Home » বিশেষ নিবন্ধ » সাম্রাজ্যবাদ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর সংগ্রাম

সাম্রাজ্যবাদ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর সংগ্রাম

হায়দার আকবর খান রনো

এক.

MOULANA BHASANI 1আমার দেখা রাজনৈতিক জীবনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এক আশ্চর্য বিস্ময়কর রাজনৈতিক পুরুষ। প্রায় শতাব্দীর কাছাকাছি দীর্ঘ জীবন তিনি পেয়েছিলেন। রাজনীতি করেছেন তিন আমলেই বৃটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলে ও স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশেও। ছেলেবেলায় আমি তাকে দেখেছি পল্টন ময়দানে বক্তৃতার মঞ্চে। তাছাড়া স্কুলে থাকা অবস্থাতেই আমি গিয়েছিলাম টাঙ্গাইলে কাগমারী সম্মেলনে। বাবা আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাছাড়া একবার স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে কয়েক বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম বাংলাবাজারের রয়েল স্টেশনারীর দোতলায় মওলানা ভাসানীকে দেখতে। ব্যারিস্টার শওকত আলীর বাসা ছিল সেটা। তখন ঢাকায় আসলে তিনি সেখানে উঠতেন। আকেরবার আজিমপুর কলোনীর এক বাসায় তাকে দেখেছি। সেটাও স্কুল জীবনে। আজিমপুরের সেই বাসায় তিনি এসেছিলেন শুনে মা আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে বড় হয়ে যখন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লাম তখন বহুবার তাঁকে দেখেছি। তাঁর সঙ্গে রাজনীতি করার সৌভাগ্যও আমার হয়েছিল। প্রথম তাঁর সন্তোষের বাড়িতে গেছি ১৯৬৩ সালে। আমার এক আত্মজীবনীমূলক বই ‘শতাব্দী পেরিয়ে’ এ’তে সে সম্পর্কে লিখেছিলাম :

খুব সম্ভবত ১৯৬৩ সালের কোনো এক সময় আমি প্রথম মওলানা ভাসানীর সেই বাড়িতে গেছি। বাড়ি না বলে কুটির বলাই ভালো। মাটির মেঝে। একাংশ টিনের, একাংশ বাঁশের ঘর। একটা চৌকির উপরে ময়লা পাটি বিছানো আছে। সেখানে তিনি শুতেন। কখনো দেখা গেছে, রাস্তার নেড়ী কুকুর এক দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে আরেক দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। ঘরে আসবাবপত্তর বলতে তেমন কিছুই নেই। তখনো বৈদ্যুতিক বাতি ছিল না। মওলানা ভাসানীর পরিবারের সদস্যরা খুবই সাধারণভাবে থাকতেন। তারা নিজেরা টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে আসতেন। একেবারে দরিদ্র কৃষকের মতো ছিল তার জীবনযাপন। যেকোনো লোক যেকোনো সময় তার বাড়ি যেতে পারত। প্রায়ই দেখা যেতো কোনো গরিব মানুষ কাঁদামাখা খালি পায়ে তার বাড়ির সামনের বারান্দায় উপস্থিত হয়েছে। মওলানা সাহেব অধিকাংশ সময় এই ছোট বারান্দায় বসে অন্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। পরনে লুঙ্গি, গায়ে গেঞ্জি, কখনো পাঞ্জাবি থাকতো, কখনো থাকতো না। শীতকালে পাঞ্জাবির ওপর একটা সোয়েটার থাকতো। বের হওয়ার সময় মাথায় সুপরিচিত তালের টুপিটি পরতেন।’

আমাদের দেশের কোনো জাতীয় নেতাকে এমন সাধারণ গরিব কৃষকের মতো জীবনযাপন করতে দেখা গেছে কি? বাস্তবিকই তিনি ছিলেন সাধারণ জীবনযাপনের নজির স্থাপনকারী অসাধারণ নেতা। এমন এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক নেতা যার কোন দ্বিতীয় জুড়ি নেই। তাঁর ব্যতিক্রমী চরিত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা যতে পারে। সাধারণ গরিব মানুষ, কৃষক মজুরের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোসহীন। তিনি ছিলেন আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি। সেটা পরাধীন বৃটিশ আমলের কথা। আসামে ছিল স্যার সাদুল্লাহ’র মন্ত্রিসভা। মুসলিম লীগের মন্ত্রিসভা। কিন্তু মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা এক প্রশ্নে কৃষকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে মওলানা ভাসানী আসাম আইনসভায় নিজ দল মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে সাদুল্লাহ’র মন্ত্রিসভার পতন ঘটিয়েছিলেন। ব্যতিক্রমী ঘটনা বৈকি।

