Home » প্রচ্ছদ কথা » এই সরকার ভবিষ্যত সরকারের জন্য কতোটা বিপদ রেখে যাচ্ছে?

এই সরকার ভবিষ্যত সরকারের জন্য কতোটা বিপদ রেখে যাচ্ছে?

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

corruption-cartoonশেষ সময়ে এসে সরকার প্রতিশ্রুতির ঢালা খুলে বসেছে। নানা গোষ্ঠীকে খুশি রাখার মতলব মাথায় নিয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে বর্ধিত বিভিন্ন সুযোগসুবিধা। সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের জন্য পেকমিশন ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। সামরিকবেসামরিক প্রশাসন, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নানা সুযোগসুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা বুঝতে কারো বাকি থাকে না যে, নির্বাচনকে সামনে রেখেই এটি একটি কৌশলমাত্র। কিন্তু সামগ্রিক অর্থনীতির যে বেহাল দশা ক্ষমতাসীন সরকারটি প্রথম দিন থেকে করে রেখেছে, এর উপরে নতুন এই প্রতিশ্রুতির বোঝা সামাল দেয়া ভবিষ্যত সরকারটির জন্য ভয়াবহ কষ্টের হবে। দুর্নীতি, ব্যাংকসহ বিভিন্ন কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন ধরনের লুটপাট, কুইক রেন্টালের বিশাল ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক পরিস্থিতিই ভবিষ্যত যেকোনো সরকারের জন্য ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের। এর উপরে নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি সৃষ্টি করবে নিত্যনতুন আর্থিক সঙ্কটের। বর্তমান সরকার ভবিষ্যত সরকারের জন্য একাধিক বোঝা চাপিয়ে যাচ্ছে যা বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আর্থিক খাতের নানাবিধ নৈরাজ্য চলেছে পুরোটা সময় জুড়েই। রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে, বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতা, শিল্পোৎপাদনসহ সামগ্রিকভাবে উৎপাদনে ভাটা, শ্রমিক অসন্তোষ রেখেই বিদায় নিতে চাইছে মহাজোট সরকার। পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন দুরে থাক ৫ বছরে অর্থায়নের ব্যবস্থাই করতে পারেনি। ঢাকাচট্টগ্রাম ও ঢাকাময়মনসিংহ মহাসড়কের চার লেনের কাজ অর্ধেকও শেষ করতে পারেনি সরকার। মেট্রোরেল চালু করে রাজধানীকে যানজটমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারলেও এর বোঝা চাপিয়ে যাচ্ছে আগামী সরকারের ওপর। বিশাল ব্যায়ের বোঝা সামাল দেয়ার মতো অর্থ নেই সরকারের কোষাগারে। দুর্নীতির অভিযোগে বিদেশী সহায়তাপ্রবাহও হ্রাস পেয়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। একমাত্র রেমিট্যান্সই সবল ছিল বর্তমান সরকারের। এ কারলে রির্জাভ ১৬ বিলিয়ন হলেও প্রবৃদ্ধি বাড়েনি, নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি মূল্যস্ফীতি।

নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের সন্তুষ্ট রাখতে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা দিচ্ছে সরকার। প্রশাসন, পুলিশ, তিন বাহিনী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন স্তরে বেতন ও পদমর্যাদা বৃদ্ধি, পদোন্নতিসহ একগুচ্ছ উদ্যোগ দেড় বছর ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর পরও যাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে মনে করছেন, তাঁদের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার পুলিশের পরিদর্শকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে আর উপপরিদর্শকের পদ তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করেছে। পুলিশের শীর্ষ পদ আইজি পদটি জ্যেষ্ঠ সচিব মর্যাদার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও তিনজন কর্মকর্তাকে সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে কর্মরত সাড়ে ২৩ হাজারেরও বেশি জুনিয়র কমিশন অফিসার (জেসিও) এবং সার্জেন্টের পদ উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেসিওদের দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণী আর সার্জেন্ট ও সমমানের পদ তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছেন। তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, পুলিশের পদমর্যাদা বাড়ানোর সঙ্গে মিল রেখে তিন বাহিনীর পদমর্যাদা বাড়ানো হচ্ছে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়া হয় গত বছরের মে মাসে। তবে এখন এসব শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে গেজেট তৈরির কাজ চলছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সূত্রমতে, কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে গেজেট জারি করা হবে। এর মাধ্যমে ২১৭টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় নয় হাজার শিক্ষক তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা পাবেন। সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ বিদ্যমান তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচের স্কেলে বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানুয়ারিতে প্রায় ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে নিবন্ধনভুক্ত ও এমপিও পাওয়া প্রায় ২৩ হাজার বিদ্যালয় অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখন এসব বিদ্যালয়ের ৯০ হাজারেরও বেশি শিক্ষককে জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, এই কাজ করতে অক্টোবর মাস লেগে যেতে পারে। অর্থাৎ এর রেশ থাকবে নির্বাচন পর্যন্ত। নির্বাচনের সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বড় ভূমিকা থাকে। তাঁরা নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।

দেশের বিপুলসংখ্যক কৃষককেও খুশি করতে চাইছে সরকার। শেষ সময়ে এসে ২৫ আগস্ট বহুল ব্যবহূত ইউরিয়া সারের মূল্য ডিলার ও কৃষক পর্যায়ে কেজিপ্রতি চার টাকা কমানো হয়েছে। ফলে কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ২০ টাকার পরিবর্তে ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মহাজোট সরকারের ৪ বছরে অর্থনীতি ছিল বড় ধরনের সঙ্কটের মধ্যে। এই সরকারের পঞ্চম বছরে এসে ওই বাজেটের আকার ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘরেই রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দুর্বলতা বেড়েছে। পুঁজিবাজারে দেখা দিয়েছে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব। হলমার্ক কেলেঙ্কারির মতো ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে এ সময়। এছাড়া মন্ত্রীএমপিদের সম্পদের হিসাব দেয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। প্রতিশ্রুতি থাকলেও দুর্নীতির অভিযোগে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন। নিত্যপণ্যসহ সব জিনিসের দাম বেড়েছে।

ব্যাংকিং খাতে কেলেঙ্কারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এই সরকারের সময়ে। বলা যায়, সরকার এক্ষেত্রে সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটলেও দুদকের সামান্য কিছু দৌঁড়ঝাপ ছাড়া তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। বরং অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা বার বার হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারিকে বলেছেন, এটা খুব বেশি টাকা নয়। মহাজোট সরকারের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি ছিল সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক গ্রুপের। বিসমিল্লা গ্রুপ, ডেসটিনিসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে। ক্ষমতাসীনদের অনেকের কথাও উঠেছিল সংবাদ মাধ্যমে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে বর্তমানে মোট ৫১ হাজার ২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ২০১২ সাল শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। ২০১১ সালের শেষে এটি ছিল ২২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। ২০১২ সালের শুরু থেকেই খেলাপি ঋণ আবার আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, যা বছর শেষে এসে মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০ শতাংশ পেরিয়ে যায়। এছাড়া সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং সেক্টর এখন নানা ধরনের সঙ্কটের মুখে।

