Home » রাজনীতি » স্বয়ংক্রিয় নির্বাচন আর অত্যাধুনিক গণতন্ত্র

স্বয়ংক্রিয় নির্বাচন আর অত্যাধুনিক গণতন্ত্র

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

political-cartoons-27বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত যা কিছুই ঘটেছে এবং ঘটছে তার কোনো কিছুই স্বাভাবিক আর সুস্থ নয়। শেষ সময়ে এসে সেই সব অস্বাভাবিক এবং অসুস্থতা চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। যা কিছু ঘটেছে এবং ঘটছে তা প্রথা ঐতিহ্য, নিয়মকানুন, সভ্যতাভব্যতা, ন্যায়অন্যায় মেনে করা হচ্ছে না। সবই অস্বাভাবিক। যদিও ক্ষমতাসীনরা এর নাম দিয়েছেন অর্জন, ঐতিহাসিক অর্জন। তাদের হিসেবে কতোদিনে ইতিহাসের দিনক্ষণ গুণতে হয়, ইতিহাস কিভাবে সৃষ্টি হয় তা জানা না থাকলেও, আমজনতার ইতিহাসের হিসেবটা ভিন্ন। ইতিহাসকে যিনি বা যারা গ্রাস করতে চান, বহু ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে যে, ইতিহাস তাদের গ্রাস করেছে। অর্থাৎ তারা ইতিহাসের নায়ক নন, খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। ইতিহাসে নাম লেখাতে গিয়ে ইতিবাচকভাবে নামটি না লেখাতে পেরে বিপরীতভাবে তাদের নাম বার বার উচ্চারিত হচ্ছে। এ কারণে ইতিহাসে মহানায়কের সংখ্যা কম থাকলেও খলনায়কের সংখ্যা অসংখ্য।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত শাসনকালে তৎকালীন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চেয়েছিলেন ইতিহাস গড়বেন ডক্টরেট প্রাপ্তি আর বিদেশ ভ্রমণে। তিনি নিঃসন্দেহে ইতিহাস গড়েছিলেন। ইতিবাচক না নেতিবাচক সেটি ভিন্ন কথা। কে কি বললো বা সাধারণ মানুষ কি মনে করে তাতে কিছু যায় আসে না এবং কখনো এমনটা হিসাবনিকাশও করা হবে না।

এ দফায় এসে তিনি নানা ইতিহাস গড়লেন। অসংখ্য ইতিহাসের মধ্যে সবশেষ ঘটনা যা তাকে নিঃসন্দেহে ইতিহাসে স্থান দেবে। এত বেশি সংখ্যক আসনে ইতোপূর্বে কোনো নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা কোথাও ঘটেছে কিনা সন্দেহ। ঘটেনি বলেই সবাই জানেন। এটা নিঃসন্দেহে হাজার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এখানে ইতিহাসে হয়তো দুটো বিষয় বিবেচনা করা হবে। এক. এমন জনপ্রিয় সরকার আর কোথাও আসেনি। দুই. ওই জনপ্রিয়তার কারণে কেউ প্রার্থী দিতেও সাহস করেনি।

খ্রিষ্টপূর্ব সাতশ বছরেরও আগে গ্রিসে নগর রাষ্ট্র ছিল। এই নগর রাষ্ট্রের সংখ্যা ছিল দেড় শতাধিক। ওই সব নগর রাষ্ট্রের মধ্যে দুটোর নাম এথেন্স এবং স্পার্টা ছিল অগ্রগণ্য। আর এ কথা সবারই জানা, সভ্যতার পিঠস্থান হিসেবে তৎকালীন গ্রিসে সমস্ত বিখ্যাত দার্শনিক, মণীষী এবং চিন্তাবিদগণ জন্মেছিলেন। অংকশাস্ত্র, জ্যোর্তিবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যাসহ সামগ্রিকভাবে জ্ঞান এবং মণীষার যে উত্থানপর্বটি তা ওই অঞ্চলেই হয়েছিল। রাজনীতি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটলের আগেপরে অনেকেই জন্মেছিলেন ওই গ্রিসে। বিশেষ করে এথেন্সের কথা ধরা যাক। এথেন্সে এক ধরনের গণতন্ত্রের চর্চা ছিল যদিও তাতে সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার ছিল না। তারপরেও ওই ব্যবস্থার মধ্যে থেকেও নানাবিধ চর্চা হয়েছিল গণতান্ত্রিক প্রথাপদ্ধতি সম্পর্কে। আর এ কারণেই ওই সময়কালে এরিস্টটল বলেছিলেন, ‘আইন যেখানে শাসন করে না সেখানে কোনো শাসন ব্যবস্থার অস্তিত্ব থাকে না।’ ( এরিস্টটল পলিটিক্স পুস্তক ৪, অধ্যায় ৪)

