Home » প্রচ্ছদ কথা » সরকার – বিএনপি ও সুশীলদের কর্ম-পরিকল্পনা

সরকার – বিএনপি ও সুশীলদের কর্ম-পরিকল্পনা

একক নির্বাচনের পথে আওয়ামী লীগ বিএনপি দেবে আল্টিমেটাম অন্তবর্তী সরকারের চেষ্টায় সুশীলরা

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

khaleda-hasinaরাজনৈতিক সমঝোতার দেশিবিদেশি সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ হয়েছে কারণ সরকার সমঝোতা চায় না, সমঝোতার সব পথ ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকার চায় না রাজনৈতিক সঙ্কটের ইতিবাচক সমাধান। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই বিরোধী দল, মত ও পথকে দমনের যে যাত্রা শুরু করেছিল, তা শেষ সময়ে এসে আরো বহু গুণে বেড়েছে। সরকার আগে থেকেই নেয়া কঠিন কঠোর পথটিকে আরো জোরদার করতে চায়। মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার মানসে যা যা করণীয় বলে তারা মনে করছে, তার সবগুলো পথকেই কাজে লাগাচ্ছে। সরকার নিজের ভীতি থেকে অন্যকে ভীত করার লক্ষ্যে ব্যাপক আতঙ্কের বিস্তার ঘটিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চায় যাতে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথটি পাকাপোক্ত হয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই করা হচ্ছে তা নয়, সমাজের অপরাপর অংশের মধ্যেও এই আতঙ্ক বিস্তার করার পথই তারা বেছে নিয়েছে। বাইরের দুনিয়ার দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই, এ দেশটিতেই এমন উদাহরণ রয়েছে যে, সরকারের যখন জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকে তখন এই ধরনের ভীতি, আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়। এছাড়া বিকল্প কোনো পথ তাদের সামনে খোলা থাকে না। এখন ঠিক তাই হচ্ছে।

বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপআলোচনা করে যে খবরাখবর মিলেছে তাতে জানা যাচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে সরকার আরো বেশি কঠিন কঠোর অবস্থানে যাবে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সংস্থাগুলোকে কাজে লাগিয়ে অত্যাচারনিপীড়ননির্যাতন ও আইন বহির্ভূত পথে নানা ঘটনা ঘটবে এবং ঘটতে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সরকার প্রয়োজনে বড় ধরনের সংঘাতের মধ্যেও নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে দ্বিধাবোধ করবে না। জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখন আর সবাইকে নিয়ে, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিকে বিবেচনা করছে না। তারা প্রয়োজনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বাদ দিয়েই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত চিন্তাভাবনা করছে। তবে অধিকাংশ দল যাতে ওই নির্বাচনে অংশ নেয় সে লক্ষ্যে নানামুখী চেষ্টাও চলছে। জামায়াতকে আগেই প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় জামায়াতের একটি বড় অংশের চাপে সরকারের সঙ্গে আঁতাতের বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে আঁতাতপন্থীরা আর আগাতে পারেনি। সরকারের দিক থেকে একজন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, জামায়াতের সঙ্গে ফয়সালা করার ব্যাপারে। ওই সময়ে এ বিষয়টি আর খুব বেশি দূর আগায়নি। কিন্তু জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের হাইকোর্টের রায় এবং আপিল বিভাগের আপিল খারিজ করার পরে পুরো পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। তারপরেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জামায়াত যদি তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধন করতে পারে, তাহলে তাদের পক্ষে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা সম্ভবও হতে পারে। এদিকে, চেষ্টা চলছে বিএনপির একটি অংশকে নির্বাচনমুখী করার। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বিশেষ করে সেনাসমর্থিত তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কালের অভিজ্ঞতায় নির্বাচনে অংশ নিতে মানসিকভাবে রাজি এমন নেতারা সাহস করছেন না দলের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে। ক্ষমতাসীনদের একক নির্বাচনের ব্যাপারে ঝামেলা আছে জাতীয় পার্টিতেও। জাতীয় পার্টির একাংশ ইতোমধ্যেই মহাজোটে থাকা নিয়ে এরশাদের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছে। এ অবস্থায় অন্যান্য ছোটখাটো দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে সরকার।

এছাড়া আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধি এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে কিছু পরিবর্তন আনারও উদ্যোগ রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এতে ক্ষমতাসীনরাই যে লাভবান হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

রাজনৈতিক সঙ্কট এবং জটিলতা ইতোমধ্যেই শেষ সীমানা অতিক্রম করেছে। এই সঙ্কট নিরসনে দেশি উদ্যোগ বহু আগে শেষ হয়েছে। বিদেশি উদ্যোগও শেষ। আর এ পরিস্থিতিতে সুশীল সমাজ নামধারীরা বিদেশি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক করছেন। চেষ্টা চলছে নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তবর্তীকালীন একটি সরকার গঠনের। তারা চান, সরকারটি হবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সুশীলদের সমন্বয়ে গঠনের। কয়েকটি বিকল্প নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। একটি প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বড় একটি এনজিওর এক নাম্বার ব্যক্তিকে প্রধান করে ওই অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন। অন্য বিকল্প নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শেষ পর্যন্ত এটা সফল না হলে কি করা যায় তা নিয়েও আলাপআলোচনা আছে। জাতীয় সরকার গঠনের কথা তো অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। তবে সব বিষয়গুলোই ভাবনাচিন্তা হচ্ছে ক্ষমতাশালী একটি পক্ষকে মাথায় রেখেই।

বিএনপি নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ অন্তবর্তী সরকার গঠনের জন্য সরকারকে শেষ এবং চূড়ান্ত চাপ প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল এখন চাঙ্গা। অবশ্য এই নির্বাচনের ফলাফলের পরে বিএনপির মধ্যে একটি অংশ প্রচারপ্রচারণা চালাচ্ছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে গেলেও বিএনপি জয়লাভ করবে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যরা এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। তারা মনে করছেন, তিনশ আসনের সংসদ নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত না হলে নির্বাচনটি ক্ষমতাসীনরা যেকোনো উপায়ে নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেবে। এ অবস্থায় নির্বাচনকালীন অন্তবর্তী সরকারের বিষয়ে শেষ চেষ্টা হিসেবে বিএনপি খুব শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির মধ্যে থাকছে বেগম খালেদা জিয়া প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবেন। আর এটা হবে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার লক্ষ্যেই। শেষ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। আর ঢাকার সমাবেশ থেকেই দেয়া হবে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম। আর এর সঙ্গে হরতালঅবরোধ কর্মসূচি থাকছেই।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, আগামী মাসগুলো হবে ঘটনাবহুল। সরকার নেবে আরো কঠোর অবস্থান। আর শক্তি প্রয়োগের পথে যাবে তারা। ভীতি আর আতঙ্ক, যা ইতোমধ্যেই সামগ্রিকভাবে বিদ্যমান, তা আরো বাড়বে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে দেশ বড় ধরনের সংঘাতসংঘর্ষের মধ্যেই পড়বে এটাই হচ্ছে সবশেষ পাওয়া খবর।।