান শেষ করলে বিএনপি।

আওয়ামী লীগও অনঢ় অবস্থান টিকে রাখার ভান করেছে পুরো রমজান জুড়েই। তবে ভোট পাওয়ার বা পুননির্বাচিত হওয়ার আশাটা যে তাদের অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে তা নেতাদের বক্তব্যেই প্রকাশিত। হানিফ ছাড়া বাকি সব নেতাই প্রায় খামোশ মেরে গেলেন। এটা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ঈদের পর নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নামতে হবে তাদের। নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অভিনব কিছু নিয়ম কানুন করিয়ে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা দিলেই তৃণমূল নেতা কর্মীদের চাপে বিএনপি হাইকমান্ড বাধ্য হবে নির্বাচনে অংশ নিতে’ সে রকমটা বোধ হয় আর হচ্ছে না। কিংবা এবার ওই পরিকল্পনার বিকল্প খুঁজতে হবে ক্ষমতাসীনদের। এখন হয় তাদের পিছু হটতে হবে নয়তো ভুল পথেই জোর করে হাঁটতে হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বললেন নির্বাচনের জন্য অনির্বাচিত সরকার (তার ভাষায় অসাংবিধানিক) ক্ষমতায় আসলে আগামী দশ বছরেও যাবে না। এটা ওই জোর করে ভুল পথে হাটার নামান্তর। সাংবাদিক নির্যাতনের বা হত্যার বিচার হচ্ছে এমন দাবিও তিনি করেছেন এক রনিকে জেলে পাঠিয়ে। বিচার যে অনেক দূরের তা তিনিও জানেন, অন্যরাও জানে। আর তাদের আমলে অন্যায় করে কেউ পার পায় না কথাটাও সত্যের অপলাপ মাত্র গাজুরি কথা। কতো অন্যায় প্রতিদিন তার সোনার ছেলেরা করছে পুলিশর‌্যাব করছে। তার হিসাব তিনি কি রাখেন? এই জোরাজুড়ি জারি থাকলে ঈদের পরের দিনগুলো হবে নিশ্চিতভাবে অনিশ্চিত আর ঝঞ্ঝাটেরই।।