Home » রাজনীতি » সমঝোতার পথ রুদ্ধ – বিদেশীদের উদ্যোগকে সরকারের চ্যালেঞ্জ

সমঝোতার পথ রুদ্ধ – বিদেশীদের উদ্যোগকে সরকারের চ্যালেঞ্জ

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

political-situationদেশীয় উদ্যোগ বহু আগেই শেষ। প্রভাবশালী পশ্চিমি দুনিয়ার দেশগুলোর ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের প্রকাশ্যে দৌঁড়ঝাপেরও আপাতত একটি স্বল্প বিরতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগকে সরকার ছাড়া দেশী বিদেশী সবাই স্বাগত জানানোর পরেও ওই উদ্যোগের সবশেষ অবস্থা কি তাও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে কথাবার্তাও এ সপ্তাহে এসে যেন কিছুটা ক্ষান্ত দিয়েছে বলেই মনে হয়। দেশের জনগণের প্রায় সবাই এখন কেন যেন বেশি চুপচাপ হয়ে গেছেন। দেশী না হোক অন্তত বিদেশী উদ্যোগে কার্যকর কোনো ফললাভ হবে দ্রুতই এমন একটা আশাবাদ অনেকের মধ্যেই ক্রিয়াশীল ছিল। আশা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম তা জেনেও আশার বিপরীতে আশাবাদ এমন একটা অবস্থা মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল সাধারণ মানুষের মনে। কিন্তু কার্যকর ও ফলদায়ক কোনো কিছু না দেখে কোনো কূলকিনারা না পাওয়ায়ই তাদের বর্তমানের এই নীরবতার কারণ। সমঝোতার আশার ঝিলিক শেষ পর্যন্ত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়ার কারণেই দপ করে মিলিয়ে গেছে। আর এ কারণে চরম এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। যতোই দিন যাচ্ছে, দিন ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনের দিনের ততোই আগে থেকে মনের মধ্যে স্থায়ীভাবে বাসা বাধা আতঙ্ক শাখা প্রশাখা মেলে এক মহা আতঙ্কে পরিণত হচ্ছে। এখন শুধুই দিন গণনা সামনের দিনগুলোর সংঘাতের, আর এ কারণে সৃষ্ট হতাশার আর চরম শঙ্কার। জনমনে নিত্যনতুন আতঙ্কের জন্ম নিচ্ছে ভবিষ্যতের ভয়াল বিপদের কথা ভেবে। কারণ সাধারণ মানুষ চায় না কোনো সংঘাত, হানাহানি. নৈরাজ্য অর্থাৎ দেশটির কোনো অনিষ্ট হোক। দেশটির অনিষ্টের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষেরও ভুত ভবিষ্যৎ। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের এমন কোনো বাধন নেই। তাদের বাধন অন্যত্র। মানুষ চায়, মনে প্রাণে চায় সমঝোতা, ক্ষমতাসীনদের নমনীয়তা, তাদের নাড়ির টান যেন অন্তত দেশের প্রতি থাকে।

সরকার ও সরকার প্রধান যে সংবিধানের কথা বার বার উচ্চারণ করেন সে সংবিধান মেনে চললে সামনে আর সময় কই? জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই সমঝোতার পথে গিয়ে সংবিধানের সংশোধন করতে হবে। কিন্তু সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং সচিবদের সভায় নির্দেশনা দিয়েছেন যে নির্বাচন তার নির্দেশিত পথেই অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ আগামী ২৭ অক্টোবরের পর জাতীয় সংসদের আর কোনো অধিবেশন বসবে না এবং আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত ছোট একটি মন্ত্রিসভা থাকবে। মন্ত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী কোনো কাজ করবে না। শুধু দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করবে। কিন্তু একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, সরকার যখন তাদেরই তখন কে নির্ধারণ করবে কোনটি নীতি নির্ধারণী আর কোনটি দৈনন্দিন। এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে মন্ত্রী এমপিরা স্থানীয় প্রশাসনের উপরে কতোটা প্রভাব বিস্তার করবেন তাও তো স্পষ্ট নয়। সরকার এতোদিন অনানুষ্ঠানিকভাবে বললেও এবারে একেবারে সচিবদের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা দিয়ে জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কোনো সমঝোতার পথে তিনি যাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার মাধ্যমে সমঝোতার সকল পথ রুদ্ধ করা হলো। আর এ বিষয়টিও জানিয়ে দেয়া হলো একদলীয় নির্বাচনের পথেই তিনি হাটছেন। এই পথ যে কতোটা পিচ্চিল এবং বিপজ্জনক তা যেকোনো বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই বুঝতে পারেন। আর এই সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে জাতিসংঘসহ বিদেশী এবং দেশীয় সমঝোতাকামনাকারীদের উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এখন সংঘাতের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর তারই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দিলেন সোমবার সচিবদের সভায়।

