Home » প্রচ্ছদ কথা » একদলীয় শাসন এবং অনুগত বিরোধী দল

একদলীয় শাসন এবং অনুগত বিরোধী দল

আমীর খসরু

bakshal-declaration-1একটি কার্যকর বিরোধী দল ছাড়া কোনো সরকারই দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকতে পারে না।’ Benjamin Disraeli, Coningsby, or The New Generation, political novel published in 1844.

গণতন্ত্র নিয়ে বিস্তর পরীক্ষানিরীক্ষার এক পর্যায়ে বর্তমান প্রতিনিধিত্বশীল সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। আর এটাও হয়েছে হাজার হাজার বছরের মেধামনীষা, জ্ঞান এবং চিন্তাভাবনার ফসল হিসেবে। গ্রিক নগর রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের সঙ্গে এখনকার প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের মিল নেই সময়ের ব্যবধান, জনসংখ্যা, রাষ্ট্রের আয়তন ও কাঠামোসহ নানা কারণে। কিন্তু গণতন্ত্রকে কতোটা গণ অর্থাৎ জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া যায়, কতোটা প্রতিনিধিত্বশীল করা যায় ওই শাসন ব্যবস্থাটি তার একটা নিরন্তর প্রচেষ্টা ছিল, এখনো আছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়। এর মধ্যেও ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার, একনায়কত্ববাদের যেমন জন্ম হয়, নির্বাচিত সরকারটিও স্বইচ্ছায়, ক্ষমতার লিপ্সায় চলে যায় ওই পথে। এছাড়া নির্বাচিত সরকারগুলোর মধ্যে অনুদার গণতন্ত্রের প্রবণতাটি তো অহরহ রয়েই গেছে। আবার গণতন্ত্রকে নির্বাচিত গণতন্ত্রে রূপ দেয়া হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই, যার মধ্যদিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্নীতি এবং কুশাসন সম্পর্কে লর্ড এ্যকটন তার বিখ্যাত হিস্ট্রিকাল এসেজ এন্ড স্টাডিজ গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন Power tends to corrupt and absolute power corrupts absolutely. তেমনি এই বক্তব্যের সূত্র ধরে বলা যায়, চরম ক্ষমতা ফ্যাসিবাদের এবং স্বৈরাচারেরও জন্ম দেয়। আর অতি ক্ষমতা ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার জন্ম নেয়ার অতি উত্তম পন্থা।

প্রতিনিধিত্বশীল শাসন ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধী দল অত্যাবশকীয়, জরুরি এবং প্রয়োজনীয়। এটা থাকতে হয় শাসন ব্যবস্থার ভারসাম্য এবং যে জনগণের ধ্বনি বা কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, কেউ শোনে না তাদের কথা শোনা এবং জানার জন্য। সরকারের দোষত্রুটি ধরিয়ে দেয়ার জন্য যে ভারসাম্যমূলক পদ্ধতি তার নামই হচ্ছে ভারসাম্যপূর্ণ সংসদীয় ব্যবস্থা এবং এখানে শক্তিশালী এবং কার্যকর বিরোধী দল থাকতে হয়। এ কারণেই ১৮ শতকের প্রথমদিকেই ওয়েস্ট মিনিস্টার পদ্ধতি বলে যাকে আমরা জানি অর্থাৎ বৃটিশ ধারার সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থায় রাজা নিজেই বিরোধী দল তৈরি করে দিয়েছিলেন। আর এ ব্যবস্থাকে বলা হয় His/Her Majesty’s opposition হিসেবে। ১৮২৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শব্দটির ব্যবহারও শুরু হয়। ১৯০২ অথবা ১৯০৫এর মধ্যে কোনো এক সময় বিরোধী দলের নেতার পদটিও সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর ১৯১৫ সাল থেকে বিরোধী দলের নেতাকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয়া হয়। প্রকৃত গণতন্ত্রে বিরোধী দলকে বলা হয় ছায়া সরকার এবং বিরোধী দলীয় নেতাকে বলা হয় প্রাইম মিনিস্টার ইন ওয়েটিং অর্থাৎ পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। এ হচ্ছে সুসভ্য গণতান্ত্রিক সমাজের নমুনা।

