Home » আন্তর্জাতিক » বিদায় মহানায়ক ম্যান্ডেলা

বিদায় মহানায়ক ম্যান্ডেলা

হায়দার আকবর খান রনো

nelson-3মানব জাতির ইতিহাসে, বিশ্ব ইতিহাসে যে কয়জন মহাপুরুষ ইতিহাস নির্মাণ করেছেন, সভ্যতার দীপশিখাকে প্রজ্জলিত করেছেন, মানব মুক্তির পথ দেখিয়েছেন, নেলসন ম্যান্ডেলা তাদের একজন। ৯৫ বছর বয়সে এই মহাপুরুষ ও বিপ্লবী নেতার মৃত্যুতে প্রায় শতাব্দীব্যাপী ইতিহাসের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। এই অধ্যায় হলো মানব সভ্যতার কলঙ্কের অধ্যায়। আবার একই সঙ্গে অপরাজেয় মানুষের সংগ্রাম ও বিজয়ের অধ্যায়। কৃষ্ণ আফ্রিকার দুই প্রতীকী নাম লুমুম্বা ও ম্যান্ডেলা। কঙ্গোর স্বাধীনতার মহান নেতা লুমুম্বাকে হত্যা করেছিল পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকরাই মার্কিন, বৃটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম পশ্চিমা দেশের শাসকরা যারা সভ্যতার গর্ব করে চরম বর্বরতার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। একই ভাবে ম্যান্ডেলাকেও তারা হত্যা করতে চেয়েছিল। ২৭ বছর জেলের অন্ধ প্রকোষ্টে রেখে তাকে মারতেই চেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসক ও তাদের মদদদানকারী ইঙ্গমার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।

কিন্তু ইতিহাস সাম্রাজ্যবাদ ও শোষকদের ইচ্ছা মতো চলে না। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে ইতিহাস রচনা করে মানুষ। সংগ্রামী মানুষ। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী ফাসিস্ত শ্বেতাঙ্গ পুঁজিবাদী শাসকরাও শেষ পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে যে বর্ণবিদ্বেষী, সভ্যতার বিধ্বসী পশ্চিমা শাসকরা লুমুম্বাকে হত্যা করেছিল, তারাই নব্বইয়ের দশকে এসে বাধ্য হলো ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষকেই মুক্তি দিতে। তারপর থেকে আফ্রিকার বুকে যে নতুন ইতিহাস রচিত হতে চলেছে, তারও নির্মাতা ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা।

পশ্চিমা ইউরোপ ও পরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আফ্রিকাকে নিয়ে যে অমানবিক কারবার করেছে, যেভাবে হত্যা, লুণ্ঠন ও আধুনিক যুগে দাসশ্রমের প্রচলন করেছিল, তা ছিল সভ্যতার ধ্বংসকারী মানবতাবিরোধী কলঙ্কের অধ্যায়। তথাকথিত ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ কিভাবে আফ্রিকাকে লুণ্ঠন করেছে, ধর্ষণ করেছে, অপমানিত করেছে, রক্তাক্ত করেছে, তার চিত্র অঙ্কন করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে

নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে

এল মানুষ ধরার দল

গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।

সভ্যের বর্বর লোভ

লগ্ন করলো আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।’

পুঁজিবাদী ইউরোপ থেকে লুণ্ঠনকারীরা এসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় ঊনবিংশ শতাব্দীতে। লুণ্ঠনকারীদের নিজেদের মধ্যে আবার লুণ্ঠনের ভাগ নিয়ে বাগড়া ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমে এসেছিল অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সাদা চামড়া লুণ্ঠনকারী। এদেরকে বলা হতো বুয়ার্স। তারা আফ্রিকায় কালো মানুষদের উচ্ছেদ করে রিপাবলিকান গঠন করেছিল ট্রান্সভালে। ১৮৬০ দশকে ওরেন্ধ বিভারে হিরকের খনি এবং ১৮৮০ দশকে ট্রান্সভালে স্বর্নের খনি আবিস্কৃত হয়েছিল। বৃটিশদের নজর পড়লো। উপরন্তু কায়রো থেকে কেপটাউন পর্যন্ত রেলওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল গোটা মহাদেশকে লুণ্ঠনের প্রয়োজনে। ফলে তারা বুয়ার্সদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা দখল করে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই এই ঘটনা। ১৯১০ সালে ট্রান্সভাল, ওরেঞ্জ ফ্রি স্টেট এবং ইতিপূর্বে দখলিকৃত কেপ কলোনী ও নাটায়কে একত্রিত করে, দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিয়ন নামে এক নতুন ডোমিনিয়ন স্টাটাসের রাষ্ট্রের জন্ম দিল। পরে তারা দেশটিকে স্বাধীনতা দিয়েছিল এই অর্থে যে সেখানে বসবাসকারী সংখ্যালঘু (মাত্র চার শতাংশ) শেতাঙ্গের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিল। এই সংখ্যালঘু শেতাঙ্গদের শাসন ছিল চরমভাবে ফাসিস্ত ও বর্ণবাদী। যাদের দেশ সেই কৃষ্ণাঙ্গদের কোনো অধিকারই ছিল না। তারা ছিল দাসস্বরূপ।