এই রকম আরও অনেক ঘটনা আছে ভাসানীর জীবনে। অন্তত দুটি ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণভাবে ব্যতিক্রমী চরিত্র। ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক নেতা। প্রথমত. সর্বোচ্চ পর্যায়ের অকমিউনিস্ট জাতীয় নেতা হয়েও তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি ও কমিউনিস্ট কর্মীদের প্রতি সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু ও অনেকটা অভিভাবকের মতোও। বিশ্ব ইতিহাসে একমাত্র সান ইয়েৎসেন বাদে আর অন্য কোন জাতীয় নেতাকে এতটা কমিউনিস্ট দরদি হতে দেখা যায়নি। ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির প্রয়াত নেতা কমরেড হরেকৃষ্ণ কোঙার একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনাদের মতো সৌভাগ্যবান কোন দেশের কমিউনিস্টরা? কোন দেশের কমিউনিস্টরা তাদের দেশের কোন জাতীয় নেতার এমন অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন?’

দুঃখের কথা আমরা আমাদের সৌভাগ্যকে কাজে লাগাতে পারিনি। দ্বিতীয় যে ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখ করতে চাই, পরাধীন ভারতে তিনিই ছিলেন একমাত্র মুসলিম লীগ নেতা যিনি রাজনৈতিক কারণে জেল খেটেছিলেন বৃটিশ আমলেই। সেই দিক দিয়ে তিনি গোটা অবিভক্ত ভারতে ছিলেন একক ও অদ্বিতীয়। জিন্নাহলিয়াকত আলী থেকে শুরু করে বাংলার লীগ নেতা নাজিমউদ্দিনসোহরাওয়ার্দী এমন কি শেরেবাংলা ফজলুল হক তাঁরা কেউ জেল খাটেননি। কারণ লীগ নেতারা কেউ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছিলেন না। কেন্দ্রে জিন্নাহ এবং প্রদেশের নাজিমউদ্দিন সোহরাওয়ার্দী সকলেই বৃটিশ অনুগত থেকে বৃটিশের দালালিই করেছেন। ইংরেজ বিরোধী কোন সংগ্রামে অথবা শ্রমিক কৃষকের পক্ষের কোন দাবিতে কথা বলতে তাদের কখনই দেখা যায়নি। কিন্তু মুসলিম লীগ করেই, প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি হয়েও ভাসানী ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও কৃষক মজুরের পক্ষের নেতা।

এই কারণেই পরবর্তী জীবনে পাকিস্তান আমলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের অগ্রনায়ক এবং মজলুম মানুষের মুক্তি সংগ্রামের নেতা। একই কারণে এক বিশাল জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন কমিউনিস্টদের এত কাছের মানুষ। পাশ্চাত্যের মিডিয়ার ভাষায় রেড মওলানা।

এই প্রবন্ধে মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবনের বহুবিধ দিকের সবকিছু উল্লেখ করা সম্ভব হবে না। তার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এবং বিদেশী শাসনশোষনআধিপত্য বিরোধী ভূমিকা প্রসঙ্গে সংক্ষেপে কিছু কথা এখানে তুলে ধরা হবে।

ভাসানী সব সময় ছিলেন স্বাধীনতা প্রিয় মানুষ। পরাধীন ভারতে তিনি ছিলেন বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান আমলেও তিনি একদিকে যেমন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনই সোচ্চার ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের বিজাতীয় শাসনশোষনের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতা পরবর্তী যুগে যখন ভারত সরকারের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেল তখনো তিনি তার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে সক্রিয় হয়েছিলেন।

দুই.