কিন্তু বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পরে বিরোধী দল, পক্ষ এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের উচ্ছেদ, নিধন এবং বিনাশের যাত্রাটি শুরু হয়। আর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারই এ কাজটি করেছিল স্বাধীনতা লাভের স্বল্পকাল যেতে না যেতেই। ১৯৭২ এর সংবিধানটিকে বলা হয় এটি নাকি উন্নততর গণতন্ত্রের চর্চার জন্যই প্রণীত হয়েছিল।

কিন্তু স্বাধীনতা লাভের স্বল্পকাল পরেই অর্থাৎ ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ভয়ঙ্কর সব নিবর্তনমূলক বিধানসহ জরুরি অবস্থা আইন সংযোজিত হয় সংবিধানে। আর এটা করা হয় সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে। ওই সময়ে নানা যুক্তি ওই আইনের পক্ষে দেয়া হলেও আদতে এর উদ্দেশ্য ছিল বিরোধী দল, পক্ষ এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের চিরতরে বিনাশ এবং উচ্ছেদ। আর এটা বুঝতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯৭৪ সালে ওই আইনের বলেই, ওই উদ্দেশ্যই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। এ জরুরি অবস্থার আগেই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের জন্য রক্ষীবাহিনী এবং দলীয় পর্যায়ের সন্ত্রাসের জন্য দল ছাড়াও লাল বাহিনীসহ নানা বাহিনী গঠিত হয়। এরপরে বিরোধী দলকে পরিপূর্ণভাবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর আয়োজনটি সম্পন্ন হয় একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েমের মধ্যদিয়ে, সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। অপরাপর রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামরিকবেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাকর্মচারী, সাংবাদিকসহ সবাইকে ওই রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে বলা হয়। চারটি বাদে সব সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করাসহ নানা ব্যবস্থাবলী কায়েম করা হয়েছিল। এটি ছিল স্বাধীনতার পর থেকে বিরোধী দলমত পক্ষকে বিনাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে একদলীয় ব্যবস্থা কায়েমের মধ্যদিয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য। কিন্তু তখনো বলা হয়েছিল দেশ গঠনে, গণতন্ত্রকে আরো মজবুত করার লক্ষ্যে ঐকমত্য সমঝোতার চেষ্টায় এটি করা হয়েছে। ওই সময়েও সিপিবি, মোজাফফর ন্যাপসহ কিছু দল নানা চেতনার নামে ওই একদলীয় শাসনকে সমর্থন দিয়েছিল। একটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত রাজনৈতিক দল যে কতো অল্প সময়েই চরমভাবে জন ও গণবিচ্ছিন্ন হয়ে উঠতে পারে, ওটি ছিল তারই নমুনা। বিশ্বের দেশে দেশে নির্বাচিত সরকারগুলোর ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকার হয়ে উঠার নানা নমুনা মেলে। উদাহরণ পাওয়া যায় বিরোধী দল, পক্ষ বা ভিন্নমতাবলম্বীদের উপর চরম নির্যাতন এবং নিপীড়নের।

এ কথাটি বলতেই হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিদায়ের মাধ্যমে ওই যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল তার সুযোগ নিয়েছিল সেনা শাসকরা। যদি ওই সময়ে বিরোধী দল দমন, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত না হতো, যদি দেশে টিম টিম করে গণতন্ত্রের ধারাটি চলতো তাহলে পরবর্তীকালের দফায় দফায় সামরিক শাসন এ দেশে আসতো না এ কথা নির্দ্ধিধায় বলা যায়। বাংলাদেশের ইতিহাস তাহলে ভিন্ন হতে পারতো। ভিন্ন হতে পারতো গণতন্ত্রের চেহারা। পাল্টে যেতে পারতো অর্থনীতির গতিপথ। দেশের স্বাধীনতাসার্বভৌমত্বের উপরে আধিপত্যবাদের নগ্ন হামলা আমাদের প্রত্যক্ষ করতে হতো না।

