Home » অর্থনীতি » ছাড় করানো যাচ্ছে না ১৫ হাজার কোটি টাকা

ছাড় করানো যাচ্ছে না ১৫ হাজার কোটি টাকা

রাজনৈতিক অস্থিরতায় কমছে বিদেশী ঋণ বাড়ছে কঠিন শর্ত

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

polical-cartton-economy-13পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়া, বিশ্বমন্দাসহ নানা কারণে বিদেশী ঋণ ও সহায়তাপ্রবাহ এমনিতেই কমে আসছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক অস্থিরতাসহ নতুন কিছু কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এর পরিমাণ আরো কমে গেছে। আশঙ্কা ব্যক্ত করা হচ্ছে, এটি আরো কমে যাওয়ার। এটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের শিথিলতা কিনা, তা অবশ্য বলা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার মধ্যে বিশ্বব্যাংক যেমন রয়েছে, তেমনি আছে বিভিন্ন দাতা দেশও। এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি এর আগেও বলেছি, এখনও বলছি, প্রধানত দুটি কারণে দেশে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। প্রথমত বিদ্যুৎগ্যাস ও অবকাঠামো সমস্যার কারণে দেশীবিদেশী বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বা অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগ কমছে। এছাড়া সময় মতো ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে আসছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত জানান, মূলত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়ার কারণেই বৈদেশিক ঋণের ছাড় কম হয়েছে। তাঁর মতে, এবার নির্বাচনী অর্থবছর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করছেন না। প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো গেলে বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ও বেড়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, জাইকাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের প্রতিশ্রুতির প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড় করাতে পারছে না সরকার। প্রশাসনিক দুর্নীতর অভিযোগ, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, দফতরের সমন্বয়হীনতার কারণে বিপুল পরিমাণ এ বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ আটকে আছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয় গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার চুক্তি বাতিল করেছে দাতারা। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরতও চলে গেছে। শুধু পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকেই বিশ্বব্যাংক প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। যদিও শর্তসাপেক্ষে পরে ওই পরিমাণ অর্থ অন্য প্রকল্পে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা (জাইকা), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ (আইডিবি) ৩২টি দাতা সংস্থার অনেকেই প্রতিশ্রুত ঋণ বা সহায়তার প্রস্তাব ফিরিয়ে নিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অদক্ষমতা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েনের কারণেই প্রতিশ্রুতির এই অর্থ ছাড় করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতাও রয়েছে বলে মনে করে অর্থ মন্ত্রণালয়। কেননা সরকারের নেওয়া বিভিন্ন আর্থিক সংস্কার কার্যক্রমের আপডেট সম্পর্কে সঠিক সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের অবহিত করা হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীরাও চুক্তি অনুযায়ী ঘোষিত সময়ের মধ্যে অর্থ ছাড়ে আগ্রহ দেখায় না। ফলে বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতির এই অর্থ আটকে থাকে পাইপ লাইনে। ইআরডি সূত্র জানায়, আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতি প্রশাসনিক অদক্ষতা সর্বশেষ পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগের কারণে উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলছে। এ কারণে গত ২০০৯১০ অর্থবছরে ২৯৮ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতির বিপরীতে অর্থ ছাড় হয়েছে ২২২ কোটি ডলার। আর ২০১০১১ অর্থবছরে ৫৯৬ কোটির বিপরীতে ছাড় হয় মাত্র ১৭৭ কোটি ডলার। ২০১১১২ অর্থবছরে ৪৭৬ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও পাওয়া যায় মাত্র ২১২ কোটি ডলার। সর্বশেষ ২০১২১৩ অর্থবছরেও একই অবস্থা বিদ্যমান ছিল। সে বছর প্রতিশ্রুতির অর্ধেক অংশই ছাড় করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্তমানে পাইপলাইনে রেকর্ড পরিমাণ ১ হাজার ৮৫৬ কোটি ডলার বা (১৪ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা) আটকে রয়েছে।

