Home » রাজনীতি » চাই শক্তিশালী বিরোধী দল

চাই শক্তিশালী বিরোধী দল

কাজী ফরিদ আহমদ

democracyবেশ কয়েকদিন যাবত ছোটবেলার বহুল শ্রুত একটি গল্পের কথা মনে পড়ছে। সেই মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের গল্প। যে কিনা প্রতিদিনই বাঘ এসেছে বলে চিৎকার করত, লোকজন জমা হলে বলত বাঘ চলে গেছে! গল্পের বাকি অংশটুকু আমাদের সবারই জানা, সবাই যখন একই কথা শুনতে শুনতে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলল ঠিক তেমনই এক দিন সত্যই বাঘ আসল কিন্তু তার ডাকে কেউ আসল না, পরিণাম হয় তার মৃত্যু।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকার কারণেই এই গল্পটির কথা মনে পড়লো। প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক দেশের গণতন্ত্রের রক্ষা কবচ ধরা হয় প্রধান বিরোধী দলকে। সংসদীয় গণতন্ত্রের জনগণের প্রধান শক্তি হবে প্রধান বিরোধীদল, যারা সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলবে, সরকারের সকল অন্যায়অবিচারের বিরুদ্ধে তীব্র অন্দোলনের নেতৃত্ব দিবে, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।

আপাত দৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি গত সাড়ে চার বছর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রাজপথে তাঁরা একটি আন্দোলনেও পরিপূর্ণভাবে সফল হতে পারেনি। গত দু’বছর যাবত তাঁরা দশপনের দিন পর পর সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পরে! অবশ্য ঐ সব আন্দোলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাওয়া যায় না, এটি নিয়েও তৃনমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। অনেক কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখা যায় হরতাল ডেকে অবকাশ যাপন করতে। কিছুদিন আগে একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের বৌদলতে আমরা সেই দৃশ্য দেখেছি। এবং দু’দিন বাদেই আন্দোলন ঝিমিয়ে পরে।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিরোধী দলের সংসদ বর্জন করা জনগণের সঙ্গে প্রতারনার শামিল । জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে সংসদে তাদের কথা বলার জন্যে; রাজনৈতিক, দলীয় বা ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যে নয়। বিরোধী দলের অনেক সংসদ সদস্যকে বলতে শোনা যায় দলীয় সিদ্ধান্তের কারনে তাঁরা সংসদে যান না! মানলাম দলীয় টিকিট পেয়ে এমপি হয়েছেন তাই দলের চিন্তা করতে হবে, কিন্তু শুধু কি দলীয় ভোটেই নির্বাচিত হয়েছেন? অবশ্যই না। সামনের সারিতে একটি আসন বেশী না দেয়া, মাইক বন্ধ করে দেয়া বা সরকারী দলকে বেশী বলতে দেয়া বিরোধী দলকে কম বলতে দেয়া কোন কারন হতে পারেনা সংসদ বর্জন করার।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক মামলা একই সঙ্গে তার পরিবারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির মামলা বিশেষ করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দূর্নীতি মামলা প্রত্যাহারের জন্য, মইনূল রোডের বাড়ির জন্য যে আন্দোলনহরতাল হয়েছে তা আমার মত সাধারন মানুষের মনে কিছু প্রশ্ন রেখে গেছে। বড় কোনটি ব্যাক্তিদলদেশজনগণ? একটি বিরোধী দল যদি তার পুরোটা সময় নিজের এবং পরিবারের দূর্নীতির মামলা নিয়ে শুধু হরতালঅবরোধ করেন তাহলে দেশ ও জনগণ নিয়ে কাজ করবেন কখন? কই আমাদের সচেতন বিরোধী দল তো বিডিআর বিদ্রোহের পর হরতাল দিলো না, ফেলানী হত্যাকান্ডের পর হরতাল দিলো না, রানা প্লাজা ধ্বসের পর হরতাল ছিল না! এমনকি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির আকাশ ছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, তেলগ্যাস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ইস্যুতেও তাদের যেভাবে সরব হওয়া উচিত ছিল তা তারা হননি। তাহলে এত আয়োজন কি শুধু ক্ষমতায় আসার জন্যে?

শক্তিশালী ও সুগঠিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রয়োজন শক্তিশালী ভিত্তির গণতন্ত্র। শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্যে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী প্রধান বিরোধী দল। যে দলের রাজনীতি হবে জনগণের সঙ্গে ব্যক্তি সঙ্গে বা ব্যক্তি কেন্দ্রীক নয়। এই ক্রান্তি কালেও কি সময় হয়নি ব্যক্তি কেন্দ্রীক রাজনীতি পরিহার করে গণতন্ত্র রক্ষায় একটি গণতান্ত্রিক শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে তোলা?

kazifarid20@gmail.com