Home » রাজনীতি » আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম এবং মওলানা ভাসানী

আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম এবং মওলানা ভাসানী

শাহ আহমদ রেজা

bhasani_4বাংলাদেশের জাতীয় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী স্মরণীয় হয়ে আছেন তাঁর আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের জন্য। ১৯২০এর দশকে বাংলা ও আসাম প্রদেশে জমিদারমহারাজাদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল। আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত দলটির সভাপতি হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পশ্চিম পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানানোর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। ১৯৬৯এর যে গণঅভ্যুত্থান পাকিস্তান সরকারকে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বায়ত্তশাসন স্বীকার করতে বাধ্য করেছিল, সে গণঅভ্যুত্থানে প্রধান নেতার ভূমিকা পালন করেছিলেন মওলানা ভাসানী। এদেশেরই কোনো কোনো নেতার প্রশ্নসাপেক্ষ ভূমিকায় স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন বিভ্রান্ত ও স্তিমিত হয়ে পড়লেও মওলানা ভাসানী সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিলেন। স্বাধীনতামুখী সে অবস্থান থেকে জনগণকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ১৯৭০ সালের নভেম্বরে এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলে ১২ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর পর পাকিস্তান সরকার চরম উপেক্ষা দেখালে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ মওলানা ভাসানী সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার ডাক দিয়েছিলেন। পল্টন ময়দানের জনসভায় পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশে তিনি পবিত্র কুরআনের সুরা ‘কাফেরূন’ থেকে আয়াত উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, লাকুম দীনুকুম ওয়া লিয়া দীন’। এটা ছিল সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা। ১৯৭১ সালের মার্চে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার পর প্রদেশের নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন, মওলানা ভাসানী তখন ঘোষণা করেছিলেন, ২৩ মার্চ থেকে পূর্ব বাংলা স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ২৫ মার্চ গণহত্যার অভিযান শুরু হওয়ার পর মওলানা ভাসানী ভারতে চলে গিয়েছিলেন। ভারত বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিতি থাকায় ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেস সরকার তাঁকে নজরবন্দি অবস্থায় রেখেছিল। কিন্তু নিজের স্বাধীনতা হারিয়েও মওলানা ভাসানী দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে দেশপ্রেমিক প্রধান জাতীয় নেতার ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আধিপত্যের বিরোধিতা ছিল মওলানা ভাসানীর সংগ্রামের প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাকিস্তান আমলে একদিকে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে শাণিত করেছেন, অন্যদিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে। ১৯৫০এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধজোট সিয়্যাটো ও সেন্টোর পাশাপাশি পাকমার্কিন সামরিক চুক্তির কারণে পূর্ব বাংলার (আজকের বাংলাদেশ) প্রধান দাবি স্বায়ত্তশাসন অর্জন করা সম্ভব হয়নি। মওলানা ভাসানী তাই স্বায়ত্তশাসন আদায়ের দাবির সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামকে যুক্ত করেছিলেন। মূলত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার প্রশ্নেই তাঁকে তাঁর নিজের হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আসতে এবং নতুন দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করতে হয়েছিল। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, মওলানা ভাসানীর চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। আসলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদীদের কারণে পূর্ব বাংলা স্বায়ত্তশাসনের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায় করতে পারেনি। পূর্ব বাংলাকে তাই স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধের রক্তাক্ত পথে যেতে হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর ভারত পরিণত হয়েছিল আধিপত্যবাদী প্রধান শক্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয়াকে পুঁজি বানিয়ে স্বাধীনতাপরবর্তী প্রাথমিক দিনগুলোতেই ভারত বাংলাদেশকে অবাধ লুন্ঠনের ক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগিতার সুযোগে হাজার হাজার কাটি টাকার অস্ত্র ও অন্যান্য সম্পদ পাচার হয়েছে ভারতে। সমগ্র দেশ ছেয়ে গেছে ভারতীয় পণ্যে, চোরাচালান হয়েছে সর্বব্যাপী। গোপন ও প্রকাশ্য বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমেও বাংলাদেশকে রাতারাতি ভারতের ইচ্ছার অধীনস্থ করা হয়েছিল। ১৯৭৪ সালের ১৬ মে দু’ দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বেরুবাড়ি ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ভারত পেয়েছিল ফারাক্কা বাঁধ চালু করার সম্মতি। এই সম্মতির ভিত্তিতে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে সর্বনাশ সূচিত হয়েছিল। দেশ ও জাতির সেই দুঃসময়ে অভয় ও আশ্বাসের বাণী মুখে আরো একবার এগিয়ে এসেছিলেন মওলানা ভাসানী। তাঁর আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রধান একটি উদাহরণ হিসেবে এখানে ফারাক্কা মিছিলের উল্লেখ করা দরকার। ইন্তেকালের মাত্র ছয় মাস আগে, ৯৬ বছর বয়সে মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক এ মহামিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কৃষকশ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণীর মেহনতী মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মি, কবিসাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষকঅধ্যাপক ও বুদ্ধিজীবী পর্যন্ত লাখ লাখ নারীপুরুষ সে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন (১৬ মে, ১৯৭৬)। রাজশাহীর মাদরাসা ময়দানে মওলানা ভাসানীর দেয়া ১০ মিনিটের ভাষণের মধ্য দিয়ে মিছিলের শুরু হয়েছিল। রাজশাহী থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কানসাটে গিয়ে ১৭ মে মিছিলের সমাপ্তি টেনেছিলেন মওলানা ভাসানী। কানসাট হাই স্কুল ময়দানে মওলানা ভাসানী বলেছিলেন, ভারত সরকারের জানা উচিত, বাংলাদেশীরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না, কারো হুমকিকে পরোয়া করে না।’

