Home » মতামত » মওলানা ভাসানীর প্রাসঙ্গিকতা

মওলানা ভাসানীর প্রাসঙ্গিকতা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

bhasani 1মওলানা ভাসানী সব সময়ই প্রাসঙ্গিক ছিলেন এবং থাকবেন। এখনো আছেন। কেননা তিনি তার সময়ের প্রধান দ্বন্দ্বকে সঠিকভাবে সনাক্ত করেছেন। ওই দ্বন্দ্বে তিনি জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। মিত্র শত্রুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু মওলানা ভাসানী দাঁড়িয়েছেন জনগণের পক্ষেই। জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই তিনি সব সময়েই প্রাসঙ্গিক।

শুধু প্রাসঙ্গিকই নয়, তিনি অনুপ্রেরণারও উৎস। তিনি দৃষ্টান্তও বটে। মওলানা পীড়িত মানুষের একজন। এই বাংলায় জনগণের পক্ষে দাঁড়ায় এমন বড় মাপের রাজনীতিবিদ দ্বিতীয়টি আর নেই। আমরা দেখেছি এখানে চিত্তরঞ্জন, সুভাষ বসু প্রমূখ এসেছেন। তাঁদের রাজনীতি ছিলো ভারতীয় রাজনীতির অংশ। মওলানাই প্রথম নেতা যিনি এ অঞ্চলের রাজনীতিকে বাঙলার রাজনীতিতে স্থির রেখেছেন। মওলানা পাকিস্তানের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি আসাম মুসলিমলীগের সভাপতি ছিলেন। পাকিস্তান আন্দোলনের জন্য লড়েছেন। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন তার জন্য ছিলো কৃষকের মুক্তির আন্দোলন। আসামে যে ‘বাঙাল খেদাও’ আন্দোলন হচ্ছিল, তাতে তিনি কৃষকের পক্ষে লড়েছিলেন। পাকিস্তান গঠনের মাধ্যমে তিনি জনগণের মুক্তিই চেয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বুঝলেন তিনি যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছেন, সেটি এটি নয়। তিনি পরবর্তীতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের মোহের মধ্যে আটকে থাকেননি। পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে তিনি আর সম্পৃক্ত থাকলেন না। কেননা তিনি লড়েছেন জনগণের পক্ষে। এখানেই তিনি অসামান্য। এ বাঙলায় তার মতো দ্বিতীয় দেশপ্রেমিক মেলা ভার। দেশপ্রেমিক এ জন্য যে তিনি কৃষকের বন্ধু, কৃষকের জন্য আন্দোলন করছেন। এই কৃষকের কথা মুসলিম লীগ, কংগ্রেস কখনো বলেনি। তাদের রাজনীতিতেও এদের স্থান ছিল না। মওলানাই প্রথম কৃষকের পক্ষে কথা বলেছেন, তাদের বিষয় তুলে এনেছেন সামনে।

১৯৪৮ সালে মওলানা যখন বুঝলেন এ পাকিস্তান জনগণের পাকিস্তান নয়। তখন তাঁরই নেতৃত্বে অর্থাৎ ১৯৪৯ সালে গঠিত হলো আওয়ামীমুসলিম লীগ। তার নেতৃত্বেই ১৯৫৬ সালে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ নামটি বাদ দেয়া হলো। বোঝা গেলো তিনি দলটিকে অসাম্প্রদায়িক করতে চাচ্ছেন। তিনি কৃষক ও শ্রমিকের আন্দোলন চাঙা করেছেন। তিনি কৃষক সমিতির সভাপতি ছিলেন। শ্রমিক ফেডারেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মওলানা। কৃষক ও শ্রমিকদের বাদ দিয়ে দেশের সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ অসম্ভব তিনি এটা ভালোভাবেই বুঝেছিলেন। দেশের উন্নয়নে কৃষকের ভূমিকা বোঝা কিন্তু জরুরি। কৃষককে রাজনীতিতে আনতে কমিউনিস্টরাও ব্যর্থ হয়েছেন। কমিউনিস্টদের ভেতর ধারণা ছিলো, শ্রমিকই প্রধান চালিকাশক্তি। তারাই দেশকে পরিবর্তন করবে। মওলানা বুঝেছিলেন, আমাদের দেশে শ্রমিক প্রধান চালিকাশক্তি হবে না, কেননা তাদের সংখ্যা কম। অধিকাংশই কৃষক এবং কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি এ কারণে কৃষক ও শ্রমিক উভয়কেই সংগঠিত করেছেন।

