Home » অর্থনীতি » সুন্দরবন ধ্বংসের কফিনে শেষ পেরেক

সুন্দরবন ধ্বংসের কফিনে শেষ পেরেক

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

sundarbanরামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে ভারতের সাথে চুক্তির পরে এবার পাথরঘাটায় জাহাজভাঙ্গা শিল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সবকার ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন ধ্বংসের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকতে যাচ্ছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এর ফলে অনিবার্য ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে সুন্দরবন এবং দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র এলাকা ও বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন। পরিবেশের জন্য মারাত্মক দূষণকারী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জাহাজভাঙ্গা শিল্প স্থাপনে উপকূলের রক্ষাকবচ একক বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ভয়াবহ প্রতিবেশগত সংকটাপন্নতা, সর্বোপরি আড়াই হাজার পরিবারের ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়াএসব কোন কিছুই বিবেচনায় নিতে রাজী নয় সরকার।

প্রায় ৫৩ একর জমির ওপর পাথরঘাটার গাববাড়িয়া চরে প্রস্তাবিত এই জাহাজ ভাঙ্গা ইয়ার্ড স্থাপন হলে দক্ষিণে টেংরা, চরলাঠিমারা ও হরিনভাটা নামক ৬ হাজার হেক্টর আয়তনের ৩টি সংরক্ষিত বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। একইসাথে উত্তরদিকে ১২০০ হেক্টর আয়তনের বনবিভাগের সৃজন করা শ্বাসমূলীয় বনভূমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। এই বনভূমিতে থাকা হরিন, শুকর, মেছো বাঘ, গুই সাপসহ নানা প্রজাতির মাছও ধ্বংস হয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। ফলে গোটা দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।

জানা গেছে, পাথরঘাটায় এই শিল্প স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বলেশ্বরের তীরে, সুন্দরবনের মধ্যে জাহাজভাঙ্গা শিল্প স্থাপিত হলে সুন্দরবনের নাকি কোন ক্ষতি হবে নাএ দাবী একসময়ের কমিউনিষ্ট শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়ার। তার মতে, চলতি বছরের মধ্যে এখানে সমীক্ষার কাজ শেষ করে আগামী বছরের মধ্যে ভৌত অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা যাবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের মতামত জানতে চাইলে দুটি দপ্তরই আপত্তি জানিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলেছে, পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব বিবেচনায় প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ তথা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) বলেশ্বর নদের তীরকে জাহাজভাঙ্গা শিল্পের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাচন করা সমীচীন হবে না। চিঠিতে আরো বলা হয়, ২০১০ সালে জাতীয় জীববৈচিত্র্য মূল্যায়ন ও কর্মপরিকল্পনা২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য’র আঁধার হিসেবে বলেশ্বর নদের মোহনাকে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব বিবেচনায় এখানে এ ধরনের লাল ক্যাটাগরির শিল্প স্থাপন না করার পক্ষে মত দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

অন্যদিকে বন বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, এই এলাকার সুন্দরবনে ৬০ প্রজাতির বন্য প্রানী রয়েছে। প্রস্তাবিত এলাকার ৫/৬ কি:মি . এর মধ্যে সুন্দরবন। জাহাজভাঙ্গা শিল্প স্থাপিত হলে ব্যাপক হারে পানি, বাযু ও শব্দদুষনের কবলে পড়বে সুন্দরবন ও সাগর। এরপরেও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রথানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে এটিকে ছাড়পত্র দেবার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিশেষ বিবেচনায় ছাড়পত্র দেয়ার অনুমতি দিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অধিদপ্তর যদিও এ পর্যন্ত ছাড়পত্র দেয়নি কিন্তু চাপের মুখে তারা কতক্ষণ টিকতে পারবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। এলাকার জনগনের দাবীএখানে জাহাজভাঙ্গা শিল্প স্থাপন করা যাবে না, এ সকল দাবিদাওয়া উপেক্ষা করেই ক্ষমতাসীনদের স্বার্থই এখানে বিবেচিত হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারয় দপদপিয়া সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাথরঘাটায় দেশের দ্বিতীয় জাহাজভাঙ্গা শিল্প স্থাপনের ঘোষনা দেন। অথচ ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ঘোষিত নির্বাচনী ম্যানিফেষ্টোতে পরিষ্কার বলা হয়েছিলঃ বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব থেকে রক্ষা, দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং পানিসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। নদী খনন, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। সুন্দরবনসহ অববাহিকা অঞ্চলের মিঠা পানি প্রাপ্তি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভয়ংকর পরিবেশ দুষনকারী একটি লালক্যাটাগরির শিল্প স্থাপনের ঘোষনা দিয়ে নির্বাচিত হবার মাত্র চার বছরের ব্যবধানে নিজের ঘোষিত নির্বাচনী ওয়াদার বিপরীতে দাঁড়িয়ে যান দেশের প্রধানমন্ত্রী।

