Home » আন্তর্জাতিক » বিপজ্জনক প্রতিবেশী

বিপজ্জনক প্রতিবেশী

জন চেরিয়ান

obamaযুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) সাবেক ঠিকাদার অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের অতি সাম্প্রতিক গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনা থেকে সুস্পষ্টভাবে জানা গেছে যে বারাক ওবামার প্রশাসন ব্রাজিল ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ডিজিটাল তদারকির আওতায় রেখেছিল। এটা জানাজানি হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আরেকটি বোমা ফেটেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ানসহ বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, এনএসএ ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং দৈনন্দিন যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার কাজে ব্যবহৃত গোপন সাংকেতিক (এনক্রিপশন) প্রযুক্তি করায়ত্ত করেছে।

দুজন রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর নজরদারি করার খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয় ব্রাজিলের সংবাদপত্র ও গ্লোবো’তে, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে। প্রতিবেদনটির দুই লেখকের একজন গার্ডিয়ানের গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড। তিনি স্নোডেনের সঙ্গে মিলে ওবামা প্রশাসনের বিপজ্জনক চাতুরির বিষয়টি ফাঁস করে দিয়েছিলেন।

উভয় দেশের সরকারই ওয়াশিংটনের কাছে কড়া প্রতিবাদ পাঠায়। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবাগে অনুষ্ঠিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নাইটো সাক্ষাত করেন ওবামার সঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই সম্মেলনকালেই তার ব্রাজিলীয় প্রতিপক্ষ দিলমা রসেফের সঙ্গেও সাক্ষাত করেন। ওবামা তাদের আশ্বস্ত করেন যে তাদের ব্যক্তিগত ও সরকারি যোগাযোগের ওপর এনএসএ’র গোয়েন্দাবৃত্তির অভিযোগটি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেবেন।

ব্রাজিল ও মেক্সিকোর প্রতিক্রিয়া

মেক্সিকো সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ ঘটনা নিয়ে অবশ্যই তদন্ত হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতা এবং আইনবহির্ভূত ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে,’ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে নাইটো টেলিভিশনে জানান। গত জুলাইতে আমেরিকার নিকটতম প্রতিবেশী ও বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার দেশটির ওপর গুপ্তচরবৃত্তির খবর যখন প্রকাশিত হওয়া শুরু করল, তখন নাইটো বলেছিলেন, ঘটনাটি সত্য হলে ‘তা হবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’ মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই অনেক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করত। মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ মাদকচক্রকে দমন করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তবে ব্রাজিলের ক্ষোভ আরো বেশি ও ব্যাপক ছিল। দিলমা রসেফকে বেশ উত্তেজিত দেখা যাচ্ছিল। ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রেসিডেন্টের ওপর গোয়েন্দাবৃত্তি করার জন্য হোয়াইট হাউজের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানায়। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্রাসিলিয়া থেকে কঠোর ইঙ্গিত আসতে থাকে যে অবিলম্বে ক্ষমা প্রার্থনা করা না হলে অক্টোবরে নির্ধারিত বৈঠক হবে না। এতে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তারা ব্রাজিলিয়ানদের শান্ত করতে গোপনে কূটনীতিক ও নিরাপত্তা চ্যানেলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমেরিকানদের জন্য ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে বোয়িং কোম্পানি ব্রাজিলিয়ান বিমান বাহিনীর আকর্ষণীয় সামরিক চুক্তিটি হারানোর শঙ্কায় পড়ে।

ওয়াশিংটন আশাবাদী ছিল যে নির্ধারিত সফরকালে চার বিলিয়ন ডলারের এক১৮ জঙ্গিবিমান চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হবে। চলতি বছর প্রেসিডেন্ট ওবামা রাষ্ট্রীয় সফরে কেবল ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমেরিকা মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল বৃহত্তম দুই অর্থনীতি। গত দশক থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভিন্নতা প্রকাশ করে সত্যিকারের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশটির অর্থনীতি শক্তি জোরদার হচ্ছে। তাছাড়া তারা ব্রিক (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং আইবিএসএ (ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা)-এর মতো নব উদীয়মান গ্রুপের সদস্য।