তিনি বুঝলেন পাকিস্তান টিকবে না। মওলানা ওই সময়ের দ্বন্দ্বটা ধরে ফেলেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে জনগণের প্রধান দ্বন্দ্ব ছিলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে। পাকিস্তান আমলে দ্বন্দ্বটি দাঁড়ালো পাঞ্জাবি শাসনের বিরুদ্ধে। তিনিই প্রথম ১৯৫৬ সালে কাগমারি সম্মেলনে বলেছিলেন (তার আগে পল্টনেও বলেছিলেন) যে, এভাবে চলতে থাকলে পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে যাবে। যিনি মুসলীম লীগ ত্যাগ করে আওয়ামী মুসলিম লীগ করলেন, পরে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে গঠন করলেন আওয়ামী লীগ, সেই মওলানা ভাসানীই ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ ছেড়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করলেন। কেন করলেন? দুটো প্রশ্নে করলেন। তখন সোহরাওয়ার্দী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি পাকমার্কিন চুক্তির পক্ষে অবস্থান নেন। মওলানা এটির বিরোধিতা করেছিলেন। সোহরাওয়ার্দী তখন ৯৮ ভাগ স্বায়ত্তশাসন পাওয়া গেছে বলেছিলেন। মওলানা তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। সোহরাওয়ার্দী ছিলেন পাকমার্কিন সামরিক চুক্তির পক্ষে, মওলানা তার বিরুদ্ধে। এসব কারণে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে দলের বামপন্থী নেতাকর্মীদের নিয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন (ন্যাপ) করেন। একইভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের বামপন্থী নেতাকর্মীরাও এই ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যুক্ত হয়। এ পর্যায়ে মওলানা সারা পাকিস্তানের নেতা হয়ে গেছেন। তখন তিনি কেবল পূর্ব পাকিস্তানের নেতা নন। ন্যাপের মধ্যে বেলুচিস্তান, সিন্ধু প্রদেশ, উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ও পাঞ্জাবের নেতাকর্মী রয়েছে। সবাই তাকে নেতা মানছেন। কারণ তার মতো নেতা পশ্চিম পাকিস্তানেও নেই।

পাকিস্তান যে একটি ভ্রান্ত রাষ্ট্র ছিলো, সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো। এখানকার মানুষের মতোই ওখানেও অর্থাৎ বেলুচ, সিন্ধ, মহাজের, উত্তরপশ্চিম সীমান্তের মানুষও পাঞ্জাবি শাসকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলো। মওলানা বামপন্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ব্রিটিশ আমলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের দুটো ধারা ছিলো। একটি জাতীয়তাবাদী অন্যটি সমাজতান্ত্রিক। মওলানা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য থেকে এসেছেন। এ কারণে তিনি মুসলিম লীগেই ছিলেন। যখন আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে বের হয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগ গঠন করলেন তখন আর জাতীয়তাবাদী রইলেন না।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বেও হতে পারতো। কেননা মওলানাই স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বামপন্থী ও সমাজতন্ত্রীরা। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আমাদের দেশের বড় এ দুই ঘটনায় বামপন্থী তরুণরাই ছিল সবচেয়ে বেশি অগ্রসর। কিন্তু বিভ্রান্তির জন্য তারা খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি। তারা ন্যাপকে ভাগ করে ফেলল। ১৯৬৭ সালে সোভিয়েতপন্থীরা মাওলানার নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর ১৯৭০ সালে বের হয়ে যায় চীনাপন্থীরা। বিশেষত চীনাপন্থীরা চলে যাওয়ার পর মওলানা বড় অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়লেন। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোয়াহা পদত্যাগ করে যোগ দিলেন নকশালবাড়ী আন্দোলনে। তিনি আবার ছিলেন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি। মওলানাই ছিলেন এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এর মাধ্যমে তোয়াহার সঙ্গে শ্রমিকরাও চলে গেল। ওই সময় শ্রমিক ফেডারেশনও ভেঙ্গে গেল। কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবদুল হক। তিনিও নকশালবাড়ী আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত হলেন। এতে মওলানার ডান ও বাম হাত, কোনোটিই আর রইল না।

এ পরিস্থিতিতেও মওলানা ভাসানী স্বাধীনতার কথা বলেছেন। মুজিবইয়াহিয়া বৈঠকের সময় তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, এর কোনো ফল হবে না। বঙ্গবন্ধুকে তিনি বলেছিলেন, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে। তিনি যেন বিষয়গুলো দেখতে পাচ্ছিলেন। ঊনসত্তরের অভ্যুত্থানের পর আইয়ুব খান যখন গোল টেবিল বৈঠক ডাকলেন, তখন মওলানা ভাসানী শেখ মুজিবকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সেখানে না যাওয়ার। তিনি আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, এতে সমাধান আসবে না। ধরতে পেরেছিলেন, আরেকটি সামরিক সরকার ক্ষমতা নিতে যাচ্ছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কাল রাতে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী যখন ঢাকায় অপারেশন চালাচ্ছিলেন তখন তিনি ছিলেন টাঙ্গাইলে। তার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হচ্ছে না সেটাও তিনি মেনে নিয়েছিলেন। এ অবস্থায় তিনি কী করতে পারেন? শুনেছি, তাকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল মিয়ানমারের মধ্যে দিয়ে চীনে চলে যাওয়ার। কিন্তু তিনি সেখানে যাননি। বাড়িতেই থেকে গেলেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করতে টাঙাইল যায়। এ খবর শুনে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। গায়ের গামছাটিও নেননি। ফতুয়া ও টুপি পড়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলেন তার এক মুরীদের বাড়িতে। ওই সময় ধরা পড়লে তার কী হতো, আমরা জানি না। মুরীদের বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জ ন্যাপের সাইফুল ইসলাম ও মুরাদুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে নৌকাযোগে চলে গেলেন আসামে।

