Home » শিল্প-সংস্কৃতি » ক্ষমতা আর নির্যাতনের প্রামাণ্যচিত্র – ‘দ্য টল ম্যান’

ক্ষমতা আর নির্যাতনের প্রামাণ্যচিত্র – ‘দ্য টল ম্যান’

(পুনঃমুদ্রণ…)

ফ্লোরা সরকার

cravits২০০৪ সালের ১৯ নভেম্বর। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পূর্ণ ছোট্ট দ্বীপ পাম। সেই দ্বীপের অস্ট্রেলিয়ান এক আদিবাসী নাম ক্যামেরন দুমেগি। অন্যান্য দিনের মতো মাছ ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে ক্যামেরন দেখেন এক আদিবাসীকে দুজন পুলিশ (দুজনের মধ্যে একজন আদিবাসী পুলিশ ছিলেন) গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। এটা দেখে ক্যামেরন নিজেকে সংযত রাখতে পারলেন না। কর্তব্যরত সিনিয়ার পুলিশ সার্জেন ক্রিস হার্লির সামনে সেই আদিবাসী পুলিশকে অভিসম্পাত দিতে থাকেন। সার্জেন তখন তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পুলিশ কাস্টডিতে থাকাকালীন সময়ে মাত্র পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর জানা গেল ক্যামেরন মারা গেছে। মারা যাবার কারণ সম্পর্কে বলা হয় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, যে রক্তক্ষরণ গাড়ি দুর্ঘটনায় সাধারণত ঘটে থাকে সেই কারণে ক্যামেরনের মৃত্যু হয়েছে। ক্যামেরনের এই ঘটনা সেই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার শ্বেতাঙ্গ এবং অশ্বেতাঙ্গ সহ আদিবাসীদের মাঝে প্রচন্ড আলোড়ন তোলে। কেননা ক্যামেরনের মৃত্যু, হত্যা নাকি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু তা নিয়ে প্রচন্ড বিতর্ক ওঠে। এবং সেই সঙ্গে পাম অধিবাসীদের মধ্যে রায়ট শুরু হয়, বিদ্যুৎ বেগে পুলিশ স্টেশনটি পুড়িয়ে ফেলা হয়। এতোসব ঘটনা সত্ত্বেও সেই পুলিশ সার্জেনের পক্ষপাতদুষ্ট কোন অনুসন্ধানই পামবাসীদের বিশ্বাসযোগ্য করাতে পারেনি। বরং কুইন্সল্যান্ড পুলিশ বাহিনীর তড়িৎ হস্তক্ষেপে ওই কেসটি সেই সার্জেনের পক্ষে নিয়ে যেয়ে কেসটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট বেরিয়ার রিফের প্রান্তে এই অত্যুষ্ণ দ্বীপটি সেখানকার আদিবাসীদের মাতৃভূমি হিসেবে বহু বছর ধরে পরিগণিত হয়ে আসছে। যদিও এর আছে বিতর্কিত দীর্ঘ এক ইতিহাস, যে ইতিহাসের পশ্চাতে আছে শ্বেতাঙ্গ প্রশাসক এবং অশ্বেতাঙ্গ আদিবাসীদের একটি জটিল সম্পর্ক যা গত শতাব্দীর শেষ থেকে শুরু হয়। ফলে সেখানে কোন পুলিশ অফিসার নিয়োজিত করা বেশ কঠিন একটি কাজ, যেখানে শেতাঙ্গ এবং আদিবাসীদের মধ্যে সব সময় অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস আর দ্বন্দ্ব বিরাজ করে। এই রকম এক পরিস্থিতিতে ক্যামেরনের মৃত্যু পুরো অস্ট্রেলিয়াবাসীকে বেশ নাড়া দেয়। ফলে বাস্তব এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয় কোল হুপারের ননফিকশান “দ্য টল ম্যান” বইটি। বেশ অনেকদিন পর ক্যামেরনের এই ঘটনা আবার আলোচনায় আসে যখন সাউথ আফ্রিকার নির্মাতা টনি ক্র্যাভিটজ একই নামে হুপারের বইটির ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেন তার প্রথম অসাধারণ প্রামান্যচিত্র “দ্য টল ম্যান”।