ঘোর সাম্প্রদায়িক তত্ত্ব, জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা। পাকিস্তান আন্দোলনের পেছনে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের মদদ ছিল। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বৃটিশ রাজের আশীর্বাদে। সেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে স্বাধীন ভূমিকা গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অল্প পরেই প্রভূ বদল হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদী জগতের একচ্ছত্র নেতা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। তারা বৃটিশফরাসী সাম্রাজ্যবাদের কলোনীগুলো একে একে দখল নিতে থাকে। তবে প্রাচীন উপনিবেশবাদের মতো সরাসরি দখল নয়। এখন এলো নয়া উপনিবেশবাদী কৌশল। আর সেই কৌশল কার্যকরি করতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক চুক্তি করতে থাকে, যেগুলি আসলে ছিল মার্কিনের অধীনস্থ হওয়ার এক ধরনের দাসত্বমূলক চুক্তি। একই সঙ্গে তারা অকমিউনিস্ট দেশসমূহকে সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে সচেষ্ট হয়। লক্ষ্য ছিল কমিউনিস্ট শিবিরকে ঘেরাও করা।

পঞ্চাশের দশকে পাকিস্তানের রাজনীতির ওপরতলায় বড় রকমের পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। বৃটিশ প্রভূর বদলে নতুন প্রভূ এলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। নাজিমউদ্দিন প্রমুখ ছিলেন বৃটিশের দালাল। মার্কিন প্রশাসন জোর করে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে নাজিমউদ্দিনকে সরিয়ে বসালেন নতুন করে পাওয়া তাদের বশংবদ দালাল ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বগুড়ার মহম্মদ আলীকে প্রধানমন্ত্রীর পদে। পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক চুক্তি হলো। পাক মার্কিন সামরিক চুক্তি। কাছাকাছি সময়ে পাকিস্তান মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাগদাদ প্যাক্ট (পরবর্তীতে সেন্টো) এবং সিয়াটো নামক সামরিক জোটের অন্তর্ভুক্ত হলো। ভারত জোট নিরপেক্ষ অবস্থান নিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ছিলেন জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম নেতা। সেদিনের প্রেক্ষাপটে ভারতের তুলনামূলক প্রগতিশীল ভূমিকা ছিল, যদিও নিজ দেশে নেহেরু সরকার কমিউনিস্ট পার্টিকে প্রথমদিকে বেআইনি করে রেখেছিল। লিয়াকত আলী খান স্তালিনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন না। গ্রহণ করলেন জওহরলাল নেহেরু। অন্যদিকে লিয়াকত আলী খান গেলেন ওয়াশিংটনে। এই ভাবে দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতি তৈরি হয়েছিল।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রথম যে কার্যকর বিরোধী দল তৈরি হয়েছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ (১৯৫৫ সালে ভাসানীর উদ্যোগেই দলের নাম পরিবর্তন করে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়েছিল), তার কর্মসূচিতে পাক মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিল এবং সিয়াটো, বাগদাদ প্যাক্ট (সেন্টো) থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের আরেক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের মেনিফেস্টোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সকল সামরিক চুক্তি ও জোটের সমর্থন করলেন। তিনি সরাসরি মাার্কিনের দালালি করেছিলেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি কয়েক মাসের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। পঞ্চাশের দশকের রাজনৈতিক দৃশ্যগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে ভাসানীকেও ভালোভাবে জানা যাবে না এবং পরবর্তী রাজনৈতিক গতিধারার মধ্যে সবল ও দুর্বল দিক কি কি ছিল সেটাও বোঝা যাবে না।

তিন.

১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগকে ধরাশায়ী করে হকভাসানীসোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট বিপুলভাবে বিজয়ী হয়েছিল। শেরবাংলা ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে ভাসানী গেছেন ইউরোপে। ভাসানীর ইউরোপ সফরকে নিয়ে খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস এক অসাধারণ গ্রন্থ লিখেছিলেন – ‘ভাসানী যখন ইউরোপে’। ভাসানীর সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ভূমিকা বোঝার জন্য সেই গ্রন্থ থেকে কিছু উদ্ধৃতি দেবো।

শান্তি সম্মেলনে ভাসানীর বক্তৃতার (যে বক্তৃতা তিনি দিয়েছিলেন বাংলায় এবং যা সঙ্গে সঙ্গে আটটি ভাষায় অনুবাদ হয়েছিল) অংশ বিশেষ উক্ত গ্রন্থে উদ্ধৃত আছে। সেখান থেকে খানিকটা তুলে ধরা হচ্ছে :