সূত্র জানায়, দুর্নীতি রেশ ধরে চলতি অর্থবছরেও উন্নয়ন সহযোগীরা সময়মতো অর্থ ছাড় করছে না। সরকারও তাদের সঙ্গে যথোপযুক্ত আচরণ করতে পারছে না। চলতি ২০১৩১৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাইসেপ্টেম্বর) মোট প্রতিশ্রুতির ৪২ কোটি ২৭ লাখ ডলার ছাড় করেছেন। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এমন কি নানা কারণে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠকও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ২০১০ সালের পর এতে সরকার বা উন্নয়ন সহযোগী কেউই আগ্রহ দেখায়নি।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, বাস্তবায়ন অক্ষমতার অভিযোগ এনে বড় অঙ্কের অর্থায়ন বাতিল করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। গত ২০০৯১০ অর্থবছরে বাতিল হয় প্রতিশ্রুতির ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার, ২০১০১১ অর্থবছরে ৩৮ কোটি ৪০ লাখ, ২০১১১২ অর্থবছরে ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ও ২০১২১৩ অর্থবছরে ১৫০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরেও ১৫ কোটি ডলার বাতিলের ঋণচুক্তি বাতিলে করেছে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রকল্পের ঋণচুক্তি বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাইসেপ্টেম্বর) বৈদেশিক সহায়তায় নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কমেছে দাতাদের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের পরিমাণ। এ সময় প্রতিশ্রুতি এসেছে ১৭ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১৭ কোটি এবং অনুদান ৮৯ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এসব তথ্য জানা গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাইসেপ্টেম্বর) দাতাদের প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৬৫ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৩ কোটি এবং অনুদান ছিল ২ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দাতাদের অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ৪২ কোটি ২৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ২৯ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার এবং অনুদান হচ্ছে ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৩৮ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার এবং অনুদান ১৫ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

পর্যালোচনা করলে দেখা যায় গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে দাতাদের অর্থছাড় তুলনামূলক কম হয়েছে। কিন্তু তুলনামূলক বেড়েছে ঋণ শোধের পরিমাণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে মোট ২৪ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে আসল হচ্ছে ১৯ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার এবং সুদ ৫ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ পরিশোধের হার ছিল মোট ২১ কোটি ৬৮ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে আসল ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার এবং সুদ ৫ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

ঋণ ও অনুদান প্রদানে এগিয়ে থাকা সংস্থাগুলো হচ্ছে বিশ্বব্যাংক ১০ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫ কোটি ৮৪ লাখ, জাইকা ১০ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার, চীন ১ কোটি ৭৯ লাখ, ইউএন সিস্টেম ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার এবং ভারত ৬ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। গত আগস্ট মাসেও দাতাদের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় নিম্নমুখী ছিল। এ সময়ে দাতাদের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৬ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৬ কোটি এবং অনুদান ৩১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থছাড় হয়েছে মোট ২৭ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ২১ কোটি ৫২ লাখ ৯০ হাজার এবং অনুদান হচ্ছে ৫ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। ইআরডি সূত্রে জানা যায়, ২০১২১৩ অর্থবছরে ৩১৩ কোটি ডলার পাইপলাইনে যোগ হয়েছে। এর আগে ২০১১১২ সালে পাইপলাইনে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৪৩ কোটি ডলার। তার আগের অর্থবছর ২০১০১১ অর্থবছর শেষে ছিল ১ হাজার ৪১৫ কোটি ডলার। তবে ২০০৯১০ অর্থবছর পর্যন্ত পাইপলাইনে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৪২ কোটি ডলার। বিদেশী সহায়তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাইপলাইনে রয়েছে বিশ্বব্যাংকের। এ প্রতিষ্ঠানটির মোট ৪৩১ কোটি ডলার পাইপলাইনে রয়েছে। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১২ কোটি ডলার রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৮৭ কোটি ডলার রয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা’র (জাইকা)

