Home » রাজনীতি » নির্বাচন কি হয়ে যাবে নাকি অন্যকিছু?

নির্বাচন কি হয়ে যাবে নাকি অন্যকিছু?

পীর হাবিবুর রহমান

political-cartoons-21সবাই জানতেন সংলাপ হবে, সমঝোতা হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংলাপ নিয়ে লুকোচুরি হয়েছে। আনুষ্ঠানিক সংলাপসমঝোতা ছাড়াই সরকারের ছকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোনে গণভবনে নৈশভোজ ও আলোচনার যে অনুরোধ জানিয়েছিলেন সেটিও কার্যকর হয়নি। বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির দরবারেও গিয়েছিলেন। সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছিলেন। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির হাতপা এতটাই বেঁধে রাখা হয়েছে যে, তার করার কিছুই ছিল না। তাই কিছু হয়নি। বিএনপি নেত্রী এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনে সাড়া দিয়ে গণভবনে গেলে অন্তত সরকারের কোর্টে চুড়ান্ত পর্বের বলটি ছেড়ে দিতে পারতেন। পর্যবেক্ষকরা বুঝছিলেন, সরকার সংলাপসমঝোতার কথা বললেও আন্তরিক নয়। বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচনের পথে হাটছে। বিরোধী দল সেইখানে প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনে সাড়া দিয়ে বলটি সরকারের কোর্টে দিয়ে আসতে পারতেন। সরকারপক্ষ চাপের মুখে মহাজোটের শরিক সর্বদলীয় সরকারের নামে পুনর্গঠিত সরকারের শেষবেলায় ছয়টি মন্ত্রী দিয়ে ভোটের রাজনীতিতে একক লড়াইয়ের পথে ঠেলে দিয়েছে। ইসলামপন্থিদেরও নিয়ে এসেছে। ১৯৮৬ সালে সেনাশাসক এরশাদ যে ফর্মূলায় নিয়েছিলেন সেই ফর্মূলায়ই ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন। সাবেক সিইসি এটিএম শামসুল হুদা নিজের ভাবমূর্তি ও নির্বাচন কমিশনের শক্তিশালী জায়গায় দাড় করিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন সেখানে বর্তমান সিইসি সরকারের আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকালেই চেনা যায় তারা কারা। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের সংসদ ১৯৮৮তেই শেষ হয়েছিল। ৮৮’র একতরফা নির্বাচন ৯০ এ সরকার পতনের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েছিল। গণতন্ত্রের নবযাত্রায় ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার একতরফা নির্বাচন ভোটারবিহীন হয়েছিল। তার মেয়াদ ১৫ দিন পূরণ করতে পারেনি।

এবারের নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রায় হলেও মডেলটি অনেক পুরনো। বিরোধী দল ব্যাপক গণআন্দোলন গড়তে যেমন ব্যার্থ হয়েছে, সরকার তেমন দমননীতির পথ থেকে সরেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট এখন নির্বাচনের ময়দানে দুই পক্ষকে চুড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি করেছে। তফসিল ঘোষণার পরপর ৪৮ ঘন্টার অবরোধের শুরুতেই দেশজুড়ে নাশকতা, সহিংসতা, গ্রেফতার, মুড়িমুড়কির মত ককটেল বিষ্ফোরণ হচ্ছে। আরো কয়েকটি লাশ পড়েছে। মানুষের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। তবুও দুইপক্ষ যার যার অবস্থানে অনঢ়। সরকার, বিরোধী দল পর্যবেক্ষকসহ সাধারণ মানুষ সবার প্রশ্নশেষ পর্যন্ত কী হবে?নির্বাচন হয়ে যাবে নাকি অন্যকিছু? পুলসিরাতের রাস্তা অতিক্রম করছে বাংলাদেশের রাজনীতি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার শুরুতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে পরিস্থিতির তত অবনতি ঘটবে। প্রশ্নটা এখানে জোরেসোরেই বইছে। শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে?