Home » রাজনীতি » শত শত কোটি টাকার ক্ষমতার লোভবিহীন নির্বাচন

শত শত কোটি টাকার ক্ষমতার লোভবিহীন নির্বাচন

এম. জাকির হোসেন খান

political-cartoons-hasina-1আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০০৮ উল্লেখ করা হয়, “নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন পদ্ধতির চলমান সংস্কার অব্যাহত থাকবে” (দিনবদলের সনদ, প্যারা ৫.)। বাস্তবে বিতর্কিত এবং দলীয় ব্যক্তিদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনার পদে নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন দলীয়করণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে সরকার ইশতেহারের বিপরীতে তথাকথিত ‘নির্বাচনী সংস্কার’ শুরু করে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে বুদ্ধিজীবি দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্যের এক পর্যায়ে উল্লেখ করলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবই সম্ভব। বাস্তবে বিতর্কিত হওয়া নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আগামী ৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোট গ্রহণ ছাড়াই সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ১৫১ জন এমপি নির্বাচনের যে নজিরবিহীন ইতিহাস শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তৈরি করলো ১৯৯৬ সনের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ভোটারবিহীন নির্বাচনেও তা সম্ভব হয় নি। সর্বশেষ ২০০৭ এর ২২ জানুয়ারি তারিখে নির্ধারিত নির্বাচনে মাত্র ১৭ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের পদ্ধতির পরিবর্তে ‘ভোট ছাড়াই সরকার গঠনের’ যে নতুন পদ্ধতি প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকার ‘উদ্ভাবন’ করলেন তা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার এক নতুন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

দশম জাতীয় সংসদে বিজয়ী হওয়ার কূটকৌশল হিসাবে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার বিশেষকরে সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে লোক দেখানো এবং বাহ্যিকভাবে নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজন করলেও সরকারের জনসমর্থন তলানিতে থাকায় বিরোধী দল মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পায়। সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর দলদাস নির্বাচন কমিশনের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ পেতে শুরু করে।

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে গত ২৫ অক্টোবর জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ২০১৩ (সংশোধন) পাসের মাধ্যমে ২০০৭ সালের আরপিও’র ১২()(১০) অনুচ্ছেদের অনুসারে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মনোনীত প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট দলের সদস্য হিসাবে কমপক্ষে তিন বছরের সদস্যপদ থাকার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেয়া হয়। ১০ম সংসদে নির্বাচনে নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ না করে তবে দলছুট নেতাদের অনৈতিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান এবং একই সঙ্গে মনোনয়ন বাণিজ্যের পথও উন্মোচন করে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন বিএনপি এবং নাগরিক সমাজের তীব্র প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা করে সরকারের ইচ্ছায় ভূইফোড় দল বিএনএফকে নিবন্ধন এবং ধানের শীষের আদলে গমের শীষ প্রতীক বরাদ্দের চেষ্টা করে। সংবিধানের ১১৮() অনুচ্ছেদের আওতায় নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে স্বাধীন থাকার সাংবিধানিক এবং আইনী বাধ্যতার কথা বলা হলেও বাস্তবে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধানের সুস্পষ্ট লংঘন করেছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের নিরপেক্ষতা, সততা এবং সর্বোপরি বর্তমান সরকারের গণতন্ত্র রক্ষার এ হলো উদাহরণ। নবম সংসদ নির্বাচনের পর হিসাব দাখিল করতে ব্যর্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নির্বাচন কমিশনের আইনগত দায়িত্ব হলেও নির্বাচনের পর (৩১ জানুয়ারি, ২০০৯ এর মধ্যে) ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ১,৫৫৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৭৯ জন (প্রায় ২৫ শতাংশ) নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন জমা দেয়নি। নির্বাচন কমিশন সময়মত হিসাব জমা দিতে ব্যর্থদের নাম এখনো প্রকাশ করেনি। কার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন তা প্রকাশ করেনি তা স্পষ্ট।