গল্প বলার ঢং এ প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে এনেছেন পরিচালক ক্র্যাভিট্জ। পাম দ্বীপের আদিবাসীদের জটিল পারিবারিক সম্পর্ক এবং ইতিহাস স্তরের পর স্তর সাজিয়ে এই ঘটনার আরও গভীরে যেতে চেয়েছেন। অত্যন্ত সূক্ষভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন ক্যামেরন দুমেগি পরিবারের দ্বন্দ্ব, ক্রোধ আর মর্মযন্ত্রণা। একই সঙ্গে হুপারের গল্পের মৌলিকতা বজায় রাখার জন্যে গল্পের অপরদিক সার্জেন হার্লির (যাকে কেন্দ্র করে বই এবং প্রামান্যচিত্রের নামকরণ করা হয় “দ্য টল ম্যান”) জটিল এবং বিভ্রান্তিকর চরিত্র ও কর্মজীবন তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ছবিটি গত বছর আদেলিয়াদে ফিল্ম ফেস্টিভাল সহ বেশ কয়েকটি ফেস্টিভালে ইতিমধ্যে প্রদর্শিত এবং প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ম ইন্সিটিটিউটের রশেল সেইমেনোভিচ এবং ডব্লিউ এস ডব্লিউ এস ওয়েব সাইটের কোল হুপারকে প্রামান্যচিত্রটি নিয়ে ছবির পরিচালক টনি ক্র্যাভিট্জ দুটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আমরা সেই সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্তসার আমাদের বুধবারের পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি।

.সে.আপনার এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রথমেই যা চোখে পড়ে তা হলো এমন একটি রূঢ় ঘটনার প্রেক্ষাপটে পাম দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সরাসরি তুলে এনেছে। এই তুলে আনার পেছনে আপনার উদ্দেশ্য কি ছিল?

ক্র্যাভিট্জছবিটি শুরুর আগে পাম দ্বীপ নিয়ে যখন গবেষণা করছিলাম তখনই দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে আকর্ষণ করে। বিপরীত দিকে যে কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে ছবিটি নির্মিত হবে তা অত্যন্ত করুণ। দ্বীপটি যেন পোস্টকার্ডে ছাপা ছবির মতো। তখন আমি স্থির করলাম, এরকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত লীলাভূমির বিপরীতে এমন একটি ঘটনা বৈসাদৃশ্য স্থাপনে বেশ কাজে লাগানো যাবে।

.সে.মূল বইটির সঙ্গে আপনার ছবির পার্থক্যের জায়গাগুলো যদি বলেন।

ক্র্যাভিট্জমূল বইটিতে প্রচুর ঘটনার সমাবেশ আছে। যেখানে লেখিকা কোল কোল হুপারের দিনের পর দিন জিজ্ঞাবাদের অনেক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বর্তমান কাল আকারে। আর আমার ছবিটিতে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সেইসব ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয়েছে অতীত কাল দিয়ে। শুধু এই সামান্য পার্থক্যটুকু ছিল। একই ঘটনার বিবরণ বইয়ের বর্তমান এবং ছবির অতীত কাল হলেও মূল ঘটনা থেকে আমি সরে যাইনি।

.সে.কোন এক সাক্ষাৎকারে আপনি জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় আপনার বেড়ে ওঠার কথা এবং কুইন্সল্যান্ডের আদিবাসীদের অবস্থান আপনাকে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতিবিদ্বেষের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিষয়টা একটু বিতর্কিত নয় কি?

ক্র্যাভিট্জহ্যা। পাম দ্বীপের আদিবাসীরাও আমাকে একই প্রশ্ন করেছিল। কোল এর বইটি পড়ে এবং আদিবাসী মানুষের জীবন ও কর্ম দেখে, যেসব মানুষকে বাস করতে হয় বহুদূরবর্তী একটি সম্প্রদায় হিসেবে, তখন আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেলো এসব আদিবাসীদের জন্যে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস কত বড় একটা শ্রমসাধ্য কাজ। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় একই ঔপনিবেশিক প্রেক্ষাপট বিদ্যমান এবং যখন আপনি পাম দ্বীপের মতো একটি জায়গার ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করবেন তখন আপনি আবিষ্কার করবেন এই স্থানেও একই রকমের ঔপনিবেশিকতা বিদ্যমান, যেটাকে আমরা দন্ডদায়ক ঔপনিবেশিকতা বলতে পারি। ১৯২০ সালে অবাধ্য নেটিভদের থাকার জন্য এই দ্বীপটি শহরতলী হিসেবে গঠিত হয়। আমি যখন বৃদ্ধদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম যারা এই শহরতলীতে বেড়ে উঠেছেন লক্ষ্য করবেন তারা ঔপনিবেশিক পরবর্তী প্রভাবের মধ্যে যে জীবন অতিবাহিত করেছেন সেসবের কথাই বেশি বলেছেন এবং এই দ্বীপে তাদের জন্মকর্মবসবাস হলেও তাদের কাছে দ্বীপটি পুলিশি রাষ্ট্রে বসবাসের মতো এখনও মনে হয়।