গত ২০১০১১ অর্থবছরে সবমিলিয়ে ১৭৭ কোটি ৭২ লাখ ডলারের বিদেশী সাহায্য এসেছিল। এর মধ্যে সুদআসল পরিশোধে চলে যায় ৭২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। নিট সাহায্যের পরিমাণ ছিল ১০৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। ২০০৯১০ অর্থবছরে মোট ২১৬ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের ঋণ সহায়তা এসেছিল। তার মধ্যে ৬৮ কোটি ৭৪ লাখ ডলার ব্যয় হয় দেনা পরিশোধে। নিট ঋণসহায়তা ছিল ১৪৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। গত এক দশকের বিদেশী সাহায্যের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯৯২০০০ অর্থবছরে দেশে নিট বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ ছিল ১১৭ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০০০০১ অর্থবছরে তা ৯৫ কোটি ২৩ লাখ ডলারে নেমে আসে।

২০০১০২ এবং ২০০২০৩ অর্থবছরে এ সাহায্যের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১০১ কোটি ৯৮ লাখ মার্কিন ডলার এবং ১১৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০০৩০৪ অর্থবছরে বৈদেশিক সাহায্য ৬১ কোটি ৩ লাখ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। ২০০৪০৫ অর্থবছরে আসে ১০১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, আর ২০০৫০৬ অর্থবছরে ১০৭ কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার। ২০০৬০৭ অর্থবছরে দেশে নিট বৈদেশিক সাহায্য আসে ১০৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ২০০৭০৮ অর্থবছর এবং ২০০৮০৯ অর্থবছরে এসেছিল যথাক্রমে ১৩৭ কোটি ৬৫ লাখ এবং ১০২ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলার।

আগামী পাঁচ বছরে অর্থনীতিতে বৈদেশিক সহায়তার অবদান ব্যাপক হারে কমবে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ সময় জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ২৫ শতাংশ হবে বৈদেশিক সহায়তার অবদান। তবে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান কমে গেলেও আগের নেয়া অর্থ পরিশোধের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এক বছর আগেও যেখানে জিডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার অবদান ছিল প্রায় ৫ শতাংশ, সেটি পাঁচ বছরের মধ্যে অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে। এ সময় জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ২৫ শতাংশ হবে বৈদেশিক সহায়তার অবদান। একই সময়ে ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে পুরনো ঋণের বিপরীতে নেয়া অর্থ পরিশোধের পরিমাণ। সম্প্রতি কঠিন শর্তের ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। যেটি বর্তমানে আড়াই হাজার কোটি ডলারের নিচে অবস্থান করছে।

সূত্র জানায়, চলতি ২০১৩১৪ অর্থবছরে বৈদেশিক অর্থের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাবে জিডিপির ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগামী অর্থবছর কমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এর পরের ২০১৫১৬ অর্থবছরে আরও কমে বৈদেশিক সহায়তা জিডিপিতে অবদান রাখবে মাত্র ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এটি ২০১৭১৮ অর্থবছর নাগাদ ব্যাপকভাবে কমে মাত্র ২ দশমিক ২৫ শতাংশ হবে।

বিপরীতে দাতা সংস্থাও দেশের কাছ থেকে কঠিন শর্তের সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিট নিতে হবে। এ সব ঋণের অর্থ যেমন দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে কঠিন শর্তের ঋণের বিপরীতে সরকারকে চড়া সুদ দিতে হবে। তেমনি নগদ অর্থের বদলে পণ্য ক্রয়ের বিপরীতে এসব ঋণ পাবে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অবকাঠামো খাতসহ সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সরকারী মালিকানাধীন কয়েকটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণে কঠিন শর্তে ঋণ নেয়া হচ্ছে। সহজ শর্তের ঋণের তুলনায় উচ্চ সুদের হারও স্বল্প সময়ে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় অনমনীয় ঋণ পাবলিক খাতে সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দেশে বৈদেশিক উৎস হতে সহজ শর্তের চেয়ে কঠিন শর্তের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে গেছে।।