ব্রিটেন আমেরিকা ফ্রান্সে প্রভৃতি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যদি মনে করে থাকে তারা সিয়াটো মেডো ন্যাটো বা আঞ্জুস প্রভৃতি সামরিক জোটের মাধ্যমে নবজাগ্রত এশিয়াআফ্রিকার আজাদীর আন্দোলন রোধ করবেন তবে বলতে আমার এইটুকুও সংকোচ নেই যে তারা নির্বোধের স্বর্গে বাস করছেন।

হে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেন আমেরিকা ফ্রান্স! তোমরা যদি মনে করে থাক যুদ্ধজোটের নামে ভুয়া নিরাপত্তার নামে পরের ঘাড়ে বন্দুক রেখে অপরের প্রতি ছুড়বে গুলি তবে আমি তোমাদের নিরাশ করছি। সদ্য আজাদীপ্রাপ্ত এশিয়াবাসী প্রাণ দেবে কিন্তু তোমাদের তাবেদার হবে না। আজাদী তাদের জীবনের চেয়েও প্রিয়।’

এই বক্তৃতায় তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সদ্য আজাদীপ্রাপ্ত গণচীনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এক এক করে মার্কিন, বৃটিশ, ফ্রান্স, ডাচ সাম্রাজ্যবাদের নোংরা ভূমিকা তুলে ধরেন।

ভাসানীর বিরাট প্রতিকৃতিসহ পূর্ণাঙ্গ বক্তৃতা স্টকহোমের সকল দৈনিকে ছাপা হয়েছিল। ভাসানীর বক্তৃতার পর তাকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানিয়েছিলেন জুলিও কুরী, পাবলো নেরুদা, নাজিম হিকমত, ইলিয়া হরেনবুর্গ প্রভৃতি বিশ্ববরেণ্য মনীষীগণ।

স্টকহোমের শান্তি সম্মেলনের অল্প আগে একই সময়ে ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দী দুইজনেই ছিলেন লন্ডনে। ভাসানী ছিলেন লন্ডনে তার এক ভক্তের বাড়িতে, যেখানে সারাদিন ছিল মানুষের সমাগম। সোহরাওয়ার্দী ছিলেন কেন সিংটনের এক বিলাসবহুল হোটেলে। সেই সময় সোহরাওয়ার্দী বিবিসির সাংবাাদিকদের সঙ্গে কি সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন তা খন্দকার ইলিয়াস তুলে ধরেছেন। সেখান থেকে খানিকটা উদ্ধৃত করা যাক। (প্রশ্ন করছেন বিবিসির প্রতিনিধি, উত্তর দিচ্ছেন সোহরাওয়ার্দী)

প্রশ্ন : যতোদূর জানি আওয়ামী লীগ যে কোন সামরিক চুক্তির বিরোধী। কিন্তু আপনি পাকমার্কিন সামরিক চুক্তি সমর্থন করেন কেন?’

উত্তর : বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন আমি ভালোই মনে করি। তবে এই বিশেষ চুক্তিটির যাবতীয় শর্ত পাঠ করার সুযোগ না পাওয়ায় আমি এখনো তা সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান করিনি।’

অবশ্য ১৯৫৬ সালে ইস্কান্দার মির্জার আর্শীবাদে সামান্য সংখ্যক দলীয় এমপি নিয়েও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী। তখন তিনি পাকমার্কিন সামরিক চুক্তি, সিয়াটো, সেন্টোকে (বাগদাদ চুক্তি) সরাসরি সমর্থন দিয়েছিলেন। এমনকি ১৯৫৬ সালে সুয়েজ যুদ্ধে ইঙ্গফরাসি সাম্রাজ্যবাদের মিশরে আগ্রাসনকেও তিনি সমর্থন দিয়েছিলেন।

