Home » শিল্প-সংস্কৃতি » “স্বৈরাচার” – সেকাল একাল

“স্বৈরাচার” – সেকাল একাল

ফ্লোরা সরকার

charlie-chaplinচার্লি চ্যাপলিনের “দ্য গ্রেট ডিক্টেটর” ছবির শেষ অংশে চ্যাপলিন একজন স্বৈরশাসক নয় প্রকৃত একজন শাসকের মনোমুগ্ধকর দীর্ঘ একটি ভাষণের মাধ্যমে ছবির সমাপ্তি ঘটান। তার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো – “আমি খুব দুঃখিত, আমি সম্রাট হতে চাই না। সেটা আমার কাজ না—- আমি সবাইকে সহায়তা করতে চাই ইহুদি, সকল গেষ্ঠি বা জাতি, কালো, সাদা। আমরা সবাইকে সহায়তা করতে চাই। আর সেটাই প্রকৃত মানুষের কাজ। আমরা সকলের সঙ্গে আনন্দে থাকতে চাই, দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে নয়। এই পৃথিবী সকলের। মানুষে জীবন সৌন্দর্যমন্ডিত এবং মুক্তস্বাধীন, কিন্তু আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। লোভ মানুষের আত্মাকে বিষাক্ত করে ফেলেছে, আমরা বিদ্বেষ দ্বারা আবদ্ধ। আমাদের জ্ঞান আমাদের বিশ্বনিন্দুকে পরিণত করেছে, আমাদের ধুর্ততা করেছে কঠিন এবং রূঢ়। আমরা খুব বেশি ভাবি, অনুভব করি তার চেয়ে অনেক কম। চাতুরী নয়, প্রয়োজন পরোপকারিতা এবং ভদ্রতা, তা না হলে ধক্ষংস অনিবার্য। প্রিয় সেনাবৃন্দ, আপনারা পাশবিকতার কাছে নতজানু হবেন না, নতজানু হবেন না যারা আপনাদের অবজ্ঞা করে, দাস করে রাখেযারা ভেড়ার পালের মতো আপনাদের চালিত করে দাসত্ব নয় মুক্তির জন্যে সংগ্রাম করবেন। মনে রাখবেন সকলে একজন স্বৈরাচার নিজেকে রাখে স্বাধীন অন্যকে পরাধীন” ইত্যাদি। ছবিটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৪০ এর দশকে এবং ছবির সময়কাল দুই বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়। ২০১২ সালে ল্যারি চার্লস নির্মাণ করলেন “দ্য ডিক্টেটর”। দুটো ছবিরই উদ্দেশ্য ব্যঙ্গাত্মক রূপে স্বৈরশাসকের মুখোশ উন্মোচিত করা। উদ্দেশ্য এক হলেও দুই সময়ের দুই ভিন্ন আদলের স্বৈরাচারিতা আমরা দেখতে পাই। চ্যাপলিনের স্বৈরশাসক, যাকে চ্যাপলিন প্রতীকী উপস্থাপনে সেই সময়ের বিখ্যত স্বৈরশাসক বেনিটো মুসোলিনি, এডলফ হিটলারকে দিয়ে দেখিয়েছেন, যারা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে যেতে চায়। ছবির শুরুতেই আমরা দেখি হিটলার বা মুসোলিনি রূপী হিংকেল বিশাল জনসভায় প্রচন্ড হুঙ্কারে বলছেন “গণতন্ত্র সুগন্ধির মতো। মুক্তি বা স্বাধীনতা অত্যন্ত নিন্দার্হ। বাক স্বাধীনতা অপত্তিজনক। তোম্যায়নিয়ার আছে বিশাল সেনাবাহিনী —” ইত্যাদি ইত্যাদি। যার বক্তৃতার জোরে মাইক পর্যন্ত বেঁকে যায়, হাতের এক ইশারায় জনগণের কোলাহল স্তব্ধ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ল্যারি চার্লস পরিচালিত ‘দ্য ডিক্টেটর’ এ গাদ্দাফি, সাদ্দাম রূপী স্বৈরশাসক এডমিরাল জেনারেল হাফাজ আলাদিন প্রথম ভাষণে বলেন “সমগ্র পৃথিবী, আমাদের দেশ ওয়াদিয়ার কাছে নতজানু হবে। আমাদের তেজষ্ক্রিয় ধাতু শান্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে। এটা এটা —” বলতে বলতে আলাদিন মুচকি হাসে এবং দর্শকের বুঝতে অসুবিধা হয়না যে তা মোটেও শান্তির উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবহৃত হবে না। চ্যাপলিনের স্বৈরশাসক সিজারের মতো, দেশ জয়ের উন্মত্ত নেশায় মত্ত আর চার্লস এর স্বৈশাসক নিজ দেশের ভাবমূর্তি বর্হিবিশ্বে অধিকতর শক্তিশালী করে দেখানোর দিকে দৃষ্টিপাত করে। পশ্চিম তার মোটেও পছন্দের জায়গা নয়। কিন্তু জাতিসংঘ থেকে যখন তার ডাক পড়ে তার দেশের পারমানবিক শক্তির বিষয়গুলোর স্পষ্টতা দেয়ার জন্য, সে আমেরিকায় পৌঁছে প্রথম যে কথাটা বলে তা হলো “আ ! আমেরিকা, এইডস এর জন্মভূমি”। কিন্তু চ্যাপলিনের “দ্য গ্রেট ডিক্টেটর” যেন আরও এক ধাপ উপরে অবস্থান করে চার্লসের ‘দ্য ডিক্টেটর’ থেকে। কেননা “দ্য গ্রেট ডিক্টেটর” এ স্বৈরশাসকের পাশে প্রকৃত শাসককেও আমরা পাই।

