Home » প্রচ্ছদ কথা » এটি কোনোক্রমেই সর্বদলীয় সরকার নয় ॥ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে

এটি কোনোক্রমেই সর্বদলীয় সরকার নয় ॥ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে

. আকবর আলি খান এবং ড. মীজানূর রহমান শেলী’র বিশ্লেষণ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান এবং বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষক ড. মীজানূর রহমান শেলী আমাদের বুধবারএর জন্য বিশ্লেষণ করেছেন সর্বদলীয় সরকার নামে যে সরকারটি গঠিত হয়েছে এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতিকে সংলাপ আয়োজনের যে আহবান জানিয়েছেন সে সম্পর্কে।

. আকবর আলি খান

akbar-ali-khanসর্বদলীয় সরকার নামের কোনো সরকার গঠনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার গঠন সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার মনে করছে, এটা হলে পরে নির্বাচনের উপরে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। আবার যারা এর বিরোধিতা করছে তারা বলছেন, এটা শুধুই একটি রাজনৈতিক চাল। সর্বদলীয় সরকার বলে যা করা হয়েছে, এটা মূলত জোট সরকারের যারা অংশীদার ছিলেন তারাই এ সরকারে আছেন, বাইরের কেউ আসেননি। সর্বদলীয় সরকারের যে অর্থ তাহলো জাতীয় সংসদের মধ্যে যে সব দলের প্রতিনিধিত্ব আছে তাদের সবার না হলেও অন্তত ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ যাতে এ সরকারে অংশ নেয় এবং তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এই সরকারটিতে প্রধান বিরোধী দল অংশ নেয়নি। কাজেই আগে জোট সরকার ছিল, এটাকে এখন বড়জোর বহুদলীয় সরকার বলা যেতে পারে। তবে এটি দিয়ে কি লাভ হবে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। কারণ মূলত ক্ষমতাসীনরা যদি বিরোধী দলের আস্থা অর্জন করতে না পারে তাহলে যে নামেই সরকার হোক না কেন, তাতে নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত করার জন্য কোনো কাজ হবে না এবং কোনো প্রভাবও পড়বে না।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি বলতে চাই তাহলো, বিরোধী দলীয় নেত্রীর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত এবং সংলাপসমঝোতার একটি উদ্যোগ গ্রহণে তাকে আহবান জানানো। সাংবিধানিক ক্ষমতা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির করণীয় কিছুই নেই। কিন্তু যেহেতু তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক এবং সবাই তাকে সেভাবেই মেনে চলেন, এ অবস্থায় তিনি যদি কোনো উদ্যোগ নেন তাহলে সরকারী এবং বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। তার ফলাফল কি হবে তা শুধু তার উপরেই নির্ভর করছে না। এটা নির্ভর করবে দুই প্রতিপক্ষের উপরে। কে কতোটুকু চাইবেন, কতোটুকু ছাড়া দেয়া হবে তার উপরেই সবকিছু নির্ভর করবে। রাষ্ট্রপতি এখানে শুধু আলাপআলোচনার ব্যাপারে প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত, উৎসাহিত করতে পারেন ও দু’পক্ষকে অনুরোধ জানাতে পারেন।।

. মীজানূর রহমান শেলী

mizanur-rahman-shellyযে সরকারটি গঠিত হয়েছে তা নাম সর্বস্ব সর্বদলীয় সরকার। কারণ সেখানে সব দল, বিশেষত প্রধান বিরোধী দল অনুপস্থিত। কাজেই এটা কোনোক্রমেই সর্বদলীয় হতে পারে না। বড়জোর বহুদলীয় বা কয়েক দলের সরকার হতে পারে। সত্যিকার সর্বদলীয় সরকার থেকে যা আশা করা যায় অর্থাৎ ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান তারও সম্ভাবনা এখানে খুবই ক্ষীণ। নেই বললেই চলে। সুতরাং রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে মহৌষধী বলে যাকে বলা হচ্ছে তা কোনো কাজে আসবে বলে মনে হয় না।

আর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত এবং সংলাপ অনুষ্ঠানের অনুরোধের বিরোধী দলীয় উদ্যোগে কিছুটা আশার সঞ্চার হতে পারে। কিন্তু বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কোনো প্রত্যক্ষ শক্তি বা ক্ষমতা নেই, যার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বিতর্কের এবং বিবাদের অবসান ঘটাতে পারেন। কারণ তাকে সাংবিধানিক ভাবে যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই করতে হবে। কিন্তু সব কিছু জেনেও বিরোধী দলীয় নেত্রী কেন রাষ্ট্রপতির কাছে গেলেন? রাষ্ট্রপতির কাছে যাবার একটিই অর্থ হতে পারে, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত হতে পারেনি। হরতালের খোড়া যুক্তি দেখিয়ে বিশেষত সরকারী দলের কারণে উভয়পক্ষের মধ্যে আর কোনো সামনাসামনি আলোচনা বা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। যেহেতু এই আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়নি সে কারণে বিরোধী দলীয় নেত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে গেছেন। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি বড়জোর প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তাটি পৌছে দিতে পারেন। এরপরে প্রধানমন্ত্রী যদি কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ নেন শুধুমাত্র তাহলেই এ বিষয়টি ফলপ্রসূ হবে। কাজেই এ মুহূর্তে সবকিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর উপরে, রাষ্ট্রপতির উপরে নয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে কোনো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি না।।