Home » রাজনীতি » গ্রাম পর্যায়েও আতঙ্ক

গ্রাম পর্যায়েও আতঙ্ক

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

village-under-threatগ্রামে গঞ্জে সর্বত্র এখন রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা। সবাই উদ্বিগ্ন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। সামনের দিনে কী হতে যাচ্ছে এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে অধিকাংশ মানুষই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এ রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তোরণের পথ খোঁজার জন্য বড় দুই রাজনৈতিক দলের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল এবং সরকার কি করছেন তাই তারা বিবেচনা করছেন। আর গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের শঙ্কা এবং আতঙ্কের কথা বোঝা যায় কয়েকটি স্থানের চিত্র থেকে।

রাজশাহীর মোহনপুরের মহব্বতপুর গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল হোসেন জানান, বাংলাদেশ এখন গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। দিন দিন সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সামনের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কী হবে তা আন্দাজ করতে পারছি না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদ শুভ বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা বাংলাদেশ ক্রমশ সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে আশু সমাধান হওয়া উচিত। কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘাতময়। নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে দুই দলের সমঝোতা হওয়ার বিকল্প নেই। নির্বাচনের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন সম্পৃক্ত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদল যদি কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে তাহলে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন দুটোই ব্যহত হবে। তখন জনগণকেই খেসারত দিতে হবে। তাই আমি মনে করি, দেশের স্বার্থে আন্দোলন নয়, সমঝোতার মাধ্যমে উদ্ভুত সমস্যার সমাধান করা উচিত।

ঝিনাইদহ শৈলকুপা সড়কের পাশে কবিরপুরে হায়দারের চায়ের দোকানে প্রতি দিন সকাল বিকালে রাজতৈক আলাপ আলোাচনা চলতে দেখা যায়। টেলিভিশন চ্যানেল গুলোতে খবর দেখে তারা জানতে পারেন দেশে কোথায় কি ঘটছে। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা কি বলেন। আবার বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাল্টা কি বলেছেন, তা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলে। সঙ্গে ধান পাটের দর দাম নিয়েও কথাবার্তা চলে। তাদের আলোচনায় পিঁয়াজের ঝাঁঝ উঠে আসে। সবার মধ্যে আতংক দেশে কি হতে যাচ্ছে। দু’ দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে আগামীতে দেশে অশান্তির সৃষ্টি হবে এমন আশংকার কথা বললেন চায়ের দোকানে বসা তফছের আলি।

যশোর শহর থেকে ৭ মাইল দূরের গ্রাম হৈবতপুর। বাংলাদেশের মধ্যে হৈবতপুর সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এ গ্রামের বড় সবজি চাষি ইজাজুল ইসলাম বলেন, তাদের এলাকায় রাজনীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে হৈ চৈ নেই। তবে তাদের ভয় হরতাল অবরোধ নিয়ে। দেশে সংঘাত হলে সবজির দাম পড়ে যায়। বেপারিরা সবজি কিনতে আসে না। আর যারা আসে তারা কম দাম হাকে। চাষি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আগামীতে সংঘাত হলে দেশের ক্ষতি হবে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। তবে ভোট নিয়ে এখনও তাদের গ্রামে তেমন আলোচনা শুরু হয়নি।

মেহেরপুর জেলার উজলপুর গ্রামের বাবলূ মিয়া বলেন, তাদের গ্রামে আগামীতে কারাকারা ভোটে দাড়াতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। সাধারন মানুষ বলাবলি করছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’ দুবার করে ক্ষমতায় গেছে। তাদের স্থানীয় নেতা কর্মীরা ভাল না। তাদের আশংকা ছিল ঈদের পর দেশে ফের সংঘাত লাগবে। অশান্তির সৃষ্টি হবে।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার খুলুমবাড়ি বাজারের একজন ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি’র মধ্যে মিলমিশ না হলে দেশে অশান্তির সৃষ্টি হবে। এবার সাড়ে ৮শ’ টাকা দরে ৩শ’ মন পিঁয়াজ কিনে মজুত করে ছিলেন। ২৪শ’ টাকা মন দরে দেড়শ’ মন বিক্রি করেছেন। ভাল লাভ হয়েছে। বাকি দেড়শ’ মন এখনও মজুত আছে। পিঁয়াজ বিক্রির টাকা দিয়ে পাট কিনছেন। পিঁয়াজ খাদ্য পণ্য। এ নিয়ে চিন্তার কোন কারন নেই। তবে পাট বিদেশে যায়। দেশে হট্টগোল গোলমাল হলে বিদেশীরা পাট কিনতে আসবে না, দাম পড়ে যাবে। এতে লোকসানের আশংকা করছেন তিনি। তাদের এলাকাতে নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান ও সাবেক এমপিদের নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজারে চায়ের দোকান গুলোতে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। সেখানে কথা হয় দহকুলা গ্রামের বজলুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এক সময় তাদের গ্রামে চরমপন্থিদের ঘাটি ছিল। প্রায়ই মানুষ খুন হত। এখন নেই। তার কথা যারা গোড়া আওয়ামী লীগ বিএনপি করে তাদের মতের পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু যারা দল করে করে না। সাধারন ভোটার তাদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য কারা যাচ্ছে। গত নির্বাচনে তাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কমীদের আচরনে মানুষ অখুশি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার গ্রামের একটি কলেজের শিক্ষক অমল সাহা বলেন, গ্রামের মানুষ এখন দেশের রাজনীতির সব খবর রাখেন। মানুষ নানা ব্যাপারে সরকারের সমালোনা করছে। এতে মনে হয় সরকারের জনপ্রিয়তা কমে গেছে। বিএনপি সমর্থকরা চাঙ্গা হয়ে উঠছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে মানুষের মাঝে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

এদিকে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর ও নড়াইল জেলার মানুষজনও জানিয়েছেন তাদের আতঙ্কের কথা।।