Home » রাজনীতি » ২৫ অক্টোবর – পুলিশকেও অতিক্রম করতে পারেনি বিএনপি

২৫ অক্টোবর – পুলিশকেও অতিক্রম করতে পারেনি বিএনপি

আবীর হাসান

police-4২৫ অক্টোবরের আশঙ্কা পার করে দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বিএনপির অর্জন পুলিশের বাহবা কমপ্লিমেন্টস। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় থেকেও একটা এস্পারওস্পার যারা চাচ্ছিলেন তারা হতাশ। ফার্মগেট এলাকার এক তরুণ ফুটপাথ দোকানি তার প্রতিবেশী বয়স্ক দোকানিকে সন্ধ্যায় প্রশ্ন করছিলেন : ‘ও কাহা কীহইলে? কইছিলেন যে মাইর অইব!’ পাশের জন নির্লিপ্ত মৃদু স্বরে বললেন : ‘তারিখ দিয়া মাইর অয় না।’

বোদ্ধা জ্ঞানীরা হয়তো বলবেন – ‘এটা আক্ষরিক মারামারির ব্যাপার ছিল না।’ উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করতে হয় তাহলে কী ছিল? পূজাঈদ তাহলে কিসের শঙ্কা নিয়ে কাটিয়েছে মানুষ? আশাবাদীরা যে পক্ষান্তরে বলেছিলেন ‘সমাধান একটা হয়ে যাবে।’ কই সেটাও তো হলো না। তাহলে হলোটা কী? তিন দিনের হরতাল পাওয়া গেছে? ‘মন্দের ভালো’ না বলে ভালোরমন্দই বলতে হচ্ছে একে। কারণ নির্বাচন নিয়ে যে সঙ্কট তা তিন দিনের বা ৩০ দিনের হরতাল থেকেও অর্জন করা যাবে না। হরতাল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অস্ত্র বটে, তবে এর ধার আর নেই, ভোঁতা হয়ে গেছে। কারণ যার বা যাদের বিরুদ্ধে হরতাল তিনি বা তারা যদি তা মূল্যায়ন না করেন গায়ে না না মাখেন তাহলে ওতে লাভ কি? দুর্ভোগ যা তা হবে সাধারণ মানুষের।

তবে ২৫ অক্টোবরের বিএনপিসহ ১৮ দলের সমাবেশ থেকে কয়েকটা উপলব্ধি হয়েছে এ দেশের মানুষের। নাটকের শুরু ২৪ থেকেই পুলিশের কাছে দফায় দফায় দরখাস্ত নিয়ে দৌড়াদৌড়ি। ১৩ শর্ত মেনে নয়াপল্টনে নয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি প্রাপ্তি এবং সেখানেই পুলিশি পাহারায় সমাবেশ করে। সমাবেশে আশানুরূপ জনসমাগম না হওয়া, (মিডিয়াগুলো এ জন্য সারাদিনের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিকে দায়ী করেছে) বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণে তিন দিনের হরতাল কর্মসূচি ছাড়া নতুন কিছু না থাকা।

এখন আসলে রাজধানীতে হরতালকে উদ্বেগজনক মনে করে না কেউ না সরকার, না সাধারণ মানুষ। শুধুমাত্র প্রান্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পেটে পড়ে লাথি। পরিবহন মালিকদের মুনাফা একটু কম হয় সেটা পোষানোর ব্যবস্থা তারা করে নেয়। সাধারণ মানুষ সবকিছুই করে রিকশায় বা পায়ে হেঁটে। এটাও বাইরের ব্যাপার, প্রশ্ন হচ্ছে সঙ্কট যে জায়গায় উপনীত হয়েছে সেখানে হরতাল দিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে কিনা?

স্পষ্টতই সরকার একটা কৌশল নিয়েছিল ফাঁদও পেতেছিল এবং সে ফাঁদে পা দিয়েছে বিরোধী দল। এর পরিচয় হলো দরখাস্ত দিয়েও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা আর অন্যভাবে চাপ প্রয়োগ না করতে পেরে হরতাল দেয়া। ১৮ দলের নেতৃত্ব দিলেও বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে যে দুর্বলতা আছে তা তাদের প্রকট হয়েছে, ১৮ দলের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য ১৬টি দল নাম সর্বস্ব। অতএব কর্মসূচি পালনের চাপ সইতে হয় দুটি দলকেই এক্ষেত্রেও বিএনপি নেতৃত্ব অগ্রণী নন তারা রাজপথে নামতে চান না। কেউ কেউ তো লুকিয়েও পড়েন কিংবা এড়িয়ে যান বিভিন্ন কৌশলে। হরতাল তাই হচ্ছে বিএনপির জন্য ঢালাও কর্মসূচি।

তবে এই পর্যায়ে এই ‘ঢালাও কর্মসূচি’ ক্ষমতাসীন দলকে বরং সুবিধাই করে দিয়েছে সংলাপ থেকে আরও কিছুদিন দূরে থাকার এবং এই সুযোগে অন্য কৌশল বের করার জন্য। উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষের জন্য মানসিক চাপ, হয়রানি দুটোই বাড়বে। কারণ বিরোধী দলীয় নেতারা তাদের হয়ে ওই চাপ কমানোর চেষ্টা করবেন না। ক্ষমতাসীনরাও ‘জান মাল রক্ষার’ অজুহাতে পুলিশি অ্যাকশন চালিয়ে যাবেন।

মূল সমস্যার কি হবে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সময় আরও খানিকটা যে পেছাল তা বলাই বাহুল্য। এখন সংসদ চলার বাকি দিনগুলোর অপেক্ষায় থাকতে হবে। যতোই ইগনোর করা হোক যদি অন্য কোন বিকল্প পন্থায় নির্বাচন হতে হয় তাহলে সংসদীয় বৈধতা নিয়েই হতে হবে। কিন্তু এটাই ঠিক ওই বিকল্পের যথাযথ চাপ বিএনপি ২৫ অক্টোবর দিতে পারেনি। তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে পুলিশের বাহবা (ধন্যবাদ) পেয়েছেন। এতে সন্তুষ্ট থাকলে কিন্তু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচনে যেতে পারবেন না তারা। সন্দেহ নেই দেশজুড়ে সমর্থকের অভাব নেই তাদের কিন্তু নেতৃত্বের দুর্বলতাও যে আছে আর তা ব্যক্তি স্বার্থের বলয়ে বন্দি হয়ে গেছে। জনগণের স্বার্থে তাদের অধিকারের জন্যই যদি নির্বাচন করতে চান আর তার জন্য সমভূমি চান তাহলে কার্যকর ভিন্ন পন্থায় চাপ দিতে হবে এই সরকারকে, না হলে বার বারই পুলিশকে এগিয়ে দিয়েই সমস্যা মেটাবে সরকার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সামনাসামনি হতে চাইবে না। চাইবেই বা কেন প্রতিপক্ষকে তেমন প্রবল ও কৌশলী তো হতে হবে! পুলিশের কাছে দরখাস্ত নিয়ে যারা যান তারা ওই পর্যায়ের এবং মাপের নেতা নন! পুলিশকে অতিক্রম করে সামনে বাড়ার মতো নেতা লাগবে এখন বিএনপির। না হলে সরকারের সংশোধিত সংবিধানকে জিন্দাবাদ বলে ঝাপিয়ে পড়তে হবে নির্বাচনে। সময় অল্প।।