.সে.ছবিটির একটি বিশেষ দিক হচ্ছে দ্বীপটির একচ্ছত্র পুলিশি ক্ষমতার অধিকার। যখন পুলিশি নির্যাতন চলে তখন শ্বেতাঙ্গ বা অশ্বেতাঙ্গ কেউ সেটার বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারেনা। অর্থাৎ একটি চরম অক্ষমতার চিত্র ফুটে উঠতে দেখি।

ক্র্যাভিট্জহ্যা। ঠিক তাই হয়। আর তাই দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ডে শুটিং চলাকালীন সময়ে আদিবাসীরা তাদের চামড়ার রংয়ের কারণে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে যথেষ্ঠ ভয় পেতেন, কেননা কথা বললে যদি পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যায় এই আশঙ্কায়।

.সে.পাম দ্বীপের আদিবাসীরা কি আপনার সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন? তারা ছবিটা সম্পর্কে কি ধরণের মনোভাব পোষণ করতেন? আশাবাদী নাকি হতাশা?

ক্র্যাভিট্জতারা ভয় পেলেও খুব খুশী মনে আমাদের সঙ্গে কথা বলতেন, বিশেষ করে ক্যামেরনের পরিবার। আমি একজন শ্বেতাঙ্গ হলেও আমার প্রযোজক ছিলেন আদিবাসীদের একটি ফিল্ম কোম্পানি, যারা এই ধরণের আরও কাজ করে থাকেন। কাজেই সবার জানা ছিল যে ছবিটি একটি আদিবাসী ফিল্ম কোম্পানির সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে যার পরিচালক একজন শ্বেতাঙ্গ। সবার ভেতর এই অনুভূতি কাজ করেছে যে ক্যামেরনকে নিয়ে এর আগে মিডিয়া কোন কাজ করেনি, বিশেষ করে তার জীবন এবং পরিবার নিয়ে। তারা এই ভেবে আনন্দিত ছিল যে ক্যামেরনের মৃত্যু ঘটনা মূল্যায়িত হবে এবং এর মাধ্যমে তাকে অভিনন্দিতও করা হবে।

কো.হু.ছবিটির বৃহৎ তাৎপর্যের দিকটি নিয়ে যদি কিছু বলেন।

ক্র্যাভিট্জছবিটি শুধু জাতি বিদ্বেষের কাহিনী নয় অর্থাৎ এমন নয় যে একজন রেসিস্ট পুলিশ কর্তৃক একজন আদিবাসীর প্রতি অক্রমন। একজন পুলিশ সার্জেন (হার্লি) যিনি গত বিশ বছর ধরে এই আদিবাসীদের দ্বীপে কাজ করে যাচ্ছে এবং ক্যামেরনকে গ্রেফতার করা হয় একজন আদিবাসী পুলিশ লড ব্যাঙ্গারুকে অভিসম্পাত দেয়ার কারণে দুটো বিষয় একত্রে মেলানো বেশ কঠিন একটি বিষয়। বিশ বছর একই দ্বীপে আদিবাসীদের সঙ্গে থাকার পরেও সামান্য একটি ঘটনায় একজন শ্বেতাঙ্গ সার্জেনের একজন অশ্বেতাঙ্গ ক্যামেরনকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি বেশ ভাবিয়ে তোলে। ঘটনাটার যতই গভীরে যেয়ে ভাবতে থাকি ততই দেখি যে এই দ্বীপের ইতিহাস শুধু ন্যায়বিচার আর শ্বেতাঙ্গঅশ্বেতাঙ্গ বিরোধের ইতিহাস নয় এর সঙ্গে আছে শ্বেতাঙ্গদের দখলদারিত্বের ইতিহাস এবং একই সঙ্গে আছে শ্বেতাঙ্গ,আদিবাসী এবং পুলিশ প্রশাসনের ভেতরকার জটিল বিরোধের ইতিহাস। ক্যামেরুনের মৃত্যু তদন্ত কাজে দেখা গেছে পুলিশের ষড়যন্ত্রমূলক আচরণ। তাছাড়া প্রতি বছর প্রচুর মানুষ এখানে পুলিশ কাস্টডিতে মৃত্যু বরণ করে। বেশকিছু লোক আমাকে জানিয়েছে পরিস্থিতি যদি বিপরীত হতো অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গের ক্ষমতা যদি আদিবাসীদের হাতে থাকতো তাহলে ক্যামেরন ছিল প্রথম সেই লোক যে উঠে দাঁড়াতো এবং হার্লিকে পুলিশ কাস্টডিতে মরে যেতে হতো। কাজেই বিষয়টি খুব সহজ ভাবে দেখার মতো নয়। এখানে যে বৃহৎ প্রশ্নটি দেখা দেয় তা হলো ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব। কেননা এসব আদিবাসীরা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসের কারণে বেশিরভাগ আদিবাসী বেকার জীবন অতিবাহিত করেন এবং সঙ্গত কারণেই ক্ষমতাহীন হয়ে থাকেন।

