Home » শিল্প-সংস্কৃতি » ভয়ঙ্কর স্বৈর-সন্ত্রাসের দলিল – আলব্যেয়ার কামু’র দ্য প্লেগ

ভয়ঙ্কর স্বৈর-সন্ত্রাসের দলিল – আলব্যেয়ার কামু’র দ্য প্লেগ

ফ্লোরা সরকার

the-plague১৯৪৭ সালে আলব্যেয়ার কামু’র “দ্য প্লেগ” উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে, ফ্রান্সের প্রথিতযশ চিন্তাবিদ ও সমালোচক রোলা বার্ত তৎকালীন ফরাসি পত্রিকা “ক্লাব” এ উপন্যাসটির ওপর একটি সমালোচনা লেখেন। সেই সমালোচনার জবাবে কামু, বার্তকে একটি চিঠিতে জানান “দ্য প্লেগে আমি চেয়েছিলাম, বইটির নানাস্তরিক পাঠ চলুক —-”। এবং বলাই বাহুল্য দ্য প্লেগ মূলত নাৎসীবাদের বিরুদ্ধে ইউরোপের প্রতিরোধ আন্দোলনের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হলেও তা মানবতাবিরোধী অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শক্তির এক সর্বজনীন দলিল হিসেবে দেখা দেয়। দ্য প্লেগকে তাই যেকোন দেশে, যেকোন সময়ে, স্থাপনপুনঃস্থাপন করে অবলীলায় পাঠ করা যায়। এ যেন এক নিত্যবর্তমান, নিত্যবহমান এক অনন্ত গল্প। যে গল্পের শুরু আছে শেষ নেই। যে গল্প পাঠের সময় একজন অচেতন পাঠকও সচেতন হয়ে ওঠে। পাঠ শেষে কিছুদিন ভুলে থাকে কিন্তু আবার প্লেগ দ্বারা আক্রান্ত হলে আবার সচেতন হয়ে ওঠে। অ্যাবসার্ট তত্ত্বের এই চিন্তানায়ক জীবনের অর্থহীনতার পথ ধরে আমাদের জীবনকে আরো অর্থবহ হতে শেখান। এক জীবনকে অসংখ্যবার পুরুজ্জীবিত করেন। সচেতন করেন। সাবধান করেন। ঘুমন্ত জগত জগ্রত করেন। বার বার যেমন প্লেগ ফিরে ফিরে আসে, অচেতন মানুষের সচেতন মনও বার বার ফিরে ফিরে আসে। আর তাই অসমাপ্ত গল্পের দ্য প্লেগ উপন্যাসের মতো প্লেগ পাঠ শেষ হয়না। গত ৭ নভেম্বর, এই মহান চিন্তানায়কের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হলো নিউইয়র্কের স্ট্র্যান্ড বুক স্টোরে। তার আউটসাইডার থেকে শুরু করে দ্য ফল, দ্য মিথ অফ সিসিফাসসহ আরো অসংখ্য গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ থেকে আলোচনার জন্যে আমরা বেছে নিলাম কালজয়ী এই উপন্যাসটি। কারণ দ্য প্লেগের গল্প আজও শেষ হয়নি, কেনো, কীভাবে হয়নি আলোচনার পথ ধরে তা স্পষ্টতর হবে। উল্লেখ্য আমরা উপন্যাসের শুধু সেই দিকগুলিই উন্মোচিত করার চেষ্টা করবো যেগুলো বর্তমান বাংলাদেশ পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