এ প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ১০ম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রাক্কলিত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ধরা হয়। নির্বাচনের কার্যক্রম বাবদ ১৯১ কোটি টাকা খরচ ধরা হলেও নির্বাচনকালীন সময়ে ভোট গ্রহণে নিরাপত্তা নিশ্চিতেই মোট বরাদ্দের প্রায় দুতৃতীয়াংশ অর্থাত প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়। সরকারের ‘আইনী লাঠিয়াল’ পুলিশ বাহিনীর জন্যই বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪৭ কোটি টাকা এবং আনসার বাহিনীও পাবে ২০৬ কোটি টাকা। বাঁকি বরাদ্দ পাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (২৭ কোটি টাকা), বিজিবি (১৫ কোটি টাকা) এবং কোষ্ট গার্ড (৬৬ লাখ টাকা)। সংঘাতের কারণে আইনশৃংখলা বাহিনীর নির্বাচনী মাঠে অবস্থান দীর্ঘ হলে এ ব্যয়ের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক পরিকল্পনায় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১৪১৬ জন পুলিশ, আনসার এবং ভিডিপির নিয়োগ করার মাধ্যমে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাড়ে ৫ লাখ সদস্য নিয়োজিত হওয়ার কথা থাকলেও সেনাবাহিনীকে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের ২ সপ্তাহ পূর্বে আইনশৃংখলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত করার কথা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এমন একটি বিতর্কিত নির্বাচনে যেকোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে তাকে বিতর্কিত করা এবং এক বিশাল অংশের প্রতিপক্ষ বানানো কতোটা যুক্তিসঙ্গত তা ভেবে দেখার বিষয়। মাত্র ১৪৬টি সংসদীয় এলাকায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী না দ্বিগুণ নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ করা হবে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আগামি ১৯ ডিসেম্বর আইন শৃংখলা বহিনীর সভায় তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতে যেমন একদিনে নির্বাচন হয় না ভিন্ন ভিন্ন দিনে হয়, তেমন আইন বাংলাদেশে না থাকলেও এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিশাল নিরাপত্তা দিয়ে স্বল্প সংখ্যক আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নামে আদতে কি উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় সরকার?

ইতিমধ্যে, ১৫৪ জন এমপি ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হওয়ায় এবং একই সঙ্গে বিএনপি ও এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতসহ উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় সার্বিকভাবে এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। ৯০ শতাংশ ভোটারকে ভোট প্রদানের সুযোগ না দিয়ে ভোটারবিহীন এ নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোট প্রদানের সাংবিধানিক অধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সংবিধান রক্ষার দোহাই স্পষ্টত সংবিধানের লংঘন? বিশিষ্টজনদের মতে, এ নির্বাচন অনেকটা সমঝোতার মাধ্যমে টেন্ডার ভাগাভাগির ন্যায়; আবার কেউ বলেছেন যে, এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। নির্দলীয় নির্বাচনের পক্ষে নাগরিকদের দাবি উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কাটাছেড়া সংবিধানের দোহাই দিয়ে এ নির্বাচনের দায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে বহন করতে হবে। বিতর্কিত, হাস্যকর এবং গণতন্ত্র ধক্ষংশের এ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিকে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম ঝঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন আসলে কি অর্জন করতে চায় তা স্পষ্ট নয়। জনগণের করের ৬০০ কোটি টাকা অপচয়ের অধিকারই বা সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে কে দিয়েছে?

ব্যবসাবাণিজ্য, জাতীয় সম্পদ ও সর্বোপরি অমূল্য মানব সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির এখানেই শেষ নয়। দেশের নাগরিকদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফভাবে অগণতান্ত্রিক এবং মূল্যহীন এ নির্বাচনের আয়োজনের মাধ্যমে বিরোধী দলকে উস্কে দিয়ে হরতাল এবং অবরোধের মাধ্যমে ইতিমধ্যে জাতির ৫২টি কর্মদিবস নষ্ট হওয়ার দায় সরকারের। এর ফলে, প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার অর্থনীতির এ যুগে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির সাময়িক ক্ষতি এখন মধ্য এবং ক্ষেত্রবিশেষে দীর্ঘমেয়াদে হওয়ার লক্ষণ ক্রমাগত স্পষ্ট হচ্ছে। এক দিনের হরতালঅবরোধে গড়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা হিসাবে গত ৫২ দিন হরতাল অবরোধে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা, যা ২০১২১৩ অর্থ বছরের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭ শতাংশ। ইউএনডিপি’র অন্য হিসাবে হরতালঅবরোধে প্রতি দিনে ক্ষতির পরিমাণ ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; এ হিসাবে ৫২ দিনে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৩,২০০ কোটি টাকা, যা ২০১২১৩ অর্থ বছরের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ।

