Home » মতামত » ইহা একটি নির্বাচন

ইহা একটি নির্বাচন

আহমেদ তেপান্তর

freedom-21৫ জানুয়ারির নিবার্চনকে যদি সেভাবে মুল্যায়ন করি তাহলে ৫ জানুয়ারি একটা ‘নির্বাচন’। নির্বাচনে স্মরণকালের সবচেয়ে কম ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পেরেছেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ট ভারত ও ভুটান ছাড়া কোন দেশের পর্যবেক্ষরা উপস্থিত ছিলেন না। দেশটির প্রধান বিরোধী দল একতরফা নির্বাচন বর্জন করেছে, ফলশ্রুতিতে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া গৃহবন্দি অথবা অবরুদ্ধ। যদিও ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠিকে উপেক্ষা করে ভারত আওয়ামী লীগ সরকারের সাংবিধানিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার রাতে দীর্ঘ সময় পরে নির্বাচন কমিশন ভোট প্রয়োগের হার জানিয়েছে ৩৯ দশমিক ৮১ ভাগ (পরবর্তীতে কমিশন চূড়ান্ত ফল ৪০.৫৬)। তবে মাঝে কেনো এত সময়ক্ষেপন তাও জানায়নি। যদিও গণমাধ্যমগুলোর সংবাদ সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণে কমবেশি ভোট প্রয়োগের হার খুবই কম, তবুও নির্বাচন কমিশনের হিসাবটাই আমলে আনতে বাধ্য। প্রশ্ন তাহলে কী গণমাধ্যমগুলোর দেখানো দৃশ্য, দৃশ্যাবলীর বিবরণ নিজস্ব পর্যবেক্ষণ সব ভুল?

এ অবস্থায় নির্বাচন পরবর্তী সাধারণ মানুষের শংকার জায়গাটি আরও গাঢ় হতে শুরু করেছে। তাদের শংকা এখন কী হবে। ঠিক এ প্রশ্নগুলো উঠতো না, ওঠার কারণ অর্থনীতি। স্বাভাবিক চলাফেরা, আর্থিক তারল্য সেগুলো এখন অনুপস্থিত। সহিংস ঘটনার পরও মানুষ কেবল বাঁচার তাগিদে রাস্তায় বের হচ্ছে, আমরা আর্তনাদ শুনছি, কেউ আমরা নিরাপদ নই। সরকারের করণীয় কী ছিল? তাদের করণীয় ছিল সংহিসতা রুখে দিয়ে প্রমাণ করা তারা সঠিক। সহিংসতার মধ্য দিয়ে তারা তা প্রমাণে চরম ব্যর্থ হয়েছে। আরেকটি বিষয হলো মানবতাবিরোধী ইস্যুতে বিরোধী দল বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যার কার্পণ্য। কিন্তু এ কথাও সত্য সরকার গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলে যে সহিংস অবস্থার সৃষ্টি করেছে, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে শুধু সংবিধানের দোহাই দিয়ে!

. অনুপম সেন বলেছিলেন, মানুষ বিভ্রান্ত। সংকট কেনো সৃষ্টি হয়েছে সেটাই ধরতে পারেনি। কথাটি আংশিক সত্য। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল এ দুটো বড় ইস্যু সেগুলো ধরতে পেরেছে কিন্তু সরকারের মুখে গণতন্ত্রের ধোয়া তুলে কর্মে একনায়কতন্ত্রের আচরণে বিভ্রান্ত হয়েছে। আর এ কারণেই সংকট এখন গভীরে।

গুলশানে বিএনএফ প্রার্থী জয়ী হলেন। ওই আসনে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা সোমবার রাতে জানালেন সারাদিন অর্ধেক বেলা ২৪ হাজার ভোটারের মধ্যে ভোট প্রয়োগ হয়েছে মাত্র ৪ জনের। নির্বাচনের দিন মিরপুর একটি কেন্দ্রে প্রথম ৩ ঘণ্টায় ১ ভোট প্রয়োগ হয়েছিল। বহু জায়গায় কোনো কোনো কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি এমন চিত্র নিবার্চন কমিশনের দাবি করা ৪০.৫৬ কিংবা সরকারের গণতন্ত্রের রক্ষার যে স্লোগান তার সঙ্গে যায় না। তবুও নিবার্চন হলো, পূর্ব নির্ধারিত দল জয়ী হলো।

চ্যানেল আই’য়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগসিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় নির্বাচন পরবর্তী এক আলোচনায় বলেছেন, শেখ হাসিনার নতুন সরকারের মেয়াদ স্বল্পকালীন না দীর্ঘকালীন হবে তা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবেবিরোধী দল, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় এবং ব্যবসায়ী সমপ্রদায়ের ভূমিকার ওপর। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষা আক্রমণ অথবা আমন্ত্রণের হতে পারে, এখন দেখার বিষয়।’ তার কথা অনুযায়ী বললে, মনে হচ্ছে শিগগিরই এর ফল দেখতে পাবো। মঙ্গলবার এই লেখা পর্যন্ত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বিশিষ্ট আইনজীবী খন্দকার মাহবুবসহ চার বিএনপি এমপিকে আটক করেছে। সম্ভবত এ হার শিগগিরই বহুসংখ্যক হবে। এতে কি গণতন্ত্র সঠিক পথে চলবে কিনা সেটার উত্তর একমাত্র আওয়ামী লীগই দিতে পারবে।।