চ্যাপলিন তার ছবিতে একই সঙ্গে দুই শাসকের চরিত্রে রূপদান করেছেন। একদিকে হিংকেল রূপী স্বৈরশাসক চ্যাপলিন অন্যদিকে নাপিত রূপী প্রকৃত শাসক চ্যাপলিন। স্বৈরশাসকেরা তাদের মোটা মাথার কারণে প্রতি পদে পদে তাদের হোঁচট খেয়ে চলেন। তাই যখন আরেক স্বৈরশাসক নাপালিও তোমানিয়ায় সন্ধি করার উদ্দেশ্যে আসে হিংকেল নানাভাবে হেনস্তা হয় তার কাছে। তবে দুই স্বৈরশাসক একত্রে মিলিত হলে তা যে আরও বীভৎস রূপ ধারণ করে তা হিংকেল এবং নাপালিওর সংঘাতময় দৃশ্যে চমৎকার করে ফুটিয়ে তোলেন চ্যাপলিন। হিংকেলের মতো শাসকেরা কোন নৈতিকতার ধার ধারে না। যে ইহুদিদের সে ঘৃণা, যুদ্ধের জন্যে টাকা যোগাড়ের উদ্দেশ্যে এপস্টাইন নামক ইহুদির কাছে শুধু হাতই পাতে না বরং ইহুদি নিধন সাময়িকভাবে বন্ধের আদেশ দেয়। আবার এপস্টাইনের কাছে প্রত্যাখ্যাত হলে আবার ইহুদি নিধন শুরু করে। স্বৈরশাসকেরা সর্বক্ষণ বাস্তব থেকে বহু দূরে কল্পনার স্বর্গরাজ্যে বিভোর হয়ে থাকেন। মনে পড়ে হিংকেলের হাতে গ্লোব নিয়ে খেলার সেই অনবদ্য দৃশ্যটির কথা। কতভাবেই না সে গ্লোবটা নিয়ে খেলে, যেন সমগ্র পৃথিবীটা তখনই তার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।

তবে স্বৈরশাসককে স্বৈরাচারী বানাবার পেছনে তার পারিষদেরাই মূল চালিকাশক্তি হয়ে কাজ করেন সেটাও আমরা দেখতে পাই। কিন্তু মোটা মাথার কারণে এই শাসকেরা তা ধরতে অপারগ থাকেন। ক্ষমতার অন্ধ মোহ তাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত হতে দেয়না। তাদের অনুভূতি এতোটাই ভোঁতা থাকে যে কোন শিল্প, সাহিত্য বা সঙ্গীত তাদের স্পর্শ করতে পারেনা। আর তাই হিংকেল মাঝে মাঝে দুই এক মিনিট পিয়ানো বাজাবার পরেই উঠে পড়ে, মনে হয় কোন একটা শব্দ শুধু তার কর্ণপ্রহরে প্রবেশ করেছে কিন্তু তা কেমন সেটা অনুভব করার ক্ষমতা নেই, প্রয়োজনও নেই। অন্যদিকে ভবিষ্যত প্রকৃত শাসক রূপী একজন নাপিত (ছবিতে তার নাম আমরা কোথাও পাইনা), যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে তার পুরনো দোকান অনেক কষ্টে আবার দাঁড় করায়। সেখানে বার বার হিংকেল বাহিনীর আক্রমণ সমগ্র শহরের আতঙ্কময় পরিস্থিতি তুলে ধরে। স্বৈরাচার যেখনে থাকে সাধারণ মানুষ এক মুহূর্ত্তের জন্যেও নিরাপদে থাকতে পারে না। প্রতি মুহূর্ত্তে মানুষ একটা ত্রাসের মধ্যে বসবাস করে। শান্তি দূরে থাক সামান্য স্বস্তিটুকুও তারা পায়না। মানুষ তখন দেশ ছেড়ে পালাতে চায়। তাই নাপিতের প্রেমিকা হান্না এবং তার পালক বাবা বার বার ওস্টারলিচে যাবার পরিকল্পনা করে। এভাবে একদিন তারা চলেও যায়। অথচ স্বৈরাচার সেখানেও তাদের ধাওয়া করে। কিন্তু কোন স্বৈরাচারই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনা। তার পতন অবশ্যম্ভাবী। তাই ছবির শেষে সেই নাপিতকে আমরা দেখি তোমানিয়া সহ ওস্টারলিচের শাসন ভার গ্রহণ করতে। শাসনভার গ্রহণের সময় সেই হৃদয়স্পর্শী ভাষণ দেন যা প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই একটি ভাষণ সমগ্র বিশ্বকে বুঝিয়ে দেয় একজন প্রকৃত শাসক কেমন হতে পারে, কেমন হওয়া উচিত।

