Home » শিল্প-সংস্কৃতি » ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’

ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’

পার্থ চট্টোপাধ্যায়

অনুবাদ: হিল্লোল দত্ত

ritwik-ghatakতৈরির বছর পঞ্চাশেক পরেও কারুকৃতির জন্যে মনে রাখা হয়েছে এমন ছবির সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়; যেগুলোর ব্যাপারে এক সময় ভাবা হতো এগুলোর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং মহান ছবির সবকটি গুণ আছে। হয়তো পঞ্চাশ বছর বাদে দেখা গেল সে সবই মরীচিকা। সুখের বিষয়, ১৪ এপ্রিল ১৯৬০এ কলকাতায় মুক্তি পাওয়া ঋত্বিক ঘটকের বাংলা ছবি মেঘে ঢাকা তারার ক্ষেত্রে এ রকম কিছু ঘটেনি। ছবিটির শক্তি, প্রাঞ্জলতা আর হরেক সংস্কৃতি আর পটভূমি থেকে আসা নানান দর্শককে সমানভাবে নাড়া দেয়ার ক্ষমতা আজও অটুট। এদিক থেকে দেখলে চলচ্চিত্রের নির্ভরযোগ্য মহৎ সৃষ্টির ভেতরে এটা ঠাঁই করে নিয়েছে।

আবেগি তীব্রতায় ঋত্বিকের সেরা ছবিগুলো মিলে যায় জাপানি চলচ্চিত্র গুরু আকিরো কুরোসাওয়ার প্রথম দিককার মাস্টারপিসগুলো যেমন স্ট্র ডগ, রশোমন, ইকিরু আর দ্য ইডিয়টের সঙ্গে। (শেষটা রাশান ঔপন্যাসিক দস্তয়েভস্কির ক্লাসিক নিয়ে বানানো।)

মেঘে ঢাকা তারা ঋত্বিকের চতুর্থ ছবি আর বক্স অফিসে তার প্রথম সাফল্য। তার আগের তিনটি ছবির মধ্যে ১৯৫৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি অযান্ত্রিকএরই শুধু ক্ষমতা ছিল সকল সৃজনী কল্পনাশক্তি আর হার্দিকতায় এটার সঙ্গে টেক্কা দেয়ার। কপাল খারাপ, ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। কারণ খ্যাপাটে এক মফস্বলের ট্যাক্সি ড্রাইভার আর তার লজঝরে ১৯২৬ সালের শেভ্রলের জন্য তার বাঁধনছেড়া মহব্বতের গল্প দর্শকরা হজম করতে পারেনি। মেঘে ঢাকা তারা ঋত্বিকের জন্য সময়োপযোগী একটা আর্শীবাদ বলতেই হয়। কারণ ছবিটি তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছিল। এর সাফল্যের মূল কৃতিত্ব দিতে হয় নীতা নামের এক নিম্নমধ্যবিত্ত মেয়ের পরিচিত কাহিনী নিয়ে। তার অন্তর্ভেদী রূপায়নের মেয়েটা তার অকৃতজ্ঞ সংসারের ঘানি টানতে টানতে আর সংসারটা দাঁড় করিয়ে দিতে দিতে কাজ করেই প্রাণটা দেয়। ভারত ভাগের জের টানতে থাকা আর পূর্ববঙ্গ থেকে হিজরত করা প্রায় লাখ দশেক উদ্বাস্তুর বোঝার চাপে এখনো জেরবার কলকাতার একটি নিয়ত বাস্তবতা এটা। সেই পূর্ববঙ্গ, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের জোয়াল থেকে স্বাধীনতা পেয়ে হয়েছে বাংলাদেশ। ওই পোড়াকপালেরা অচিন দেশের নতুন শহরে আসার পথে সবকিছু খুইয়ে বসেছে। ইতিহাস যাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এমন উদ্বাস্তুদের ট্র্যাজেডি বোঝার ক্ষমতা পরিচালকের ছিল, নিজেও যে তিনি তাদেরই দলের।

