Home » রাজনীতি » সর্বদলীয় ভাওতাবাজী

সর্বদলীয় ভাওতাবাজী

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

political-cartoons-26আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নেতাউপনেতারা তো ক্রমাগত বিএনপিকে নসিহত করছেন বলছেন, ‘নির্বাচনে না এলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকবে না।’ এরশাদ পর্যন্ত বলে ফেললেন – ‘নির্বাচনে না এসে বিএনপির উপায় নেই।’ এসব কথা তারা বলছেন, কারণ তারাও জানেন বিএনপি নির্বাচনে না এলে না দেশে না বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পাবে না জানুয়ারির নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহকারীরা রাগ এবং ক্ষোভ ঝেড়েও বিএনপিকে যে বলেন, সর্বদলীয় সরকারে অংশ নিতে তাও ওই গ্রহণযোগ্যতার জন্যই। কারণ তারা বিলক্ষণ জানেন বিএনপির নির্বাচন হতে দেয়া হবে না র মতো হুমকি সত্ত্বেও নির্বাচনটা হয়তো করতে পারবেন সেনা সহায়তা নিয়ে। কিন্তু সমস্যা থেকে যাবে নির্বাচনের পরেও সংবিধানের বৈধতা থাকলেও গণতান্ত্রিক বৈধতা বা গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।

নির্বাচন পর্যন্ত যেতে হয়নি তার আগেই সর্বদলীয় সরকার গঠন করেই প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারটা গঠন হওয়ার আগে তাও বিদেশী বন্ধুরা বিএনপির ওপর একটা চাপ রেখেছিল নির্বাচনে সহযোগিতা করার জন্য। কিন্তু সরকারটা গঠন হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টা উল্টে গেছে এখন পূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে নেয়া প্রধানমন্ত্রী চাপে পড়ে গেছেন। দুরাশা লালন করে চলা বোধ হয় আর সম্ভব হচ্ছে না তার পক্ষে।

আগে না হোক এই ক’দিনে তো প্রধানমন্ত্রীর বুঝে যাওয়া উচিত যে, তার সর্বদলীয় কনসেপ্ট দেশেবিদেশে কোথাও হালে পানি পায়নি। দেশের লোক বুঝেছে এটা একটা ভাওতাবাজী। যতোই তিনি সংবিধানের দোহাই দেন না কেন, চাচ্ছেন কোন রকমে নির্বাচনটা করে আবার ক্ষমতায় যেতে। আর বিদেশিদের কাছে গণতান্ত্রিক নিয়মে সর্বদলীয় বিষয়টার কোন মূল্য নেই। কারণ গণতন্ত্রে প্রতিযোগিতা থাকতে হবে সর্বদলের জন্য সমান সুযোগ থাকতে হবে। সে কারণেই সম্ভবত এখন আওয়ামী লীগ চিন্তাভাবনা করছে এ সরকারের নাম বদলে কোয়ালিশন রাখতে যেটা বিভিন্ন দেশে বহুল প্রচলিত। কিন্তু নির্বাচন না করেই কোয়ালিশন এটা যে আরও বিশাল একটা প্রশ্নের মুখে ফেলবে সেটা কি তারা বুঝতে পারছেন?

বুঝতে অবশ্য অনেক কিছুই তারা পারেন, যেমন জনমতের বিষয়টা। ওটা তলানিতে নেমেছে বলেই যে তাদের নানা রকম উদ্ভট পরিকল্পনা এ কথা মনে হয় নিজেরাই জেনে বুঝেই করছেন। মন্ত্রীত্ব হারানো একজন প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি রাজিউদ্দিন রাজু ক’দিন আগে গিয়েছিলেন এক স্কুলের গভর্নিং বডির নির্বাচন করতে। নিজের ভোটটা ছাড়া আর কোনো ভোট পাননি তিনি।

কাজেই জনপ্রিয়তার বদলে অন্য কৌশল নিতে হয়েছে এখন আওয়ামী লীগকে। কিন্তু সে কৌশলগুলো যে এতো দুর্বল তা হয়তো তারা নিজেরাও ভাবেননি ভাবেননি এতো তাড়াতাড়ি মানুষ কেমন করে বুঝে ফেলে?

বুঝে ফেলে এ কারণেই যে, তাদের সঙ্গে গত ৪২ বছরে অনেক চালাকি করা হয়েছে। এই সংসদ, এই গণতন্ত্র আর মানুষের অধিকার নিয়ে একের পর এক কৌশল করা হয়েছে। করেছে সবাই এই আওয়ামী লীগ, এই বিএনপি, এই জাতীয় পার্টি। সে কারণে কারোর বিবেক যে এখন পর্যন্ত নড়াচড়া করেনি সেটাও বোঝা যাচ্ছে।

আমি যেভাবে ঠকছি অন্যকে সেভাবেই ঠকাবো কিংবা ওরা যেভাবে আমাদের বিপদে ফেলেছিল সেভাবেই আমরাও ওদের বিপদে ফেলবো এই মানসিকতা নিয়ে চলছে রাজনীতি। অযথা কেবলমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই। নির্বাচনকেও বার বার ক্ষমতা আকড়ে থাকার উপায় বানানো হয়েছে। এবারও সে চেষ্টাই করছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু সে চেষ্টার প্রাথমিক পর্বতেই গোলমাল লেগে গেছে। বিদেশিরা বুঝতে পারছে নির্বাচনের আগে পরে সহিংসতা হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। অথচ এখন যে অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী চলে গেছেন সেখান থেকে ওই অবস্থাটা তৈরি করা খুবই কঠিন। কারণ এতে তার কৌশল মার খাবে, অহংবোধে লাগবে আরও মারাত্মক আঘাত। তবু সেটাই তাকে করতে হবে, না হলে অদূর ভবিষ্যতেই জুটবে অনেক বদনামী।।