Home » রাজনীতি » ক্ষমতাসীনদের জন্য দায়মুক্তি

ক্ষমতাসীনদের জন্য দায়মুক্তি

ফারুক আহমেদ

freeবাংলাদেশ এখন এমন একটি দেশ যেখানে কোন কিছুরই যেন দায় নেই। যে কোন অপকর্মের দায় নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ক্রসফায়ারের নামে হত্যা, গুম, খুন, ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজিচাঁদাবাজি, হোস্টেল পোড়ানো, হত্যাযজ্ঞ, যৌন সন্ত্রাসসহ যাবতীয় অপকর্ম, যুবলীগ, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অপকাণ্ড, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দুর্নীতি যেমন পদ্মা সেতু, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, ডেসটিনি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, কুইক রেন্টালের মাধ্যমে অর্থ হাাতিয়ে নেয়াসহ কোনো কিছুরই কোনো দায় নেই। দায় নেই সড়ক দুর্ঘটনায় সড়ক সন্ত্রাসীদের হত্যায়, দায় নেই এর মদদদাতা, আশ্রয়প্রশ্রয় দাতাদের। দায়িত্বে অবহেলার দায় নেই। প্রতিশ্রুতির দায় নেই। ক্ষমতার অপব্যবহারের দায় নেই। দায় নেই কোনো কিছুতেই। সর্বত্রই দায়মুক্তি। এ যেন দায়মুক্তির দেশ। এখানে যে কোন অপকর্ম করে পার পাওয়া যায়তো বটেই বড় বড় ব্যাপক অধিকাংশ অপকর্ম ঘটেই ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ পৃষ্টপোষকতায়। এখানে ক্ষমতাসীনরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীসহ যাকে তাকে ধমক দিতে পারে। যাকে ইচ্ছে হুমকি দিতে বেপরোয়া। বেপরোয়া কথাই ক্ষমতাসীনদের ভাষাবাক্য। এখানে দায়িত্বের কোন দায় নেই, দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই, কোন জবাবদিহিতা নেই। বাংলাদেশই মনে হয় পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে ক্ষমতাসীনরা যে কোন প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, যা কোনদিনই পালন করা হবে না জেনেও। ক্ষমতার অপব্যবহার এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা।

সরকার, ক্ষমতাসীন দলের লোক, তাদের বুদ্ধিজীবী সবাই গণতান্ত্রিক সংষ্কৃতির কথা জপ করার মত করে বলতে থাকেন। অপরদিকে তারা অপকর্মের দায়মুক্তির সকল আয়োজন করেন এবং সাফাই গেয়ে চলেন। ছাত্র রাজনীতি একসময় ন্যায়, নীতি, আদর্শের প্রতীক ছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ছাত্ররাজনীতি ছিল হয় সংগঠক, অনুঘঠক অথবা প্রত্যক্ষ সহযোগী। ছাত্ররাজনীতির কোন স¤পর্ক ছিল না এমন কোন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শাসক দলগুলো সেই ছাত্র রাজনীতিকে এমন এক জায়গায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে যে, মানুষ এখন ছাত্র রাজনীতির কথা শুনলে আতংকিত হন ভয়ে, ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে নেন। ছাত্ররাজনীতিকে ধ্বংস করার কাজ শাসক দলগুলো ধারাবাহিকভাবে করে এলেও আওয়ামীলীগের নের্তৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসবার পর ছাত্রলীগের তান্ডব দেশের সকল নাগরিককেতো বটেই এমনকি শাসক দলের লোকদেরকেও আতংকিত করেছে। ছাত্রলীগের নামে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্যদের উপর চড়াও হওয়া, অন্তর্কলহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যদের উপর হামলাআক্রমণ, সন্ত্রাস, যৌন সন্ত্রাস, ছাত্রাবাস জ্বালিয়ে দেওয়া, খুন সহ নানা অপকর্মের কোন না কোনটি বিগত পাঁচ বছরের সংবাদপত্রগুলোর প্রায় প্রতিদেনের খবর। কিন্তু এসব অপকর্মের জন্য কারো কোনো শাস্তির খবর মানুষের জানা নেই। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের লোকদের, সরকারের এদের পৃষ্ঠপোষকতার খবর আছে, দায়মুক্তির খবর আছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাস মারদাঙ্গা সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়। অসুস্থ, বৃদ্ধ, শিশুকে সঙ্গে নিয়ে টেলিভিশন দেখা যায় না। মানুষ আতংকিত, কখন কোন বাস্তব খুনের দৃশ্য এসে পড়ে। খুনের কোন বিচার নেই। কুশিলবদের প্রয়োজনে খুনের বদলে খুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের উপর তাদের দ্বারাই আইন বহির্ভুত হত্যাকান্ড বাংলাদেশের নাগরিকের কাছে এক সাধারণ আতঙ্ক। তারা আতঙ্কিত এখন ক্ষমতাসীনদের ব্যাপারেও। এ ধরনের অসংখ্য হত্যাকান্ডের একটিরও জবাবদিহীতা কাউকে কোন দিনও করতে হয় না। যতবড় হত্যাকান্ডই হোক তা থেকে দায়মুক্তির ব্যবস্থা থাকে।