ফারাক্কা মিছিল কোনো আকস্মিক ঘটনা বা মওলানা ভাসানীর দিক থেকে কোনো বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি ছিল না। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ভারত বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি প্রথম থেকেই দাবি জনিয়েছেন বাংলাদেশকে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়ার জন্য। ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত মুজিবইন্দিরা চুক্তির বিরুদ্ধেও তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। ভারত প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের দেয়া সম্মতির আড়াল নেয়ায় ১৯৭৬ সালের শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছিল। একদিকে ভারতের পক্ষ থেকে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট সংকট এবং অন্যদিকে সীমান্তে সশস্ত্র আক্রমণ ও সামরিক তৎপরতার ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়েছিল। সীমান্তে শুরু হয়েছিল সশস্ত্র হামলা। হামলা চালাচ্ছিল ভারতের সেনাবাহিনী এবং বিএসএফ। ভারতের এই কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ব্যাপকভাবে সীমান্ত এলাকা সফর করেন এবং ভারতকে হামলা বন্ধের আহবান জানান। মওলানা ভাসানী এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে চিঠিও লিখেছিলেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ওই চিঠিতে তিনি লেখেন, মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করিয়া নথুরাম গডসে যে মহাপাপ করিয়াছে তাহার চেয়েও জঘন্য পাপ আপনার দেশের দস্যুরা করিতেছে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ার পরই মওলানা ভাসানী ফারাক্কা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৭৬ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকায় এক সমাবেশে মওলানা ভাসানী বলেছিলেন, গঙ্গা আন্তর্জাতিক নদী। ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী ভারত এককভাবে এই নদীর পানি ব্যবহার করতে পারে না।’ প্রতিবাদী কর্মসূচি হিসেবে ফারাক্কা মিছিলের জন্য ১৬ মেকে বেছে নেয়ার পেছনের কারণ ছিল, ১৯৭৪ সালের ওই দিনটিতেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল মুজিবইন্দিরা চুক্তি। ফারাক্কা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি মওলানা ভাসানী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশকে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। জবাবে ইন্দিরা গান্ধী তার চিঠির শেষাংশে লিখেছিলেন, কারো এ কথা মনে করা উচিত নয় যে, ভারত কোনো হুমকি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অযৌক্তিক দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করবে।’ কথাটার মধ্যে প্রচ্ছন্ন হুমকি ছিল। জবাবে মওলানা ভাসানী লিখেছিলেন, সমস্যার সমাধান হতে হবে স্থায়ী এবং ব্যাপকভিত্তিক। এই সমাধান শুধু শুষ্ক মৌসুমের জন্য হলে চলবে না, সারা বছর ধরে পানির প্রবাহ একই পরিমাণ হতে হবে।’ সংঘাত ও শত্রুতা এড়িয়ে এবং আমলাদের পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্জন করার আহবানের পুনরুল্লেখ করে চিঠির শেষ দিকে মওলানা ভাসানী লিখেছিলেন, আপনি যদি আমার এই অনুরোধ রক্ষা না করেন, তাহলে সমস্যার সমাধান অর্জনের জন্য আমি ভবিষ্যৎ সংগ্রামের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে বাধ্য হবো।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর কোনো সাড়া না পাওয়ায় মওলানা ভাসানী ফারাক্কা মিছিলের কর্মসূচি পরিবর্তন করেননি। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে অনুষ্ঠিত ফারাক্কা মিছিল উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এবং ভারতপন্থী কয়েকটি দল ছাড়া সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ‘চলো চলো ফারাক্কা চলো’ স্লোগান মুখে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ বিশাল মিছিল গিয়েছিল ফারাক্কা অভিমুখে। ১৭ মে মিছিল শেষ হয়েছিল কানসাটে গিয়ে, বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে। মিছিলের আতংকে ভারত সরকার রীতিমতো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে মওলানা ভাসানী তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, বাংলাদেশের দরিদ্র নিরস্ত্র মানুষের ভয়ে ভারতকে যখন সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করতে হয়েছে তখন তার অবিলম্বে ফারাক্কা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা উচিত।’