সেই সময় ভাসানী যে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন অনুষ্ঠান করেছিলেন, সেখানে তিনি দুটি ঐতিহাসিক বক্তব্য রেখেছিলেন। () পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্ন হওয়ার হুমকি। সেই বিখ্যাত আসসালামু ওয়ালাইকুম। এর বিপরীতে সোহরাওয়ার্দী বললেন, ১৯৫৬ সালের সংবিধানে নাকি ৯৮ শতাংশ স্বায়ত্তশাসন অর্জিত হয়েছে। () ভাসানী দাবি করলেন পাকমার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিল করা হোক এবং সিয়াটোসেন্টো থেকে পাকিস্তান বেরিয়ে আসুক। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী বললেন, ‘আমাদেরকে আমেরিকার সঙ্গে থাকতে হবে।’ এই প্রসঙ্গে তিনি তুলে ধরলেন তার বিখ্যাত বা কুখ্যাত জিরো থিয়োরি। সেই থিয়োরি ছিল এই রূপ : পাকিস্তানের মতো দেশগুলো হচ্ছে শূন্য শক্তির। শূন্যের সঙ্গে শূন্য যোগ করলে যোগফল শূন্যই হয়। অতএব তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো একত্রিত হলেও কোন শক্তি তৈরি হবে না। কিন্তু বড় অঙ্কের সঙ্গে শূন্য যোগ করলে যোগফল বড়ই হবে। অতএব পাকিস্তানকে বড় শক্তি আমেরিকা অথবা রাশিয়ার সঙ্গে থাকতে হবে। যেহেতু রাশিয়া কমিউনিস্ট অতএব সেখানে যাওয়া যাবে না। অতএব আমেরিকার সঙ্গেই থাকতে হবে। এই ভাবে তিনি পাকমার্কিন সামরিক চুক্তি, সিয়াটোসেন্টোর পক্ষে যুক্তি হাজির করেছিলেন। জনগণকে ধোকা দেয়ার কি অনৈতিক চতুরতা!

এখানে উল্লেখ যে, সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান এই সকল প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দীকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ভাবতে অবাক লাগে যে, এর ঠিক এক দশক পর শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে তুলে ধরেছিলেন ৬ দফা দাবি। আর ১৯৬৯ সালে ছাত্রদের ঐতিহাসিক ১১ দফা দাবিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল পাকমার্কিন সামরিক চুক্তি, সিয়াটোসেন্টো বাতিলের দাবি, যার প্রতি সেদিন শেখ মুজিবুর রহমানও সমর্থন দিয়েছিলেন।

শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে না দাড়ালে হয়তো পাকিস্তানের ইতিহাস অন্য রকম হতো। এই দেশের প্রগতিশীল আন্দোলন যথেষ্ট অগ্রসর হতে পারতো। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান ভাসানীর বিরুদ্ধে থাকায় ভাসানীকে বাধ্য করা হলো নিজ হাতে তৈরি দল আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যেতে। তিনি গঠন করলেন নতুন দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, সংক্ষেপে ন্যাপ। আত্মগোপনকারী কমিউনিস্ট পার্টিকে বাদ দিয়ে ন্যাপই ছিল পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রগতিশীল ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দল। এই দলে যোগ দিলেন কমিউনিস্টরা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের খান আবদুল গাফফার খানসহ সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতারা।

ন্যাপ গঠন এবং ভাসানীর সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বিরাট ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।

চার.

মওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রনায়ক। সেই অর্থে তিনি জাতীয়তাবাদী। কিন্তু তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিকতাবাদী। পৃথিবীর যেখানেই নিপীড়িত মানুষের সংগ্রাম সেখানেই ভাসানী তার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।

ইতিপূর্বে উল্লেখিত স্টকহোম ভাসানীর ঐতিহাসিক বক্তৃতা থেকে কিছুটা অংশ আবার উদ্ধৃতি করা যাক। (সূত্র : খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের লেখা ‘ভাসানী যখন ইউরোপে’)

সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাস কপটতার ইতিহাস। আজ সারা দুনিয়ার সাধারণ মানুষ সকল প্রকার সামরিক প্রস্তুতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরুদ্ধে। তারা চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। তারা চায় নির্মল শান্তি। সে মানুষ আছে আমেরিকায়। যে মানুষ আছে ব্রিটেন ও ফরাসী দেশে। সে মানুষ আমি দেখেছি ইতালিজার্মানিহল্যান্ড সর্বত্র। সে জনতার মিছিলে শরিক হয়েছেন আমেরিকার লব্ধ প্রতিষ্ঠ লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, হাওয়ার্ড ফাস্ট, সঙ্গীতজ্ঞ পল রবসন, বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইন আর রোজেনবার্গ দম্পতির মতো অসংখ্য পরিবার। সে মিছিলে আছেন ব্রিটেনের ধর্মীয় নেতা ক্যান্টারবেরীর ডীন ডক্টর হিউলেট জনসন, সমাজকর্মী মাদাম মনিকা ফেলটন, আইনজ্ঞ ডিএন প্রীট এবং বৈজ্ঞানিক জে ডি বার্নাল। আর আছেন ফরাসি দেশের বৈজ্ঞানিকদের গুরু জুলিও কুরী, বেলজিয়ামের সমাজকর্মী মাদাম ব্লুম। তাদের সকলের সঙ্গে আছেন সে সব দেশের লক্ষ লক্ষ নারীপুরুষ।’

মওলানা ভাসানীর আন্তর্জাতিকতাবোধ ও শ্রেণী চেতনার আরেকটি উদাহরণ দিতে চাই। সেটি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল আমি ও রাশেদ খান মেনন নানা আকাবাঁকা পথ ঘুরে পৌঁছেছিলাম টাঙ্গাইলে ভাসানীর বাড়িতে। দেখি তিনি খুব উত্তেজিত। টাঙ্গাইল শহর তখনো মুক্ত। ঢাকায় পাক বাহিনীর গণহত্যায় প্রতিশোধ নিতে কিছু ছাত্র পাঞ্জাবী ও উর্দুভাষী বিহারীদের হত্যা করছে। প্রাণভয়ে এক বিহারী কুলি আশ্রয় নিয়েছে ভাসানীর কাছে। সেই ছাত্ররা দাবি করছে ওই বিহারীকে তাদের কাছে তুলে দেয়া হোক। ভাসানী রাজী নন। তিনি উত্তেজিত কণ্ঠে বলছেন, হোক সে বিহারী! সে কুলি। আমি বেঁচে থাকতে কুলির গায়ে হাত দেবে এতো বড় আস্পর্ধা!’

এই কথার মধ্যে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ভাসানীর চরিত্রের আরও দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য চোখে পড়বে। এক. তিনি আন্তর্জাতিকতাবাদী। বাঙালির স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত মানুষটি বিহারীর প্রতি মোটেও বিদ্বেষমূলক আচরণ করছেন না। দ্বিতীয়ত. মেহনতী মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। কুলি অর্থাৎ শ্রমজীবী মানুষের প্রতি দরদ ভাসানীর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য বললেও ভুল বলা হবে না।

পাঁচ.

যিনি আন্তর্জাতিকতাবাদী তিনি সাম্প্রদায়িক হতেই পারেন না। বস্তুত সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানে ভাসানীই অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি ভারত বিদ্বেষী কখনই ছিলেন না। বরং পঞ্চাশের দশকে ন্যাপ গঠনের পর সোহরাওয়ার্দীশেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ মওলানা ভাসানীর বিরুদ্ধে ‘ভারতের দালাল’ বলে অপপ্রচার চালিয়েছিল। এমনকি তারা ব্যাঙ্গ করে বলতো NAP মানে হচ্ছে Neheru Aided Party, যাই হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তীকালে সেই ভাসানী ভারত বিরোধী প্রচার শুরু করলেন। কারণ তিনি লক্ষ্য করলেন ভারতের বড় বুর্জোয়ারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভারতের প্রগতিশীল জনগণও তদানীন্তন ভারত সরকারের এই ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। সোচ্চার হয়েছিলেন জ্যোতিবসু। স্বাধীনতার পরপরই ভারত সরকার যখন বাংলাদেশে জেলা পর্যায়ে প্রশাসক পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিল (১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে)। তখন ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কমরেড প্রমোদ দাসগুপ্ত কংগ্রেস সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন তার স্বভাবসিদ্ধ ব্যাঙ্গাত্মক ভাষায় ‘টিক্কা খানের শপথ নেয়ার জন্য কোন বিচারক পাওয়া যায়নি বলে কি এটা ধরে নিতে হবে যে, সেই দেশে জজম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার মতো কোন লোক নেই?’ (১৯৭১ সালের মার্চ মাসে সামরিক সরকার টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ করলে তার শপথ নেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতি সম্মত হননি, কারণ তখন দেশব্যাপী সর্বব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন চলছিল)

মওলানা ভাসানী কর্তৃক প্রকাশিত ও সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘হক কথা’য় তখন ভারত বিরোধী প্রচারে কিছুটা সাম্প্রদায়িক গন্ধ ছিল বলে আমার মনে হয়েছিল। আমি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। মওলানা সাহেব একি করছেন?

