Home » রাজনীতি » কুমতি প্ররোচিত সর্বদলীয় সরকার নিবেদিত ‘কড়া প্রহরায় একদলীয় আনন্দঘন নির্বাচন’ – আসিতেছে…….

কুমতি প্ররোচিত সর্বদলীয় সরকার নিবেদিত ‘কড়া প্রহরায় একদলীয় আনন্দঘন নির্বাচন’ – আসিতেছে…….

আবীর হাসান

political-cartoons-23কুমতি একবার পেয়ে বসলে সুমতির দিকে ফেরা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আর তার সঙ্গে যদি যোগ হয় অহমিকা তাহলে ন্যায়অন্যায় বোধ আর সম্মানসহিষ্ণুতার বিষয়গুলো যে বেমালুম উবে যায়, তা আমরা এদেশের মানুষ সেই ১৯৭৩ সাল থেকেই দেখে আসছি। তবে এটা ২০১৩ সাল বলেই অন্য রকম আশা ছিল। কিন্তু হলো না। সময় তার ফোঁড় তুলেছে ঠিকই কিন্তু এতটুকু শিক্ষা হয়নি কুমতির উত্তরাধিকারের

২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সবাই আশা করেছিল বরফ গলানোর চেষ্টা দু’পক্ষ থেকেই হচ্ছে। কিংবা বরফ গলতে যাচ্ছে এমনটাও আশা ছিল অনেকের। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পর্যন্ত ওই দিন বলেছিলেন দু’পক্ষের মধ্যে একটা সমঝোতার আশা করছেন তিনি এবং সে জন্য ওই দিন বলতে চাননি তফসিল ঘোষণার চূড়ান্ত দিনক্ষণের কথা। কিন্তু একরাত পরেই হলো চিত্র বদল। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই হাল ছেড়েদিলেন তিনি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার ব্যাপারে। নাকি তার হাল ছাড়ানো হল? তড়িঘড়ি তফসিল ঘোষণা হলো ২৫ নভেম্বরেই। এটা যে হয়েছে সরকারের শীর্ষ পদাধিকারীর সন্তুষ্টি এবং ইচ্ছার বদান্যতাতেই সেটাও বুঝেছে সবাই। কী মধুর কুমতির প্ররোচনা।

তাহলে তার আগে যা হয়েছিল, ওই ‘সাধারণ সম্পাদক মহাসচিব পর্যায়ের গোপন বৈঠক’ সেটা কেন? কিংবা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আশাবাদী কথাবার্তা, তারই বা কিসের মূল্য। কিংবা বিস্ময় লুকিয়ে আরও ভালো প্রশ্ন করা যায় কেন?

এর সম্ভাব্য উত্তর হচ্ছে, সবটাই লোক দেখানো ব্যাপার। খানিকটা খেলিয়ে নিয়ে দেখিয়ে দেয়া হলো দেশীবিদেশী চাপ প্রয়োগকারীদের যে, ‘আমরা তো চেষ্টা করেছি। ওরা যে আসল না।’ পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে, মধ্য নভেম্বরে ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সহকারী মন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল ফিরে যাওয়ার আগে অনুরোধ জানিয়ে গিয়েছিলেন, সাধারণ সম্পাদক মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক করার জন্য। ওই মুখ রক্ষার বিষয়টাই আসলে হয়েছিল ২৩ নভেম্বর রাতে। অন্তত সরকারের দিক থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু করার চেষ্টা হয়নি। এতে অবশ্য অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছিলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পর্যন্ত আশা করেছিলেন হয়তো আর দু’ একদিন পর সমঝোতা হলে তফসিল ঘোষণা করবেন তারা। অন্যান্য যারা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে আশাবাদী তারাও বিভ্রান্ত হয়েছিলেন, ভেবেছিলেন শেষকালে হয়তো বোধদয় হয়েছে ক্ষমতাসীনদের।

কিন্তু ২৫ নভেম্বর দুপুরেই ১৪ দলের বৈঠক হয়েছিল। সেখান থেকে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম অভিযোগ করলেন বিরোধী দল লোক দেখানো আলোচনা করতে চাচ্ছে এবং তারা সময়ক্ষেপণ করতে চাচ্ছে। ব্যাপারটা উধোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর মতো। তারা নিজেরা যা করছেন সেই দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন তারা।

মূল লক্ষ্য তাদের একতরফা নির্বাচন করা এবং ক্ষমতায় থাকার সময়টাকে বাড়িয়ে নেয়া। এ জন্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনটাকে জেনেবুঝে কলঙ্কিত করার ঝুঁকিও নিয়ে নিয়েছেন তারা। ২৫ নভেম্বরের পর বিষয়টা নিয়ে আর কারো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকার কথা নয়।

কিন্তু এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, এভাবে নির্বাচন করালে তা যে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, তা কি বুঝতে পারছেন না আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা? এতদিনে তো বুঝতে না পারার কথা নয়। দেশের ভেতর থেকে বাইরে থেকে বহুবার বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা তাদের শুভবুদ্ধি উদয়ের চেষ্টা করেছে। শুরুই করেছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। অথচ এসব উদ্যোগ প্রয়াসকে কোন রকম মূল্যই দেয়নি সরকার। কারণ আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল তারা যাতে বিরোধী দল নির্বাচনে না আসতে পারে। প্রথমে চেষ্টা হয়েছে তাদেরকে দুর্বল করার। ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য বিএনএফ নামের একটি ভূঁইফোর দলকেও নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। এর দল ও জোট ভাঙার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়কে গণতান্ত্রিক রাজনীতির তলানির কূটকৌশল হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু তাই বলে বিশাল জনসমর্থনপূর্ণ একটি দল বিএনপিকে বাইরে রেখেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হবে এটা ছিল অভাবিত। কিন্তু সেটা করা হয়ে গেছে। তার আগে খেলা করা হয়েছে কেবল বিএনপির সঙ্গে নয়, পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেই। এবং এটা করা হয়েছে কুমতি ও অহমিকার জেদে।

২৫ নভেম্বরের আশাবাদী সিইসি ২৫ নভেম্বর যে তফসিল ঘোষণা করলেন তার মোদ্দা কথা হলো, সেনা প্রহরায় হবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। নিজেদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে আবার বলা হয়েছে ভোটারদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশও নাকি তারা সৃষ্টি করবেন। সাধু ॥ সাধু ॥ ওই ভাষণেই সিইসি বলেছেন, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতার কথা। কিন্তু তাহলে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না করে সেটা ১২ বা ১৯ জানুয়ারি কেন হলো না। তাড়াহুড়োটা কিসের?

এটা নিছকই এক কুমতির প্ররোচনার ফসল। কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানোর মতো ব্যাপার। নিজের হাত থেকে আবার নিজের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য যে তর সইছে না প্রধানমন্ত্রীর। এ জন্য তিনি সম্মান সহিষ্ণুতাও জলাঞ্জলি দিলেন দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা এটাই।।