Home » অর্থনীতি » তৈরি পোশাক শিল্পের এখন দুঃসময়

তৈরি পোশাক শিল্পের এখন দুঃসময়

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

garments-cartoonতাজরীন ফ্যশনসে অগ্নিকান্ড ও সাভারে রানা প্লাজা ধসে প্রায় ১ হাজার চারশ গার্মেন্ট শ্রমিক নিহতের শোক কাটতে না কাটতেই গাজীপুরে পলমল গ্রুপের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আগুনে শ্রমিক এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী কমপক্ষে ১২ জন প্রাণ হারালো। এতে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া দেশের সম্ভাবনাময় এ শিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ক্রমে কঠিন হয়ে পড়ছে। আমাদের দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের যে প্রবৃদ্ধি তা এত দ্রুত সম্পাদিত হচ্ছে যে তার সঙ্গে তাল রেখে অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। অনেক তৈরি পোশাক কারখানা আছে যেগুলোকে কোনো বিচারেই ফ্যাক্টরি বলা যায় না। যে কোনো ফ্যাক্টরি নির্মাণ করতে হলে বেশ কিছু শর্ত পরিপালন করতে হয়। এসব ফ্যাক্টরি তার ন্যূনতম শর্ত পালন করেনি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি বাড়ি হয়তো হাউজিং এ্যাপার্টমেন্টের জন্য তৈরি করা হয়েছিল সেটাকেই কিছুটা পরিবর্তিত আকারে ফ্যাক্টরিতে রূপান্তর করা হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের চাহিদা যেভাবে বেড়েছে সেভাবে অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। যেসব তৈরি পোশাক কারখানা বিজ্ঞান সম্মতভাবে ডিজাইন করা হয়নি। যেখানে নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, শ্রমিকদের সুবিধাঅসুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি সেখানে আমাদের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এখন প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে, তৈরি পোশাক শিল্পে সাম্প্রতিক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিদেশি ক্রেতারা আমাদের তৈরি পোশাক ক্রয় করার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে কিনা। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে ওয়ালমার্ট নামক বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, যারা অন্য একটি বায়ারের মাধ্যমে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক ক্রয় করতো তারা জানিয়েছে, যে তৈরি পোশাক শিল্প কারখানায় অগ্নিকান্ড সংঘঠিত হয়েছে সেখান থেকে তারা আর কোনো তৈরি পোশাক ক্রয় করবে না। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পোশাক খাতে ২৯৩টি অগ্নিকান্ড ঘটে। এর পরের বছর ২০১০ সালে তা কমে দাড়ায় ২২২টিতে। ২০১১ সালে ১৭৫ টি এবং ২০১২ সালে ৯৭টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

জরিমানা মাত্র ৫ হাজার টাকা

তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের পর পোশাক কারখানা পরিদর্শনে অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে সরকার। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজারের মতো কারখানা পরিদর্শন করে বিভিন্ন ত্রুটি থাকায় মামলাও হয়েছে তিন শতাধিক, যার অধিকাংশই অগ্নিনিরাপত্তাজনিত ত্রুটি। তবে মামলা করেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না। কারণ ত্রুটি ধরা পড়লে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যাচ্ছেন কারখানামালিকরা। আর কারখানা রয়ে যাচ্ছে আগের মতোই ত্রুটিপূর্ণ।

জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদফতর মোট ৪ হাজার ৪৩১টি কারখানা পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৪ হাজার ৩০ এবং চট্টগ্রামে ৪০১টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় অগ্নি, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার দিকেই বেশি নজর দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে এ পর্যন্ত মোট ৩০৫টি মামলা করা হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকায় মামলা করেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। অপ্রতুল শাস্তির বিধান থাকায় একদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ জরিমানার টাকা দিয়েই মামলা নিষ্পত্তি করে ফেলছে। অন্যদিকে চিহ্নিত ত্রুটি দূর করতেও মালিকদের অবহেলা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদফতরের প্রধান পরিদর্শক মশিউর রহমান বলেন, ‘নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই আমরা কারখানা পরিদর্শন করছি। প্রতি মাসের পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে আমরা তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিই।’ সহকারী প্রধান পরিদর্শক জুলিয়া জেসমিন বলেন, ‘পরিদর্শনে ত্রুটি ধরা পড়লে মামলা করার অধিকার আমাদের রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ মামলাগুলোয় শাস্তির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা।’