উপন্যাসের শুরুতেই আমরা ওরান শহর, যে শহরকে কেন্দ্র করে কাহিনী আবর্তিত তার এক ভয়াবহ বর্ণনা পাই – “— এখানে শুধু বাতাসের স্পর্শ থেকে বসন্তের আগমন বুঝে নিতে হয় অথবা শহরতলী থেকে আসা ফেরিওয়ালাদের মাথায় ফুলের ঝুঁড়ি দেখে বুঝে নিতে হয় বসন্ত এসেছে। এই বসন্তের আবির্ভাব বুঝে নিতে হয় বাজারে লোকজনের হাঁকডাক শুনে। আমাদের শহরের নাগরিকরা খুবই কর্মঠ কিন্তু তা শুধু ধনী হবার জন্যে। এখানকার তরুণদের যৌনক্ষুধা যেমন বেগবান, তেমনি ক্ষণস্থায়ী; আর বয়স্কদের বিলাসিতা বলতে গেলে খেলা, কখনো খানাপিনা, সামাজিকতার খাতিরে পরস্পরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ আর পাঁচটা জায়গার মতো ওরানের মানুষও সময় আর চিন্তার অভাবে ভালোবাসা সম্বন্ধে বিশেষ কিছু না জেনেই যৌনসম্বন্ধে লিপ্ত হয়। ওরান অসুস্থ লোকের জন্যে নয়। রুগ্ন মানুষ এখানে একেবারে নিঃসঙ্গ বোধ করে —- এখানকার জীবনযাত্রায় চাঞ্চল্য যেমন নেই তেমনি অশান্তিও নেই।” এমনই এক নির্জীব, নিস্তেজ আর নীরস শহরের বর্ণনা পাই, যেখানে জীবনপ্রবাহ বলতে গেলে একটা স্থির জায়গায় যেন থেমে থাকে। এই নিস্তেজ বর্ণনার পরেই অত্যন্ত সিনেমেটিক কায়দায় ডাক্তার বার্নাড রুয়ের মাধ্যমে প্লেগের আগমন বার্তা জানিয়ে দেন লেখক। আমাদের মনে পড়ে গ্রীক নাট্যকার সফোক্লিসের ‘আন্তিগোনে’ নাটকের কোরাস দলের সেই সংলাপ – “মানুষের মন বড় ছোট। সেখানে বিনা আঘাতে কোনো বড় জিনিস প্রবেশ করতে পারেনা”। অর্থাৎ মানুষ খুব জোরে ঝাঁকুনি না খেলে সম্বিৎ ফিরে পায়না। কিন্তু এই ঝাঁকুনিও আসে উপন্যাসে বেশ ধীরে, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মতো। কেননা ‘প্লেগ’ নামক রূপকধর্মী এই স্বৈরতান্ত্রিক মহামারী যে কোন দেশের স্বৈরশাসক কর্তৃক আকস্মিক উদয়ের মাধ্যমে ধরা দেয় না। ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার চুড়ান্ত রূপ মূর্ত হয়ে ওঠে।