মহাজোট সরকারের জন্য সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে পদ্মা সেতু দুর্নীতি। দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেয়। এতে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিত্ব হারানো এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টাকে ছুটিতে যেতে হয়। এরপরও পদ্মা সেতুর ভাগ্য খোলেনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আগের আমলে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে ঘটেছিল ভয়াবহ শেয়ারবাজার লুটপাটের ঘটনা। এবারে আবার ক্ষমতায় এসেও একই ঘটনার বড় ধরনের পুনরাবৃত্তি ঘটলো। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা নেয়ার আগে শেয়ারবাজারের সাধারণ সূচক ছিল প্রায় ২ হাজার ৭০০। এর পর থেকেই সূচক এবং লেনদেন কৃত্রিমভাবে বাড়তে থাকে দেশের পুঁজিবাজারে। ২০১০ সালের শেষের দিকে সূচক গিয়ে দাড়ায় ৮ হাজার ৯০০ পয়েন্ট। কৃত্রিমভাবে ফোলানো বাজারে এর পরই শুরু হয় পতন। শেষ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালের চেয়ে বড় পতন ঘটে। অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেছিলেন, “৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর বাজারে আর কোনো ‘৯৬ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। কারণ ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী বাজারের বড় শক্তি।” পুঁজি হারিয়ে এই বিনিয়োগকারীরাই ২০১১ সালের বেশিরভাগ সময় ঢাকায় ডিএসই ভবনের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করেছেন। এরই মধ্যে পুঁজিবাজারের ধসের কারণ খুঁজতে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে সরকার গঠন করা চার সদস্যের কমিটি ৩০ দফা সুপারিশসহ ৩২০ পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রী মুহিতের কাছে জমা দেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই। কমিটির কোনো সুপারিশই বাস্তবায়িত হয়নি। বরং শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির নায়কেরা এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু লাখ লাখ বিনিয়োগকারী তাদের সবটুকু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন।

ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণেই শুধু বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বাড়ছে। আর এ খাতের সরকারি ব্যয়ের বেশিরভাগই ভর্তুকির নামে চলে যাচ্ছে এই রেন্টালের পেটে। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের যাবতীয় বিষয়কে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। আর এই কুইক রেন্টালের কারণে এই পর্যন্ত সরকারকে অর্থাৎ জনগণকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর এই অর্থের একটি বিশাল অংশ চলে গেছে পছন্দের ব্যক্তিদের হাতে। গত অর্থবছরে ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি রাখা হলেও বছর শেষে ভর্তুকি দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২৩০ কোটি টাকায়। ২০০৯ সালে কুইক রেন্টালগুলো স্থাপনের চুক্তি করা শুরু হলেও কেন্দ্রগুলো ২০১০ সাল থেকে উৎপাদনে আসতে শুরু করে। এ সময় অর্থাৎ ২০০৯১০ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৯৯৪ কোটি টাকা ভর্তুকি ছিল। এর পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০১০১১ অর্থবছরে ভর্তুকি এক লাফে তিনগুণ বেড়ে ৪ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, কুইক রেন্টাল যতদিন থাকবে ততদিনই সরকারের ঘাড়ে ভর্তুকির বোঝা থাকবে। ইজাজ বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এখন যে তেল খরচ হচ্ছে তার ধাক্কা গিয়ে পড়বে আগামী বছর। ফলে বর্তমান সরকার এই বাড়তি ভর্তুকির বিষয়ে এখন তেমন সতর্ক নয়।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ৫টি অগ্রাধিকারের প্রথমটিই ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। ইশতেহারে বলা হয়েছিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জনগণের হাতের নাগালের মধ্যে স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা হবে। সরকার সেটি পারেনি। সরকার ক্ষমতা নেয়ার সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক তিন ছয় শতাংশ। এখন মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ হচ্ছে সরকারি হিসাব। কিন্তু যেকোনো মানুষই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তাদের প্রকৃত আয় কতোটা কমেছে। এখন বাজারে গেলে মানুষকে আগের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বাড়িভাড়া, পরিবহন. খরচসহ নানামুখী খরচও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৯, জুলাইয়ে যা ছিল ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর আগস্টে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৯, জুলাইয়ে যা ছিল ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। চাল, ডাল, তেল লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় এমন কোনো জিনিস নেই যার দাম এই সরকারের সময় বাড়েনি।

এই ধরনের এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের যে সরকারটি আসবে তাকে হিমশিম খেতে হবে। যে কোনো দলের জন্যই ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়া হবে আতঙ্কের বিষয়, আনন্দের নয়। এই সরকার যে ভয়াবহ বিপদ ভবিষ্যতের সরকারটির জন্য রেখে যাচ্ছে, তা বোধ করি যেকোনো সামান্য বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন মানুষই বুঝতে পারবেন। প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলই যদি আবার সরকার গঠন করে তাহলে তাদের জন্য পরিস্থিতিটি কেমন হবে?