এখানে উল্লেখ্য যে, আধুনিক যুগে পুজিবাদ এবং বিশেষ করে মার্কিন ও বৃটিশরা দাস প্রথা প্রবর্তন করেছিল। বৃটিশ বনিকরা আফ্রিকা থেকে পশু শিকারের মতো মানুষ শিকার করে আমেরিকার হাটে বিক্রি করতো। বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশক পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চরমভাবে বর্ণবাদ ছিল। সেই দেশে কৃষ্ণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বহু সংগ্রাম করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় স্বল্পসংখ্যক শেতাঙ্গ পুরো দেশটিকে বন্দীশালা এবং সকল মানুষকে দাস বানিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শাসন হিটলারের ফ্যাসিবাদের চেয়েও নিকৃষ্ট ছিল। সেই কারণে তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকারকে বয়কট করলেও যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি প্রভৃতি শাসক রাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী রাষ্ট্রকে মদদ দিয়ে এসেছে। এটাই প্রমাণ করে পশ্চিমা পুজিবাদীরা কি ধরনের মানবতাবাদী বা গণতান্ত্রিক। অন্যদিকে সমাজতন্ত্র যে সব ধরনের শোষণ নিপীড়ন এবং বর্ণবৈষম্যসহ সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে তারও প্রমাণ পাওয়া যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস থেকে। কারণ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য আফ্রিকার জনগণ যে লড়াই করে আসছিলেন , তা বিশেষভাবে সমর্থন পেয়েছিল সোভিয়েতচীনসহ সমাজতান্ত্রিক শিবির থেকে। নৈতিক, রাজনৈতিক, আর্থিক ও অস্ত্রবল সব রকম সহযোগিতাই করেছিল সমাজতান্ত্রিক শিবির। ষাটের ও সত্তরের দশকে সমাজতান্ত্রিক শিবিরে বিভক্তি থাকলেও উভয় অংশই দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রামী সংগঠন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসকে অর্থ, অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছিল।

ম্যান্ডেলার জন্ম হয়েছিল সেই ঘোর বর্ণবাদী ঔপনিবেশিক যুগে ১৯১৮ সালে। তখন দক্ষিণ আফ্রিকায় অধিকাংশ মানুষ ছিল শ্বেতাঙ্গ শাসকদের জন্য সস্তা শ্রমের সরবরাহকারী এবং শিক্ষার প্রচলন ছিল না বললেই চলে। ম্যান্ডেলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি লাভ করেছিলেন এবং আইন ব্যবসা শুরু করেছিলেন জোহান্সবার্গে। সেই সময় তিনি গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক ধারণার সংস্পর্শে আসেন। তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগদান করেন।

আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস ছিল তখনো পর্যন্ত একটি বৈধ রাজনৈতিক সংগঠন যারা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রচার ধর্মী আন্দোলন করে আসছিল। এই সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল ১৯১২ সালে। অবশ্য আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) নামটি গ্রহণ করেছিল ১৯২৩ সালে। ১৯৪৪ সালে ম্যান্ডেলা এএনসিতে যোগদান করেন এবং এর যুব সংস্থা গড়ে তোলেন। পঞ্চাশের দশকে তিনি মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং এই মহান মতাদর্শের প্রতি সারাজীবন শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি বরাবর কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে একত্রে কাজ করেছেন। তবে তিনি সরাসরি দক্ষিণ আফ্রিকার কমিউনিস্ট পার্টি (এসএসিপি)-এর সভ্য হননি। কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামকেই প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে হবে।

এএনসি দীর্ঘসময় পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। প্রথমদিকে গান্ধীর অহিংসতাবাদের প্রভাব ছিল। ম্যান্ডেলা গান্ধীর মতো অহিংস নীতিকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ না করলেও এক পর্যায় পর্যন্ত এটাকেই বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ফাসিস্ত শ্বেতাঙ্গ শাসকদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শান্তিপূর্ণ পথ কখনই এমন পথ হতে পারে না। বস্তুত ভারতবর্ষেও আপোসের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা এসেছিল তাও অহিংসা নীতির জন্য নয়। বহু ধরনের সশস্ত্র সংগ্রাম ও বৃটিশ শাসকদের বাধ্য করেছিল আপোসের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিতে। যাই হোক, শান্তিপূর্ণ সংগ্রামের পথ পরিহার করে ম্যান্ডেলা ও এএনসিএর অন্যান্য নেতারা সশস্ত্র পথ বেছে নিতে বাধ্য হলেন। এএনসি ও কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৬১ সাল থেকেই সশস্ত্র শাখা গড়ে তুলেছিল। সমাজতান্ত্রিক শিবির (চীনসোভিয়েতসহ) এবং আফ্রিকার অন্যান্য স্বাধীন দেশ তাদেরকে অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়ে সহায়তা করেছিল।

নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৬২ সালে বর্ণবাদী সরকার কর্তৃক গ্রেফতার হন এবং তাদের বিচার, তিনি পাঁচ বছর জেল খাটেন। এরপর ১৯৬৪ সালে তিনি আবার গ্রেফতার হন এবং বর্ণবাদী শাসকরা তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছিল। ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৯০ সাল টানা ২৭ বছর কারাগারে ছিলেন। অধিকাংশ সময়ই নিঃসঙ্গ অবস্থায়।

এএনসি ও কমিউনিস্ট পার্টির সশস্ত্র সংগ্রাম, দেশের অভ্যন্তরে গণআন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইঙ্গমার্কিন শক্তি ও শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু সরকার বাধ্য হলো নেলসন ম্যান্ডেলাকে মুক্তি দিতে। যৌবনে কারাগারে গিয়ে তিনি বৃদ্ধ হয়ে বেরিয়ে এলেন। কারাগারে থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের হৃদয়ের মধ্যে তিনি অবস্থান করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ শাসনের বদলে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো। ম্যান্ডেলা প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে আসেন এবং সরাসরি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তবু আফ্রিকার সমস্যা নিয়ে ভাবতেন এবং কাজ করতেন।

ম্যান্ডেলার রাজনীতি ও রাজনৈতিক কাজ সম্পর্কে কয়েকটি কথা এখানে বলা দরকার। প্রথমত. তিনি কেবল একজন সংগ্রামী ও শাসকদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অত্যাচার সহ্যকারী রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইতিহাসের বিশেষ ব্যতিক্রমী মানুষ যারা তাদের সেস্টসম্যানশিপ, দূরদর্শিতা ও নতুন আদর্শ দ্বারা জনগণকে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দ্বিতীয়ত. তিনি অহিংস আন্দোলন ও সশস্ত্র সংগ্রাম দুটোই করেছেন। বাস্তব অবস্থা অনুসারে সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছেন। তৃতীয়ত. তিনি মার্ক্সসবাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, যদিও এএনসি কোনো মার্কসবাদী দল নয়। চতুর্থত. সংগ্রামের সকল পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে সরকারি অবস্থানে থাকার সময়ে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে একযোগে কাজ করে গেছেন। একমাত্র সান ইয়েৎসেন ছাড়া আর কোনো জাতীয়তাবাদী নেতার এই ধরনের ভূমিকা দেখা যায় না। অবশ্য আমাদের দেশের মওলানা ভাসানীকেও আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে। যদিও ভাসানী কখনও রাষ্ট্রক্ষমতায় যাননি। কিন্তু তিনিও ছিলেন সান ইয়েৎসেন অথবা ম্যান্ডেলার মতো জাতীয় নেতা। জাতীয়তাবাদী নেতাও বটে। একই সঙ্গে সমাজতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল , যিনি বটবৃক্ষের মতো কমিউনিস্টদের আশ্রয় দিয়েছেন, ভালবাসেন।

পঞ্চমত. ম্যান্ডেলা বিপ্লবী ও বাস্তববাদী (বিপ্লবী মাত্রই বাস্তবাদী হতে বাধ্য)। তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিহিংসামূলক আচরণ করেননি। তার এই নৈতিক দিকটি বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছিল। উপরন্তু তিনি জানতেন যে, অর্থনীতির অনেকগুলো বড় জায়গা তখনো শ্বেতাঙ্গদের হাতে রয়েছে যা দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের পশ্চাৎপদতা ও বাস্তবতার কারণে হঠাৎ করে কেড়ে নেয়া যাবে না। তবে লক্ষ্য হিসেবে সমাজতন্ত্র অপরিবর্তিত ছিল। সমাজতন্ত্রের প্রতি তার এই অঙ্গীকার মার্কসবাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং কমিউনিস্টদের সঙ্গে অটুট মৈত্রীর নীতি, তিনি সারাজীবন রক্ষা করে গেছেন। ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ যে ধরনের সমাজতন্ত্রের বুলী আওড়িয়ে ছিল অথবা ইন্দিরা গান্ধী যে মেকি সমাজতন্ত্রের স্লোগান তুলেছিলেন তেমন ভন্ডামিপূর্ণ ছিল না ম্যান্ডেলার সমাজতন্ত্র। কথায় ও কাজে একই মানুষ। নীতিনিষ্ঠ, বিপ্লবী ও সজীব প্রাণর মানুষ, শত অত্যাচারেও যাকে ভাঙা যায় না। বিপ্লবী চেতনার পাশাপাশি ছিল অসাধারণ বিচক্ষণতা, বাস্তববোধ ও দূরদর্শিতা। উদার মনের মানুষ। আগাগোড়া সৎ এবং গণতান্ত্রিক। এক কথায় পৃথিবীতে যে কয়জন ইতিহাস সৃষ্টিকারী মহাপুরুষের জন্ম হয়েছে, নেলসন ম্যান্ডেলা তাদের অন্যতম। বিশ্ব ইতিহাসের এক মহানায়কের জীবনাবসান ঘটেছে। কিন্তু তার নীতি আলোকবর্তিকা হয়ে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকাই নয় অথবা শুধু আফ্রিকা মহাদেশই নয়, গোটা বিশ্বকে পথ দেখাবে। সে পথ হলো সভ্যতার উচ্চতর সোপানে উত্তরণের।।