মোট পাঁচ পর্বে বিভক্ত উপন্যাসের প্রথম পর্বের পঞ্চম অধ্যায়ে লেখকের বরাত দিয়ে আমরা ‘প্লেগ’ শব্দটা প্রথম উচ্চারিত হবার কথা জানতে পারি। তার আগে মৃত ইঁদুরের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকলেও তা নিয়ে জনগণকে খুব একটি চিন্তিত হতে দেখা যায় না। কারণ অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শাসন জনমতকে প্রচন্ড ভয় করে। তাই শুরুর দিকে ডা কাস্তেল, প্লেগের পূর্বাভাস জেনেও ডা রিওকে বলেন – “—বছর কুড়ি আগে প্যারিসে এরকম কয়েকটা কেস দেখেছি। তখন রোগটার নাম উচ্চারণ করার সাহস করেনি কেউ। কারণ, জনমত হলো একটা ভীষণ পবিত্র আর সনাতন বিষয়, তাকে বিচলিত বা ভয় দেখানো চলবে না। কোনোমতেই না।” এরপর দারোয়ান মিশেলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে প্রথমে যা বিস্ময় ছিলো তা যেন বিভীষিকায় রূপ নিলো। কামু এখানে চমৎকার বর্ণনা দিয়ে বলেন – “নিজেদের মুক্তো আর স্বাধীন বলেই তারা (জনগণ) ধরে নিয়েছিলো কিন্তু মহামারী (অর্থাৎ স্বৈরতন্ত্র) কোনদিন কোনো মানুষকে মুক্ত বা স্বাধীন থাকতে দেয় না।” আর তারপরেই আমরা দেখি জনগণ তখনই ভাবতে শুরু করছে জীবন সম্বন্ধে এই নিশ্চিন্তভাব বদলানো দরকার। মৃত্যু এসে কড়া না নাড়া পর্যন্ত মানুষ একরকম অচেতনই থাকে। কিন্তু সমাজে কিছু কিছু মানুষ থাকেন ব্যতিক্রম, যারা অতীত বা ভবিষ্যত নয়, নিত্য বর্তমান, চলমান সংকট নিয়ে থাকেন চিন্তান্বিত, ভাবান্বিত। যারা তাদের সচেতন মনকে অচেতনের স্বপ্নীল ভাবালুতায় নিজেদের নিমজ্জিত করেন না। আর তাই প্লেগ অর্থাৎ স্বৈরশাসনের সময় মূল্য দিতে হয় তাদেরকেই সব থেকে বেশি। উপন্যাসের ডাক্তার রিও, তারু আর জোসেফ গ্রা এমনই ব্যতিক্রম কিছু চরিত্র। অন্যান্য আরো কয়েকটা চরিত্র থাকলেও স্থান সংকুলানের জন্যে আমরা এই তিনটি চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখলাম। রিও একজায়গায় গ্রা সম্পর্কে ভাবছেন কোথায় যেন পড়েছেন, এইসব ভয়ঙ্কর ব্যাধির আক্রমণের মধ্যে দুর্বল শরীরের লোকেরাই রেহাই পায় ধ্বংস হয় কেবল সবল আর তেজী মানুষেরা। অর্থাৎ স্বৈরশাসকদের প্রয়োজন শুধু বোকা, সরল আর মাথা মোটা মানুষদের, বুদ্ধিমান আর বিচক্ষণদের ধ্বংস করা হয়, পাছে স্বৈরশাসনের সব রহস্য উন্মোচিত হয়ে পড়ে তাই। প্লেগাক্রান্তত্ম মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা যখন হুহু করে বেড়ে চলে তারু রিওকে বলে – “প্লেগাক্রান্ত মানুষ বড় শ্রান্ত। কিন্তু তার চেয়েও বেশি শ্রান্তি তার যিনি প্লেগের সংস্পর্শ থেকে মুক্ত থাকতে চান। সারা পৃথিবীর মানুষ আজ তাই এত ক্লান্ত; প্রতিটি মানুষ আজ কমবেশি প্লেগের শিকার।” অর্থাৎ যারা প্লেগ থেকে মুক্তো থাকতে চান তারাই ক্লান্ত হন বেশি। কেননা, স্বৈশাসনের ভূমিতে যারা সব থেকে বেশি জেনে যায়, বেশি বুঝে ফেলে স্বৈরশাসকের শোণ দৃষ্টি তাদের দিকেই কেন্দ্রীভূত হয় সব থেকে বেশি, তাই শাস্তি পেতে হয় তাদেরই সব থেকে বেশি।

স্বৈরশাসন যখন চুড়ান্ত পর্যায়ের রূপ পরিগ্রহ করে তখনকার সময়ের অসাধারণ কিছু বর্ণনা উপন্যাসে পাওয়া যায়

. বলা চলে এই সময় থেকে প্লেগ আমাদের শহরের সকলের প্রধান চিন্তা হয়ে উঠলো। এই অ™ভূত ঘটনাগুলো শহরের বাসিন্দাদের জীবনে যতবড় বিস্ময় আর উদ্বেগই নিয়ে আসুক না কেনো এতদিন তাদের প্রত্যেকেই যথাসম্ভব অভ্যাসমতো নিজ নিজ ক্ষেত্রে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু শহরের ফটকগুলো যেদিন বন্ধ করে দেয়া হলো শুধু তখনই তারা বুঝতে পারলো যে তারা সবাই একই অন্ধকূপে বন্দী হয়েছেন।