বাংলাদেশের ইতিহাস তাহলে ভিন্ন হতে পারতো। ভিন্ন হতে পারতো গণতন্ত্রের চেহারা। পাল্টে যেতে পারতো অর্থনীতির গতিপথ। দেশের স্বাধীনতাসার্বভৌমত্বের উপরে আধিপত্যবাদের নগ্ন হামলা আমাদের প্রত্যক্ষ করতে হতো না। কিন্তু এদেশের জাতির, দেশটির জনগণের, এই জমিন আর গণতন্ত্রের এমনই দুর্ভাগ্য আবার বিরোধী দল বিহীন অবস্থায় আমাদের যাত্রা পুনরায় শুরু হলো।

কিন্তু এদেশের জাতির, দেশটির জনগণের, এই জমিন আর গণতন্ত্রের এমনই দুর্ভাগ্য আবার বিরোধী দল বিহীন অবস্থায় আমাদের যাত্রা প্নুরায় শুরু হলো। এ কথা মনে রাখতে হবে ১৯৭০ দশকের বিশ্ব ব্যবস্থা, জনগণের মানসিকতা আর শাসন সম্পর্কে এমন দৃষ্টিভঙ্গি তখন ছিল না। না থাকলেও সেদিনও চেষ্টা হয়েছিল। আজও চেষ্টা হচ্ছে গণতন্ত্রকে বাচিয়ে রাখার জন্য।

সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে ভোটারবিহীন একটি নির্বাচনে স্বল্প সংখ্যক কয়েকটি দলকে নিয়ে এমন এক সরকার ব্যবস্থা বর্তমানে কায়েম করা হয়েছে যার উদাহরণ সমসাময়িক দুনিয়ায় আর পাওয়া যাবে না। এখানে একটি বিরোধী দল সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে যারা মন্ত্রীত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বিশেষ দূতের পদ নিয়ে ক্ষমতার অংশীদার, আবার এরাই বিরোধী দলেও বসবে। এ কোন সরকার? এ তো আসলে একদলীয় শাসন। নির্বাচনের নামে একদলীয় শাসন কায়েম করে আসলে গণতন্ত্রকেই বিনাশ করা হয়েছে, জবেহ করা হয়েছে মানুষের বাকব্যক্তি স্বাধীনতাসহ সামগ্রিকভাবে মৌলিক অধিকার। অথচ সংবিধানে এ সমস্ত অধিকারগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু কোথায় সংবিধান, কোথায় আইন, কোথায় নীতি, কোথায় নৈতিকতা? সবকিছুই একদলীয় সরকারের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে।

অনেকে বলছেন, সবকিছুই সংবিধান অনুযায়ীই হয়েছে। যদি সংবিধান অনুযায়ীই হয়ই তাহলে সেখানে মানুষ নেই, সংবিধান নামক বইটি রয়েছে শুধু।

এতোদিন বিরোধী দল, পক্ষ, ভিন্নমতাবলম্বীদের রাষ্ট্রীয় এবং দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দমন করা হয়েছিল। অবরুদ্ধ করা হয়েছিল রাজনৈতিক দলের অফিস, বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল সব প্রতিবাদবিক্ষোভ। অত্যাচারনির্যাতননিপীড়ন, গ্রেফতার, গুম, তথাকথিত ক্রসফায়ারের নামে নানা ঘটনা ঘটেছে। এসব ব্যবস্থাই এখন বৈধতার মোড়ক পেল।

ইতোমধ্যেই বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে যারা ভোট দিয়েছেন তারা স্বাধীনতাসার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিকের দায়িত্ব পালন করেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করেছে। আর যারা ভোট দেয়নি তারা দেশদ্রোহী, স্বাধীনতাসার্বভৌমত্ব বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে। এ এক ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক বিভাজন। জাতিকে এভাবে বিভক্ত করার মূল্য বোধকরি কোনো একদিন দিতেই হবে। কারণ বিভাজন রেখাটি এভাবে নয়।

