Home » প্রচ্ছদ কথা » কেন ব্যর্থ হলো তারানকো মিশন

কেন ব্যর্থ হলো তারানকো মিশন

আমীর খসরু

Tarancoদেশের মানুষ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সীমাহীন মানসিক চাপ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এমনভাবে বিপর্যস্ত এবং অসহায় হয়ে পড়েছেন যে, তারা সামান্য আশাজাগানিয়া কোনো ঘটনা ঘটলেই সুখবরের প্রত্যাশা করেন। শঙ্কিতআতঙ্কিত, উদ্বিগ্ন ত্যক্তবিরক্ত এই জনগোষ্ঠী এটা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারছেন সামনে কোনো আশা নেই, ভরসা নেই। কিন্তু তারপরেও মিছে আশার পেছনে প্রত্যাশার দুয়ারটি খুলে রাখেন এই ভেবে, ওই বুঝি আসলো সুসংবাদটি। তারা সুসংবাদের প্রত্যাশী। এমনই একটি পরিস্থিতির সম্ভাবনা দেখা গেলেও তা সফল হয়নি। ব্যর্থ হওয়ায় প্রত্যেকের মনোজগতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে, হোচট খেয়েছেন সন্দেহ নেই। নেই, নেই আর নেইএর দেশে এটাই সম্ভবত নিয়তি এবং অপ্রত্যাশিত সত্য।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোও সন্তুষ্টচিত্তে, আনন্দিত মনে ঢাকা ছেড়ে ছেড়ে যেতে পারলেন না। পারলে দেশের জন্য একটি বড় উপকার তো হতোই, দুর্ভাবনা থাকতে হতো না বর্হিবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি আর ভবিষ্যৎ নিয়ে। জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিভাগের সহকারী মহাসচিব তারানকো এর আগেও দু’দফা ঢাকায় এসেছিলেন। কথা বলেছিলেন শুধুমাত্র বিবাদমান দু’পক্ষের সঙ্গেই নয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সঙ্গেও। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন স্বয়ং কয়েকদফা টেলিফোন করেছেন, চিঠি দিয়েছেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমী দুনিয়ার প্রভাবশালী দেশগুলোসহ বিশ্বের অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশগুলো ব্যাপক মাত্রায় যে উদ্বিগ্নতা উপলব্ধি করার জন্য এখন গোপন সূত্রের খবরের উপরে নির্ভর করতে হয় না। এসব শক্তিসমূহ নানাভাবে চেষ্টা করেছেন ‘সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের জন্য। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন।

শেষ চেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো ঢাকায় এসেছিলেন পাঁচ দিনের সফরে। এসে এক মুহূর্তও তিনি অপেক্ষা বা সময়ক্ষেপণ করেননি। তিনি দুই নেত্রী, দুই রাজনৈতিক দল তো অবশ্যই, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছেন দফায় দফায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেও কথা বলেছেন। কথা বলেছেন, সলাপরামর্শ করেছেন ঢাকায় বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে।