৩০ আগষ্ট, ১৯৯৯ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যাচ্ছে ঃ সরকার চিহ্নিত সুন্দরবনের সংরক্ষিত বন এলাকার চারপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকা পরিবেশগত সংকটনাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হবে। বাংলাদেশ স্বাক্ষরিত জাতিসংঘের রামসার কনভেনশন অনুযায়ী, সুন্দরবনের ১০ কি.মি. এলাকার মধ্যে কোন শিল্পকারখানা, ভারী ইমারত ও স্থাপনা নির্মান নিষিদ্ধ। জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের সমস্ত শর্তাবলী লংঘন করে বিুদ্যৎ প্রকল্পের পরে সুন্দরবনের ৬ বিলোমিটারের মধ্যে পাথরঘাটার গাববাড়িয়া চরকে নির্বাচন করেছে জাহাজভাঙ্গা শিল্প স্থাপনের স্থান হিসেবে। আইন অনুযায়ী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জাহাজভাঙ্গা শিল্প ‘লাল ক্যাটাগরি’র (সবচেয়ে বেশী দূষণ প্রবণ) শিল্প কেবল মাত্র শিল্প এলাকা বা শিল্প সমৃদ্ধ এলাকা ছাড়া এটি নির্মাণের কোন সুযোগই নাই।

পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের পাশে একের পর এক এরকম লাল ক্যাটাগরির প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ এলাকার সকল জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়বে। বিুদ্যৎ কেন্দ্র স্থাপনে বনবিভাগ লিখিত আপত্তি তুললেও তা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। সরকারের যুক্তি হচ্ছেএটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১৪ কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন জানিয়েছে, এটি সুন্দরবন থেকে মাত্র সাড়ে নয় কিলোমিটার দূরে। জিপিএস সিস্টেম ব্যবহার করে পরিবেশ বিজ্ঞাণীরা জানিয়েছেন প্রকল্পটি স্ন্দুরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে পড়ে। জিপিএস কোঅর্ডিনেট এক্সঃ ৮৯.৬৯১৬০ এবং ওয়াই ঃ ২২.৪২৭৭৫ নেয়া হয়েছে পশুর নদীর প্রান্ত থেকে, যেখানে লাল ক্যাটাগরির এ প্রকল্পের সীমানা শুরু হয়েছ। এই পয়েন্ট থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব মাত্র ২.০৯ কিলোমিটার। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতর থেকে নেয়া আরেক হিসেবে বনের দূরত্ব সেখান থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার। অন্যদিকে প্রস্তাবিত জাহাজভাঙ্গা শিল্প এলাকা বনের মাত্র ৬ কি.মি. এর মধ্যে।

রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়েছে গদাইলস্করী চালে। নানা পক্ষের বিরোধিতার কারনে সরকার ধীরে চলো নীতি গ্রহন করেছে। ইতিমধ্যে সীমানা দেয়াল তুলে অধিগ্রহন করা ৪৫০ একর জমির মধ্যে মাত্র ১৫০ একর জমিতে মাটি ফেলা হয়েছে। এই ১৫০ একর জমি ছাড়া প্রকল্পের আর কোন অগ্রগতি হয়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও আসেনি। তবে সুযোগ সৃষ্টি হযেছে স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের। জেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার নিকটাত্মীয়, একজন ইউপি চেয়ারম্যান, সুন্দরবনের এক ডাকাত বাহিনী সর্দার। দখল করে নিয়েছে ৩’শ একর জমি। ফলে প্রকল্পে কাজ তেমন কিছু না চললেও দখলকারীদের কামাই হচ্ছে দেদার। মাছের ঘের করে দখলকারীরা টাকা কামাই করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এভাবে দেশের স্বার্থের প্রশ্ন এড়িয়ে পরিবেশগত সংকটনাপন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে ভারতের সাথে চুক্তি, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে অবৈধ নৌ রুট এবং সবশেষে জাহাজভাঙ্গা শিল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত বিশাল এই ম্যানগ্রোভের ধ্বংসই ত্বরান্বিত করবেএ অভিমত পরিবেশবিদ এবং বনজীবি ও বন সংলগ্ন জনসাধারনের। এর আগে আশির দশকে সীতাকুন্ড উপকূলে জাহাজভাঙ্গা শিল্প স্থাপিত হওয়ায় সেখানকার কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৫ লাখ উপকূলীয় গাছ ধ্বংস হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশীয় গবেষণা থেকে জানা গেছে জাহাজভাঙ্গা শিল্পের কারনে ঐ উপকূলের মাটি, পানি, মাছ সর্বোপরি জীববৈচিত্র্যের অপূরনীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