. শহরের নৈর্ব্যক্তিক উদাসীন আকাশের নিচে সকলেই হয়ে গিয়েছিলো একান্ত একাকী। নিঃসঙ্গতার এই চরমক্ষণে কেউ প্রতিবেশীর আশা না করে নিজের সমস্যা আর চিন্তার মধ্যেই ডুবে থাকতো। কোনো শ্রোতার জবাবে সহানুভূতি বা বিদ্বেষ যাই প্রকাশ পাক না কেনো, তা সব সময় নৈরাশ্যজনক বলে মনে হতো। তারা অগত্যা গতানুগতিক মামুলি ভাষাতেই কথা বলতে শুরু করলো প্রতিদিনের খবরের কাগজের নিরুত্তাপ ভাষাতেই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হতো।

. কেউ যাতে শহরের বাইরে যেতে না পারে তাই পুলিশি টহল চললো সারা শহর জুড়ে।

. দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তায় মানুষের হৃদয় থেকে স্বাভাবিক কোমলতা হারিয়ে গেলো।

. একটা চাপা উত্তেজনা শহরটার টুটি চেপে ধরেছিলো, নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎ গুলির শব্দ সেই উত্তেজনাকে আরো অসহনীয় করে তুলেছিলো।

. প্রকৃত দুঃসময় যখন আসে তখনই বাস্তব অবস্থাটা আমরা উপলব্ধি করি, অর্থাৎ আমরা তখন নীরব হয়ে যাই, বলার আর কিছু থাকেনা। দেখা যাক, কি হয়।

. এই সময় অনেক ভূঁইফোড় নীতিবাগীশ সারা শহরে প্রচার করছিলো কিছুতেই কিছু হবেনা এবং যা অবশ্যম্ভাবী ও অনিবার্য তার কাছে নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণ করাই শ্রেয়।

. —সকলেই তখন জেনেছিলো যে কারাদণ্ড মৃত্যুদন্ডেরই নামান্তর, কারণ শহরের জেলখানার কয়েদীদের মধ্যে বেশির ভাগই মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পেতো না।

. মহামারীর মতো মামুলি বিষয় আর হয়না, আর অনেকদিন ধরে চললে অতিবড় সর্বনাশও গতানুগতিক আর একঘেয়ে হয়ে পড়ে, তাতে আর কোন নতুনত্ব থাকেনা।

১০. মুনাফাখোর, কালোবাজারির দল অগ্নিমূল্যে খাদ্রসামগ্রী বিক্রী করা শুরু করলো। এতে, শহরের গরীব লোকেরা চরম দুরবস্তায় পড়লেও ধনী সম্প্রদায় কোনো জিনিসের অভাব বোধ করেনি।

ওপরের সংক্ষেপিত বর্ণনা থেকে বুঝতে অসুবিধা হয়না, প্লেগ নামক স্বৈরাচারী সন্ত্রাস গোটা সমাজব্যবস্থাকে কীভাবে পঙ্গু করে দেয়। মানুষের বাক স্বাধীনতাই শুধু রুদ্ধ হয়না, সেই সঙ্গে রুদ্ধ হয় চিন্তার স্বাধীনতাও। মানুষ সুস্থ, স্বাভাবিক চিন্তা করতে ভুলে যায়।

