Home » অর্থনীতি » রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি কমছে বিদেশী বিনিয়োগ

রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি কমছে বিদেশী বিনিয়োগ

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

downgrade-economyচলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসাবাণিজ্যে চরম মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি খারাপ। বিশেষ করে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। এরই মধ্যে স্থবির হয়ে পড়ছে অধিকাংশ কলকারখানার উৎপাদন। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ছোটবড় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ছুটি ও সাম্প্রতিককালের রাজনৈতিক সাংঘর্ষিক এবং সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন। যার প্রভাবে সংকুচিত হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। শুধু তাই নয়, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দেশীবিদেশী বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও জনগণের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, হরতালের কারণে দেশের অর্থনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এ ক্ষতির পরিমাণ একেকজনের হিসাবে একেক রকম। তিনি বলেন, হরতাল চলাকালে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান চললেও বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পণ্য পরিবহনে সমস্যা হয়। এ জন্য এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে ফয়সালা করতে হবে।

দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় কমে গেছে বিনিয়োগ প্রস্তাব। বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে ৪৪ হাজার ৬১৪ কোটি টাকার স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ২ লাখ ৬৯ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের প্রস্তাব এসেছে। আগের অর্থবছরে (২০১১১২) প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ছিল ৫৩ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কর্মসংস্থান ছিল ৩ লাখ ২৬ হাজার লোকের। চলতি অর্থবছরের জুলাইতে ৪ হাজার ১৭৬ কোটি টাকার দেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় দেড় হাজার কোটি টাকা কম। একইভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাবদ ২১২ কোটি ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২৫২ কোটি ডলার। মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি নিষ্পত্তি বস্ত্র খাতে কমেছে ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে চামড়া খাতে কমেছে ৫৭ শতাংশ, পাট খাতে ৩১ শতাংশ এবং ওষুধ খাতে ২১ শতাংশ।

বিনিয়োগ না হওয়ায় ব্যাংকে তারল্য বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে গত জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট তরল সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা ও সরকারকে ঋণ দেওয়া বাবদ বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণের (এসএলআর) বাধ্যবাধকতা রয়েছে ৯৪ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এ হিসাবে ৮০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের ঋণযোগ্য তহবিল অলস পড়ে আছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে অর্থনীতির। সংঘাতময় রাজনীতির আশংকায় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যা প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যাংকিং ব্যবসাতেও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ গ্রহীতারা ঋণের অর্থ ঠিক সময়মতো ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরাও ব্যাংকে অর্থ রাখতে ভয় পাচ্ছেন। বীমা ব্যবসাতেও ধস নামার উপক্রম হয়েছে। শেয়ার বাজারেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি নিুমুখী হবে। উৎপাদন ব্যাহত হবে। আমদানিরফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা সামনের বছরগুলোয় বাংলাদেশের কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি নির্বাচনের বছর নির্বাচনী কাজে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হওয়ার আশংকা রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সংস্থাটির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা শীর্ষক ষাণ¥াষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংক মনে করে, প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট ও অন্য অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় আগামী বছরগুলোয় এসংক্রান্ত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে। এছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা প্রবৃদ্ধি অর্জনে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কারমূলক কাজ বন্ধ করে দেয়ার প্রবণতাও এ দেশের উন্নয়নে একটি বাধা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় অধিকাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ফলে ব্যাংক লেনদেন কমে যায়। এ সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়ে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান ও এর উদ্যোক্তারা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান সরকারের বিশেষ সুবিধা পেলেও ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে ছোট ছোট উদ্যোক্তারা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

যারা নতুন বিনিয়োগ করেছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। শিল্পমালিকরা বলছেন, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হবে। রফতানি খাতে বিপর্যয় নেমে আসবে। অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে গোটা অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়তে পারে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, হরতালে অর্থনীতির ক্ষতি ছাড়া লাভ হয়নি কোনোদিনই। এর পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তি ও জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, হরতালের কারণে অনেক সময় অর্ডার বাতিল হয়ে যায়। সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে জাহাজিকরণ করতে না পারলে ১০ গুণ খরচ বেশি দিয়ে পণ্য পাঠাতে হয় বিমানে। তিনি বলেন, হরতালের কারণে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পথে বসতে হচ্ছে।

বিশ্বের নামিদামি সংবাদ মাধ্যমেও বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশংকা করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলেছে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। দৈনিকটি বলছে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশকে গতিহীন করে দিচ্ছে।