দেশের মানুষ শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের নানা পেশিশক্তির তান্ডবেই আতংকিত নয়। মানুষ ক্ষমতাসীন দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকদের বেপরোয়া এবং লাগামহীন কথায়ও আতংকিত। দেশের নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বেপরোয়া, লাগামহীন কথা বলেন, যখন তাঁর কথায় যুক্তির কোন ছিটেফোটা থাকে না, প্রলাপের মত শোনায়, তখন মানুষ নিরাপত্তাহীনতার আশংকায় আতংকিত হন। যখন তিনি নিজে কোন দায় বোধ করেন না। তখন কখনো বিরোধী দল আবার কখনো অন্যের ঘাড়ের উপর দায় চাপিয়ে নিজে দায়মুক্ত হন এবং দুর্বৃত্তবদেরও দায়মুক্ত করেন তখন মানুষ নিরাপত্তার সকল আশ্রয় হারান। সকল দুর্বৃত্তবই সমান আতংকের। মানুষ চান সকল দুর্বৃত্তব থেকে নিরাপত্তা। মানুষ চান অপকর্ম করা সকল দুর্বৃত্তের শাস্তি। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মত দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক যখন বেপরোয়া কথা বলেন এবং দুর্বৃত্তবদের দায়মুক্ত করেন তখন মানুষ কার কাছে নিরাপত্তা চাইবেন? ক্ষমতাসীন দলের লোকদেরকে দায়মুক্তি আপাতঃ ক্ষমতার বাইরের দুর্বৃত্তবদেরও বেপরোয়া করে তোলে। মানুষের উপর হামলা, সন্ত্রাস, মানুষ খুন যেই করুক না কেন তার দায় থেকে সরকারের, দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয়ের, মন্ত্রীর জবাবদিহীতা থাকবার কথা সর্বপ্রথম। মানুষের নালিশ জানানোর কথা সেখানেই। কিন্তু সরকার ক্ষমতাসীন দলের লোকদের দায়মুক্তি দিয়ে দেয় এবং অন্যদের উপর দায় চাপিয়ে লম্বা বক্তৃতা করে নিজে দায় মুক্ত হয়। কারোরই কোন শাস্তির ব্যবস্থার খবর পাওয়া যায় না, তা করা হয় না বলে। সাগররুনি হত্যকান্ড নিয়ে কত বেপরোয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকদের দায়িত্বহীন কথা বহুবার সংবাদ পত্রের শিরোনাম হয়েছে কিন্তু এই হত্যকান্ডের বিচারের খবর এখনও শিরোনাম হতে পারেনি। এরকম বহু হত্যাকান্ডের খবর, তা নিয়ে বেপরোয়া কথার খবর সংবাদপত্রের শিরোনাম হয় কিন্তু তার বিচারের খবর অন্ধকারেই থেকে যায়।