সমঝোতার স্বার্থে আলাপআলোচনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তিনি প্রথমেই চেষ্টা চালান ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল পেছানোর জন্য। এ জন্য তিনি দৌড়ঝাপ করতে থাকেন। আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনারও মোটামুটি রাজি হয়ে যান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাতে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না শেষ পর্যন্ত। যাবতীয় আইনপত্র ঘেটে, আইনজ্ঞসহ সবার এবং তার সঙ্গে আসা বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে বাস্তবসম্মত বলেই এমন চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। আর এর মাধ্যমেই তিনি প্রথম ধাক্কাটি খেলেন। দৌড়ঝাপের এক পর্যায়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয় আটক নেতাদের মুক্তি, আন্দোলনসংগ্রামের সময় দায়েরকৃত মামলামোকদ্দমা প্রত্যাহার, দলীয় কার্যালয়টি মুক্ত করা এবং সভাসমাবেশের অধিকার দেয়াসহ একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার। আর তফসিল পেছানোর দাবি তো বিএনপির দিক থেকে আগে থেকেই ছিল। তারানকো এটা মেনে নিয়ে বিএনপিকে শর্ত দিলেন, এটা যদি সরকারী পক্ষ মেনে নেয় তাহলে তারা উভয়পক্ষ অর্থাৎ সরকারী পক্ষের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি কিনা। বিএনপির নেতারা তাদের নেত্রী বেগম জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিলেন, এই আলোচনা চালিয়ে যেতে তারা রাজি। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে হোটেল সোনারগাঁওয়ে আলোচনা হয় অস্কার তারানকোর। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের এ ব্যাপারে নীতিগত কোনো আপত্তি নেই, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ওই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বরং পাল্টা একটি প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে আগে হরতালঅবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং তারা ভবিষ্যতে এমনটা আর করবে না এমন ঘোষণা দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এমন ইঙ্গিতও দিলেন যে, ওই গুচ্ছ প্রস্তাব মানা হতে পারে যদি তার অধীনে নির্বাচনে বিরোধী দল রাজি হয়। এ নিয়েও অচল অবস্থা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে আবার অস্কার তারানকো আওয়ামী লীগকে প্রস্তাব দিলেন অন্তত তারা বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে কিনা। আওয়ামী লীগ রাজি হলেও তাদের বক্তব্য স্পষ্ট হতে থাকে। তারা বলতে থাকেন, তফসিল পেছানো যাবে না, বিএনপিকে অবরোধহরতাল প্রত্যাহার করতে হবে এবং নির্বাচনটি শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। এসব নিয়ে যখন প্রকাশ্যঅপ্রকাশ্যে বৈঠক এবং যোগাযোগ চলছে, তখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠানো হয় যার মোদ্দা কথা অবরোধসহিংসতার মধ্যে আলোচনা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা এবং জানানো হলো, চলমান আলোচনা সম্পর্কে বা এ বিষয়ে কোনো কথা প্রকাশ না করার শর্ত আওয়ামী লীগ ভঙ্গ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা ক্রমাগতভাবে ওই আলোচনার বিষয়গুলোর বিরুদ্ধেই কথা বলতে শুরু করলেন, যদিও তারা এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা প্রকাশ্যে উল্লেখ করলেন না।

জাতিসংঘ দূত তারানকোর প্রস্তাব ছিল যদি প্রথম পর্যায়ের এ সব বিষয় নিয়ে সমঝোতা হয় তাহলে দ্বিতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ নির্বাচনকালীন সরকারটির রূপরেখাসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু প্রথম দফায়ই যখন ইতিবাচক কোনো সাড়া মিললো না, তখন বিএনপি মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে অবরোধের সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়।

তারানকো এ পর্যায়ে প্রথমে ভারতীয় হাইকমিশনার এবং এরপরে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

প্রথম পর্যায়ের গুচ্ছ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার যখন কোনো অগ্রগতি হলো না সেখানে দ্বিতীয় দফার আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুই করা যায়নি। জাতিসংঘ মনে করেছিল, যদি সরকার প্রধান কে থাকবেন তা ঠিক করা যায়, তাহলে নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠনসহ অন্যান্য বিষয়গুলোর নিষ্পত্তিতে কোনো বেগ পেতে হবে না, সহজেই এটা সম্ভব হবে।

যদিও নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা অর্থাৎ কার অধীনে নির্বাচন সে ব্যাপারে কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব বা অপশন রাখা হয়েছিল। জাতিসংঘের এই সমঝোতা মিশন এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক কিছু আলোচনাও করেছিল বিবাদমান দু’পক্ষের কয়েকজন নেতার সঙ্গে এবং এর বাইরেও এটা নিয়ে কমবেশি কিছুটা আলোচনা হয় ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য। প্রধানমন্ত্রীকে রেখে যখন নির্বাচনে যেতে বিএনপিসহ অন্যান্যরা কেউ রাজি নন, এমনকি এরশাদও নন তখন এ বিষয়টিও চিন্তায় এবং অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পর্যায়ে আসে। আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এ ব্যাপারে তীব্র আপত্তি ছিল এবং তার এ আপত্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায় এ খবরটি পাওয়ার পরে। তখন বিকল্প আরো কয়েকটি বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয় যেমন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কিন্তু নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে এবং তারাই নির্বাচনটি সম্পন্ন করবে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায়। রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচনকালীন সরকারটি গঠনের আরেকটি প্রস্তাবও বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ নেতারা এ সমস্ত বিষয়গুলো জানতেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব জেনে তারা এ ব্যাপারে কোনো কথাই বলেননি।

