Home » অর্থনীতি » এত লোডশেডিং – তাহলে কুইক রেন্টালের হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কেন?

এত লোডশেডিং – তাহলে কুইক রেন্টালের হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কেন?

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

load-shadingরাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলাউপজেলাথানা, গ্রামেও লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্দশায় পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্প উদ্যোক্তারা পর্যন্ত সবাই। বিশেষ করে দিনের বেলায়, এলাকা ভেদে চার থেকে পাঁচবার লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনের শুরুতেই, লোডশেডিং শুরু হয় চলে গভীর রাত পর্যন্ত। তবে রাতে শহরাঞ্চলে লোডশেডিং দু’বারের বেশি হচ্ছে না। তবে ঢাকার বাহিরে লোডশেডিং চরম আকার ধারন করেছে। গত বছরের ৫ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, মানুষ যাতে অতীতের লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণার কথা ভুলে না যায়, সে জন্য তিনি প্রতিদিন দু’বার করে লোডশেডিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি বছরের ১২ই মে প্রধানমন্ত্রী ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড এর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক ৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। পিডিবি সূত্র জানায়, তাদের হিসাবে বর্তমানে প্রতিদিন বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু গ্রাহক সরবরাহকারী ও বিতরনকারী প্রতিষ্ঠানের মতে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৭ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। এক হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকলে তা দু’বার লোডশেড করে পূরণ করা যায় না। ‘ডিমান্ড সাইড ম্যানেজমেন্ট’এর নামে প্রতিদিন সর্বোচ্চ চাহিদার সময় শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে যে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেড করা হচ্ছে, তা ওই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

দিনের বেলায়ও চাহিদার তুলনায় এক হাজার মেগাওয়াট কম উৎপাদন করা হয়। ফলে এক হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি দুবার লোডশেড করে পূরণ করা সম্ভব হয় না। তার ওপর জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন একটু হিসাব করেই করতে হচ্ছে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য এখনো প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কেনা হচ্ছে। অপরদিকে গ্যাস ভিত্তিক উৎপাদন কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ কমায় উৎপাদন কমে গেছে। অথচ গরমের কারণে চাহিদা এখনো বেশি। ফলে সর্বত্র লোডশেডিং বেশিই হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায়, বিশেষ করে ঢাকার শ্যামলী, শেখেরটেকসহ বৃহত্তর মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গ্রীনরোড এবং ফার্মগেটএ বিতরণ ব্যবস্থা অত্যধিক মাত্রায় ‘ওভারলোডেড (ক্ষমতার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিতরণ হওয়ার অবস্থা)’ থাকায় লোডশেডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও যুক্ত হয়েছে। প্রতি দুইএক ঘণ্টা পর পরই বিদ্যুতের আসাযাওয়া চলতে থাকে। রাজধানী ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর গ্রাহকসেবার মান অত্যন্ত নিম্নগামী হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে গ্রাহকের দুর্ভোগ বাড়ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের জন্য রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্র স্থাপন করে। এসব কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি আট টাকা থেকে ৪০ টাকাও হয়ে থাকে। কখনো এ দাম ইউনিটপ্রতি হাজার টাকায়ও পৌঁছেছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে সরকার যুক্তি দেখায়, ভয়ংকর লোডশেডিং থেকে জনগণকে স্বস্তি দিতেই এ পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থায় পরিস্থিতির উন্নতিও হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনে একের পর এক রেকর্ড গড়তে শুরু করে সরকার। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে দেখানো হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি। কিন্তু ক্ষমতার মেয়াদের একদম শেষ পর্যায়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলছে বিপর্যয়। এতে বিদ্যুৎ নিয়ে সাফল্য প্রচারের যৌক্তিকতা হারিয়ে ফেলছে আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, গত ১২ জুলাই দেশে রেকর্ড পরিমাণ ছয় হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এ রেকর্ড হওয়ার পর বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদার চেয়ে যা অন্তত দুই হাজার মেগাওয়াট কম। এ কারণেই শুরু হয়েছে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং। বিদ্যুৎ বিভাগ উৎপাদন কম হওয়ার কারণ হিসেবে বলছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাসকূপের উন্নয়নকাজ শুরু করার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। আগামী ২ অক্টোবর আবার এ কূপ থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। উল্লেখ্য, কৈলাশটিলায় উন্নয়নকাজের কারণে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ থাকা পাঁচটি সার কারখানায় গত ১২ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ করার ফলেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট দেখা দেয়। তবে এসব সত্ত্বেও গ্যাস উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমেনি। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ৯৫০ থেকে ৯৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ পরিমাণ গ্যাস দিয়ে সে সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে গড়ে তিন হাজার ৯০০ থেকে চার হাজার মেগাওয়াট। আগস্টের শেষ থেকে বিদ্যুৎ কমতে শুরু করে, যা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে এসে বিপর্যয়ের স্তরে চলে যায়। বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮৪০ থেকে ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা গ্যাস দিয়ে উৎপাদন হচ্ছে তিন হাজার ৬২০ থেকে তিন হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকেও। যেখানে রমজানজুড়ে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে গড়ে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট, সেখানে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে এক হাজার মেগাওয়াট। পাশাপাশি যন্ত্রপাতি বিকল ও বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। তবে জলবিদ্যুৎ ও কয়লাচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেনি। আগের মতোই আছে।

