Home » অর্থনীতি » যে কথা এড়িয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

যে কথা এড়িয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

sheikh-hasina-24৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্পতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। দলীয় প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ওই ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংগঠিত খাতে ৬৯ লাখ মানুষের এবং বিদেশে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। মাত্র ৩৩ হাজার ২৭৪ টাকা ব্যয় করে মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে শ্রমিক নিয়োগ, সৌদি আরবে ‘ইকামা’ পরিবর্তনের সুবাদে ৪ লক্ষাধিক কর্মী বৈধ হয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী বলেননি এ সময়ে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা কত বেড়েছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে জনসংখ্যা রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার বাজার ওপেন হলেও সরকার সেখানে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে সম্ভাবনাময় এ বাজারও হাত ছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লক্ষাধিক শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও সরকার এ পর্যন্ত পাঠিয়েছে মাত্রা ২৩ হাজার। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এখানে সীমিত করে ফেলা হয়েছে।

উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রতিশ্রুতি আওয়ামী লীগের ইশতেহারে থাকলেও বলা হয়নি কেন কোনো অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। এমনকি তার শাসনামলে ছয় শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি নেমে আসছে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি, শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা হবে। নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিধান, তাদের কাজের ও চলাফেরার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’ কিন্তু তিনি এড়িয়ে গেছেন গেল ৫ বছরে কত মানুষ আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে বিনা বিচারে।

নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন জনগণের তথ্য জানার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। সেখানে স্থান পায়নি কতোটি টেলিভিশন পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইউটিউব, ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

নির্বাচনী ইশতেহারে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে শেয়ারবজার থেকে শুরু করে ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনা। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০০ কোটি টাকার মত লোপাট হলেও ২০১০ সালে হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। সর্বস্ব হারিয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী। নেপথ্য নায়করা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে ‘ক্যাসিনোর’ সঙ্গেও তুলনা করেছেন বিশিষ্টজনেরা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন, তথ্যপ্রমাণাদির অপর্যাপ্ততা ও বিচারিক আদালতে মামলার আধিক্যের কারণে ১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজারের মামলাগুলো নি®¤ত্তি করা সম্ভব হয়নি। শেয়ারবাজারে সর্বস্ব খুঁইয়ে একাধিক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। গত কয়েক বছরে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে নানা ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে এর কোন ফলই পাওয়া যায়নি। অনেক উদ্যোগ নিয়েও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

২০১০ সালের ৫ ডিসে¤¦র শেয়ারবাজারের (ডিএসই) সূচক (ডিজিইএন) ৮ হাজার ৯০০ অতিক্রম করার পর পতন শুরু হয়। মাত্র দশ কার্য দিবসের মাথায় সূচক পড়ে যায় হাজার পয়েন্টেরও বেশি। বড় দরপতনে একাধিকবার শেয়ারবাজারের লেনদেন স্থগিত করে রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ পতন থামানো যায়নি। ২০১৩ সালের ৩ মার্চ সূচকের পরিমাণ নেমে আসে ৩ হাজারের নিচে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ জুলাই ঢাকার শেয়ারবাজারের সূচক ছিল ৪ হাজার ৩৪২ পয়েন্টে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শেয়ারবাজারের দুই বার ধসের ঘটনা আওয়ামী লীগের আমলে হয়েছে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা আরও বাড়ানো হবে। ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, কালো টাকা, চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি, টেন্ডারবাজি ও পেশিশক্তি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতিদুবৃত্তায়ন নির্মূল কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিজেদের সম্পদ, আয়রোজগার সম্পর্কে সর্বস্তরের নাগরিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি বলেননি, গেল পাঁচ বছরে দুদককে নখদন্তহীন বাঘে পরিণত করার কথা। আইন সংশোধন করে একে আরো অকার্যকর করা হয়েছে। মন্ত্রীএমপিরা মাত্রাতিরিক্ত বিত্তের মালিক হলেও দুদক কিছুই করতে পারছে না। নির্বাচনী ইশতেহারে স্থান পায়নি দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কথা। দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল বর্তমান সরকারের মেয়াদে বহুল আলোচিত ঘটনা। বিশ্বব্যাংকের দাবি অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগে ২০১১ সালের সেপ্টে¤¦র এবং ২০১২ সালের এপ্রিলে মোট দুইবার বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছিলো সংস্থাটি। কিন্তু সরকার মন্ত্রিসভায় রদবদল করলেও দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঋণ চুক্তি বাতিল না করে পর্যাপ্ত সময় দিয়েছিলো বিশ্বব্যাংক। কিন্তু সরকার তা করেনি। পরবর্তী সময়ে গত বছরের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক ঋণ চুক্তি বাতিল করলে সরকারের টনক নড়ে। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে দাবিও করে বিশ্বব্যাংক। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন সমঝোতায় বিশ্বব্যাংক ঋণ চুক্তিতে ফিরে আসার ঘোষণা দেয়। কিন্তু গত বছরের ডিসে¤¦র ১৭ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত শেষ করে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে অন্য সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। এর পর বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব আরো বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবার আগেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে অন্যান্য জালিয়াতির কথাও। সরকারের চলতি মেয়াদে জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০০২ সালে পাঁচটি ব্যাংক থেকে ওম প্রকাশ নামের এক ভারতীয় ব্যবসায়ী কারচুপি করে ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলো। ২০০৭ সালে চট্টগ্রামের নরুন্নবী নামক এক ব্যবসায়ীর জাল করা স্থানীয় এলসি দিয়ে ৬২২ কোটি টাকা গায়েব করে দেয়ার ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ২০১২ সালে ডেসটিনি গ্রুপের অপকর্মকে খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘হায় হায় কোম্পানি’ উপাধি দেয়। এর পরেই প্রকাশ পায় সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখায় (সাবেক শেরাটন শাখা) জালিয়াতির তথ্য। সোনালী ব্যাংকের ব্যর্থতাতেই হোক বা যোগসাজশেই হোক, হলমার্ক নামীয় অখ্যাত একটি গ্রুপের মাধ্যমে ২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকাসহ রূপসী বাংলা শাখা থেকে জালিয়াতি করে মোট ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। হলমার্ক ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কোন এর কর্ণধার তানভির মাহমুদের নাম জেনেছে সাধারণ মানুষ। কাগজেকলমে ৮০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী ও কোম্পানির চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম গ্রেফতারও হয়েছেন। ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর ২৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