কিন্তু প্রথম পর্যায়ের আলোচনা কোনোক্রমেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে দ্বিতীয় পর্যায়ের এসব বিকল্পগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনাই হয়নি। কিন্তু এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ তার চিরাচরিত কৌশল গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ মাধ্যমসহ দেশীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে এমনটা প্রচারণা চালাতে থাকে যে, প্রধানমন্ত্রীকে রেখেই জাতিসংঘ সমঝোতা মিশন সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তারা এমন কৌশলও গ্রহণ করলো এবং কয়েকজন নেতা তারানকো ঢাকায় থাকতে থাকতেই ‘বিএনপি সমঝোতা ভঙ্গের জন্য দায়ী’ বলে বক্তব্য দিতে থাকেন। সরকারীভাবেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের টেলিফোন আলাপটি নিয়ে এমনভাবে প্রচারপ্রচারণা করলো, যাতে মনে হয় সরকারের কার্যক্রমে তারা সন্তুষ্ট বলেই এমন টেলিফোন দুটি এসেছিল।

কার অধীনে নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন যে সঙ্কট তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে অন্তরায়টি কি সে সম্পর্কে আমাদের বুধবার আগেই পাঠকদের অবহিত করার চেষ্টা করেছে (কার অধীনে নির্বাচন মূল সঙ্কটটি সেখানেই শীর্ষক বিশ্লেষণ ৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে প্রকাশিত হয় এবং বর্তমান সংখ্যায়ও এ লেখাটি রয়েছে)। এ বিষয়ে আবারও বলা প্রয়োজন যে, ওই বিশ্লেষণে নির্বাচনের তফসিল পেছানো বা পুনঃতফসিলীকরণ কিভাবে সম্ভব সে সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সঙ্কটটি রয়েই গেছে।

ঢাকায় কূটনৈতিকসহ বিভিন্ন সূত্র বলছে, প্রথম পর্যায়ের প্রস্তাবগুলো মানা হয়নি কারণ তাহলে কার অধীনে বা কোন সরকারের অধীনে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়টি সামনে চলে আসতো। আর এ কারণেই দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনাটি আদৌ শুরু হোক তা চাওয়া হয়নি।

এখন যে জটিল এবং মারাত্মক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে যতো কিছুই হোক সরকার ৫ জানুয়ারির একদলীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু ওই নির্বাচনটি অভ্যন্তরীণভাবে তো নয়ই, আন্তর্জাতিকভাবেও গ্রহণযোগ্যতা ও বৈধতা পাবে না, একটি দেশ বাদে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষকও আসবেন না। যদি কোন টেকনিক্যাল টিম আসেও তারা নির্বাচনটির দোষত্র“টি পর্যালোচনাপর্যবেক্ষন নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন, এটা নিশ্চিত।

আর জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর ঢাকা মিশন সম্পর্কে তিনি লিখিতভাবে রিপোর্ট করবেন জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে। এরপরের ব্যবস্থাগুলো কি হবে তা নির্ধারিত হবে যথাসময়ে। তবে এ নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি হবে প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে আলাপআলোচনা এবং অনুমোদন সাপেক্ষে। এক্ষেত্রেও সম্ভাব্য কি কি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের বুধবার ৩০ নভেম্বর একটি বিশ্লেষণে (জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন শীর্ষক বিশ্লেষণটি পাঠকের সুবিধার্থে এ সপ্তাহেও কোনো ধরনের সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে)

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন না জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বা অন্য কিছু তার জন্য আর কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে। যদিও আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী নিউইয়র্ক টাইমস এক সম্পাদকীয়তে বলেছিল বাংলাদেশে সংঘাতসংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও হতে পারে।

তবে এখন বলা হচ্ছে, সংলাপ অব্যাহত থাকবে। শুক্রবারে একটি আলোচনা হতে পারে দু’পক্ষের মধ্যে। তবে এর কার্যকারিতা কি হবে বা স্থায়ীত্ব কতোটুকু হবে, তা নিয়ে দেশবাসী দারুণভাবে শঙ্কিত। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, তারানকোর সমঝোতা মিশন সফল না হওয়ায় সমঝোতার আশাটি ছেড়ে দিয়েছেন দেশবাসী প্রায় সবাই। এখন শুধুই দুর্ভাবনা আর কতো সংঘাত, সহিংসতা, নৈরাজ্যের দিকে এগিয়ে যাবে দেশটি। সবাই অপেক্ষায় আছেন যদি সঙ্কট সমাধানের অলৌকিক কিছু ঘটে, আর সমাপ্তি ঘটে চলমান দুঃস্বপ্নের।।