Home » অর্থনীতি » শ্রমিক অসন্তোষে গার্মেন্টসের অর্ডার চলে যাচ্ছে ভারতে

শ্রমিক অসন্তোষে গার্মেন্টসের অর্ডার চলে যাচ্ছে ভারতে

fashion-indiaবাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এ খাত ভয়াবহ এক সঙ্কটের মুখোমুখি। এ সঙ্কটের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ পশ্চিমী দুনিয়ার ক্রেতারা এখন ঝুঁকে পড়েছে ভারতের দিকে। ভারতই লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশের এই অসন্তোষে। আর ভারতের ইকোনমিক টাইমস ৫ ডিসেম্বর এক প্রতিবেদনে সে তথ্যই দিয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য সুবিধাজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ইকোনমিক টাইমস পত্রিকা জানায়, আসন্ন গ্রীষ্মকালীন মওসুমের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্ডারগুলো বাংলাদেশের বদলে ভারতে চলে যাচ্ছে। ভারতীয় পোশাক রফতানিকারকদের জন্য বিষয়টি বেশ লাভজনক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। রফতানি বাজারের বিশাল অংশটি দখল করতে ভারতীয় বস্ত্র রফতানিকারকরা নানামুখী কার্যক্রম চালাচ্ছেন এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

ভারতীয় বস্ত্র শিল্প কনফেডারেশনের (সিআইটিআই) সাধারণ সম্পাদক ইকোনমিক টাইমসকে জানান, ‘আমরা যদিও অন্য কোনো দেশের সমস্যা থেকে সুবিধা নিতে চাই না, কিন্তু তবুও এটা সত্য যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্ডারগুলো (বাংলাদেশ থেকে) ভারতে আসছে। এটা আমাদের পোশাক রফতানিতে সহায়ক হচ্ছে।’

পত্রিকাটি জানায়, ডলারের হিসাবে চলতি অর্থ বছরের এপ্রিলঅক্টোবর সময়কালে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৫ ভাগ বেড়ে ৮,২৫৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর রুপির হিসাবে একই সময়ে ভারতের বস্ত্র রফতানি ২৬.১৮ ভাগ বেড়ে ৪৯.০৯৬ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৮,৯১১ কোটি রুপি।

বাংলাদেশের তৈরিপোশাক শিল্পে শ্রম অসন্তোষের কারণে ভারতের বৃহত্তম নিটওয়্যার হাব তিরূপুরের রফতানিকারকেরা বিপুল সামগ্রী রফতানি করছেন। আগের বছরের তুলনায় অর্ডার অনেক বেড়েছে।

তিরূপুর এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের সিইও সঞ্জয় কুমার গুপ্ত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ উভয়ই ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বেরিয়ে আসছে, ফলে অর্ডার বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মন্দাকালে তিরূপুরের ইউনিটগুলো অনেকটাই অব্যবহৃত ছিল। তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, ইউনিটগুলো অর্ডারের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে।

সাউদার্ন ইন্ডিয়া মিলস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কে সেলভারাজু বলেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেই নয়, চীনও বিপুল পরিমাণ সুতা, কাপড় ও বস্ত্র আমদানি করছে। ফলে এখন দেশের (ভারত) বস্ত্র শিল্প ভালো অবস্থায় রয়েছে।

পত্রিকাটিতে বলা হয়, সম্প্রতি শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কম্বোডিয়ার পর্যায়ে উপনীত হলো। এতে করে বিশ্ববাজারে এখন বাংলাদেশ কম প্রতিযোগী হবে।

ভারতের অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এইচ কে এল মাগু বলেন, আগে বাংলাদেশ ও ভারতীয় বস্ত্র রফতানির মধ্যে মূল্য সূচকে পার্থক্য ছিল ২০ ভাগ। এখন বাংলাদেশে বেতন বাড়ানোর ফলে এই ব্যবধান অনেকটাই কমে গেল। ভারতীয় বস্ত্র রফতানিকারকেরা এখন আসন্ন গ্রীষ্মকালীন মওসুমের জন্য অতিরিক্ত অর্ডার গ্রহণ করছে। এছাড়া রুপি এখন ডলারের বিপরীতে ৬১৬১ পর্যায়ে নেমে আসায় প্রেক্ষাপটে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। রুপি যখন ৬৮ পর্যায় স্পর্শ করবে, তখন বিদেশি ক্রেতারা তাদের চুক্তি নতুন করে পর্যালোচনা করবে। এখন রুপি ভালো অবস্থায় থাকায় আমরা চুক্তিগুলো নতুন করে করছি।।