Home » সাক্ষাৎকার » সাক্ষাৎকার – ড. ইমতিয়াজ আহমদ

সাক্ষাৎকার – ড. ইমতিয়াজ আহমদ

নিজেরা সঙ্কট সমাধান করতে না পারার কারণে বাইরের দূতিয়ালি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক

imtiaz-ahmed. ইমতিয়াজ আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্লেষক। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগসহ এ সম্পর্কিত বিষয়ে মতামত দিয়েছেন আমাদের বুধবার এর সঙ্গে।

আমাদের বুধবার: রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে করতে না পারার কারণে জাতিসংঘ মহাসচিবের দূতিয়ালির বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

ইমতিয়াজ আহমদ: বাস্তব অবস্থা হচ্ছে এই যে, প্রধান দুই রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত নির্বাচনের ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। অনেকেই মনে করছেন, দেশ সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘও এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। সেই হিসেবে জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কটের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ তারাও চাইছেন, বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক সব দলের অংশগ্রহণে। যেহেতু আমরা নিজেরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি সে কারণে বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করা উচিত নয়।

আমাদের বুধবার: কিন্তু বাইরের হস্তক্ষেপ বা দূতিয়ালির বিষয়টিকে আপনি কিভাবে বিশ্লেষণ করছেন?

ইমতিয়াজ আহমদ: নিজেদের সঙ্কট নিজেরা সমাধান করতে না পারার কারণেই এই দূতিয়ালির বিষয়টি সামনে এসেছে। বাইরের এই দূতিয়ালির বিষয়টি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য দুঃখজনক। বাংলাদেশ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহু বছর ধরে লড়াই সংগ্রাম করেছে। দেশ স্বাধীনও হয়েছে গণতন্ত্রের লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে। সেই দেশ ৪০ বছর পরেও তার নির্বাচন পদ্ধতি সাজাতে পারেনি, এ প্রশ্নে রাজনৈতিক দলের অনৈক্য বিদ্যমান, সব দলকে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়নি। এটা দুঃখজনক সন্দেহ নেই। যেহেতু তৈরি হয়নি সেই হিসেবে ঘরে ভেতরে অনেকের মধ্যেই শঙ্কা রয়েছে দেশ বড় ধরনের সংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে কিনা। ঘরের বাইরের তারাও শঙ্কিত যে আবার দেশটি সংঘর্ষের মধ্যে পড়ছে কিনা। এখন যেহেতু বিশ্ব ব্যবস্থা পরিবর্তিত এবং জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে তারাও নিঃসন্দেহে চাইবে যে, সংঘাত সংঘর্ষের মধ্যে দেশটি যাতে না যায়। কারণ বাংলাদেশে সংঘাত সংঘর্ষ দেখা দিলে এই অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। সব মিলিয়েই তারা চিন্তা করছেন। সেই হিসেবে দুঃখজনক সন্দেহ নেই কারণ আমাদের সঙ্কট আমাদেরই মিটিয়ে ফেলা উচিত ছিল। রাজীতিবিদদের সমাধান করা উচিত ছিল। তাদের উচিত ছিল নমনীয় হওয়া। কিন্তু তারা তা পারেননি। কাজেই বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা তাদের নজরদারি বাড়াবেন এটাই স্বাভাবিক।

আমাদের বুধবার: ইতোপূর্বেও বাংলাদেশে এ ধরনের বাইরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। স্যার নিনিয়ান স্টিফেন বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলেন। এবারে জাতিসংঘ মহাসচিব উদ্যোগ নিয়েছেন এবং আরো একজন দূত বাংলাদেশে আসছেন। আপনার কি মনে হয় এবারের উদ্যোগটি সফল হবে?