তবে মনে করার কোনো কারণ নেই সরকার পর্দার অন্তরালে কোনো পরিকল্পনা করছে না বা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে না। তাদের নতুন চিন্তা ভাবনা আরো বেশি ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর এ কারণে যে, এর ফলে সঙ্কটের মাত্রা আরো বাড়বে বৈ কমবে না। সরকার নতুন একটি বিষয় নিয়েও চিন্তা ভাবনা করছে। সংবিধান সংশোধন করে আরো তিন মাস তাদের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়ার। যে নির্বাচন সংসদের মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী তিন মাসের মধ্যে অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা বাড়িয়ে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে অনুষ্ঠানের চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর পরে সংবিধানের ১২৩ () অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে () মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং () মেয়াদ অবসান ব্যতিত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।

সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি ২০১৪। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী এর পূর্ববর্তী নব্বই দিন অর্থাৎ তিন মাস আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। কিন্তু কেন আরো তিন মাস বাড়িয়ে নেয়ার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে তা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। ক্ষমতাসীনদের চিন্তায় কি আছে তা অবশ্য সাধারণের জানা নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। এর আগে আকার ইঙ্গিতে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য আরো এক মেয়াদের সময় চেয়েছেন দেশ শাসনের। কিন্তু গত সপ্তাহে তিনি সে নেকাবটুকুও সরিয়ে সরাসরি নৌকায় ভোট চাইতে শুরু করেন। আর এটা শুরু হয় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের জনসভা থেকে। এরপর অব্যাহত গতিতে প্রতিটি জনসভায়, সভা সমাবেশে তিনি ওই আহ্বান জানিয়েই চলছেন। এ কথা সবাই জানেন, মানুষ এসব বক্তৃতা শুনেও আশা ভরসা পায় না কিংবা নিশ্চিত ও আতঙ্কহীন হতে পারেনি। বরং প্রধানমন্ত্রী যতোই বক্তৃতা দিচ্ছেন জনমনে শঙ্কা আর আতঙ্ক বাড়ছেই। এটা বাড়বেই। আর শেখ হাসিনার সবশেষ ঘোষণার পরে মানুষ বুঝতে পারছে সমঝোতার বদলে একদলীয় নির্বাচনে সংঘাত, সংঘর্ষ বেড়ে যাবে। শেষসীমারও চরমে উঠবে পুরো জাতির, এই ভূখন্ডের অভাগা মানুষগুলোর সঙ্কট। মানুষ এমনিতেই জনজীবনের নানা সমস্যায় সীমাহীনভাবে ভারাক্রান্ত ও বিপর্যস্ত। এটা হালে শুরু হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই পুঞ্জিভূত হয়েছে। অর্থনীতি বিপর্যস্ত, পর্যুদস্ত, বলতে গেলে চলৎ শক্তিহীন। এর উপরে রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টির নিত্যনতুন কৌশল তাদের ভার বহনের শেষ শক্তিটুকু নিঃশেষ করে ফেলেছে। পুরো জনগোষ্ঠীর উপরে মানসিক চাপের এই চরম বোঝা ইতোপূর্বে এই দেশটিতে আর কখনো দেখা যায়নি।

সরকার প্রথমে এই বিষয়টি নিশ্চয় উপলব্ধি করতে পারেনি যে, এবারে বর্হিঃদেশীয় চাপ এতোটা প্রবল হবে এবং চাপটি পড়বে পুরোটাই তাদের উপরে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের ব্যাপারে যে এমন চাপ প্রয়োগ করা হবে তাও তাদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে ছিল না এমনটাই জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের উপর দিকের কয়েকজন নেতা। প্রধানমন্ত্রী প্রথমদিকে ধারণা করেছিলেন, চাপ এলেও তা এমন বড় মাত্রায় আসবে না। কিন্তু সরকার বলতে গেলে প্রথম থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্ধুহীন হতে শুরু করে। বন্ধুহীন হয়ে যাওয়া, অকারণে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ ও শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং পুরো সম্পর্ককে একদেশ নির্ভর করে ফেলার কারণে এখন পুরোটা মাশুল দিতে হচ্ছে। সরকার পক্ষ থেকে জঙ্গি আর মৌলবাদীদের উত্থানের কথা বারংবার বলা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু তাতে কতোটা সুবিধা হচ্ছে বা হবে তা বলা মুশকিল। এবার তাই বিদেশীদের সমঝোতার উদ্যোগের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হলো।

চাপের কারণে সরকারের জন্য পরিসর বা স্পেস ক্রমাগত ছুটো হয়ে আসছে। সরকারের এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সঙ্কট এখন আর বাংলাদেশের দেশীয় সঙ্কট হিসেবে নেই। আর এ পথ তৈরি করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অনঢ় এবং কঠোর অবস্থান। বাংলাদেশের সঙ্কটের আন্তর্জাতিকীকরণ হয়ে গেছে। কিন্তু ইচ্ছা করলে এ পথ এখনো এড়ানো যায়।