নিওরিয়ালিজম যেমন গভীর প্রভাব রেখেছে ঋত্বিকমানসে, তেমনি সত্যজিতের মানসিকতায়ও ভিত্তোরিও ডি সিকার দুটো ইতালীয় মাস্টারপিস বাইসাইকেল থিফ আর উমবের্তো ডি দেখে দুইজন লাভবান হয়েছেন নিজেদের ধরনে। কিন্তু ন্যাচারালিজমের প্রতি ঋত্বিকের টান এরই মধ্যে জন্ম দিয়েছে একটা গল্পকমনশৈলীর, সঙ্গে আছে মুগ্ধ করার আর দহন করার গুণ। ছবির গল্প বলার এই রকমটা প্রথম চোখে পড়ে অযান্ত্রিকে। তবে যতদিনে তিনি মেঘে ঢাকা তারা বানাচ্ছেন তখন এই মাধ্যমের ওপর তার দখল চমৎকার। শক্তিপদ রাজগুরুর চোখে জল আনা গল্প উত্তীর্ণ হলো আভিজাত্যে আর মাহাত্ম্যে। পরবর্তী সময়ে লেখক একাধিকবার চিত্রনাট্যের জন্য সিংহভাগ কৃতিত্ব দাবি করে বসেন, অবশ্য সাহিত্যিক অবদান বা অন্যক্ষেত্রে চিত্রনাট্য রচনায় তার প্রচেষ্টা বিচার করে এই দাবি হালে পানি পায়নি। চলচ্চিত্রের রূপগ্রাহিতার ওপর ঋত্বিকের দৃঢ়মুষ্ঠি আর কয়েকটি দক্ষ হাতের আঁচড়ে পূর্ণাঙ্গ চরিত্র তৈরির দক্ষতা আর তাদের ইতিহাসের টালমাটাল সময়ের মধ্যে স্থাপন করাটাই ছবিটাকে এর গভীরতা আর চিরন্তন সৌন্দর্যে উপস্থাপিত করেছে।

নীতার চরিত্রটি রূপায়ন করেন সুপ্রিয়া চৌধুরী, নিয়তি ছিল তিনি বাঙালি ছবির গ্ল্যামারাস তারকাখ্যতি অর্জন করবেন, ঋত্বিক অলৌকিক সংবেদনশীলতায় তাকে পরিচালিত করেন, কোমল চলন তার অভিনয়ে আর ছবিটাও তিনিই টেনে নিয়ে যান, যদিও ধরতাইয়ে ছিলেন বিজন ভট্টাচার্য আর গীতা দেএর মতো ডাকসাইটে অভিনেতাঅভিনেত্রী যথাক্রমে তার মা আর বদ্ধার ভূমিকায়। তার ভাই ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী শঙ্করের ভূমিকায় উৎসাহভরা অভিনয় করেন অনিল চ্যাটার্জি। এমনকি দুর্বল অভিনেতারাও যেমন গীতা ঘটক, যিনি খল ছোট বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন, দ্বিজু ভাওয়াল (নীতার ছোট ভাই) আর সনৎ (নীতার প্রেমিক যে তার ছোট বোনকে বিয়ে করেন) পরিচালনার গুণে এরা ভালোই উতরে গেছেন। আসলে ঋত্বিক আইপিটিএ (ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশন)-এর হয়ে বাংলায় শেক্সপিয়ারের আ মিডসামার নাইটস ড্রিম আর ম্যাক্সিম গোর্কির দ্য লোয়ার ডেপথস পরিচালনা করেই যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার ন্যাচারালিজম আর থিয়েটারী শৈলীয়তার মিশ্রণের প্রতি দায়িত্বশীল অভিনেতাদের নিয়েই তিনি কাজ করেছেন বারবার।তার সব ছবিতে এটায় তো বটেই, অভিনেতাদের ব্যাপারে তার পরিচালকের যষ্ঠেন্দ্রিয় দারুন নিখুঁত ফল দিয়েছে।