প্রধানমন্ত্রী চারদলীয় জোট সরকারের দুর্নীতির কথা বললেও তার সরকারের আমলে মন্ত্রীএমপিদের অবৈধ বিত্ত গড়ে তোলার কথা মোটেও উল্লেখ করেনি। তিনি ব্যাখ্যা দেননি, কেন তার সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও এমপিমন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রতি বছর প্রকাশ করতে পারেনি। দেশে দুর্নীতির বিষয়গুলো এখন আর নতুন কোন বিষয় নয়। দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এগোলো না পেছালো সেটি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) আর সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনেক পুরোনো। একাধিক মন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে দেশের দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রফতানি বৃদ্ধির কথা বললেও গার্মেন্টশিল্পের সংকটের কথা প্রধানমন্ত্রী বলেননি। যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কড়া নজরদারিতে রেখেছে বাংলাদেশকে। চলতি বছরের ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শেষ পর্যন্ত অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা বা জিএসপি স্থগিত হয়ে গেলো। গত ২৪ নভে¤¦র সাভারের তাজরিন ফ্যাশনস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১২ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১শ’র বেশি প্রাণ ঝরে যায়। দেশের ইতিহাসে ভবন ধসের মতো দুর্ঘটনায় এত বিপুলসংখ্যক লোকের প্রাণহানির ঘটনা আর ঘটেনি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় ‘ভবন ধসে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে’ শিরোনামে এক নিবন্ধ ছাপা হয়।

তবে জিএসপি স্থগিতের ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ। বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতারা একে কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলেও বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরকারের সম্পর্কের অবনতি হয়।

১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আরো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেননি, তার সরকার কত বার বাড়িয়েছে বিদ্যুতের দাম। জ্বালানির দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েও গ্যাস ঊৎপাদন বাড়াতে পারেনি সরকার। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের মতো জনবিরোধী উদ্যোগ নিতেও পিছপা হয়নি সরকার।

এ সরকারের মেয়াদে রেল মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ নিয়ে ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যরাতে বস্তাভরা টাকা উদ্ধার এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হওয়া সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ১৫ এপ্রিল পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে টিআইবি। চলতি বছরের ২১ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির হিসেবে প্রত্যেক ঠিকাদারকে ৮ দশমিক ৫ থেকে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশন দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

কৃষির সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও প্রধানমন্ত্রী এড়িয়ে গেছেন কৃষকের দুঃখের বিষয়টি। তারা যে অধিক উৎপাদন করেও উৎসাহজনক দামে পণ্য বিক্রি করতে পারেনি, তার উল্লেখ নেই সদ্য ঘোষিত আওয়ামী লীগের ইশতেহারে। ইশতেহারে বলা হয়েছ, ‘জনগণের জীবনযাত্রার ক্রমাগত মানোন্নয়নে তাদের আয়রোজগার বৃদ্ধি এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল রাখা হবে।’ কিন্তু আগের পাঁচ বছরের শাসনমালে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড পরিমাণ হয়েছিল। চালের দাম সর্বকালের সব রেকর্ড স্পর্শ করেছে।

অন্যদিকে ধানচালপাট ও আলুর দাম এতটাই কমেছে যে কৃষককে রীতিমতো লোকসান গুনতে হচ্ছে। কোনো বছরই স্থানীয় বাজার থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধানচাল সংগ্রহ করতে পারেনি সরকার। এ জন্য মূল্য নির্ধারণকে দায়ী করা যায়। শিল্পায়নবিনিয়োগ থমকে যাওয়ার বিষয়টিও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে স্থান পায়নি। বরং সেখানে আরো শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। অথচ গেল ৫ বছরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি কলকারখানার লোকসান কমানো থাক দূরে চালুই করতে পারেনি। একাধিকবার খুলনায় গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও চালু হয়নি খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল। অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করা থাক দূরে জমি দিতে না পারায় বিদেশী বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে।।