জানা গেছে, পরিদর্শন কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তারা মালিকপক্ষের সহযোগিতা তেমন একটা পান না। আবার মামলা করার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ জরিমানা দিলেও ত্রুটি দূর করছেন কিনা, তাও পর্যবেক্ষণ করা হয় না। কারণ একটি কারখানা একবার পরিদর্শন শেষে আবারো পরিদর্শন করতে বছর পেরিয়ে যায়। আর এ সময়ের মধ্যে ত্রুটি দূর না করলেও পর্যাপ্ত লোকবল ও ক্ষমতার অভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্র অনুযায়ী, সর্বশেষ অগ্নিকাণ্ডের শিকার আসওয়াদ কম্পোজিটেও সতর্কতা জারি করে একটি চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদফতরের পরিদর্শনে আসওয়াদ কম্পোজিট মিলসে অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত ত্রুটি ধরা পড়ে। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাবসহ তাদের ত্রুটির মধ্যে ছিল পর্যাপ্ত এগজস্ট ফ্যানের অভাব, যন্ত্র থেকে বের হওয়া তাপ নিয়ন্ত্রণে অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন মালপত্র ছড়িয়েছিটিয়ে রাখা। এছাড়া কাপড় থেকে বের হওয়া ডাস্টের মাত্রাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলেও আসওয়াদ কম্পোজিটের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

পরিসংখ্যান: বিজিএমইএ, ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ও বিভিন্ন সংগঠনের দেয়া তথ্য অনুযায়ীগত দুই দশকে গার্মেন্টে আগুনে প্রাণ দিয়েছেন অন্তত পাঁচশ’র বেশি শ্রমিক। এরমধ্যে শনিবার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন গার্মেন্ট ঘটনায় সর্বাধিক ১১৭ জন শ্রমিকের প্রাণহাণি ঘটে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ২০১০ সালে গার্মেন্টএ দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ বছরের ফেব্রয়ারিতে গাজীপুর সদরের গরীব অ্যান্ড গরীব সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ২১জন শ্রমিক। একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর আশুলিয়ায় হামীম গ্রুপের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে আগুনে পুড়ে ৩০ শ্রমিক মারা যান।

২০০৬ সালের ২৩ ফেব্রয়ারি চট্টগ্রামের কে টি এস অ্যাপারেলস মিলে আগুন ধরলে ৬৫ জন শ্রমিক পুড়ে মারা যান। ওই বছরের ৯ ফেব্রয়ারি গাজীপুরের যমুনা স্পিনিং মিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হন ছয়জন। একই বছরের মার্চ মাসে সায়েম ফ্যাশন লিমিটেডে আগুনে তিন মহিলা শ্রমিক নিহত হন। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের গোদাইল সান নিটিং নামে একটি গার্মেন্ট কারখানায় আগুনে ২০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

২০০৪ সালের ডিসেম্বরে নরসিংদীর শিবপুরে গার্মেন্ট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৪৮ শ্রমিক নিহত হন। ওই বছরের ৩ মে মিসকো সুপার মার্কেট কমপ্লেক্সের এক গার্মেন্টে আগুন লাগলে মারা যান নয় শ্রমিক। ২০০১ সালের ৮ আগস্ট ঢাকার মিরপুরের মিকো সোয়েটার লিমিটেডে আগুন ধরার গুজবে ভিড়ে পায়ের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন ২৪ গার্মেন্ট শ্রমিক। এর সপ্তাহখানেক আগে মিরপুরের কাফরুলে অগ্নিকাণ্ডে আরো ২৬ শ্রমিক প্রাণ হারান।

২০০০ সালের ২৫ নভেম্বর নরসিংদীর চৌধুরী নিটওয়্যার লিমিটেড গার্মেন্টএ আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান ৫৩ শ্রমিক। একই বছর বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে গ্লোব নিটিং ফ্যাশন লিমিটেড গার্মেন্টে কারখানায় মারা যান ১২ জন শ্রমিক। এছাড়া ১৯৯৭ সবালে ঢাকার মিরপুরের তামান্না গার্মেন্ট ‍মিরপুর মাজার রোডের রহমান অ্যান্ড রহমান অ্যাপারেলস কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হন যথাক্রমে ২৭জন এবং ২২জন সেলাই শ্রমিক। ১৯৯৬ সালে ঢাকার তাহিদুল ফ্যাশনে ১৪ জন এবং সানটেক্স লিমিটিডের কারখানায় ১৪ জন আগুনে পুড়ে মারা যান। ১৯৯৫ সালে রাজধানীর ইব্রাহিমপুরের লুসাকা অ্যাপারেলসের কারখানায় নিহত হন ১০ জন গার্মেন্ট কর্মী। এরআগে ১৯৯০ সালের ১৭ ডিসেম্বর সারেকা গার্মেন্টে আগুনে পুড়ে মারা যান ২৭ জন।