শীর্ষ মার্কিন দৈনিক ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরতালের সংস্কৃতি বাংলাদেশের অর্থনীতির শ্বাসরোধ করছে। হরতালগুলো এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বাংলাদেশ পোশাক কারখানাগুলোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রানা প্লাজা ধসের পর দেশটির শ্রমিকদের জন্য কতটুকু কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে, সেটা এখনও অনিশ্চিত। এফবিসিসিআইএর বরাত দিয়ে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল বলছে, এ বছর হরতালের কারণে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে, অর্থাৎ দৈনিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ কোটি ডলার।

সাম্প্রতিক সহিংসতার সময় অনেক রফতানিকারকই পণ্য জাহাজীকরণ করতে পারেননি। অনেকের অর্ডার বাতিল হয়েছে। কারো কারো অর্ডার বাতিল হওয়ার পথে। হরতালের কারণে বেশ কয়েকটি দেশের ক্রেতা প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছেন। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ফলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি আরো বেশি। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসবেন না, দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন। বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা সত্ত্বেও সাম্প্রতিককালে গড়ে ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধির বড় কারণ হলো দেশের অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তি। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও স্বাভাবিক প্রত্যাবর্তনের যে ক্ষমতা অর্থনীতির রয়েছে, অতিমাত্রায় চাপে পড়লে সে ক্ষমতা কমে যাবে।

তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেশে অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তাই লিড টাইমের মধ্যে রফতানি করতে গিয়ে লোকসান দিয়ে আকাশপথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। আবার অনেক উদ্যোক্তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজীকরণ করতে না পারায় ডিসকাউন্ট, অর্ডার বাতিল ও বিলম্বে পরিশোধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এদিকে, অতিরিক্ত কার্গো বিমান না থাকায় বিমানবন্দরে রপ্তানি পণ্যের জট তৈরি হয়েছে। বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, এ অবস্থায় কিছু কিছু রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। এ নিয়ে মোটা অঙ্কের ক্ষতির মুখে পোশাক খাত।

দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় পুঁজিবাজারেও তার ঢেউ লেগেছে। সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতায় শেয়ারবাজারে যে ধস নেমেছে তা গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারিতে এমনিতেই ছোট বিনিয়োগকারীদের নাভিশ্বাস, তার ওপর এ ধাক্কায় অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। টানা সংহিসতায় পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে আটকে পড়ার আশঙ্কায় দেশিবিদেশি পর্যটকরা সেদিকে পা বাড়ানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে একদিকে পর্যটনশিল্প থেকে সরকারের রাজস্ব কমেছে, অন্যদিকে এর মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিনিয়োগ সংকটের পাশাপাশি আবার দাতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়ায় উন্নয়ন কর্মকাও স্থবির হয়ে পড়েছে। উন্নয়ন কর্মকাগতিশীলের পূর্বশর্তই হচ্ছে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। আগামী সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনজুড়ে উৎকণ্ঠা বেড়েই চলছে। সরকারি জোট, বিরোধী জোট কেউ কাউকে ছাড় দিতেও নারাজ। শুধু দেশের মানুষই নয়, শঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাংক, জাইকাসহ উন্নয়ন সহযোগীরাও। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে বিদেশি অর্থছাড়ের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে আগের অর্থবছরের জুলাইআগস্টে ছাড় হয়েছিল প্রায় ৫৮ কোটি মার্কিন ডলার, সেখানে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছে মাত্র ছয় কোটি ৬১ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দাতাদের প্রতিশ্রুতির হার কমে গেছে আগের বছরের তুলনায় ৫১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার। দাতাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়ার কারণ মূলত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব, সম্পর্কের অবনতি, আস্থার সংকট, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ; যা দেশের উন্নয়ন প্রকল্পসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ইতোমধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকল্পে প্রতিশ্রুত অর্থছাড়ের সংকটের কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপিতেও প্রকল্পজট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা এক হাজার ৩৪৩টি। এই চলমান প্রকল্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দিতে হলে চলতি অর্থবছরে প্রয়োজন হবে এক লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকার। এক হাজার ৩৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ১৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। মহাজোট সরকার প্রতি অর্থবছরে বেশি করে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিলেও আর্থিক সংকটের কারণে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো আবার পরের অর্থবছরের তালিকায় যোগ করে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হয়। এর ওপর আবার সামনের নির্বাচনকে মাথায় রেখে প্রতি সপ্তাহেই একনেক সভায় নতুন নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া অব্যাহত আছে।।