তিনধারার মিউজিক

ছবির সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আইপিটিএ’র শ্রুতর্কীতি সঙ্গীত পরিচালক জ্যোতিরিন্দ্রনাথ মৈত্রের নির্বাচন যেন দৈবী অনুপ্রেরণা। পশ্চিমা ধাঁচে অর্কেস্ট্রেশনের ব্যাপারে বেশ ভালোই জ্ঞান ছিল। তার পাশাপাশি বাঙালি, ভারতীয় আর সারা দুনিয়ার লোকগীতির ওপর তার দখলও বিপুল। প্রায় এক দশক ধরে তিনি হিন্দুস্থানী ঘরানার খেয়াল গাওয়ার ওপর তালিম নিয়েছেন, তার ওপর তিনি অবজ্ঞাত কিন্তু চমৎকার কবিও ছিলেন। ওস্তাদ আলী আকবর খানের সঙ্গে এর আগে ঋত্বিক বেশ দারুন কাজ করেছেন, অযান্ত্রিক ছবিতে সরোদে তার বিলাসখানি তোড়ি মোক্ষম আনন্দমুহূর্ত গড়ে তোলে, আর তারপর প্রতিভাদীপ্ত সলিল চৌধুরীর সঙ্গে ঋত্বিক জুটি গড়েন ‘বাড়ি থেকে পালিয়েতে’। কিন্তু মেঘে ঢাকা তারায় দরকার হচ্ছিল বিশেষ ধরনের একটা সঙ্গীত, এমন কিছু যেটায় হিন্দুস্তানী ধ্রুপদি সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত, বাংলার লোকসঙ্গীতের বিশেষ একটা ধারা আর নিগ্রো আধ্যাত্মিকতা থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়া পাশ্চাত্য সমবেত সঙ্গীতের মিশেল ঘটবে।

পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গিই বেড়ে উঠেছে মৈত্রের সঙ্গীতে

আবেগঘন দৃশ্যময়তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে এরই সাহায্য আর ছবিতে এনে দিয়েছে মন খারাপ করা একটা অনুভূতি যেটা দর্শকরা হল ছেড়ে গেলেও ছাড়ে না তাদের। যে পাঁচটা সঙ্গীত সময়ের করাল গ্রাসকে হেলায় উড়িয়ে দিয়েছে, সেগুলো হচ্ছে পল রবসনের গানের আদলে গড়ে তোলা পটভূমির কোরাস, শোনানো হয় যখন নীতা কাজে যায় আর তারপর তার চেকআপের সময়. ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলো ভাঙলো ঘরে’ এই রবীন্দ্র সঙ্গীতটা; এটি কাননের গলায় ‘রাগ হংসধ্বনি’ আর ‘লাগি লগন’ আর ‘উমা’ গানটার যমুনা বড়ুয়ার হৃদয়বিদারক রূপ, উমা দেবী দুর্গার আরেক রূপ। বাউল গান ‘মাঝি তোর নাম জানি না’, এই বাউল গানটা তো ভোলাই যায় না। বিদেশে মেঘে ঢাকা তারার বিরাট পুনর্জন্ম হয়েছে, ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট চমৎকার একটা ডিভিডি বের করেছে, কিন্তু আশ্চর্য এই যে, এ ছবির গানের কোনো আলাদা সংকলন বেরোয়নি, যেটা এক কথায় ভোলার মতো নয়।

রাবীন্দ্রিক ঐতিহ্য

এই ছবির চরিত্রগুলোর বেদনার ব্যাপারে পরিচালকের সংবেদনশীলতা আর এদের জন্য তার সমবেদনা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে তিনি ছবিটা কিছুটা প্রগতিশীল মধ্যবিত্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপস্থাপন করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের মতো ঋত্বিকও বেশ শিক্ষিত একটা জমিদারী পটভূমিতে জন্ম নিয়েছিলেন। সত্যজিৎ বাল্যেই তার প্রতিভান্বিত পিতা সুকুমারকে হারান আর তার পারিবারিক সৌভাগ্য মিশে যায় ধুলোয়। হার্দিক আত্মীয়স্বজন থাকার পরেও তিনি এবং তার মায়ের বেশ আর্থিক কষ্টেই দিন কাটে। বয়স বিশের কোঠায় থাকতে ভারতের বিখ্যাত একটা বিজ্ঞাপনী সংস্থা ডি জে কিমারে ১৯৪০এর দিকে একটা চাকরি নেয়ার পরই তিনি ঢোকেন মধ্যবিত্ত জগতে। বিপরীতক্রমে, ঋত্বিক তার আয়েশি পারিবারিক জীবন ছেড়ে কানপুরের একটা মিলে হিসাব রক্ষকের কাজ নেন। দেশভাগঅব্দি ঋত্বিক মোটামুটি আর্থিক দিক থেকে নিরাপদই ছিলেন। কারণ পূর্ববঙ্গে তাদের যথেষ্ট ভূসম্পত্তি ছিল, আর তার ভদ্রলোক পন্ডিত পিতা সুধীর চন্দ্র ঘটক ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারি চাকুরে। সত্যজিৎ আর ঋত্বিক দুইজনেই রাবীন্দ্রিক আবহে বেড়ে উঠেছিলেন যা মানবজীবন প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়।