পড়ে শোনা যায়, তার আকাঙ্ক্ষা ছিল, ভারত হয়ে লন্ডনে চলে যাবেন। বাইরে গিয়ে সর্বদলীয় বিপ্লবী প্রবাসী সরকার গঠন করবেন। কিন্তু তাকে আশ্রয় দেয়ার নাম করে আটকে ফেলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তবে একদিনও তিনি আভাস দেননি যে, তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাকে কারো সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হলেও সেখানে তিনি নিজে যাননি, সাইফুল ইসলামকে দিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছিলেন। তার এ বক্তব্য ওখানে প্রচার করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, স্বাধীনতার পক্ষ সমর্থনের জন্য তিনি বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে তার লিখিত বক্তব্য প্রচার করা হয়, তাতেও তিনি পাকিস্তানীবাহিনীর হত্যাকাণ্ড ও নির্মম নিপীড়নে বিরুদ্ধে বিশ্বের জনগণকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে বলেন।

মওলানা জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আগাশাহী তাকে জানান এটা তো সব পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের নয়; আওয়ামী লীগের যুদ্ধ। এতে ভারত অসুবিধায় পড়ে যায়। যুদ্ধে যে অন্যরাও আছে, সেটা দেখানো তাদের পক্ষে জরুরি হয়ে পড়েছিল। সেজন্য মওলানাকে সভাপতি করে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। তাতে কংগ্রেস, ন্যাপ (মুজাফফর আহমদ), কমিউনিস্ট পার্টির ব্যক্তিরাও ছিলেন। তাদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। তাদের একটি মাত্র সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং মওলানা সেখানে সভাপতিত্ব করেন। ওই ছবি পরে প্রচার করা হয়েছে সারা বিশ্বে। তাতে প্রমাণ হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে অন্যরাও আছে। মওলানা কিন্তু একদিনও বলেননি যে এটা সাজানো। সভাপতিত্ব করার জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনের পরে তিনি বলতে থাকলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের প্রভাব আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে। এটি ছিল তার ঐতিহাসিক উপলব্ধি। সেজন্য ফারাক্কার বিরুদ্ধে তিনি লংমার্চ শুরু করেছিলেন।

এখানে ফারাক্কার ইতিহাস বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যারাজটি নির্মাণ করা হচ্ছিল পাকিস্তান আমল থেকেই। সে সময়ে ওটা চালু হয়নি। পাকিস্তান আমলে চালু না হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল, পাকিস্তান সেটি কিছুতেই মানতে চাইছিল না। সংঘাত সৃষ্টি হবে ভেবে ভারতও কিছু করেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি চালু হলে মওলানা লংমার্চ আয়োজন করলেন এবং সীমান্ত পর্যন্ত গেলেন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি চলে আসেন।

সব সময় মওলানা ছিলেন জনগণের পক্ষে। মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরোধিতা, ব্রিটিশ, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ সব আমলেই সত্য ছিল। রাষ্ট্রের জনবিরোধিতার বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। মানুষের কথা তিনি তুলে ধরেছেন, বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে। তিনি ছিলেন জনগণের নেতা।

আমাদের উপমহাদেশে এ ধরনের দৃষ্টান্ত বিরল। কৃষকের পক্ষে আন্তর্জাতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে তিনি আন্দোলন করেছেন। তিনি ভিয়েনা ও কিউবার শান্তি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। তিনি ভিয়েনায় যাওয়ার সময় ইস্কান্দার মির্জা গভর্নর হয়ে এক ধরনের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। তখন বলা হয়েছিল, মওলানা বিমানবন্দরে নামলে গুলি করে হত্যা করা হবে। এরই মধ্যে তিনি লন্ডন ও কোলকাতা হয়ে দেশে চলে এসেছেন। ইস্কান্দার মির্জা তাকে গুলি করতে পারেননি। বরং নিজেই নির্বাসনে গেছেন।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থা মানুষের ওপর শোষণ চালাচ্ছে, এটাই হলো তার প্রাসঙ্গিকতার বিশেষ জায়গা। জনগণের পক্ষে থাকার অর্থ এই নয় যে, তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা নয়। জনগণের বিরুদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলাই তাদের পক্ষে থাকা। জনগণের বিরুদ্ধ শক্তি পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী দাঁড়িয়েছেন সব সময়ই। এখনো আমাদের দেশে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা রয়েছে। এ শাসনের কবল থেকে জনগণ মুক্ত হতে পারেনি। তাই তিনি এখনো প্রাসঙ্গিক।।

লেখক: ইমিরেটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়