সেই যে গণতন্ত্রের চর্চা এরপর থেকে গণতন্ত্রের ধরণধারণ নিয়ে, একে উন্নততর করার লক্ষ্যে নানা পর্যায়ে, নানা সময়ে দার্শনিক, রাজনীতি বিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্র নায়করা বিস্তর চিন্তাভাবনা করেছেন রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং এতে জনগণের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বশীলতার প্রশ্নটি নিয়ে। আর এর এক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বশীল শাসনের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা ছিল এবং এখনও চলছে বহু দেশে। প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের সবশেষ যে বিষয়টি দেখতে পাই তাহলো, ক্ষমতাকে কতোটা বিকেন্দ্রায়ন করে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বশীলতার মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থাকে কতোটা জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যায়। সাধারণ জনগোষ্ঠীর বিষয়টি মাথায় রেখে কোনটি আসল গণতন্ত্র কিংবা কোনটি আসল গণতন্ত্র নয় এবং গণতন্ত্র অর্থাৎ জনগণের সব অধিকার কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে এ নিয়ে বিস্তর মতপার্থক্য এবং পদ্ধতিগত দূরত্ব রয়েছে, আর এ নিয়ে নানাবিধ চর্চা চলছে দুনিয়া জুড়ে। জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন (পিপলস পাওয়ার) কোন ব্যবস্থায় সুনিশ্চিত হয় তা নিয়েও যোজন যোজন পার্থক্য রয়েছে, মত এবং পথে।

তবে দুনিয়ার অধিকাংশ দেশে এখন উদার গণতান্ত্রিক ধারাটি চলছে এবং এর সঙ্গে চলছে উদার অর্থনৈতিক ধারণাটিও। কিন্তু গণতন্ত্রের বিপদটি রয়েছে নানাদিক থেকে। গণতন্ত্র চর্চার মূল বিপদটি হচ্ছে এটি নির্বাচনকেন্দ্রীক হয়ে যাওয়া। বিশ্বের নানা দেশে এখন গণতন্ত্র চর্চা নির্বাচনকেন্দ্রীক গণতন্ত্রে রূপ নিয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রীক গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা অর্থাৎ জনগণের ক্ষমতায়নের বিষয়েও নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এটা মূলত ওই নির্বাচনকেন্দ্রীকতারই সঙ্কট। যাইহোক, গণপ্রতিনিধিত্বশীল উদার গণতন্ত্র পালন করতে গিয়ে এর জনগণ কোথাও চার বছর এবং কোথাও পাঁচ বছরের একটি প্রতীক্ষা বা অপেক্ষার মধ্যে পড়ে গেছে। নির্বাচনকেন্দ্রীক গণতন্ত্রের যে সঙ্কট তাতে আরও নানান জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনকেই গণতন্ত্র বলে অগণতান্ত্রিক শাসকরা এমন পর্যায়ে প্রচারপ্রচারণা এবং কার্যক্রম চালিয়েছে জনগণের মধ্যে এমন একটা ধারণার সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তারা ওই প্রচারপ্রচারণা এবং কার্যক্রমকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। এখানে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নটি জড়িত রয়েছে। তবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

নির্বাচনকেন্দ্রীক গণতন্ত্রের যে সঙ্কট সাম্প্রতিককালে চিহ্নিত করা হয়েছে তাহচ্ছে একটি সরকার নির্বাচিত হলেই কি সরকারটি গণতান্ত্রিক হয়ে যাবে। সব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচিত হলেই একটি সরকার গণতান্ত্রিক নয়। গণতান্ত্রিক হতে হলে এ সরকারটিকে নির্বাচনকে প্রথম ধাপ হিসেবে ধরে, যে সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা কতোটা বাস্তবায়িত হলো, সুশাসন ন্যায় বিচার, সামাজিক ন্যায্যতা বিদ্যমান রয়েছে কিনা, জনগণ তার অধিকার ভোগ করতে পারছে কিনা এসব বিষয়গুলোও ওই গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত। এসব মাপকাঠিতেই একটি সরকার উদার গণতান্ত্রিক না অগণতান্ত্রিক তা নির্ভর করে। ওই সব পূর্বশর্ত পালনে যদি কেউ ব্যর্থ হয় তাহলে সেটি হয়ে যাবে ‘অনুদার গণতন্ত্র’। আর যদি নির্বাচিত সরকারটি জনগণের সকল অধিকারকে উপেক্ষা করে উল্টো জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেয় তাহলে সে সরকারটি হয়ে পড়ে স্বৈরতান্ত্রিক।

কাজেই নিজেরাই ঘোষণা দিয়ে গণতান্ত্রিক বললেই গণতান্ত্রিক হয়ে গেল এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই। যদিও বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম। এ দেশটিতে গণতন্ত্রের মানসকন্যা, গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী এসব কথাগুলো আসে ওই স্বৈরাচারী মনোভাবকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য। আর এসব কারণেই একটি নির্বাচিত সরকার এবং কথিত গণতান্ত্রিক সরকারের মধ্যে বিস্তর ফারাক ও অমিল রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের দিকে তাকালে এসব কোনো কিছুই খাটবে না। বাংলাদেশে বর্তমান যে অবস্থা চলছে তাতে দেশটি এর সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। এ ভূখন্ডে বিভিন্ন সময় নির্বাচন হয়েছে সত্যি কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকার পাওয়া যায়নি। এটা না জনগণের ভাতকাপড়সহ মৌলিক চাহিদা এবং অধিকারের প্রশ্নে কিংবা অন্য কোনো ক্ষেত্রেই হোক। এরপরেও নির্বাচন নামের একটি উৎসবের সঙ্গে আমরা পরিচিত। উৎসব এ কারণে, দীর্ঘসময় পর পর ভোট দেয়ার একটি সুযোগ পেলে তাকে উৎসব বলতেই হবে। এ উৎসব একদিনের জন্য, এরপরে আবার যেমনটি ছিল তাই। কিন্তু ১৯৯০এর পরে স্বৈরাচারী শাসককে উৎখাতের মধ্যদিয়ে একটি সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল সত্যি। কিন্তু তা আতুর ঘরেই মারা যায়। ক্রমাগতভাবে সরকারগুলো নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদী সরকারে রূপ নিতে থাকে। যা এখন স্বৈরতন্ত্রে রূপ নিয়েছে। স্বাধীনতার পরেও এমনটি একবার ঘটেছিল।

৯০এর পরে মন্দের ভালো বেছে নেয়ার লক্ষ্যে তথাকথিত নির্বাচনী গণতন্ত্রের নামে একটি উৎসবপার্বনের ব্যবস্থা ছিল। এসব নির্বাচনী উৎসবপার্বনে মানুষ অন্তত ভোট কেন্দ্রে গেছে, এতে প্রার্থী ছিল, ভোট কেন্দ্র ছিল অর্থাৎ একটা ভোট ভোট ভাব দেখাতে হতো।

কিন্তু এ ধারাটিকেও আরও আধুনিক করা হয়েছে এবং একটি এখন স্বয়ংক্রিয় নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক গণতন্ত্র হিসেবে চালু করা হলো। স্বয়ংক্রিয় নির্বাচন এবং অত্যাধুনিক গণতন্ত্র এ কারণে যে, এখানে সামান্য আগের যে সব ব্যবস্থাগুলো ছিল তাও বিদায় দেয়া হয়েছে। এখন নির্বাচন হবে কিন্তু এতে কোনো প্রার্থী থাকবে না, ভোটার থাকবে না, মোট কথা নির্বাচনে ভোটের কোনো ব্যবস্থাই থাকবে না। এসবের কোনো প্রয়োজনও নেই। তিন হাজার বছর ধরে মানব সভ্যতার যে সব অর্জন তা বড়ই বেমানান এ দেশে। এখানে একজন শাসক আসন ভাগাভাগি করে দেন যারা তার অনুগত তাদের। আর যারা অনুগত নন তাদের রাখা হয় পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে।