পরিচালক চার্লস এর ‘দ্য ডিক্টেটর’ এর আলাদিন তুলনামূলক ভাবে খুব বেশি স্থুল। বহুগামিতা, সমকামিতা থেকে শুরু করে এমন কোন কাজ নেই যা সে করতে পারেনা। কথায় কথায় যে কোন লোকের মাথা সে অনায়াসে নিয়ে নেয়। দেশের জরুরী কাজ রেখে সে ভিডিও গেমে মত্ত থাকে। ক্ষমতার মোহ তাকে এমন ভাবে আবিষ্ট করে রাখে যে পৃথিবীর কোন কিছুকেই সে পরোয়া করেনা। জাতিসংঘে তার ভাষণের সময় সাত মিনিট নির্ধারিত করে দেয়া হলেও সে জানায় চৌদ্দ ঘন্টার ভাষণ দেবে, যার বেশিরভাগ অংশে থাকবে শিশুর বুলির মতো শুধুমাত্র কিছু আওয়াজ। তবে এই সময়ের পারিষদেরা অতীতের পারিষদের থেকে অনেক বেশি ধূর্ত। তারা তাদের পছন্দ মতো স্বৈরশাসক বেছে নিতে জানেন। যে স্বৈরশাসক বেছে নিলে দেশটাকে অপরের কাছে অনায়াসে বিক্রি করা যাবে। সেজন্যে প্রয়োজনে তারা তাদের স্বৈরশাসকের হত্যাযজ্ঞ সংঘঠিত করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। যদিও এই ছবিতে প্রকৃত আলাদিন শেষ পর্যন্ত বেঁচে যান। এই সময়ের আলাদিনেরা গণতন্ত্রের সংজ্ঞা শিখে আমেরিকার ডিপার্টমেন্ডাল স্টোরের একজন সাধারণ নারী জুওইর কাছে। যদিও গল্পের প্রয়োজনে ছবিতে আলাদিন পরে আবার সেই জুওইর প্রেমে পড়ে। ছবির শেষে এই স্বৈরশাসকও একটা দীর্ঘ ভাষণ দেন যেখানে গণন্ত্রের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলা হয়। যেমন প্রথমেই তিনি জানান মানুষ স্বৈরাচার বিরোধী কেন তা তার ঠিক বোধগম্য নয়। আমেরিকায় গণতন্ত্র না থাকলে কি হতো গণতন্ত্র না থাকলে দেশের এক শতাংশের হাতে অর্থ কুক্ষিগত হতো এবং তা থেকে ট্যাক্স কেটে গরীব দুঃখীদের মাঝে বন্টনের ব্যবস্থা করা যেতো। তাদের স্বাস্থ্য,চিকিৎসা,শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতো। সেখানে মিডিয়া বা তথ্যপ্রবাহের আপাত অবাধগতি থাকলেও সেটা নিয়ন্ত্রিত হতো শুধু একজনের এবং তার পরিবারের হাতে। মানুষের পছন্দের বিপরীত রাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে, মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের আতঙ্কিত করে রাখার ব্যবস্থা করা যেতো। একটা সাজানো নির্বাচন হতে পারতো (অর্থাৎ কারচুপির নির্বাচন)যুদ্ধে যাবার কারণ হিসেবে মিথ্যা বলার সুযোগ থাকতো। আলাদিন আরও বলেন যদিও আমেরিকার পক্ষে এসব গ্রহণ করা সম্ভব নয় তবু চেষ্টা করতে দোষ কোথায়। আলাদিনের কাছে গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ কিছু বাজে কথার নিরন্তর কথা বলা এবং শোনার এক অবিরাম প্রক্রিয়া। ভাষণের শেষের দিকে তার প্রেমিকা জুওইকে দেখে হঠাৎ বলে ওঠে – “গণতন্ত্র গণতন্ত্র আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর তাই আমি চাই প্রকৃত গণতন্ত্র। প্রকৃত সংবিধান। এবং ওয়াদিয়ার জন্য প্রকৃত নির্বাচন”। সবাই হাত তালি দিয়ে ওঠে। ছবির শেষে আলাদিন এতোটাই পরিবর্তিত হয়ে যায় যে জুওইকে বিয়ে করার সময় যখন জানতে পারে সে একজন ইহুদি, ক্ষণিকের জন্যে চমকে গেলেও কিছু মনে করে না। চার্লস এর স্বৈরশাসক নানান ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে প্রকৃত শাসক হয়ে ওঠে। যদিও তার চরিত্র দর্শকের কাছে কিছুটা ধোঁয়াটে থেকে যায়। আমরা ঠিক করে বলতে পারি না আলাদিনের মাধ্যমে ওয়াদিয়ায় সুশাসন আসবে কিনা। তবু তা মিলনান্তক নাটকের দিকেই এগিয়ে যায়। ‘দ্য ডিক্টেটর’ আমাদের এটাই বুঝিয়েছে যে ইচ্ছে করলে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে গেলে যে কোন স্বৈরশাসক প্রকৃত শাসক হয়ে উঠতে পারে।

