Home » বিশেষ নিবন্ধ » মহাসঙ্কটের একটি কলঙ্কিত বছর

মহাসঙ্কটের একটি কলঙ্কিত বছর

হায়দার আকবর খান রনো

people-2২০১৩ সালটি ছিল চরম রাজনৈতিক সঙ্কটের বছর। বাংলাদেশ এখন সেই সঙ্কটের মধ্যদিয়ে অতিক্রম করছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত ব্যাপক ও এত গভীর সঙ্কট আগে কখনো দেখা দেয়নি। ১৯৭৫ সালে বড় আকারের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে সত্য কিন্তু জট পাকানো সঙ্কট বলতে যা বোঝায় তা ছিল না।

শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাসহ একাধিক হত্যা ও ক্যু হয়েছে, সিপাহী অভ্যুত্থান হয়েছে, যার ছিল সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য। কিন্তু আজকের মতো সঙ্কটের জালে দেশটি জড়িয়ে পড়েনি তখনো। তখন বিশ্ব পরিস্থিতিতে ছিল দুটি বিপরীতমুখী মেরু। ’৭৫এর পরবর্তীকালে যে কয়টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছিল বাংলাদেশে তা হলো () আন্তর্জাতিক শিবিরে বাংলাদেশের অবস্থার পরিবর্তন, () কিয়দাংশে পাকিস্তানি মতাদর্শে প্রত্যাবর্তন, () একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ও বুর্জোয়া গণতাান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন এবং () শাসন ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। এই পরিবর্তন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই পরিবর্তন এসেছিল ভয়ঙ্কর রক্তক্ষয়ী ঘটনার মধ্যদিয়ে, তবু পরিবর্তনের সমীকরণটি ছিল সরল। আর সেই যুগে এই ধরনের পরিবর্তন অনেক দেশেই হয়েছিল। শীতল যুদ্ধের যুগে একাধিক অকমিউনিস্ট দেশেও বাকশালের মতো (যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ও সমর্থনযোগ্য নয়) একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল (যথা আলজিরিয়া), অন্যদিকে সিআইএ’র তৎপরতায় সামরিক ক্যুও অস্বাভাবিক ছিল না।

কিন্তু এবারের সঙ্কট ভিন্ন চরিত্রের। এখন যখন পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী জগত ভন্ডামী করে হলেও গণতন্ত্র নিয়ে বাগাড়ম্বর করছে, তখন বাংলাদেশে একটি তামাসার নির্বাচন বিশ্বের সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পর্যবেক্ষণ না পাঠানোর ঘোষণার মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জাানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করে না। এই দিক দিয়ে আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনটি (যার অর্ধেকের বেশি আসনে ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে গেছে) ইতিহাসে এটি একটি ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এই বছরটি নির্বাচনের বছর বলেই বছরের প্রথম থেকেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ঘটনাবলী আবর্তিত হয়ে এসেছে। বছরের শেষ সপ্তাহে আমরা ফেলে আসা বছরটিকে একটু পেছন ফিরে দেখার চেষ্টা করবো।

পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন একটি সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু এইবারের নির্বাচনের অসাধারণত্ব হচ্ছে এই যে, কোন নির্বাচনই হচ্ছে না। অথচ বলা হচ্ছে নির্বাচন। বলা হচ্ছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হচ্ছে, যে সংবিধান শাসকগোষ্ঠীর নিজেই নিজের সুবিধা মতো অনৈতিকভাবে পরিবর্তন করেছেন। সঙ্কটের সৃষ্টি সেখান থেকেই। সঙ্কটটি আরও জটিল হয়েছে এই কারণে যে যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হচ্ছে ঠিক এই নির্বাচনের বছরেই। বছরের শুরুতেই প্রথমেই বাচ্চু রাজাকার ও পরে ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার বিচারের রায় ঘোষিত হল। আর নির্বাচনী মাসে, বলা ভালো নির্বাচনী তামাসার খেলা যখন তুঙ্গে সেই ডিসেম্বর মাসে, যা আবার বিজয়ের মাসও বটে, তখনই ফাঁসি হলো পাকিস্তানি দালাল ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের নেতা কাদের মোল্লার।