ব্রিটেন যাকে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, সেখানে রাজা নিজেই বিরোধী দল সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন যাকে বলা হতো ‘হিজ ম্যাজেস্টিজ অপজিশন’। আর এটা করা হয়েছিল ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশে সে ব্যবস্থাটি বড্ড বেশি সেকেলে হয়ে গেছে। এখানে বিরোধী দলের প্রয়োজন নেই, বিরোধী পক্ষের প্রয়োজন নেই, এখানে আলোচনাসমালোচনার প্রয়োজন নেই। কারণ ক্ষমতাসীনরা মনে করছে, সব ঠিকঠাক চলছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সমাবেশে বলেছেন নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির কথা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে আমরা আসন নিয়ে সমঝোতা করেছি। বিএনপি সর্বদলীয় সরকার এবং নির্বাচনে আসলে তাদের সঙ্গেও এমন সমঝোতা হতো।’ অর্থাৎ গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞাটি হচ্ছে একজন শাসক কর্তৃক কে কতো আসন পাবে তা নির্ধারণ করে দেয়া।

কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে, গণতন্ত্র চর্চার সুদীর্ঘ অধ্যায়ে এটি একটি নজির হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আর এর রূপকার নিঃসন্দেহে ইতিহাসে একটি স্থান করে নেবেন। বলতে গেলে নিয়েছেন ইতোমধ্যেই। এই অত্যাধুনিক গণতন্ত্রের মডেলের জন্য এর রূপকারকে ধন্যবাদই দিতে হয়। কারণ বাংলাদেশ কোনো ক্ষেত্রে অগ্রগামী হতে না পারলেও ভোটার এবং প্রার্থীবিহীন আসন ভাগাভাগির নির্বাচন কিভাবে করতে হয় তা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে। এ জাতিকে কেউ কোনোদিন দাবিয়ে রাখতে পারবে না।।

১টি মন্তব্য

  1. “নিজেরাই ঘোষণা দিয়ে গণতান্ত্রিক বললেই গণতান্ত্রিক হয়ে গেল এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই। যদিও বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম। এ দেশটিতে গণতন্ত্রের মানসকন্যা, গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী এসব কথাগুলো আসে ওই স্বৈরাচারী মনোভাবকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য। আর এসব কারণেই একটি নির্বাচিত সরকার এবং কথিত গণতান্ত্রিক সরকারের মধ্যে বিস্তর ফারাক ও অমিল রয়েছে।
    কিন্তু বাংলাদেশের দিকে তাকালে এসব কোনো কিছুই খাটবে না। বাংলাদেশে বর্তমান যে অবস্থা চলছে তাতে দেশটি এর সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। এ ভূখন্ডে বিভিন্ন সময় নির্বাচন হয়েছে সত্যি কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকার পাওয়া যায়নি। এটা না জনগণের ভাত-কাপড়সহ মৌলিক চাহিদা এবং অধিকারের প্রশ্নে কিংবা অন্য কোনো ক্ষেত্রেই হোক। এরপরেও নির্বাচন নামের একটি উৎসবের সঙ্গে আমরা পরিচিত। উৎসব এ কারণে, দীর্ঘসময় পর পর ভোট দেয়ার একটি সুযোগ পেলে তাকে উৎসব বলতেই হবে। এ উৎসব একদিনের জন্য, এরপরে আবার যেমনটি ছিল তাই। কিন্তু ১৯৯০-এর পরে স্বৈরাচারী শাসককে উৎখাতের মধ্যদিয়ে একটি সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল সত্যি। কিন্তু তা আতুর ঘরেই মারা যায়। ক্রমাগতভাবে সরকারগুলো নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদী সরকারে রূপ নিতে থাকে। যা এখন স্বৈরতন্ত্রে রূপ নিয়েছে। স্বাধীনতার পরেও এমনটি একবার ঘটেছিল।” Very true.