এনএসএ’র গুপ্তচরবৃত্তির খবরটি ফাঁস হওয়ামাত্র ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনিও প্যাট্রোইটা (এরপর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন) ওয়াশিংটনের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা দাবি করেন। কিন্তু ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের তদন্তে দেখা যায়, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে যতটা গুরুতর বিবেচনা করা হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। ফলে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়। ব্রাসিলিয়ায় এক কর্মকর্তা মিডিয়ায় বলেন, ‘এটা অত্যন্ত বড় ধরনের সঙ্কট।এজন্য ক্ষমা প্রার্থনা প্রয়োজন। তা হতে হবে প্রকাশ্যে। এটা ছাড়া তার পক্ষে (দিলমা রসেফ) ওয়াশিংটন যাওয়া আদৌ সম্ভব নয়।’

এ প্রেক্ষাপটে ওবামা জোর দিয়ে বলেন, এনএসএ’র তদারকি কর্মসূচি কেবলই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে পরিচালিত। জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে যাত্রাপথে স্টকহোমে ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘লোকজনের ইমেইলে নাক গলায় না বা তাদের ফোনকলগুলো শোনে না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দুই প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ঘটনাটির মতো ‘জলজ্যান্ত’ বিষয় এড়িয়ে যাওয়াই ভালো মনে করেন। ব্রাজিল ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করা হয়। উল্লেখ্য, এই দেশ দুটির কোনোটিই সন্ত্রাসীদের অভয়ারন্যের জন্য পরিচিত নয়। তারা পারমাণবিক বিস্তার বা রাসায়নিক অস্ত্র প্রযুক্তির জন্যও অভিযুক্ত নয়।

ব্যাপক গুপ্তচরবৃত্তি

ও গ্লোবো’ পত্রিকায় জুলাই মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন নথিপত্রে দেখা যায়, গত ১০ বছরে এনএসএ বিলিয়ন বিলিয়ন টেলিফোন ও ইমেইল বার্তা সংগ্রহ করেছে। মার্কিন প্রশাসন কলম্বিয়ার মতো আমেরিকানপন্থী সরকারগুলোসহ ল্যাতিন আমেরিকান অনেক সরকারের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়েছে। এনএসএ’র নথিপত্রে দেখা যায় যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষাকারী দেশগুলোর (তুরস্ক ও ভারতসহ) ওপরও গুপ্তচরবৃত্তি করা হয়েছে। তবে আংকারা বা নয়া দিল্লি প্রকাশ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তারা বরং সন্ত্রাস দমন ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছে প্রাসঙ্গিত তথ্য বিনিময় কার্যক্রমে জড়িত থাকার মার্কিন ভাষ্যই গ্রহণ করে নিয়েছে।

ব্রাজিলের যোগাযোগমন্ত্রী পাওলো বারনাডো (তিনি প্রেসিডেন্টের বিশ্বস্তভাজন) সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে বলেন, ওয়াশিংটন যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যে এটা নির্বিচার গুপ্তচরবৃত্তি। এতে জাতীয় নিরাপত্তার কোনো ব্যাপার নেই।এটা কেবলই শিল্পবাণিজ্যিক লক্ষ্যে পরিচালিত।’

স্নোডেনের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ‘প্রিজম’ ও ‘বাউন্ডলেস ইনফরমেন্ট’ নামের মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তিমূলক কর্মসূচি দুটিতে প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ‘বাণিজ্যিক গোপন তথ্য’ সংগ্রহ করা, যা আমেরিকান শিল্পের জন্য সহায়ক। এনএসএ’র তথ্যে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের পরলোকগমনের পর এনএসএ কেবল উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিষয়ের ওপরই গুপ্তচরবৃত্তি চালায়নি, তারা ভেনেজুয়েলার সামরিক ও বাণিজ্যিক খাতেও নজরদারি করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ তেল রফতানিকারক দেশ ভেনেজুয়েলা। এ প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ডি কিরচনার ঘোষণা করেন, ‘যখন জানতে পারলাম যে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের সবার ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে, তখন আমার মেরুদণ্ড দিয়ে শিরশির অনুভব করলাম।’