এ কথা সত্য যে, ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাবের কারণে মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা মিছিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান অর্জন করতে পারেনি, কিন্তু এ কথাও স্বীকার করতে হবে যে, মূলত এই মিছিলের জনপ্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ব্যাপক প্রচারণার ফলেই ভারতকে বহুদিন পর বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হয়েছিল। জনগণের ঐক্যে সাহসী হয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালেই জাতিসংঘে ফারাক্কা বাঁধের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রাজনৈতিক কমিটির ২৪ নভেম্বরের সর্বসম্মত বিবৃতির ভিত্তিতে ভারত ও বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকশেষে ১৯৭৭ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল ‘ফারাক্কা চুক্তি’। বাংলাদেশের অনুকূলে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল চুক্তিটির উল্লেখযোগ্য বিষয়। ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ থাকায় ভারত কখনো যথেচ্ছভাবে পানি প্রত্যাহার করতে কিংবা বাংলাদেশকে কম হিস্যা দিতে পারেনি। অবস্থায় পরিবর্তন ঘটেছিল ১৯৯৬ সালে, শেখ হাসিনার নেতৃতাধীন আরেক আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করার ফলে। স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পর, ১৯৯৭ সালের মার্চেই ভারত চুক্তি লংঘন করেছিল। কারণ, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল না। অন্যদিকে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’সহ স্বাক্ষরিত ‘ফারাক্কা চুক্তি’ ছিল মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা মিছিলের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। ফারাক্কা মিছিলের মাধ্যমে আংশিকভাবে হলেও গঙ্গার পানির ওপর বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও অধিকার স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ফারাক্কা মিছিলের কারণে শুধু নয়, মওলানা ভাসানী স্মরণীয় হয়ে আছেন জাতির সংকটকালে আধিপত্যের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেয়ার কারণে। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি দেশপ্রেমিক প্রধান জাতীয় নেতার অবস্থানে থেকেছেন এবং ভারতের শোষণমূলক সম্প্রসারণবাদী নীতি ও বাংলাদেশকে ইচ্ছাধীন করার কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৯৬ বছর বয়সেও ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি গঙ্গার পানির ওপর বাংলাদেশের দাবি ও অধিকার আদায় করার পথ দেখিয়ে গেছেন।।