মনে পড়ে, সেই সময় কোনো একদিন, মওলানা ভাসানী তখন ঢাকার পিজি হাসপাতালে। আমি হক কথার একটি কপি হাতে তার ঘরে ঢুকলাম। তিনি আমাকে দেখেই বলে উঠলেন, তোমরা তো কমিউনিস্ট, তাই না?’

জ্বি হ্যাঁ।

তাহলে ভালো করে একটা কমিউনিস্ট পার্টি করো। কোনো সভ্য দেশে কমিউনিস্ট পার্টি না থাকলে কি সেই দেশকে সভ্য দেশ বলা যায়? এখন যে কমিউনিস্ট পার্টি আছে (অর্থাৎ সোভিয়েতপন্থী পার্টি), ওটা কি খাঁটি কমিউনিস্ট? তোমরা ভালো করে কমিউনিস্ট পার্টি করো। আর আমার বিষাক্ত নিঃশ্বাস থেকে শত হাত দূরে থাকো। আমি ইন্ডিয়ার আধিপত্য ঠেকাতে অনেক কৌশল নেবো। দরকার আছে। তোমরা তার মধ্যে থেকো না। কমিউনিজম আর কম্যুনালিজম কি এক সঙ্গে চলতে পারে?’

কথাগুলো খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মওলানা ভাসানীর সেদিনের কৌশলকে যে আমি সঠিক বলছি, তা নয়। তবে সদ্য স্বাধীন দেশকে যে কোনো ধরনের বৈদেশিক প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য তার প্রয়াস ছিল আন্তরিক। আরও ভেতরের খবর হলো এই যে, এই ব্যাপারে তার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের গোপন কথাবার্তা হয়েছিল। দুই নেতাই সদ্যপ্রাপ্ত স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন।

মওলানা ভাসানীর জীবনের সর্বশেষ কীর্তি ছিল ফারাক্কা মিছিল। গঙ্গার পানির ন্যায্য হিসসা নিয়ে বাংলাদেশভারতের মধ্যে এখনো দ্বন্দ্ব আছে। নদীর পানির ন্যায্য অংশ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতেই তিনি এই ফারাক্কা মিছিলের আয়োজন করেছিলেন।

ভাসানী আজ আমাদের মাঝে নেই। প্রগতিশীল তথা কমিউনিস্ট আন্দোলন করতে গিয়ে প্রতি মূহুর্তে মনে পড়ে এই নেতাকে। কোন মানুষই দৈহিকভাবে অমর নয়। ভাসানীরও মৃত্যু হয়েছে যথেষ্ট পরিণত বয়সে। কিন্তু তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন তা আজও কাজে লাগবে সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে, মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামে। সেই অর্থে মওলানা ভাসানী মৃত্যুহীন। তিনি আজও আমাদের পথ নির্দেশ দিচ্ছেন, আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি পথ দেখাচ্ছেন সে পথ হলো সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের শোষণমুক্ত সমাজের, মুক্তির পথ। অমর অজেয় অব্যয় অক্ষয় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।।

১টি মন্তব্য

  1. “কোন মানুষই দৈহিকভাবে অমর নয়। ভাসানীরও মৃত্যু হয়েছে যথেষ্ট পরিণত বয়সে। কিন্তু তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন তা আজও কাজে লাগবে সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে, মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামে। সেই অর্থে মওলানা ভাসানী মৃত্যুহীন। তিনি আজও আমাদের পথ নির্দেশ দিচ্ছেন, আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি পথ দেখাচ্ছেন – সে পথ হলো সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের শোষণমুক্ত সমাজের, মুক্তির পথ। অমর অজেয় অব্যয় অক্ষয় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।”