Home » রাজনীতি » ক্ষমতাসীনরাই সকল রাজনৈতিক ক্ষতির উৎস

ক্ষমতাসীনরাই সকল রাজনৈতিক ক্ষতির উৎস

ফারুক আহমেদ

constitution-21নির্বাচন সংকটে সবচেয়ে বিপর্যস্থ এবং ক্ষতিগ্রস্থ দেশের সাধারণ জনগণ। ক্ষমতাসীন দলের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণকে কতদিন এমন বিপদগ্রস্থ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে থাকতে হবে তা হিসাব কষে বলা মুশকিল। তবে অবস্থা দিন দিন যেদিকে যাচ্ছে তাতে জনমনে আশংকা এবং আতঙ্ক বেড়ে চলেছে। ক্ষমতাসীন দলের এবং সরকারের দায়ীত্বশীলদের পক্ষ থেকে যে সব কথা বলা হচ্ছে তাতে জনমনে আতঙ্ক এবং আশংকা প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের এবং সরকারের মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে যখন বলা হয় হরতালে তারা চিন্তিত নন,হরতাল দিয়ে তাদের কিছুই করা যাবে না, তখন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়ে পারে না। কারণ জনগণের অর্র্থনৈতিক জীবন, জানমালের নিরাপত্তা, দুর্ভোগ কোন কিছুতেই যদি সরকার চিন্তিত না হয় তবে জনগণের বুঝতে কোন অসুবিধা হয় না যে, তাদের স্বার্থ এবং সরকারের স্বার্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকার এবং ক্ষমতাসীনরাই সবসময় হরতালসহ পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সহিংস পথে নিয়ে গেছে এবং বর্তমান সময়ে এর মাত্রাটা অনেক অনেক গুণে বেশি তা এখন প্রমাণিত হয়েছে। এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, সাম্প্রতিক গণধরপাকড়সহ বিরোধী পক্ষের উপরে যে নির্যাতন চলছে তাতে ইতোমধ্যে রাজনীতিতে সহিংসতা, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি প্রবেশ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরো করবে।

ক্ষমতাসীন দল এবং সরকারের কোন্ ধরণের উদ্যোগে হরতাল বন্ধ হতে পারে তাও কারো অজানা নয়। কিন্তু জনগণ তাদের দিক থেকে সেই উদ্যোগের কিছুই দেখছে না। বরং হরতালের মতো কর্মসূচি দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারই মূলত উস্কানিদাতা হিসেবে কাজ করে।

জনগণ সরকারের উপর বেশি ক্ষুব্ধ। এর কারণ জনগণের চোখ খোলা। তাঁরা দেখতে পায় সব কিছুই। তারা এও দেখছে যে কিভাবে জনগণের জানমাল রক্ষার নামে উল্টো জনগণেরই জানমাল কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো বৈধ অধিকার। কিন্তু সেই আন্দোলন কোথায় করবে মানুষ,কোথায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করবে? রাজনৈতিক দল, শ্রমিক, শিক্ষক,জাতীয় স¤পদ রক্ষার দাবিতে গঠিত কমিটি কাউকেই কি এই সরকার রাস্তায় দাঁড়াতে দিয়েছে ? বল প্রয়োগ ছাড়া কাউকেই কি তাদের দাবির কথা বলতে দিয়েছে ? এই সরকার বলতে গেলে দেশে স্থায়ীভাবে ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে। স্বাভাবিক নিয়মে এখন আর মিছিলসমাবেশ আর করা যায় না। কাজেই এখন তৈরী হয়েছে ঝটিকা মিছিলের সংষ্কৃতি। এর মধ্যদিয়ে আন্দোলনের প্রকৃতি এবং সংষ্কৃতি স¤পূর্ণ বদলে দেওয়া হয়েছে। একটি দেশে যে কোন ধরণের আন্দোলনের প্রকৃতি এবং সংষ্কৃতিকে এভাবে বদলে দিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের কর্মকান্ডের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিণতি জনগণের দিক দিয়েতো বটেই রাজনীতির ক্ষেত্রেও যে ভয়াবহ হতে পারে। ক্ষমতাসীন দল এই অবস্থাকে যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে তাতে তারা নিজেরাও এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলে জনমনে আশংকা দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের স্বার্থেই দুষ্কৃতিকারীদের অভয়রাণ্যে পরিণত করা হয়েছে দেশটিকে। একটি দেশে আন্দোলনসংগ্রাম,মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই, দাবিদাওয়ার আন্দোলন এ সবকিছুই যেমন সমাজের মধ্যে গণতান্ত্রিক সংষ্কৃতি গড়ে তুলতে পারে তেমনই সমাজের বুদ্ধিজীবী যাঁরা গণতান্ত্রিক সংষ্কৃতি নির্মাণে তাঁদেরও এক বড় ভুমিকা থাকে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা বিরোধীদের আন্দোলন সংগ্রামে যেমন খড়গহস্ত তেমনই স্বাধীন চিন্তা এবং স্বাধীন মতের ওপরও একইভাবে বাধা দিয়ে যাচ্ছে। সরকার এবং সরকার প্রধান বিরোধীদের উপরেই যে দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে তা নয়, সমাজের বিশিষ্টজন, বুদ্ধিজীবী, বিশ্লেষকসহ সবাই সরকার প্রধানের প্রত্যক্ষ সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন।

এইসব পরিস্থিতিতে জনগণ প্রায় স্থায়ীভাবে আমোচনীয় আতঙ্কের মধ্যেতো আছেনই কিন্তু সবচেয়ে বড় আতঙ্ক এখন নির্বাচন কেন্দ্রীক আতঙ্ক। হার্ড লাইনের নামে সরকার নতুন করে বিরোধী নেতাদের যে গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে। জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সরকারের এ হার্ড লাইন আসলে কাদের বিরূদ্ধে? কার্যত তাদের বিরুদ্ধেই নয় কি? সরকারের এই হার্ড লাইনের কারণে এরই মধ্যে বিরোধী পক্ষ আরো বারো ঘন্টা হরতাল কর্মসূচী বৃদ্ধি করেছে।

সরকারের এসব কাজে জনগণ কোনভাবেই একটি সহজ সমাধানের পথ দেখতে পাচ্ছে না। এ সকল অবস্থা জনগণের মধ্য একটাই প্রশ্ন তৈরী করছে ; সরকার এক তরফা নির্বাচনেরই সকল আয়োজন স¤পন্ন করছে এ প্রশ্ন শুধুই প্রশ্ন নয়। এ প্রশ্ন আতংকের, এ প্রশ্ন আশংকার। কারণ জনগণ জানে, এক তরফা নির্বাচন দেশকে যে গভীর নৈরাজ্য এবং সংকটের দিকে নিয়ে যাবে তার মূল্য গুণতে হবে সাধারণ মানুষকে তার জানমাল দিয়ে।।