অন্যদিকে প্রথমে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ব্যক্তি পরিবার এসব নিয়ে টুকটাক আন্দোলন করেছে। কিন্তু সরকার সৃষ্ট জনগণের নিত্যদিনকার সমস্যা এবং সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারেনি। দুই একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠান এবং সভা সমাবেশের অনুমতি লাভের জন্য পুলিশের দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া তাদের আর কোনো কর্মকাণ্ডই ছিল না। মানুষের অভাব অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, শেয়ারবাজারসহ কতো বিষয়ই না ছিল যা জনগণকে অতিমাত্রায় সজাগ করলেও বিএনপি রা শব্দটি করেনি। তারপরেও বিকল্প হিসেবে কয়েকটি নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরে তারা ধরেই নিয়েছে জনগণ তাদের প্রতি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করেছে এবং আগামী নির্বাচনে বিনা প্রশ্ন উত্থাপনে তাদের নির্বাচিত করবে। এবার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নিশ্চিন্তে বসে আছে এই ভেবে যে, তাদের আর কিছু করার প্রয়োজন নেই। বিদেশীরাই সব সঙ্কটের সমাধান করে দেবে। আর তারা নির্বিঘ্নে ক্ষমতায় চলে আসবে। বিএনপির নিশ্চয়ই মনে রাখা প্রয়োজন, বিদেশীরা যা করবে তা তাদের নিজস্ব ও ব্যক্তিগত স্বার্থেই করবে। এটা দেশের জনগণ বা বিএনপির স্বার্থে করবে না। বাংলাদেশে তাদের নানাবিধ স্বার্থ আছে বলেই তারা তৎপর। স্বার্থ না থাকলে বাংলাদেশে কি হচ্ছে এ নিয়ে একবারও তারা মুখ ঘুরিয়ে তাকাতো না। বিদেশীরা কি করছে না করছে তার দিকে তাকিয়ে না থেকে বিএনপি যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের এতোদিনকার কর্মকাণ্ডের সামান্য প্রতিবাদটুকুও রাজপথে করতে পারতো তাহলে পরিস্থিতি হতো সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু বিএনপি ধরেই নিয়েছে বিদেশীদের সব উদ্যোগ তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে। এটা একটা ঐতিহাসিক ভ্রান্তি। বিএনপিকেও এর জন্য খেসারত দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সোমবারের ঘোষণার পরেও যদি বিএনপিসহ বিরোধী দল কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে না পারে তাহলে তাদেরকে সামনে আরো মামলা হামলা, নির্যাতন নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হবে।।

১টি মন্তব্য

  1. বাংলাদেশীদের পৃথিবীর অন্যান্য গনতান্ত্রিক দেশ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।সংসদীয় গনতন্ত্রে একাধীক দলের অংশ গ্রহনেই সংসদ প্রান পায়।সরকারী দল সংখ্যাঘরিষ্ঠতার অহংকার বলে সংসদে যা খুশী তা করবে,বিরোধীদলকে কোন কথা বলার সুযোগ দেবে না,বিরোধীদলের মতামত শুনবে না এবং বিরোধীদলের সভা সমিতি পন্ড করে দিয়ে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের কারারুদ্ব করবে তাহলে গনতন্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা চলবে কি করে!পাঁচটা বছর গত হতে চল্লো সরকারীদল বিরোধীদলের সাথে সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোন আলাপ আলোচনায় বসলো না,সরকার সংবিধান রদবদল করলো বিরোধীদলের কোন মতামতই নিল না। পৃথিবীর অন্যান্য গনতান্ত্রিক দেশে,যেমন জার্মানে গত বৎসর নতুন করে নির্বাচন আইন কানুন বদল করা হয়েছে সর্বদলের সম্মতিক্রমে।জার্মান তার দীর্ঘ্য ইতিহাসে অনেক যুদ্ব-বিগ্রহ,নৈরাজ্য পাড়ি দিয়ে ১৯৪৯ সাল থেকে সাংবিধানিক গনতন্ত্রের নতুন চাকা ঘুরছে,১৯৯১ সালে দুই জার্মান একত্র হলে পর আবারও অনেক কিছু রদবদল হয়েছে সংবিধানে, প্রতিটি সংসদের মেয়াদে(ল্যাজিসলেটর পিরিয়ড) তারা সংবিধানে একাধির সংশোধন ও সংযোজন করে থাকে এবং এটা করা হয় সরকারী ও বিরোধী দলের সংসদীয় আলাপ আলোচনার মাঝে।জার্মানে সংবিধান রক্ষক সংস্থা ও সংবিধান আদালত আছে,এই আদালতে রাষ্ট্রের নাগরিক তার সাংবিধানিক অধিকারের অভিযোগ আনতে পারে।আমাদের দেশে সাংবিধানিক গনতন্ত্রের নামে ক্ষমতসীনদল স্বৈরতন্ত্র চালায়, যে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদলের কোন মতামত সরকার শুনে না এবং গ্রহনও করে না,বিরোধীদলকে সরকার রাষ্ট্রদ্রোহী বলে গালাগাল করে,জেলেপুরে,সে গনতন্ত্রকে স্বৈরতন্ত্রই বলা উচিত।তাই আমাদের অন্যান্য গনতান্ত্রিক দেশ থেকে শিক্ষা নেওয়া খুবই জরুরী,নিজেরদলের সুবিধার্থে কিছু বিদেশী আইন কানুন সংবিধানে সংযোজন করা হলো বিরোধীদলের মতামত না নিয়ে তাহলেতো ঝগড়া ফ্যাসাদ পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে হয় !