Home » মতামত » আরপিও সংশোধন

আরপিও সংশোধন

মনোনয়ন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধাই রইলো না

. আকবর আলি খান

akbar-ali-khanগণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে তিন বছর কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকা ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া যাবে না এই বিধান আগে ছিল না। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই বিধানটি প্রবর্তন করা হয় বাংলাদেশের রাজনীতির স্বার্থে। কারণ দেখা যাচ্ছিল যে, নিবার্চনের সময় রাজনীতি করেন না এমন ব্যক্তিরা, বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা এসে যখনতখন যেকোনো দলের মনোনয়ন কিনে নেন।

অষ্টদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে অনেক পার্লামেন্টারি সিট কেনা যেতো। আর এগুলোকে বলা হতো ‘পকেট বরোরটেন বরো’। ওই ধরনের ব্যবস্থা হওয়ার মতো পরিবেশ বাংলাদেশে হয়েছিল। ইংল্যান্ডে ঊনবিংশ শতাব্দীতে যে সংস্কার আন্দোলন হয়, সেই সংস্কার আন্দোলনে এসব এমপি কেনাবেচার ব্যবস্থা উঠে যায়। এখন বাংলাদেশে যে অবস্থা হয়েছে তাতে শুধু ব্যবসায়ীরাই যে কিনতে পারছে তা নয়, এর মধ্যে আবার সরকারি কর্মচারীরাও যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে এই আশায় যে, যখন সুবিধা হবে তখন চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে রাজনীতিতে চলে যাবেন এবং এমপি হবেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আরপিও সংশোধনের আগে এতে কোনো বাধা ছিল না। আর সবচেয়ে বড় দুঃখের ব্যাপার হলো বাংলাদেশে যারা ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকর্মী তাদের কোন মূল্যায়ন হয় না। তারা বছরের পর বছর রাজনীতি করে গেলেও তারা মনোনয়ন পান না। কারণ তাদের কোনো টাকা নেই। আর যাদের টাকা আছে অথবা উপরের দিকে সুসম্পর্ক আছে তারা মনোনয়ন পেয়ে যান। সেটাকে কমানোর জন্যই আরপিওতে বিধান করা হয়েছিল যদি কেউ রাজনৈতিক দলের তিন বছর সদস্য না থাকেন তাহলে তাকে মনোনয়ন দেয়া যাবে না। আর এর ফলে এক দল থেকে ঝাপ দিয়ে আরেক দলে গিয়ে মনোনয়ন পাওয়া, মনোনয়ন দেয়ার যে ব্যবস্থা সেটাও পরিবর্তন হয়ে যেতো এবং সরকারি কর্মচারীদের রাজনীতি করার যে উৎসাহ সেটাও কমে যেতো ও ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীদের মূল্যায়ন হতো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যদি রাজনৈতিক দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মন্তব্যের বক্তব্যের কোনো দাম থাকতো তাহলে আরপিও’র সংশোধন এনে যে ব্যবস্থা করা হয়েছে বর্তমানে, তা অবশ্যই তারা সমর্থন করতেন না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন নিয়ে সংসদে আলোচনাও হয়নি, জনমত যাচাই করা হয়নি এক কথায় কিছুই করা হয়নি। এমনকি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়নি। অথচ এটি বাংলাদেশের রাজনীতির গণতন্ত্রায়নের জন্য অপরিহার্য ব্যবস্থা ছিল। এই ব্যবস্থা তুলে নেয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তা মনোনয়ন বাণিজ্যের জন্য সহায়ক। আগে যে ব্যবস্থা ছিল তাতে সবটা না হলেও কিছু বাধা ছিল। কিন্তু এখন আর কোনো বাধাই রইলো না মনোনয়ন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে।।