১৯৭২৭৫ এর রাজনৈতিক হানাহানিতে উদীয়মান পাট শিল্প ধক্ষংশ হয়েছিলো; এবার দীর্ঘমেয়াদী চলমান এ সংঘাতে রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস গার্মেন্ট শিল্পের বাজার ইতিমধ্যে ভারতে পাড়ি জমাতে শুরু করছে এবং অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতির সম্মুখীন গার্মেন্টসগুলোর মালিকানা ক্রমান্বয়ে ভারতীয় মালিকদের হাতে চলে যাচ্ছে। একসময়কার পাটের গুদামের রহস্যজনক আগুনের মাধ্যমে পাট শিল্প ধক্ষংশের ন্যায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের গার্মেন্টসে রহস্যজনক আগুনের যে সামঞ্জস্য রয়েছে তা পরিস্কার। শুধু তাই নয়, ভারতীয় মিডিয়া ইতিমধ্যে বলতে শুরু করেছে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার দরুন টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশের পরিবর্তে ভারতে আয়োজন করতে হবে। বাংলাদেশের অস্থিরতা থাকলে কার লাভ বেশি তা পরিস্কার।

নিরোদ সি চৌধুরীর আত্মঘাতী বাঙালি ‘অতি চেতনার’ আবহে নিজেদের পেটে নিজেই লাথি মেরে স্থায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ই ঢেকে আনছেনা, ট্রিগার হ্যাপী সরকারি এবং দলীয় বাহিনীর হাতে অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছে। গত ৬ মাসে রাজনৈতিক হানাহানিতে প্রায় ৫০০ নাগরিক প্রাণ হারায় এবং হাজার হাজার লোক আহত হয়। অথচ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০০৮ ইশতেহারে বলা হয়, “জনজীবনে নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। তাদের বেতনভাতা, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি এবং কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে” (দিনবদলের সনদ (প্যারা ৫.)। ১০ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার জন্য জনগণের করের টাকায় প্রাপ্ত বেতনভাতা ও অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে র‌্যাব, পুলিশ জনগণের বুকে গুলি চালাতে কুন্ঠাবোধ করছে না।

হানাহানিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নিহত হচ্ছে; এ প্রেক্ষিতে বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বললেও সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন আবার একইসঙ্গে বলছেন, ‘আমার ক্ষমতার লোভ নেই’।।

১টি মন্তব্য

  1. “ইতিমধ্যে, ১৫৪ জন এমপি ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হওয়ায় এবং একই সঙ্গে বিএনপি ও এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতসহ উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় সার্বিকভাবে এ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। ৯০ শতাংশ ভোটারকে ভোট প্রদানের সুযোগ না দিয়ে ভোটারবিহীন এ নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোট প্রদানের সাংবিধানিক অধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সংবিধান রক্ষার দোহাই স্পষ্টত সংবিধানের লংঘন? বিশিষ্টজনদের মতে, এ নির্বাচন অনেকটা সমঝোতার মাধ্যমে টেন্ডার ভাগাভাগির ন্যায়; আবার কেউ বলেছেন যে, এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। নির্দলীয় নির্বাচনের পক্ষে নাগরিকদের দাবি উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কাটা-ছেড়া সংবিধানের দোহাই দিয়ে এ নির্বাচনের দায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে বহন করতে হবে। বিতর্কিত, হাস্যকর এবং গণতন্ত্র ধক্ষংশের এ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিকে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম ঝঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন আসলে কি অর্জন করতে চায় তা স্পষ্ট নয়। জনগণের করের ৬০০ কোটি টাকা অপচয়ের অধিকারই বা সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে কে দিয়েছে?”