গভীর রাতেও লোডশেডিং : সাধারণত শিল্পকলকারখানা গভীর রাতে বন্ধ থাকে। এ জন্য এ সময় বিদ্যুতের চাহিদাও কমে যায়। কিন্তু চলতি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে লোডশেডিংয়ের প্রচলিত কোনো শিডিউল মানা হচ্ছে না। গভীর রাতেও বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ঢাকার একাধিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনরাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার কোথাও চলে যাচ্ছে মধ্যরাতে। কোথাও কোথাও লোডশেডিংয়ের নির্ধারিত এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ আসছে না। তবে ঢাকার সব অঞ্চলে একই নিয়মে লোডশেডিং হচ্ছে না। ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বারিধারা বসুন্ধরা, বাড্ডা, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, শনির আখড়া, ওয়ারীসহ পুরান ঢাকায় বিদ্যুৎ থাকছে না ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার ওপরে। ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না।

চট্টগ্রামে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। রাতেদিনে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে নগরবাসী অতিষ্ঠ। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের মাত্রা এতো বেশি দিনে ১০বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যায়। অতিমাত্রায় লোডশেডিং চলছে মধ্যরাত পর্যন্ত। বিদ্যুতের এমন ভেল্কিবাজিতে বাসা বাড়িতে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীও নষ্ট হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম এবং ঢাকার লোডশেডিং ঘণ্টা একই হারে রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন। পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী পরিচালক জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সেক্টরে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। এ কারণে ঐ দিন থেকেই গ্যাসচালিত সবগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং আগের চেয়ে বেড়েছে বলে তিনি জানান। কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের দুটি গ্যাস ক্ষেত্রে উৎপাদন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সাগরবক্ষের সাঙ্গুর উৎপাদন ৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ২ মিলিয়নে নেমে এসেছে। আবার মাঝেমধ্যে এর উৎপাদন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য এলাকার সেমুতাং গ্যাস ক্ষেত্র থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে তার মাত্র অর্ধেক। চট্টগ্রামে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ১৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট। রাষ্ট্রায়াত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) বন্ধ রেখে এতদিন রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট এবং শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং প¬ান্ট চালু রাখা হলেও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত শনিবার থেকে এই দুটি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তার আগে থেকে বন্ধ রয়েছে শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে। চট্টগ্রামে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৭৫০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট। চট্টগ্রামের ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ ইউনিট বিশিষ্ট রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার শিকলবাহা পিকিং প¬ান্ট ও একই এলাকার ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ ৩টি কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৫৫০ মেগাওয়াট। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালু থাকলে চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে বিদ্যুৎ আরও উদ্বৃত্ত থাকতো। বর্তমানে পিডিবি’র বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে চালু আছে শুধু কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখান থেকে পিক আওয়ারে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি বিদ্যুৎ আসছে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কয়েকটি কেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিড থেকে। অফ পিক আওয়ারে (দিনের বেলা) লোডশেডিং তুলনামূলক বেশি হচ্ছে। দিনের বেলা একমাত্র কাপ্তাই থেকে পাওয়া বিদ্যুতই পিডিবির ভরসা। এর সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলিয়ে সরবরাহ দাঁড়াচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট। দিনের বেলা বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকছে আরো ২৫০ মেগাওয়াট।

ভারতের সরকারি খাত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ দেশের জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন শুরু হয়েছে ৫০ মেগাওয়াট দিয়ে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১৭৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালিত হবে। পরে পর্যায়ক্রমে আমদানির পরিমাণ বাড়বে বলে জানিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা গ্রিড উপকেন্দ্রে গিয়ে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে ভিডিও সম্মেলন করে বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। দুই দেশের মধ্যে ২৫ বছরের জন্য পাঁচশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনাবেচার চুক্তি হয়েছে।

এদিকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হওয়ার প্রায় ১০ দিন আগে থেকে সারা দেশে লোডশেডিং হঠাৎ বেড়ে যায়। খুলনা, বরিশাল, বগুড়া, দিনাজপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও ব্যাপক লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, হঠাৎ লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়া।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি করা বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরীক্ষামূলক হিসেবেই ধরা হবে। যদিও ওই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসবে এবং গ্রাহকেরা তা ব্যবহারও করবেন। এই সময়ের মধ্যে গ্রিড উপকেন্দ্রের সামান্য কিছু অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হবে। ১ অক্টোবর ‘জিরো আওয়ার’ (৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা) থেকে বাণিজ্যিক সরবরাহ হিসেবে ধরা হবে। সূত্রগুলো জানায়, ভারতের সরকারিবেসরকারি খাত মিলে আমদানি করা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে নভেম্বরে। এর প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে গড়ে প্রায় ছয় টাকা, যা বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের দামের চেয়ে বেশি।।

১টি মন্তব্য

  1. showkat shaheen khan

    Really nice article.