তারু রিওকে জানায় এই শহরকে জানার আগেই সে প্লেগের যন্ত্রণা ভোগ করেছে (উল্লেখ্য উপন্যাসের শুরুতেই আমরা জেনেছি প্লেগের কিছুদিন আগে তারু অন্য দেশ থেকে ওরানে বেড়াতে এসেছে)। কিন্তু কিছু লোক থাকে যারা এই সত্যটা বুঝতে পারেনা বা এই অবস্থাকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়। আবার কিছু মানুষ মুক্তির জন্যে উন্মুখ হয়ে পড়ে, তারু এই শেষোক্ত দলের। তারু সে দেশে থেকে জেনে গিয়েছিলো, সেই সমাজ মৃত্যুদন্ডের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শুধু তাই নয় সেখানে চলে হত্যার প্রতিযোগিতা। হত্যার এমনই তান্ডবলীলা চলে যে, কেউ সেই নৃশংস উন্মত্ততা থেকে রেহাই পায়না। প্রতিটি দিনই মৃত্যুদিবস। তারু বলে – “আমি নিশ্চিত জানি রিও, প্রতিটি মানুষ নিজের মধ্যে প্লেগের বীজ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে, কারণ কেউ এই বিষাক্ত বীজ থেকে মুক্তো নয়। তাই প্রতিটি মুহূর্ত্তে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোন অসতর্ক মুহূর্ত্তে নিঃশ্বাসের সঙ্গে এই ব্যাধি সংক্রমিত হতে না পারে।” অর্থাৎ স্বৈরাচারী শাসন শুধু নিজেই ক্ষমতার জন্যে উন্মখ থাকে না একই সঙ্গে বিস্তার ঘটায় ক্ষমতার মহামারী। ক্ষমতার সংক্রমণ ঘটে। সকলেই ক্ষমতাবান হতে চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার অপচয় ছাড়া আর কিছুই ঘটে না। যা সবকিছুকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই স্বৈতন্ত্র নিমূর্ল করার শুধু অভীপ্সা থাকলেই চলবে না, লড়াই করলেই হবে না, বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে। যা উপন্যাসে আমরা রিও, তারু, গ্রা এবং আরো কিছু চরিত্রের সমন্বয়ে দেখতে পাই। শুধু রোগ নিরাময়ে কোন সমাধান নিহিত নেই, সমাধান নিহিত রোগ নির্ণয়ে। রোগের উৎসমুখে।

রোগের এই উৎসমুখ নির্ণয়ে লেখক আমাদের রিও আর তারুর চমৎকার কিছু কথপোকথনের মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দেন

তারু: কিন্তু এখন আমি বুঝতে পারি, আপনার কাছে এই প্লেগের তাৎপর্য কি।

রিও: হ্যা, এটা এক অন্তহীন পরাজয়।

তারু: (একটু থেমে) ডাক্তার এসব আপনাকে কে শিখিয়েছে?

রিও: দুঃখ।

(আরো বেশকিছুক্ষণ পর)

রিও: কেনো তুমি নিজেকে এখানে (প্লেগের রোগীদের সেবার মাঝে) জড়াতে চাও?

তারু: ঠিক জানি না..হয়তো ..হয়তো আমার নীতিবোধ এর জন্যে দায়ী।

রিও: নীতিবোধ? কি ধরণের নীতিবোধ?

তারু: উপলব্ধি।

উপলব্ধি” মাত্র একটি বিস্ফোরক শব্দ দিয়ে আলবেয়্যার কামু মানব সভ্যতার এক অনন্ত সমাধান যেন উপস্থাপন করে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে যায়, জীবনানন্দ দাশের ‘বোধ’ কবিতার সেই পংক্তিটি – “স্বপ্ন নয়, – শান্তি নয়, – কোন্ এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে!” এই বোধের অভাবেই পৃথিবী আজ ধ্বংসের মুখে। রিও স্থির করেন এই মহামারির মধ্যে মানুষ কি শেখে তার একটা সরল ইতিবৃত্ত রেখে যাবেন, বলে যাবেন মনুষ্য সমাজে ঘৃণ্য জিনিসের চেয়ে শ্রদ্ধেয় জিনিস অনেক বেশি আছে। তবে মানুষকে অবশ্যই আত্মতুষ্ট হলে চলবেনা, কারণ প্লেগ বা স্বৈরতন্ত্র কখনো শেষ হয়না। যুগ যুগ ধরে এই বীজ সুপ্ত অবস্থায় আসবাব আর বিছানাপত্রের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, থাকে ঘরের চোরকুটুরিতে, তোরঙ্গের মধ্যে রুমালে, বইয়ের আলমারির তাকসহ আরো নানান কোনায় শুধু বোধের মধ্যে দিয়ে সচেতন মানুষ সেই কুটুরির সন্ধান দ্রুত করতে পারে, প্রতিরোধ করতে পারে প্লেগ নামক সেই ভয়ঙ্কর স্বৈরসন্ত্রাসকে।।

১টি মন্তব্য

  1. khub shundor kekha!