জনগণের নিরাপত্তাহীনতা শুধুই শারীরিক নিরাপত্তাহীনতাই নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, বাজারে, শিক্ষায়, কর্মক্ষেত্রে, মজুরীর ক্ষেত্র সহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ নিরাত্তাহীন। মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার জন্য দায়ী কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি বা সংস্থার কোন রকমের জবাবদিহীতা নেই বরং দায়মুক্তির সকল আয়োজন এবং ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যা কিছু ঘটে চলেছে তাকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস বলে অভিহিত করলেও কম বলা হয়। এখানে শেয়ার বাজার কেলেংকারিতে মুহুর্তের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে অন্ধকার নেমে আসতে পারে। মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু দায়ী ব্যাক্তিদের জবাবদিহীতা বলে কিছু নেই। সরকার যেন আছেই এসব দায়ীদের জনরোষের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এবং তাদের দায়মুক্তির জন্য। হলমার্ক কেলেংকারি, পদ্মা সেতু দুর্নীতিসহ বড় বড় দুর্নীতির জন্য দায়ীদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের কোন নজির জনগণ দেখেনি। বরং নানাভাবে, নানা প্রক্রিয়ায় তাদের দায়মুক্তির পথ তৈরী করা হয়েছে। অহরহ ঘটে চলা প্রতিদিনের দুর্নীতো এখন বাংলাদেশের সংষ্কৃতিরই অংশ।

বাজার নিরাপত্তা বলে মানুষের জীবনে কিছু নেই। এখানে যার যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। খাবারে বিষ মিশিয়ে মানুষকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তিলে তিলে হত্যা করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোন জবাবদিহীতা নেই, তাদের কোন দায় নেই। আছে শুধু চমক। বাংলাদেশে দায়িত্ব বলে কিছু নেই। দায়িত্বের চেয়ে এখানে চমক দেখানো বড় কাজ। তাই খাবারে বিষ মিশানোর জন্য দায়ী সিন্ডিকেটের শাস্তির কোন খবর না থাকলেও চমক সৃষ্টির জন্য এখানে ওখানে শত টন ফল, খাবার জব্দ করে ধ্বংসের খবর পাওয়া যায়। বাজারে দ্রব্যমূল্যের কোন নিরাপত্তা নেই। যে কোন সময় প্রয়োজনীয় দ্রব্যটি মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যেকোনো জিনিসপত্রের দাম কেজি প্রতি দশ বিশ টাকা বেড়ে যাওয়া যেন মানুষের গা সওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু এক ঝটকায় যখন চল্লিশ টাকার পেঁয়াজ আশি টাকা হয়ে যায় তাখন মানুষ তার নাগাল পেতে গিয়ে ছিটকে পড়েন। এরকম পরিস্থিতির জন্য নিশ্চই কেউ না কেউ দায়ী। কিন্তু এদের কোন জবাবদিহীতা নেই।

বাংলাদেশে দায়িত্বের চেয়ে চমক বড়। দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন নেই, জবাবদিহীতা নেই। চমক দেখাতে পারলেই দায়িত্ব পালনের সকল দায় থেকে মুক্তি মেলে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এখানে চলছে চমকের পরচমক। ত্রিশ কোটি বইয়ের গল্প শিক্ষামন্ত্রী এমনভাবে শোনান যেন এর জন্য অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের নয়, জনগণের নয়। তিনি এমনভাবে বলেন যেন এর জন্য প্রয়োজনীয় টাকা তিনি আলাদিনের চেরাগ ঘষে পেয়েছেন। তাঁর জবাবদিহীতা নেই, ত্রিশ কোটি বই কেন, ষষ্ঠ শ্রেণির মত প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪টি বই কেন, যার কমপক্ষে ছয়টি বই আবর্জনাতুল্য? দায়মুক্তির এই দেশে জবাবদিহীতা বলে কিছু নেই, জনগণের টাকা খরচের কোন হিসাব নেই। চমক দেখাতে পারলেই উন্নয়ন। সৃজনশীলতা নামে কাউকে কাউকে ব্যবসাবাণিজ্য পাইয়ে দেওয়ার জন্য বই পুস্তকের আমূল পরিবর্তনের নামে যা করা হয়েছে তাকে পাঠ্যপুস্তকের উপর সন্ত্রাসী আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই বলা চলে না। পাঠ্যপুস্তক থেকে ইতিহাসকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করাই শুধু হয়নি ইতিহাস শব্দটিকেও উচ্ছ্বেদ করা হয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের নামে যে আবর্জনা শিক্ষার্থীদের গেলানো হচ্ছে তাতে বিজ্ঞান শিক্ষার সকল নীতিপদ্ধতি ধ্বংসপ্রাপ্তির দিকে। সরকারী দলের চাটুকারবরকন্দাজ শিক্ষাবিদ, পন্ডিতেরা যাঁরা ছাত্রলীগের সামনে হাত কচলিয়ে নিজেদের ভাগ্যরেখার পরিবর্তন ঘটিয়ে চলেছেন তাঁরা এসবের আয়োজক এবং পৃষ্ঠপোষক। বইপুস্তকের এই হাল করার জন্য কারো কাছে কোন জবাদিহীতা করতে হয় না।