ব্রাজিল ইতোমধ্যে তার যোগাযোগব্যবস্থা নিরাপদ করার লক্ষ্যে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। নতুন স্যাটেলাইট কেনা ছাড়াও তারা ল্যাতিন আমেরিকান ও ক্যারিবীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য নিজস্ব ফাইবার অপটিক নির্মাণ করছে। ব্রাজিলিয়ান মিডিয়া এনএসএ’র এমন একটি নথি প্রকাশ করেছে, যাতে দিলমা রসেফ এবং তার শীর্ষ সহকর্মীদের মধ্যকার যোগাযোগের ডায়াগ্রাম রয়েছে। এনএসএ দাবি করেছে, নথিটি বিশ্বব্যাপী তাদের গোয়েন্দাবৃত্তি কার্যক্রমের বিস্তৃত ক্ষেত্রের একটি ‘কেস স্টাডি’। গ্রিনওয়াল্ড তার প্রতিবেদনে লিখেছেন ‘সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে মার্কিন সরকার সুপরিকল্পিত লক্ষ্যে কেবল তার নিজের নাগরিকদের জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের সব মানুষের ওপর গোয়েন্দাবৃত্তি পরিচালনার সর্বব্যাপী গুপ্তচর নেটওয়ার্ক নির্মাণ করছে। তারা গোপনীয়তা বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষমতা নস্যাৎ করে দিয়েছে’। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রীদের ওপর মার্কিন গোয়েন্দাবৃত্তির ইতিহাসও উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাজিলের বিচারমন্ত্রী জোসে অ্যাডুয়ার্ডো কারডোজো বলেছেন, ব্রাজিল ছাড়াও আরো অনেক দেশে মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তি ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘যে দেশেরই সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হয়, তাদেরই উচিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা, একটি অবস্থান গ্রহণ করা এবং সেটা মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নেওয়া। ব্রাজিল ঠিক এই কাজটিই করেছে।’

গুপ্তচরবৃত্তির বাজেট

আগস্টের শেষ সপ্তাহে স্নোডেনের প্রকাশিত আরেক সেট নথি এবং ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য ওয়াশিংটন ৫২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রণয়ন করেছে। নথিপত্রগুলোতে দেখা যায়, /১১এর পর আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমনকি আরো বেশি বিশাল আকার ধারণ করেছে। তারা নানা কাজে লিপ্ত রয়েছে। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের ‘ব্ল্যাক সাইট’ কারাগারে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের ওপর নির্যাতন চালানো, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বিপুলসংখ্যক ‘ঘাতক ড্রোন’ মোতায়েন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নথিতে দেখা যায়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোটি কোটি লক্ষ্যবস্তুর ওপর নজরদারি চালিয়ে শত শত স্থানে হামলা চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করে।’

যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালে ‘হোমল্যান্ডে’ আক্রমণের পর থেকে গোয়েন্দা কার্যক্রমে দিনে অন্তত ৫০০ বিলিয়ন ডলার (পরিমাণটি ১০০ মিলিয়ন ডলারও হতে পারে) ব্যয় করছে। কেবল চলতি বছরই গোয়েন্দা তথ্যের জন্য ব্যয় হচ্ছে ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও ইয়েমেনের মতো তৃতীয় দেশে গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনা, সিরিয়ার সেক্যুলার সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে জঙ্গি গ্রুপগুলোকে তহবিল ও প্রশিক্ষণ প্রদান।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চলতি বছর এনএসএ’র জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার। এনএসএ কয়েক বছর ধরেই বিশ্বজুড়ে গোপন বাণিজ্যিক তথ্য ও চিকিৎসা নথিপত্র সংগ্রহ করে আসছি। এনএসএ’র এনক্রিপশন কোড ভাঙার খবর প্রকাশের ফলে সম্ভবত ওবামা প্রশাসনের নজরদারি নীতির সমর্থকেরা আহত হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, সংরক্ষিত তথ্য করায়ত্ত করার সাম্প্রতিক সাফল্যকে এনএসএ গোপন তথ্য সংগ্রহে তাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল। এনএসএ’র অর্জনের বর্ণনা প্রসঙ্গে ২০১০ সালে এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এনক্রিপশন প্রযুক্তি করায়ত্ত করার লক্ষ্যে গত দশকে এনএসএ বহুমুখী আগ্রাসী প্রয়াস চালিয়েছিল। এতে এই বলে উপসংহার টানা হয় যে, এনএসএ তার সংগৃহীত তথ্য কিভাবে পড়তে সক্ষম হয়, এনক্রিপশন নথিপত্রে সেটাই দেখা যায়।।

(ফ্রন্টলাইন অবলম্বনে অনুবাদ : মোহাম্মদ হাসান শরীফ)