কো.হু.ক্যামেরনের ঘটনা দিয়ে পুলিশ এবং ন্যায় বিচার প্রসঙ্গে কি প্রকাশ পেলো?

ক্র্যাভিট্জএই বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ের শেষ দিকে আমি কোর্টে গিয়েছিলাম। দেখে যা বুঝলাম তা হলো যেসব প্রত্যক্ষদর্শী আদিবাসীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে তা পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। রয় ব্র্যামওয়েল নামের প্রধান বা রাজ সাক্ষীকে সেই নরহত্যা বিচারের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণে আনাই হয়নি। দুর্বৃত্তিপূর্ণ আচরণ এবং তিনজন নারীকে প্রহারের অযুহাত দেখিয়ে তাকে বাজে আবর্জনার মতো বাতিল করা হয় এবং জেলে ভরে রাখা হয়। কিন্তু এতে করে যে সত্য সে দেখেছে তাকে মিথ্যা বলে চালিয়ে দেয়া যায়না। তবু দেখা যায় এই ধরণের চেষ্টা তারা করেছেন।

কো.হু.কুইন্সল্যান্ডের তৎকালীন লেবার সরকার সম্পর্কে এই কেস নিয়ে আপনার কোন মতামত আছে কি? কেননা এই সরকার পুলিশকে পেছন থেকে সহযোগীতা করেছিল এবং পাম দ্বীপে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে কেসটিকে ত্রুটিযুক্ত করে তুলেছিল।

ক্র্যাভিট্জমামলাটির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে লেবার পার্টির অবস্থান সম্পর্কে আমি বিশেষ অবগত নই। তবে লক্ষ্য করেছি মামলাটি নিয়ে বেশ রাজনীতি চলেছিল। আমরা যা করেছি তা হলো মামলার রায় দর্শকের ওপর তুলে দিয়েছি। আমাদের এই আশাও ছিল যে রাজনীতিবিদ, বিচারক, আন্দোলনকারী, মেয়র এবং আরও যারা কুইন্সল্যান্ডে ছিলেন তাদের সবার ওপর জনগণের আস্থা আছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।

মামলার রায় যেদিকে যাক না কেন, ক্যামেরনের মৃত্যুজনিত ঘটনা আমাদের এটাই স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কোন দেশে যখন যে কোন ধরণের জাতিবিদ্বেষ বিদ্যমান থাকে, তা প্রকাশিত বা অপ্রকাশিত যে আকারেই থাকুক, কোন একটি ঘটনা বা দুর্ঘটনার মুহূর্ত্তে তার আকস্মিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ক্যামেরনের মৃত্যু আমাদের আরও শিক্ষা দেয়, ক্ষমতা এবং ন্যায় বিচারের দ্বন্দ্ব সর্বত্রে বিরাজ করে। সমাজের ক্ষমতাশীল অংশ সাধারণত অন্যায় করে পার পেয়ে যায় আর ক্ষমতাহীন থাকে ন্যায়বিচারের বাইরে। সমাজে যতদিন না পর্যন্ত ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচারের দ্বন্দ্বের অবসান হবে ততদিন কোন সমাজই শান্তির পথে এগিয়ে যেতে পারবে না।।

১টি মন্তব্য

  1. likhata pore vaalo laaglo!