জাতিসংঘের নৌযান সংক্রান্ত চুক্তি ভেসেল কনভেনসান অনুযায়ী; কোন দেশ পুরানো জাহাজ আমদানী করতে চাইলে অবশ্যই তা বর্জ্যমুক্ত করে আনতে হবে। দেশের উচ্চ আদালতও এ বিষয়ে নানা সময়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। বাস্তবে বেশিরভাগ আমদানীকারকরা তা মানছেন না এবং বর্জ্যমুক্ত না করে জাহাজ ভাংছেন এবং উপকূল ও সাগরে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষন ঘটাচ্ছেন। আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে তেলবাহী ট্যাংকার ও রাসায়নিক পদার্থ পরিবহনকারী প্রায় আড়াই হাজার পুরানো, মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজ তাদের সমুদ্রসীমা থেকে সরিয়ে ফিলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইউরোপিয় কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব জাহাজের প্রধান গন্তব্য হচ্ছে বাংলাদেশ।

সুন্দরবনের সন্নিকটে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, পাথরঘাটায় জাহাজভাঙ্গা শিল্পপরিবেশ বিপর্যয়ের কবলে পড়া বিশ্বের এক নম্বর দেশ বাংলাদেশে এসব প্রকল্প কাদের স্বার্থে? হাজার হাজার পরিবার উচ্ছেদ করে, কৃষি ও মৎস্য চারনভূমি ধ্বংস করে, পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি সাধনের আশংকা এবং গণ প্রতিরোধকে উপেক্ষা করে গণপ্রজাতন্ত্রের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীবর্গ, উপদেষ্টা ও আমলাবৃন্দ কেন, কিসের লোভে, কিসের আশায় কিংবা জনগনের বা দেশের কোন মহত্তম স্বার্থে এসব বিধ্বংসী প্রকল্প গ্রহন করছেনএটি জনগন জানতেই চাইতে পারে। এসব প্রকল্পের ফলে সবদিক থেকে দেশ, মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এটি জনগন জানে। লাভবান হবে ভিন্ন দেশ, ভিন্ন দেশের কোম্পানী, কতিপয় রাজনীতিবিদ ও আমলা আর ফুলেফেঁপে উঠবে জাহাজ ভাঙ্গার সাথে জড়িত শিল্পপতিরা। আর এদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার এতোই আন্তরিক যে, আইনকানুন, নীতিনৈতিকতা বা জনমতের কোন তোয়াক্কাই এই সরকার করছে না। জনগনকে তারা আশ্বস্ত করতে চাইছেন ছেলেভুলানো কথা বলে! পরিবেশের ক্ষতি হবে না এমনভাবে করা হবে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়এসব অর্থহীন বা অর্বাচীন কথা মানুষকে শুনতে হচ্ছে উপদেষ্টা, মন্ত্রী, আমলা, বিদেশী কনসালট্যান্ট এবং চিহ্নিত কিছু বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে। যার সঙ্গে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নেই।

পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের পাশে এরকম লাল ক্যাটাগরির একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠলে বনের পরিবেশ ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ এলাকার সকল জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়বে। পাশাপাশি সমগ্র এলাকার মাটির গুণগত মান নষ্ট, প্রাণীদের হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস, নদী দূষণ, ভূমির উর্বরতা হ্রাস এবং উদ্ভিদের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই জলাশয় ভরাট, কার্বন নির্গমন, বন ক্ষতিগ্রস্তকরণ, বিশ্ব ঐতিহ্য বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত করাসহ মোট ৫টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন বা কনভেনশন লংঘন করেছেন বলে বিশষজ্ঞরা মনে করছেন। সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিচ্ছে। কার্বন নির্গমনের একটি দায় হিসেবে এ অর্থ দিলেও এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে সরকার নিজেই বিপুল পরিমাণ কার্বন নির্গমনের পথে এগোচ্ছে। যা আগামীতে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত জলবায়ু তহবিলের উপরে আঘাত হিসেবে দেখা দেবে।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপক্ষে তেলগ্যাস খনিজ সম্পদ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করছে। আগামী মাসে তারা লংমার্চেরও কর্মসূচি দিয়েছে। এদিকে নতুন করে পরিবেশবাদী এবং সমাজের বিশিষ্টজনদের নিয়ে সুন্দরবন ধ্বংসের সরকারী এই আয়োজনের বিরুদ্ধে বন রক্ষায় ১০১ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল এই কমিটির আহবায়ক এবং বাংলাদেশ পরিেেবশ আন্দোলনের মহাসচিব আব্দুল মতিন সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই কমিটি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনের সব স্থাপনা, প্রকল্প, দখলদারদের অবিলম্বে উৎখাত করা, পানি, মাটি, বন, দূষণ এবং নির্বিচারে গাছ কাটা ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যানাল বাংলাদেশ, সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস মুভমেন্ট, সেফ দ্যা সুন্দরবন, গ্রীন ভয়েস, বাগেরহাট ডেভেলপমেন্ট কমিশন, রামপাল কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, ন্যাচার ক্যাম্পেইন বাংলাদেশসহ পরিবেশবাদী সংগঠন এই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।।