১৯৯৬ সালে এসে এ দলটি সমঝোতার সরকার কায়েমের নামে একদলের শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল। দু’একজন মন্ত্রীকেও নেয়া হয়েছিল অন্য দল থেকে। তৎকালীন বিরোধী দল থেকে ভাগিয়ে নেয়া হয়েছিল দু’জন এমপিকে। তখন উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছিল নেলসন ম্যান্ডেলার কথা। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় এই মহান নেতা সমঝোতা এবং ঐকমত্যের সরকার গঠন করেছিলেন। কিন্তু কোন প্রেক্ষাপটে, কি বাস্তবতায় তিনি তা করেছিলেন ২৭ বছরের কারাবাস আর অসংখ্য অসংখ্য কালো মানুষের দুঃসহ নির্যাতনের দগদগে ঘায়ের উপরে দাড়িয়ে তা এরা জানে না। ম্যান্ডেলা যদি ওই দিন সাদাকালো মিলিয়ে সরকারটি গঠন না করতেন, সব দল মতকে একত্রে না মেলাতে পারতেন তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকায় এখনো দাঙ্গাফ্যাসাদ চলতেই থাকতো। দক্ষিণ আফ্রিকা হতে পারতো আগের চেয়েও বেশি বিপন্ন, বিপজ্জনক এবং অসহায়। নেলসন ম্যান্ডেলার দূরদর্শি, প্রকৃত প্রজ্ঞা এবং দক্ষতার ওই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দেশটিকে বাঁচিয়েছিল। যার উদাহরণ মেলে তার সমঝোতার সরকারের ১০০দিন পূর্তি উপলক্ষে সে দেশের পার্লামেন্টে দেয়া তারই বক্তব্য থেকে।

ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ সালের ১৮ আগস্টে দেয়া ওই ভাষণে বলেছিলেন আমরা আলাপআলোচনার মাধ্যমে এমন একটি অনুপম অন্তবর্তীকালীন কর্মপদ্ধতি বের করতে পেরেছি যার মাধ্যমে অপরাপর বিরোধী দলগুলোকে জাতীয় ঐক্যের আওতায় আনা গেছে। আমিও এও বলতে চাই, এ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জাতি গঠনে অন্যান্য দলের মেধামননশীলতার সমন্বয় ঘটানোর সৃষ্টিশীল একটি পদ্ধতি খুজতে চেষ্টা করেছি। স্বাভাবিকভাবেই ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে যাবতীয় চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। জাতি গঠনে জাতীয় সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে অবিরাম প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি এবং এ কারণে যে অন্তবর্তীকালীন সংবিধানটি রচিত হয়েছে তা বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে আসলে কঠিন কাজ। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, আমাদের এ সমঝোতা এক দলকে অন্য দলের উপরে চাপিয়ে দেয়া কিংবা দুষ্ট খেয়ালে মধুচন্দ্রিমার সুখকর দিনগুলো উপভোগ করা নয়। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এবং জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের অঙ্গীকারের ভিত্তিই হচ্ছে এই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য।”

নেলসন ম্যান্ডেলা হতে চাইলে মেধামনন, প্রজ্ঞাদক্ষতা সর্বোপরি উদারতার প্রয়োজন হয়। ক্ষমতার খোয়ারির মধ্যে থেকে ম্যান্ডেলা তো হওয়া যায়ই না, ম্যান্ডেলার ছায়ার দিকে তাকানোও ধৃষ্টতা। এ কারণেই ১৯৯৬ সালে যেমন ম্যান্ডেলা হওয়া যায়নি, ২০১৪তে এসেও ম্যান্ডেলা হওয়া যাবে না।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের, দেশের, জাতির অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে যে সর্বনাশ করা হলো সে মাশুল আমাদের গুণতে হচ্ছে এখনই এবং ভবিষ্যতেও গুণতে হবে। এ সর্বনাশা পথ কোনো শুভ ফল আনে না, ইতিহাস তা বার বার প্রমাণ করেছে। ইতিহাস এও প্রমাণ করেছে, যারা এ পথে গেছে তারা আর ফিরে আসে না।।