ইমতিয়াজ আহমদ: স্যার নিনিয়ানের উদ্যোগ আর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভিন্নমাত্রায়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায়ও বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। সেই হিসেবে গতবারের ১/১১ তে যখন সেনাসমর্থিত সরকার এলো তখন জাতিসংঘে এক ধরনের ভূমিকা ছিল বলে আলোচনা আছে। কিন্তু এবারে জাতিসংঘের ভূমিকাটা খোলাখুলিভাবে এসেছে, কোনো লুকোচুরির বিষয় নেই। যদি সত্যি সত্যি সংঘর্ষ দেখা দেয় তবে অনেক স্টেকহোল্ডারদেরই অনেক ধরনের ঝামেলা দেখা দেবে। কাজেই জাতিসংঘ যদি কোনো ভূমিকা না নেয় তাহলে অনেকেই তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি করবে এই বলে যে, জাতিসংঘ কেন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কিন্তু যদি আমরা নিজেদের সমাধান নিজেরা করতে পারতাম তাহলে জাতিসংঘের এই উদ্যোগের প্রয়োজন হতো না। সমাধান করতে না পারা আমাদের দুর্বলতা এবং এটা দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে ১৯৯৬ এবং ২০১৩ এক নয়। বিশ্ব ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ১/১১ ই শুধু এর মধ্যে ঘটেনি। ৯/১১ হয়েছে, জঙ্গিবাদ বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২০১৩ এর পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন। কাজেই আমি মনে করি এই উদ্যোগের ফলে যদি সঙ্কট সমাধানের ইতিবাচক কোনো ফলাফল পাওয়া যায় তাহলে জনগণও স্বস্তি পাবে। যদি এতেও সঙ্কটের সমাধান না হয় তাহলে খোদ গণতন্ত্রই বিপদে পড়ে যাবে এবং পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।

আমাদের বুধবার: এটা দেখা যায় যে, জাতিসংঘ যেসব স্থানে সমঝোতার চেষ্টা চালায়, দূতিয়ালি করে কিন্তু ব্যর্থ হয় এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, সে সব দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠায়। আপনার মন্তব্য কি?

ইমতিয়াজ আহমদ: সেই অবস্থায় বাংলাদেশ যাবে এমন আশঙ্কার কোনো কারণ আছে বলে মনে করি না। বাংলাদেশে জাতিগত সংঘাত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীগত সমস্যা নেই। এখানে মূলত নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যকার সমস্যা রয়েছে। জনগণের মধ্যে থেকেও কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরে চাপ আছে। এখানে নানা পক্ষ রয়েছে যেমন সুশীল সমাজ, সংবাদ মাধ্যম এবং অন্যান্য পেশার মানুষজন। ব্যবসায়ী মহলের চাপও আছে। এমনকি একাধিক জরিপে দেখা গেছে, সবাই সমঝোতার পক্ষে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষেও বড় ধরনের জনমত রয়েছে। জনগণের মধ্যে সেই অর্থে বিভাজন নেই। অনৈক্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে, বিশেষ করে বড় দুই দলের মধ্যে। আবার বড় দুই দলের সবাই অনৈক্য, সঙ্কট, সংঘাত চান না। গুটিকয়েক নেতা নেত্রীর মধ্যেই এটা সীমিত। এটাও মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের মধ্যেও একাধিক শক্তি রয়েছে যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রশ্নে একমত। তারাও সঙ্কটের সমাধান চান। কাজেই শান্তিরক্ষী বাহিনী আশার সম্ভাবনা আছে এমনটা আমি মনে করি না। আর অগণতান্ত্রিক পন্থার ভুলটির অভিজ্ঞতা রাজনীতিবিদদের রয়েছে বলে এবারে আবার সেই একই ভুল তারা করবেন এটা কেউ চায় না। নমনীয়তার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের সুযোগ এখনো আছে।

আমাদের বুধবার: আপনাকে ধন্যবাদ।।

১টি মন্তব্য

  1. বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পেক্ষাপট ভিষন ঘোলাটে,এ কথা অনসীকার্য্য।বিদেশী কুটনীতিবীদরা বর্তমানে বাংলাদেশে খুবই ব্যাস্ত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপার নিয়ে। পৃথিবীর অন্যকোন অন্ঞলে বিদেশী কুটনীতিবীদদের এত ব্যাস্ততা নাই একমাত্র আফ্রিকা ছাড়া।রাজনৈতিক অনভিজ্ঞ ও ক্ষমতালোভী সামরিক ও অসামরিক ব্যাক্তিবর্গ আজ আফ্রিকার বিভিন্নদেশে বিদেশী কুটনীতিবীদের সলা পরামর্শে ঐ অন্ঞলটিকে করেছে বর্তমান পৃথিবীর সংগাতময় অন্ঞল।বাংলাদেশের পরিনীতি আগামীতে লাইবেরিয়া বা রুয়ান্ড-কঙ্গোর মত হতে পারে।হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী ।বাংলাদেশ ১৬কোটি বাংলাদেশীর দেশ হলেও এখানে দাবা মাস্টার পরাশক্তি !