Home » রাজনীতি » এত উপদেষ্টা আর উপদেশ

এত উপদেষ্টা আর উপদেশ

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

cartoon-democracyআগের মন্ত্রীদের পদত্যাগ কার্যকর বা মন্ত্রিসভা ভেঙে না দিয়েই হল নতুন মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রীদের শপথ। আর একজন উপদেষ্টাও পাওয়া গেল। সর্বদলীয় সরকারের কথা বলা হলেও এটা যে জাতীয় পার্টির আবদার রক্ষার ব্যাপার হয়ে গেছে তা বুঝতে কষ্ট হয় না। ১৮ নভেম্বর নতুনদের শপথের আগে পরে পুরনো ১২ জনকে নিয়ে কথা হয়েছে কোন কোন মিডিয়া উৎসাহ ভরে তাদের নামও জানিয়েছে। কিন্তু শপথ শেষে, দিনের শেষে সরকারের দিক থেকে আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা না আসায় ওই দিনটায় অর্থাৎ ১৮ তারিখ দুপুরের পর থেকে ২০ তারিখ রাত পর্যন্তও বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ছিল ৬৬। ১১ নভেম্বর যদিও আগের মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। কিন্তু ১৮ নভেম্বর সেগুলোর কতগুলো কার্যকর আর কার্যকর নয় তা জানা যায়নি। অবশ্য আগেও জানা যায়নি উপদেষ্টাদের খবর। তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলেও তথ্য ছিল না। কাজেই ধরে নিতে হয় যে ৭ জন উপদেষ্টা এখন আছেন, তারা আছেন স্বপদে স্বমহিমায়। সঙ্গে আর একজন যোগ দিলেন জিয়াউদ্দিন বাবলু।

এত উপদেষ্টা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কী করবেন সে প্রশ্ন তো উঠতেই পারে। আগের উপদেষ্টাদের কীর্তিকলাপ অবশ্য অজানা নয় মানুষের। এরা কীর্তিমান পুরুষপুঙ্গম এক একজন। তাদের এখতিয়ার অসীম নিজেদের বরাদ্দ গন্ডির মধ্যে তারা আবদ্ধ থাকতে চান না। নানা কর্মে জড়িত হয়ে পড়েন। হলমার্ক, পদ্মা সেতু, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, আমদানিরফতানি, নিয়োগবদলি, ডিজিটাল বাংলাদেশের নামে টেন্ডারবাজি হেন কাজ নেই যার মধ্যে উপদেষ্টারা থাকেন না। নতুন এই উপদেষ্টাও যে করিৎকর্মা হবেন তা আগেই বলে রাখা যায়। তিনি নিজেও অনেক ঘাটে ঘাটে অনেক জল ঘোলা করেছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তিনি। সেখানেও তাকে নিয়ে বিতর্ক কম নেই। যা হোক উপদেষ্টার সংখ্যা বাড়ল, গোপনে নয় প্রকাশ্যেই যে বাড়ল সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে হয়।

উপদেষ্টার আধিক্যের সরকারে আরও একজন উপদেষ্টার ব্যাপারটা নিয়ে অনেক হতাশা ব্যক্ত করেছেন বটে তবে এটাও সত্য যে এই রকম সময়ে যখন নির্বাচন হওয়া না হওয়ার দোলাচলের মধ্যে রয়েছে দেশ তখনই বেশি উপদেশের দরকার প্রধানমন্ত্রীর।

এই উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে খোদ মন্ত্রীসভা এবং দলের মধ্যে অসন্তোষ কম নেই। মন্ত্রীরা এবং দলীয় নেতারা উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছেন প্রকাশ্যে। এমনও ঘটনা ঘটেছে কোন কোন মন্ত্রণালয়ে ‘দ্বৈত শাসন’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কথা জানলেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে উপদেষ্টারাই।

নিন্দুকরা বলছে এরশাদের চাপাচাপিতেই নাকি এই নতুন উপদেষ্টার অন্তর্ভুক্তি। প্রথমে মন্ত্রীত্ব পাইয়ে দেয়ার কথা নাকি কথা ছিল। কিন্তু তিনি তো সংসদ সদস্য না, রুলস অব বিজনেসের ধারায় আটকানো হয়েছিল কিন্তু এরশাদ মানতে চাননি, অগত্যা মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হলেন এই জাপা নেতা।

শোনা যাচ্ছে সর্বদলীয় সরকার আরও বড় হবে অর্থাৎ অন্য দলের কর্মীদের ঢোকানো হবে মন্ত্রিসভায়। সে সময় আবার যদি রুলস অব বিজনেসে আটকে যায় তাহলে হয়তো আরও উপদেষ্টা আমরা দেখতে পাব। হ্যা, নির্বাচন যখন আসছে এবং সে নির্বাচনে যখন বিএনপিকে নিয়ে সমস্যা রয়েছে তখন অনেক মতামত, অনেক কৌশলের প্রয়োজনহবে। সামনের নির্বাচন যদি হয় তাহলে যে তা স্বাভাবিকভাবে হবে না তা বলাই বাহুল্য। সিজারিয়ান হবে। আর তার জন্য অনেক সহায়তাকারীরা দরকার হবে সার্জনের। কাজেই জিন্দাবাদ দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের নামে। যদিও বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়’র ব্যাপারটা আগেই দেখা গেছে তার চেয়ে ইতর বিশেষ হবে তেমন আশা করেও লাভ নেই।

নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে বাংলাদেশের মানুষ সরল সহজভাবে যা আশা করে তা নাও হতে পারে। কারণ দেখাই যাচ্ছে সবাই কৌশলে চলছেন একা এরশাদ কৌশল বা চাতুরি করছেন তা নয়। দিন, তারিখ, মন্ত্রিসভা, সংসদ সংবিধান কিছুই আশানুরূপ কাজ করছে না। এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। কারণ কূটকৌশলী উপদেষ্টার সংখ্যা বাড়লে তো তাই হবে।।