Home » প্রচ্ছদ কথা » সীমিত টেকনিক্যাল টিম থাকলেও থাকতে পারে

সীমিত টেকনিক্যাল টিম থাকলেও থাকতে পারে

একদলীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসবে না

আমীর খসরু

foreign-observerএকদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ওই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না। আর ইতোমধ্যেই তার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তারা কেবল সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেই তাদের পর্যবেক্ষক পাঠাবে। এদের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং গ্রুপও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে একদলীয় নির্বাচনের সময় কোনো কোনো সংস্থা একেবারেই ক্ষুদ্র ও সীমিত আকারে একটি করে দল পাঠাতে পারে যারা সরেজমিনে ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগেপরের সহিংসতা এবং ভোট সংখ্যা কতোটা বাড়ানো হলো বা কমানো হলো তা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই ক্ষুদ্র ও সীমিত আকারের দলও আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয় এবং সন্দেহ রয়েছে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন মাসব্যাপী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল তা বাতিল ঘোষণা করেছে। যদিও এই দীর্ঘকালীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য তারা তাদের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজটি সম্পন্ন করে রেখেছিল। মধ্য মেয়াদে কোনো কর্মপরিকল্পনাও তারা গ্রহণ করবে না। এখন সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় খুবই স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষুদ্র ও সীমিত আকারের যে টেকনিক্যাল টিম পাঠানোর কথা ছিল তাও আসবে কিনা তা নির্ভর করছে সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে রাজনৈতিক অবস্থা এবং বাংলাদেশে বিদ্যমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে।

বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সবচেয়ে বড় আয়োজনটি করে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তিন মাসব্যাপী তাদের এ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমটি করা হয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা এবং প্রয়োজনীয় দলিলপত্রে সইস্বাক্ষরের পরে। তিন মাসের কার্যক্রমের মধ্যে তিনটি পর্যায় বা ভাগ রয়েছে অর্থাৎ ওই সময়কালের প্রথমদিকে একটি ছোট গ্রুপ এসে পরিস্থিতি বিবেচনার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী যারা আসবেন তাদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয় দলটি এসে নির্বাচন পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের মনোভাব, নির্বাচন কমিশন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। এমনকি রাজনৈতিক দলের সভাসমাবেশে গিয়ে তাদের বক্তব্য শোনা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলা, মোট কথা সামগ্রিক একটা মূল্যায়ন তাদের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হয়। এরপরে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি প্রতিনিধি দল এসে নির্বাচনটি পর্যবেক্ষণ করেন। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সামগ্রিক বিষয় পর্যবেক্ষণের জন্য একটি টেকনিক্যাল টিম থেকেই যায়। তারা পুরো বিষয়ের উপরে রিপোর্ট এবং সুপারিশমালা প্রণয়ন করে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে জড়িতদের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের। তিন মাসব্যাপী কার্যক্রম ও মূল পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দল আসার বিষয়টি বাতিল হয়ে গেছে। এখন যে টেকনিক্যাল টিম আসার কথা যাকে আমাদের ‘বিজ্ঞ’ সংবাদ মাধ্যম ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিপূর্ণ পর্যবেক্ষক দল হিসেবে বলছে। তারাও আসবে কিনা তা নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংশয় দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ক্যাথরিন অ্যাসটন শনিবার ব্রাসেলসে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে এই টিমের আসা সম্পর্কে বলেছেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডি’র সহায়তায় ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর পক্ষ থেকেও পরিপূর্ণ কোনো পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর ব্যাপারেই মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকায় বিভিন্ন সূত্র বলছে, পাঠানো হবে না এমনটাই ধরে নেয়া যায়। তবে খুবই ক্ষুদ্রাকারে একটি দল হয়তো একদলীয় নির্বাচনের ধরনধারন সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেয়ার জন্য ঢাকায় অবস্থান করতে পারে। এ নিয়েও তারা বর্তমানে আলাপআলোচনা করছেন।

ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা বিদ্যমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে ওই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কিভাবে করবেন নিরাপত্তাগত দিক থেকে তাও তাদের জন্য এক মহাচিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখানে বলা প্রয়োজন যে, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য যে সব দাতা দেশ এবং সংস্থা নির্বাচনকালীন সময়ে পর্যবেক্ষণ পাঠায় তারা একটি নীতিমালা অনুযায়ী পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে। এরা সবাই জাতিসংঘের ওই নীতিমালাকে অনুসরণ করে। ২০০৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত এবং ঘোষিত জাতিসংঘ নীতিমালা ও কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী যে কোনো দেশের নির্বাচনের মৌলিক নীতিমালা, পর্যবেক্ষক বিষয়ক বাধ্যবাধকতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশ নির্ধারিত পালনীয় শর্তাবলী সাপেক্ষে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে। আর সংশ্লিষ্ট দেশের সব রাজনৈতিক পক্ষের কাছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের গ্রহণযোগ্যতা কামনা করার বিষয়টি যেমন থাকে তেমনি গ্রহণযোগ্যতা অতিঅবশ্যভাবে প্রয়োজনীয় বলেও বিবেচনা করা হতে পারে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রেরণকারীদের পক্ষ থেকে।