বছর জুড়ে প্রধান খবর ছিল () যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে () নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন সংক্রান্ত প্রসঙ্গে। দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক আছে। কারণ প্রধান বিরোধী দল যারা এখন নির্বাচন বর্জন করছে, তাদের প্রধান বন্ধু হচ্ছে জামায়াত, যাদের নেতারা এখন বিচারের মুখোমুখি। অনেকেরই ফাঁসির আদেশ হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ কৌশলের সঙ্গে বিচারের রায়টিকে এমন সময় নিয়ে এসেছে, যাতে ঠিক নির্বাচনের আগে আগে ফাঁসি কার্যকরি হয়। তাহলে ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এক হয়ে দাঁড়াও’ এই স্লোগান তুলে নির্বাচনের তামাসাকে অন্যভাবে চিত্রিত করা যাবে। তখন প্রশ্ন উঠবে, গণতন্ত্র আগে না ’৭১এর অর্জন করে রক্ষা করার কাজটি আগে। এভাবেই দুটি স্বতন্ত্র ইস্যু সম্পর্কিত হয়ে গেছে।

প্রথমে দেখা যাক নির্বাচনের বিষয়টি। গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের সরকার দারুনভাবে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। দেশ পরিচালনায় দারুনভাবে ব্যর্থতা, বেপরোয়া লুটপাট (যে কারণে মন্ত্রীএমপি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সম্পদ বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে), টেন্ডারবাজি, রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাস, দলবাজী (যে কারণে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান এই সরকারকে বলেছেন বাজীকরদের সরকার), গুম, খুন, শ্রমিক নির্যাতন, পদ্মা সেতু দুর্নীতি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারী, ব্যাংক কেলেঙ্কারী সব মিলিয়ে সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায়। জনপ্রিয়তায় যে ধস নামছে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই টের পেয়েছিলেন। তাই তিনি সংবিধান থেকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানটি তুলে নিয়েছিলেন। অথচ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষেই যে জনমত রয়েছে তা বিভিন্ন জরিপ থেকে জানা যাচ্ছে। তাছাড়া ইতোপূর্বে এটি বাতিল করার দাবি তো দূরের কথা, এই প্রশ্নটি পর্যন্ত উত্থাপন করেননি কোন ব্যক্তি বা দল, এমনকি আওয়ামী লীগও নয়। অকস্মাৎ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা বিতর্কিত ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল হয়ে গেল।

এখন অবশ্য অজুহাত হিসাবে তারা বলছেন, হাইকোর্টের রায়ের কথা, যে রায়ে পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার অধীন হোক বলে আকাঙ্খা প্রকাশ করা হয়েছিল। সরকার হাইকোর্টের রায়ের অংশ বিশেষকে নিজের সুবিধা মতো ব্যবহার করছেন। কখনো কখনো হাস্যকর যুক্তিও দিচ্ছেন। বলছেন, হাইকোর্টের রায়ে একটি কথা যুক্ত ছিল, আইনটি সংসদ দ্বারা পাস হতে হবে। এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ কথা। যে কোন আইন বা সংবিধান সংশোধন অবশ্যই আপনাআপনি হবে না, তা সংসদ দ্বারা পাস হতে হবে। এটাই কী বাধা ছিল পরবর্তী দুটি নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান রাখার জন্য, যেখানে সংসদে আওয়ামী লীগের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংখ্যাধিক্য আছে। আর সংসদ সদস্যরা যে এ সিদ্ধান্তের বাইরে অন্যরকম কিছু করবেন, সে রকম আশঙ্কাও নেই, কারণ তা আইনে বাধা আছে।