এখানে লাগামহীন কথার কোন দায় নেই। দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদের স্ববিরোধী, অতিরঞ্জিত, মানুষের প্রতি কটুক্তি, মানুষের সন্মান হানিকর কোন কথারই দায় বা জবাবদিহীতা নেই। বরং পুরষ্কারের ব্যবস্থা আছে। যখন বাংলাদেশে বর্তমান বাজেটেও শিক্ষা ব্যয়ের চেয়ে সামরিক ব্যয় প্রকাশ্যেই বেশি রাখা হয়েছে, যখন কিছুকাল আগেই রাশিয়া থেকে আট হাজার কোটি টাকার অস্ত্র ক্রয় করেছেন তখন প্রধানমন্ত্রীর মত দায়িত্বশীল ব্যাক্তি সারা পৃথিবীর প্রসিডেন্টপ্রধানমন্ত্রীমন্ত্রীদের পরামর্শ দিচ্ছেন সামরিক ব্যয় কমিয়ে শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করতে ! এতে ফাঁকা কথার জন্য অন্যদের কাছে সন্মান হানির দায় তিনি বোধ করেন না !দেশের মানুষের কাছেও এর জন্য জবাবদিহীতার দায় তিনি বোধ করেন না।

ক্ষমতাসীনরা কোনভাবেই জনগণকে তোয়াক্কা করেন না। যখন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরা কৃত্রিম সুন্দরবন নির্মাণের মত উদ্ভট কথা বলেন তখন এ কথাটি যতই উদ্ভট হোক এর মধ্য দিয়ে এ প্রমাণ মেলে যে, সুন্দরবন ধ্বংস হলেও এদের কিছু যায় আসে না। এর মধ্যদিয়ে তাদের দিক থেকেই স্বীকারোক্তি মেলে যে, রামপালে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে। কিছু চাটুকার উচ্ছ্বিষ্ঠভোগী ছাড়া দেশের সকল মানুষ, বুদ্ধিজীবি, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবীদ সবাই যখন এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন তখন সরকার জনগণকে হুমকি দিচ্ছেন। মুখে গণতন্ত্রের বুলি নিয়ে জনগণকে এভাবে হুমকি দেওয়ার অর্থ একটাই তা হলো সরকারের জনগণের কাছে কোন জবাবদিহীতার প্রয়োজন নেই। জনগণের কাছে তার কোন দায় নেই।

সরকার এবং ক্ষমতাসীন দলের দায়মুক্তির সকল ব্যবস্থা থাকায় ক্ষমতায় থাকা মানেই দেশের মালিক বনে যাওয়া। সরকারই শুধু দেশের মালিক বনে যায় না সরকারের দায়িত্বশীল লোকেরা এবং ক্ষমতাসীন দলের লোকেরাও দেশের মালিক বনে যায়। সকল মানুষের সঙ্গে তারা প্রভুভৃত্যের মত আচরণ করে। সরকারের দায়িত্ব বলে কিছু থাকে না। জনগণের টাকায় দায়িত্ব পালন করা সরকারের কাজ। সে দায়িত্ব কতখানি পালন করা হলো তার জবাবদিহীতা না করে যখন উন্নয়নের বিলবোর্ডের তলায় জনগণকে চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় তখন সে উন্নয়ন জনগণের কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রামপালে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প জনগণের বিরোধিতার মুখেও সরকার যখন জোর করে তা বাস্তবায়ন করতে চায় তখন এতে যে জনগণের উন্নয়নের চেয়ে সরকারের লোকদের, ক্ষমতাসীন দলের লোকদের এবং তার চারপাশের চাটুকারদের উন্নয়নই প্রাধান্য পায় তা কাউকে বুঝাবার প্রয়োজন নেই। সকল অপকর্মের দায়মুক্তির এ দেশে এখন এ ধরণের উন্নয়নেরই মচ্ছ্বব চলছে।।