দুই সময়ের দুই স্বৈরশাসকের মাঝে পার্থক্য এই যে অতীতে স্বৈরশাসকের একমাত্র পতনের মধ্যে দিয়েই শুধু স্বৈরশাসনের অবসান ঘটতো। আর এই সময়ের স্বৈরশাসক তার বুদ্ধি, মেধা, প্রজ্ঞা সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে স্বৈরশাসন থেকে ইচ্ছে করলে দেশকে মুক্ত রাখতে পারেন। তবে যেভাবেই স্বৈরশাসনের অবসান ঘটুক না কেন, স্বৈরশাসন যে কোন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়, সেটা দুটো ছবিতেই পরিস্কার ভাবে ফুটে উঠতে দেখি। দুটো ছবিতেই আমরা লক্ষ্য করি দুই সময়ের দুই ভাষার ব্যবহার। চ্যাপলিনের ছবিতে জার্মান ভাষাকে কটাক্ষ করতে দেখা যায়। চার্লসের ছবিতে মধ্য প্রাচ্যের ভাষা। দুটো বিশেষ অঞ্চলের ইতিহাসের দুটো বিশেষ সময়ে তাদের আবির্ভাব ঘটলেও চরিত্রের কোন ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় না।

দুটো ছবিই আমাদের আবার নতুন করে স্বৈরশাসকদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সাবধান করে দেয়। দেশের প্রকৃত মালিকানা কোন একক ব্যক্তির হাতে কখনোই কুক্ষিগত হয়ে থাকতে পারেনা। কেননা দেশ বা রাষ্ট্র এবং তার সমুদয় সম্পত্তি জনগণের, কোন একক ব্যক্তির মালিকানার অধীন নয়। একক শাসনে কোন দেশ পরিচালিত হতে পারেনা। একটা সময় সেই একক শাসনের অবসান ঘটবেই। কারণ স্বেচ্ছাচারিতা কোন গণইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় না। “হিরক রাজার দেশে”র মতো দড়ি ধরে মারো টান রাজা হবে খান খান এর মতো স্বৈরাচারও খান খান হয়ে যান।“দ্য গ্রেট ডিক্টেটার” ছবির শেষ দৃশ্যে সেই বক্তৃতায় প্রকৃত শাসক যেমন বলেছিলেন – “স্বৈরশাসক নিজেকে রাখে স্বাধীন, অপরকে পরাধীন” আর এই পরাধীনতার শৃঙ্খল কেউ পরতে চায় না। তাই আজও আমরা সেই ১৯৪০ এর দশকে নির্মিত “দ্য গ্রেট ডিক্টেটার” ছবির কথা বিস্মৃত হতে পারিনা। সেসব ছবির আদলে নতুন নতুন স্বৈরশাসকদের গল্প নিয়ে ছবি নির্মাণ প্রক্রিয়া চলমান থাকে। যাতে নতুন প্রজন্মের জনগণ আধুনিক স্বৈরশাসন সম্পর্কে সতর্ক থাকেন, সাবধান থাকেন।।

১টি মন্তব্য

  1. “দেশের প্রকৃত মালিকানা কোন একক ব্যক্তির হাতে কখনোই কুক্ষিগত হয়ে থাকতে পারেনা। কেননা দেশ বা রাষ্ট্র এবং তার সমুদয় সম্পত্তি জনগণের, কোন একক ব্যক্তির মালিকানার অধীন নয়। একক শাসনে কোন দেশ পরিচালিত হতে পারেনা। একটা সময় সেই একক শাসনের অবসান ঘটবেই। কারণ স্বেচ্ছাচারিতা কোন গণইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় না।”