আসল কথা ভবিষ্যতের নির্বাচনকে অবাধ না হতে দেয়ার জন্য আগে থেকেই ফন্দি করা হয়েছিল। স্বাভাবিক কারণেই বিরোধী দল তা মানেনি। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের এককালীন বন্ধু সিপিবি পর্যন্ত বলেছে, এটি হবে পাতানো নির্বাচন। মহাজোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলো ছাড়া আর কোন দলই এই নির্বাচনে যায়নি। এমনকি মহাজোটের অন্তর্ভুক্ত এরশাদের জাতীয় পার্টিকে নিয়ে যে নোংরা খেলা হয়েছে তাতে নির্বাচনটি আরও খেলো হয়েছে। কোন রকম একটা সমঝোতায় আসা যায় কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহল কসরৎ করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছে। তিনবার এসেছিলেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব তারানকো। কিন্তু ফয়সালা হয়নি। সমঝোতা হয়নি। আর সবচেয়ে আশ্চর্য্যরে কথা ৩০০ আসনের মধ্যে ইতোমধ্যেই ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও তার মোর্চাভুক্ত দলগুলো। অবশিষ্ট আসনে কোন নির্বাচনী আবহাওয়া নেই। এক কথায় গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়ে গেল। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা গলাবাজী করে বলছেন যে, গোল্লায় যাক নির্বাচন ও গণতন্ত্র। তাদেরকে ক্ষমতায় থাকতেই হবে। কারণ অন্যথায় জামায়াতহেফাজততালেবানরা ক্ষমতায় আসবে। সেই গানে সুর মিলিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের অংশীদার ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও সাম্যবাদী দল নামক ক্ষুদ্র তিনটি তথাকথিত বাম দল। সব রকম কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করে একই কথা বলছে ভারত এবং তার প্রতিধ্বনি শোনা গেল ওই দেশেরই পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের কণ্ঠে।

যুদ্ধাপরাদের বিচারটি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালে যারা কেবল স্বাধীনতার বিরোধীতাই করেনি, যারা দখলদার বাহিনীর সহযোগী হিসাবে গণহত্যা, ধর্ষণের মতো কাজে অংশ নিয়েছিল সেই সকল অপরাধীদের বিচার হওয়া আবশ্যক। এটা প্রতিহিংসার বিষয় নয়, এটা নৈতিকতার দিক দিয়ে জরুরি ও অবশ্য করণীয়। তাছাড়া ভাবাদর্শগত ভাবে যে পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা এখন বিচরণ করছে তাদেরকে সমূলে বিতাড়িত করা দরকার। কিন্তু আওয়ামী লীগ ঠিক সেভাবে মনে করে না।

সাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের সঙ্গে আপোস তারা অতীতে বহুবার করেছে। এমনকি ১৯৯৬ সালে তারা জামায়াতের সঙ্গে মিলে আন্দোলন করেছিল আর ২০০৬ সালে খেলাফতে মজলিসের সঙ্গে যে পাঁচ দফা চুক্তি করেছিল তা ছিল তালেবানী ভাবাদর্শের কাছাকাছি। যুদ্ধাপরাধীর বিচার এখন তাদের জন্য রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। অন্যদিকে বিএনপি আরেক ধাপ এগিয়ে জামায়াতের হাতে তুলে দিয়েছিল জাতীয় পতাকা। মন্ত্রীত্ব উপহার দিয়েছিল। জামায়াতের সঙ্গে মৈত্রী এখন অটুট আছে। বস্তুত বিএনপি এখন পাকিস্তান আমলের মুসলিম লীগে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ চেয়েছে জামায়াতকে বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে শুধুমাত্র ভোটের হিসাব থেকে। এ জন্য তারা জামায়াতের সঙ্গে গোপনে আপোসের চেষ্টাও করেছে। আপোসে আসো অন্যথায় রয়েছে ফাঁসির দড়ি। অভিজ্ঞজনরা মনে করেন যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি না দিয়ে যে যাজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল তার নেপথ্যে ছিল সেই আপোস প্রচেষ্টা। কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চ তা ভন্ডুল করে দিল।

সাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের সঙ্গে আপোস তারা অতীতে বহুবার করেছে। এমনকি ১৯৯৬ সালে তারা জামায়াতের সঙ্গে মিলে আন্দোলন করেছিল আর ২০০৬ সালে খেলাফতে মজলিসের সঙ্গে যে পাঁচ দফা চুক্তি করেছিল তা ছিল তালেবানী ভাবাদর্শের কাছাকাছি। যুদ্ধাপরাধীর বিচার এখন তাদের জন্য রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। …..আওয়ামী লীগ চেয়েছে জামায়াতকে বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে শুধুমাত্র ভোটের হিসাব থেকে। এ জন্য তারা জামায়াতের সঙ্গে গোপনে আপোসের চেষ্টাও করেছে।

এরপর আওয়ামী লীগ জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে হেফাজতে ইসলামকে দাড় করাতে চেয়েছিল। কিন্তু বড় আনাড়ির মতো তারা খেলতে গিয়েছিল। বরং তা বুমেরাং হয়ে দেখা দিল। আর অন্যদিকে হেফাজতকে ব্যবহার করলো নীতি আদর্শ বিবর্জিত প্রতিক্রিয়াশীল দল বিএনপি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েরই লক্ষ্য নিছক ক্ষমতা। নীতি আদর্শের কোন বালাই নেই। ২০১৩ সালে এই সত্যটি জনগণের কাছে আরও পরিস্কার হয়ে ধরা পড়েছে।

২০১৩ সালের শেষ দিকের ঘটনাগুলো সবারই জানা। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিজামায়াত আন্দোলন শুরু করলো। আন্দোলনের ফর্ম ছিল লাগাতার অবরোধ। সঙ্গে সহিংসতাও ছিল। ১৯৭১ সাল বাদ দিলে এমন সহিংসতা আমরা আগে কখনো দেখিনি। প্রধানত জামায়াতই এই ধরনের সহিংসতা করেছে। পুলিশের মাথা থেতলে দেয়া, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা, রেলওয়ের ফিসপ্লেট উঠিয়ে ফেলা ইত্যাদি। নিরপেক্ষ সরকারের দাবির প্রতি অধিকাংশ মানুষের সমর্থন থাকলেও এই ধরনের সহিংসতা মানুষ মেনে নেয়নি। তবে সহিংসতা যে শুধু জামায়াতবিএনপি করেছে তাইই নয়। আওয়ামী লীগও কম যায় না। খবরের কাগজের ছবিতে দেখা গেছে, পুলিশের পাশে দাড়িয়ে আওয়ামী লীগছাত্রলীগযুবলীগের কর্মীরা গুলি করছে। তাছাড়া সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাাপকভাবে গ্রেফতার করে, কোন রকম বৈধ সভার অধিকার না দিয়ে চরম নিষ্পেষন চালিয়ে যে ধরনের ফ্যাসিবাদী পরিবেশ তৈরি করেছে তাতে সকল গণতান্ত্রিক পথকে রুদ্ধ হয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদী পরিবেশ সরকার নিজেই তৈরি করেছে।

বাগাড়ম্বর হচ্ছে ফ্যাসিবাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। সরকার তার ফ্যাসিবাদী আচরণকে ন্যায্যতা দিতে চাচ্ছে মৌলবাদ ঠেকানোর শ্লোগান দিয়ে। কিন্তু গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে কি মৌলবাদকে ঠেকানো যাবে? আলজিরিয়া, মিশর, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তো সে কথা বলে না।

এই প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের একটি উদ্ধৃতি দিয়েই এই আলোচনার সমাপ্তি টানতে চাই – ‘ফাঁকি দিয়ে কোন মহৎ কাজ হয় না।’

আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হবে কিনা জাানি না। হলে বা না হলেও কিছু আসে যায় না। কারণ আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, অতএব সরকার তারা গঠন করবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এমন গণবিচ্ছিন্ন সরকার কতদিন টিকতে পারবে? অদূর ভবিষ্যতেই সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।।