Home » অর্থনীতি » অসহনীয় পেঁয়াজের ঝাঁজ – বাজারও চড়া

অসহনীয় পেঁয়াজের ঝাঁজ – বাজারও চড়া

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

onion marketআবারও লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম রেকর্ড মূল্যে ঠেকেছে। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায়। অতীতের রেকর্ড থেকে জানা যায়, এই মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল। গত সপ্তাহ ধরেই ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ছিল যথাক্রমে ৫৮ থেকে ৬২ এবং ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ছিল। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রদর্শিত বাজার তালিকায়ও পেঁয়াজের দাম ৭ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে বলে দেখানো হয়েছে। তালিকা অনুসারে দেশি পেঁয়াজের গতকালের দাম হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে যার দাম ছিল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজ সমপরিমাণ বেড়ে ওই দামে বিক্রি হচ্ছে বলে দেখানো হয়েছে। ঈদের পর পেঁয়াজের দাম ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পরে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিলে দাম কিছুটা কমে ৬৫ টাকায় নেমে আসে। সরকার পেঁয়াজের দাম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতারা। পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৮০ রুপি ছুঁলেও ভারতে আবারও পড়তে শুরু করেছে বাজার। গত শুক্রবার পাইকারি বাজারে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম কমে হয় চার হাজার রুপি। এতে খুচরা বাজারে দাম কমে প্রতি কেজির দাম হয় ৫৫ থেকে ৬০ রুপি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দাম আরো কমে আসবে। সম্প্রতি দেশটিতে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৬৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯০০ ডলার করে। এতে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে থাকে। এর পাশাপাশি পেঁয়াজ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় রাজ্য মহারাষ্ট্র সরকার মজুদদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়াতেও এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে অনেক ব্যবসায়ীর মতে, মৌসুমের নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় দাম কমছে। সামনে আরো কমবে।

ভারতের মহারাষ্ট্রে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে ২০ শতাংশ। এশিয়ার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার লাসালগাঁওতে কমেছে ১৭.৩ শতাংশ, অন্যদিকে পিমপলগনে পেঁয়াজের দাম পড়েছে ২২.৭ শতাংশ। পুনে অ্যাগ্রিকালচার প্রডিউস মার্কেটিং কমিটি (এপিএমসি) জানায়, বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় দাম পড়ছে। এর আগে ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য বাড়ানোর কারণে আগস্টে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি কমে ৮১ শতাংশ।

সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়, ভারতে গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে তিন বছরে সর্বোচ্চ হয়েছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয় ১৮.১৮ শতাংশ। সম্প্রতি জ্বালানির দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। দেশটিতে অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে ৭৭ শতাংশ। এ ছাড়া ডিম, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

বাজারে চায়না বড় রসুন প্রতিকেজি ৬০ টাকায়, দেশি রসুন ৬৫ টাকায়, একদানা রসুন ১২০ টাকায়, চায়না আদা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়, মরিচ ১৮০ টাকায়, হলুদ ১২০ টাকায়, ধনিয়া ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে দেশি মসুর ১১০ থেকে ১১৬ টাকায়, ভারতীয় মসুর ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, চিকন মসুর ডাল ১২০ থেকে ১৪৮ টাকায়, খেসারি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, মুগ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, ছোলা ৪৮ থেকে ৫৫ টাকায়, অ্যাঙ্কর ৪৫ টাকায়, মাসকলাই ৯৬ থেকে ১০০ টাকায়, বুট ৭২ থেকে ৭৫ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চালের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ভাব রয়ে গেছে। গত সপ্তাহের প্রথমদিকে নিম্নমানের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছিল। মোটা চালের দাম ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা। আগে এ জাতের চালের দাম ছিল ৩২ থেকে ৩৪ টাকা। বাজারে প্রতিকেজি নাজিরশাইল ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়, মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫৬ টাকায়, লতাআটাশ ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়, জিরা নাজির ৫৪ থেকে ৬০ টাকায়, পাইজাম ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়, চিনিগুঁড়া ১১০ টাকায়, পারিজা ৩৮ টাকায়, বিআরআটাশ ৪০ থেকে ৪২ টাকায়, বিআরঊনত্রিশ ৪০ টাকায় এবং হাসকি চাল ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল বিআর২৬ প্রতিকেজি ৩৪৩৫ টাকা ও নাজিরশাইল ৪৮৫০ টাকা, মিনিকেট ৪৫৪৭ টাকা, পাইজাম ৪২৪৪ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে এক কেজির বেশি প্রতিহালি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের পিস ৭০০ টাকা এবং প্রতিকেজি জাটকা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, চন্দনা ইলিশ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে কাতল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকায়, রুই ১৬০ থেকে ৩৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায়, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়, চিংড়ি (বড়) ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, দেশি কৈ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় ও খাসি ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকায়, ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ডিমের বাজারে মুরগির লাল ও সাদা ডিম ৩২ টাকায়, দেশি হাঁসের ডিম ৪০ টাকায়, পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৪০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকায় প্রতিহালি বিক্রি হয়েছে। সুখবর আছে ইলিশে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। মধ্যবিত্ত ছাড়াও নিম্নবিত্তের মানুষজনও ইলিশের গায়ে হাত বুলাতে পারছেন। সব কোম্পানীর ভোজ্য তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সয়াবিন তেল পলিপ্যাক ১৩০ টাকায় এবং বোতল ১৩৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির দাম। গাজর, শসা, করলা, শিম, মুলা, ঢেঁড়স ও পেঁপের দাম কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং না থাকায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গাজরের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার দামও ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে করলা ৫০ টাকায়, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে বেগুন প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, কাঁচামরিচ মানভেদে ৪০ থেকে ৮০ টাকায়, শিম ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, ঝিঙ্গা ৫০ টাকায়, আলু ১৫ থেকে ২০ টাকায়, ঢেঁড়স ৬০ টাকায়, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, কচুরলতি ৪০ টাকায়, কচুরমুখী ৪০ টাকায়, বরবটি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, চিচিঙ্গা ৫০ টাকায়, কাঁকরোল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ টাকায়, বাঁধাকপি ৪০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৮০ টাকায় এবং লাউ ২৫ থেকে ৫০ টাকায়, জালি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে লালশাক, কলমিশাক, লাউশাক, মুলাশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাকসহ নানা ধরনের শাকের আঁটি ১০ থেকে ৩০ টাকায়, পুদিনাপাতা ১০০ গ্রাম ২৫ টাকায়, ধনেপাতা প্রতি ১০০ গ্রাম ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বাজারে স্থানভেদে সব শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।।