তবে কোনো পক্ষ বিশেষ করে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়টিতে বাধা প্রদান, অনুমতি না দেয়া অথবা অনুমতি প্রধানের ক্ষেত্রে গড়িমসির বিষয়টিকে খুবই গুরুতর বলে গণ্য করে থাকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রেরণকারী দেশ বা সংস্থাগুলো। এর একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া অচিরেই আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে যা ওই দেশ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য যথেষ্ট ক্ষতির কারণ হিসেবে কাজ করে।

একদলীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আসানা আসার বিষয়ে ২০০৫এর নীতিমালায় সুনির্দিষ্টভাবে কোনো বাধ্যবাধকতার বলা না হলেও এতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সুস্পষ্টভাবে অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা উচিত নয়। ২০০৫এর ওই নীতিমালায় এও বলা হয়েছে যে, ‘কোনো সংস্থা এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাতে পারে না, যেখানে তাদের উপস্থিতি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেও বৈধতার প্রলেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।’

একদলীয় নির্বাচনের আগের অর্থাৎ চলমান সহিংসতা এবং সংঘাতের ব্যাপকতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের আগমনের পুরো বিষয়টিকেই বাধাগ্রস্ত করে ফেলেছে। একে তো একদলীয় নির্বাচন এবং অন্যদিকে সংঘাত, সহিংসতার কারণেই আন্তজার্তিক পর্যবেক্ষকদের আশাকে চূড়ান্তভাবে দ্বিধাগ্রস্ত করে ফেলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেনটেটিভের বক্তব্য এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে একদলীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আন্তজার্তিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ইতোপূর্বে ছিল না। ২০০৬ সালের সংঘাতসহিংসতার পরে ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার সিদ্ধান্তটি এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট করার কারণে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা আইআরআইসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছিল। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু করে বেশ কিছু দূর এগিয়ে যাওয়ার পরেও তাদের পর্যবেক্ষক এবং টেকনিক্যাল টিমকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

কিন্তু এবারে ইতোমধ্যে কিছু ঝামেলার ও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৯০ দিন বা তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়ে এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল। যথাসময়ে ওই অনুমতি না পাওয়া এবং তফসিল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় তারা এখন খুবই কম সময় হাতে পেয়েছে। এটা তাদের পরিপূর্ণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য যথেষ্ট সময় নয়। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কেন সরকারের অনুমতি পেতে এতো সময়ক্ষেপণ করা হলো? তারা কোনো সুস্পষ্ট জবাব সরকারের দিক থেকে পাওয়া যাবে না। তারপরেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনেপ্রাণে চাইছে এবং সরকার চেষ্টা করছে নির্বাচনকালীন সময়ে হলেও অন্তত কিছুসংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি থাকুক। কিন্তু বিএনপি মনে করছে, এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক থাকা উচিত নয় এবং কাম্যও নয়। এ বিপরীতমুখী অবস্থানের পেছনে কারণও রয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিকে ক্ষমতাসীনরা ফায়দা হিসেবে নিতে পারে। তারা একে যেকোনো ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ফলাফলকে আইনগত বৈধতা দেয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। যদিও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ২০০৫এর নীতিমালা এমনটা বলে না। ওই নীতিমালা বলা হয়েছে যে, কোনো সংস্থার নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাওয়া বা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনে যাওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই মানে একথা বোঝাবে না যে সংস্থাটি ওই দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেছে।

ইইউ ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘ইইউ এবং অন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারেরা বাংলাদেশের জনগণের অধিকার ও প্রত্যাশা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য সব দল ও সংশ্লিষ্টদের জরুরিভিত্তিতে এবং সহযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে আসার জন্য ব্যাপক প্রয়াস চালিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা সফল হয়নি।’ ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছিল, এ কারণে এবং ২২ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে প্রধান প্রধান দল সরে দাঁড়ানোর কারণেআমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমরা আমাদের প্রত্যাশা মতো [নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন] কাজ করতে পারব না। প্রধান প্রধান দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কারণে আইআরআই তাদের তদারকি কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।

সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সূত্র মতে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রধান প্রধান দেশ এবং সংস্থাগুলো পরিপূর্ণভাবে একদলীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্তে এখন পর্যন্ত স্থির রয়েছে। তবে নির্বাচনটি কি রকম হচ্ছে এবং কোনভাবে হচ্ছে তা দেখার জন্য হয়তো খুবই সীমিত সংখ্যায় কিছু পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকতে পারেন। কিন্তু কোনোক্রমেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পরিপূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল থাকছে না, এটা মোটামুটি নিশ্চিত।।