ন্যূনতম মজুরী

তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে শতাধিক এবং গত এপ্রিলে সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানিতে দেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের স্বল্প মজুরির বিষয়টি আবারও নতুন করে সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জুন সাবেক জেলা জজ অমূল্য কুমার রায়কে প্রধান করে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুননির্ধারণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড গঠন করে। গঠিত বোর্ড দুই পক্ষের দাবি এবং প্রস্তাব গ্রহণের পাশাপাশি গার্মেন্ট শিল্পপ্রধান দেশগুলো পরিদর্শন করে ছয় মাসের মধ্যে ন্যূনতম বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করারও নির্দেশনা ছিল। ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বোর্ডের তৃতীয় সভায় শ্রমিক প্রতিনিধিদের তরফ থেকে মাসিক মজুরি ৫ হাজার ৯৩৪ টাকা, বাড়িভাড়া বাবদ ১ হাজার ৭৮০ টাকা ও চিকিৎসা ভাতা ৪০০ টাকাসহ মাসিক মোট মজুরি ৮ হাজার ১১৪ টাকা করার দাবি করা হয়। পক্ষান্তরে মজুরি বোর্ডের কাছে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) শ্রমিকদের সর্বসাকুল্যে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণের চূড়ান্ত প্রস্তাব করেন। বিজিএমইএ’র মতে, এ দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ৭০ শতাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরণের, তাদের আর্থিক সামর্থ্য কম থাকায় ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে ২০ শতাংশের বেশি মজুরি বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।

সর্বশেষ, ২০১০ সালের ২৭ জুলাই পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এই মজুরি কাঠামোর মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের অক্টোবরে। পোশাক শ্রমিকদের মতে, গত তিন বছরে বস্তির রুম ভাড়া বেড়েছে ১০ গুণ, নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে কয়েকগুণ। একজন শ্রমিকের পক্ষে মাত্র ৩ হাজার ৬০০ টাকায় ১৫ দিনের বেশি চলা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও চিকিৎসা খরচ চলবে কী করে? ২০১০ সালেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার টাকা হওয়া উচিত ছিল।

চীনের পর বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলার রফতানি আয় আসে এই খাত থেকে, যা মোট রফতানি আয়ের ৭৮ শতাংশ। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এই খাতে কাজ করে, যার ৭০ শতাংশই নারী। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) পোশাক খাতের অংশ ১৩ শতাংশ। অথচ এই শ্রমিকদের দেয়া হয় না উপযুক্ত মজুরি। কর্মস্থলে নেই কোনো নিরাপত্তা।

আসলে এ দেশে অনেকটা অবহেলা আর অযত্নে শুধু বেঁচে থাকার তাগিদেই তারা নিরলসভাবে কাজ করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় মজুরি দেয়া হয় সবচেয়ে কম। তাও আবার ন্যূনতম এই মজুরিটুকুও নিয়মিত দেয়া হয় না। অনেক সময় কাজ করে মজুরির দাবিতে তাদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে হয়। খেতে হয় পুলিশের লাঠির বাড়ি। যে কোনো শিল্পে শ্রমিকদের বেতনভাতা, সুযোগসুবিধা নিয়ে অবিরাম অসন্তোষ কাজ করলে, সেই শিল্পের বিকাশ ব্যাহত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে, যা শিল্পোদ্যোক্তা মাত্রই ভালো জানেন। তবুও তারা নানা অজুহাতে শ্রমিকদের কম মজুরিতে খাটাতে চান। সময় মতো মজুরি, বোনাস প্রদানে গড়িমসি করেন। বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের নামমাত্র বেতন প্রদান কিংবা উপযুক্ত মানসম্মত কর্মপরিবেশের অবস্থা এতই করুণ, যা দেখে একসময় পোপ ফ্রান্সিস বলেছিলেন, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা ‘ক্রীতদাসের’ মতোই। মালিকপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পোশাক রফতানি করতে হয়। এখন ভারতের তৈরি পোশাক শিল্পে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের দেশের পোশাক তৈরি শিল্পের মালিকদের মতে, এ শিল্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন আর ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া নয়; বরং বিশাল অর্থনীতির দেশ ভারত এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। পক্ষান্তরে, পোশাক শ্রমিক ও তাদের সংগঠনগুলের দাবি, আগে ১৪১৫ টাকার চালের কেজি এখন ৪০৪২ টাকা, ঘরভাড়া বেড়েছে কয়েকগুণ, নিত্যপণ্যের মূল্য অনেক বেড়েছে, চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়েছে অনেক। এই অবস্থায় একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব অন্যায় ও অমানবীক। এক্ষেত্রে শ্রমিক পক্ষের দাবি, ন্যূনতম ৮ হাজার টাকা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সুপারিশ করেছে, ন্যূনতম মজুরি হওয়া উচিত ৮ হাজার ২০০ টাকা।।