মেঘে ঢাকা তারায় দেশভাগের প্রায় এক দশক পরে নগর জীবনের হিংস্রতার সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনের স্মৃতিও তুলে ধরা হয়। নীতা আর তার পরিবার কলকাতার মফস্বল এলাকায় থাকে, ছবিতে তুলে আনা বাউল গান নীতার আর তার মা বাবার একাকিত্ব বিশদে তুলে ধরে, সবাইই পরিস্থিতির কারাগারে বন্দি। এই গভীর মানসিক টানাপোড়েনের চিত্রায়নের ক্ষমতা আসে উন্নত সাংস্কৃতিক অনুভব থেকে। আরো নিশ্চিত হতে পারা যায় যখন চোখে পড়ে তার শ্রদ্ধেয় বের্টোল্ট ব্রেখটের নাটকগুলোর নিজস্ব রূপায়ন, যেখানটায় ঋত্বিক ব্রেখটের বাস্তবতার কর্কশ বাস্তবায়নে কিছুটা পেছন হেঁটেছেন, এটা আরো দেখা যাবে ইতালীয় গুরু ফ্রান্সেস্কো রোসির ছবিগুলোয়। বলতেই হয়, দারিদ্র যে তিক্ততা, অপমান আর মনুষ্যত্ববোধহীনতা আনে, সে সব এই ছবিতে ঠিক উঠে আসেনি। নামকরা চলচ্চিত্রপ্রেমী আর মানব দুর্বলতার নির্বিষ্ট দর্শক কাজল দাশের মতে, ১৯৫০ আর ৬০এর দশকের প্রথম দিকে, দমদমের ধারে (কলকাতার বাইরের দিকে একটা গরিবি উদ্বাস্তু কলোনি, আসলে জলাজমি ভর্টা করা তোলা) ব্যক্তিগত রাস্তায় হরেকরকম গালিগালাজ আর রাগ আর অসহায়ত্বের নানা প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হতো দিন। (বিখ্যাত বাঙালি লেখক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার যৌবন কাটিয়েছেন কাছাকাছিই যোগীপাড়ায়।

ঋত্বিকের সবচাইতে শক্তিশালী দিক হচ্ছে চলচ্চিত্র মাধ্যমের সংনম্যতার ওপর তার দক্ষতা। খুব কম পরিচালকই চলচ্চিত্রে সময়ের চলন তাদের আবেগি চরিত্র আর গ্রহণক্ষমতার মাধ্যমে প্রকৃতির আনীত সুস্পষ্ট পরিবর্তন আর দ্ব্যর্থবোধকতা ব্যাখ্যা করার জন্য তুলে ধরতে পেরেছেন। মেঘে ঢাকা তারা এই গুণগুলোর একটা উঁচু উদাহরণ। পরিবারটির প্রথম দিককার দৃশ্যগুলো, নীতা দৈনন্দিন কাজ করার জন্য বেরুচ্ছে, শঙ্কর দরজার বাইরে গলা সাধছে, বেশ একটু ‘সাদামাটা’। ঘটনা আর তার রূপ পাল্টায় আস্তে আস্তে, প্রায় অবোধভাবে। একই পরিবেশে পরিবর্তন ঘটে চলে, বিকশিত হয় চরিত্রগুলো: নীতার উদার, হাতখোলা চরিত্রের প্রতীক হিসেবে যে বিশাল গাছটার নিচ দিয়ে সে যায় সেখানে শেভের টাকার জন্য ওৎপেতে থাকা তার হবু শিল্পী ভাই তার কাছে হাত পাতে। একই জায়গায় আবার নীতা আর তার পানিপ্রার্থী সনতের সম্পর্ক কাছাকাছি আনে, যে কিনা শেষমেষ বিয়ে করে তারই বোন গীতাকে।

তৈরির পঞ্চাশ বছর পরও মেঘে ঢাকা তারা অনবদ্য ভঙ্গিতে মনে পড়িয়ে দেয় কি নিঃশব্দ হতে পারেযারা স্বার্থত্যাগ করে শুধু দিয়েই যায়, যারা তাদের ভালোবাসে আর তাদের মঙ্গলকামী বলে দাবি করে তাদের হাজারও শোষণের পরও তারা সে রকমই থাকবে। এই বীক্ষণের অবস্থান সব শ্রেণী আর আদর্শের ওপরে। মেঘে ঢাকা তারা ঋত্বিকের সেরা প্রশংসিত ছবি হয়েই থাকবে।।