Home » রাজনীতি » ধূর্ত এরশাদ :: এবার ভেলকি দেখবে আওয়ামী লীগ

ধূর্ত এরশাদ :: এবার ভেলকি দেখবে আওয়ামী লীগ

আবীর হাসান

political-cartoons-43বাংলাদেশের নব্য গণতন্ত্রের মাহাত্য দেশে দেশে ছড়িয়ে দেবে স্বৈরাচার। জনগণের সঙ্গে কী নিষ্ঠুর পরিহাস আর প্রতারণা। বিস্ময়ব্যঙ্গবিদ্রূপ কিছুরই আর অবকাশ নেই আনুষ্ঠানিক ঘোষনা হয়ে গেছে। ঘটনাটা কী হলো? অনেকেই প্রশ্ন করছেন বিশেষ বেহায়াকে বিশেষ দূত হিসেবে বিশ্বে পাঠানোর সিদ্ধান্ত না নিলে কি চলছিল না?

এ প্রশ্নের উত্তর একটাই স্বৈরাচার টেনেছে স্বৈরাচারকে। কোন সন্দেহের অবকাশ নেই, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের লেবসাটাকে একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে। মন্ত্রীসভার ভার ভারিক্কী যতোই দেখানোর চেষ্টা হোক না কেন, এক নিপাটনিখাদ স্বৈরাচারী সরকার যাকে অগ্রহণযোগ্য এক নির্বাচনের মাধ্যমে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে জনগণের মাথায়।

সংবিধান রাখার জন্য নাকি নির্বাচন এটা বলে নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট সব সাংবিধানিক বিধি বিধানের যে ব্যত্যয় ঘটিয়ে ফেলা হলো তার শকওয়েব এখনো চলছে। এরপর শুরু হবে ‘চেইন রিঅ্যাকশন।’ এটা অবধারিত, প্রকৃতিবিজ্ঞানধর্মসংস্কারকুসংস্কার সবই এই একটা কথাই বলছে। এর প্রথম ধাপ মন্ত্রীসভাটা দেখুন ঘোষিত প্রধান বিরোধী দলের লোকজনকে কেবল ঠাই দেয়া নয়, সাদরে স্থান দেয়া হয়েছে মন্ত্রীসভায় এবং এরশাদ বিশেষ দূত।

এই ভন্ডটাই এই স্বৈরাচারের ভয়াবহ বিপদের কারণ হবে সেদিন বেশি দূরে নয়। অপরাধীরা নাকি অপরাধ করার আগেই তাদের পতনের জায়গাটাকে ঠিক করে রাখে। এই সরকারও তাই করলো। আরও পিন পয়েন্ট করে বলা যায় আওয়ামী লীগ প্রধান সেটাই করলেন। কারণ তিনি জানেন নির্বাচনটা গণতান্ত্রিক পন্থায় করেননি, দেশের ৯০ শতাংশ জনগণই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেছেন এমনকি স্বৈরাচারী এরশাদকে নিয়েও ইদুরবিড়াল খেলেছেন। ওর চেয়ে বড় হিসেবে মেলে ধরেছেন নিজের কারিশমা। ফলে বিশেষ দূত এবং সর্বশেষ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েও এরশাদ সন্তুষ্ট নন। সন্তুষ্টি আশার কথাও নয়, কারণ যেভাবেই হোক নয়টি বছর ছিলেন প্রেসিডেন্ট। গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান সবকিছুকেই কিভাবে উপেক্ষা ও বিনষ্ট করা যায় তার পথ বাৎলেছেন এখন তাকে দিয়েই ঐকমত্যের সরকার এবং বিরোধী দল দুটো গুরুদায়িত্ব পালন করিয়ে বলা হয়েছে সরকারের মাহাত্ম্য ও গ্রহণযোগ্যতার বাণী নিয়ে দেশে দেশে দূতিয়ালী করতে। এটা তার জন্য তৃতীয় দায়িত্ব।

দায়িত্বের পেছনে যে গূঢ়, গাঢ় এবং অভিনব কারণ আছে তা বিলক্ষণ বুঝেছে এই ধূর্ত ব্যক্তিটি। ব্যক্তিটি বেশ বুঝতে পেরেছে তাকে মুরগি বানিয়েছে আওয়ামী লীগ। একটু ধাক্কা যে খেয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। তবে এ সন্দেহটায় নেই যে আরো ধূর্ততার পরিচয় দেবেন এরশাদ। ধর্ম তার ওইটাই, প্রকৃতি এবং অভ্যাসও ওটাই। আর এই ব্যাপারে আওয়ামী লীগের এই সরকার ধাক্কাটা খাবে হানিমুন পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগেই। কারণ এখন যতোই স্থবির মনে হোক না কেন, রাজনীতির কুশীলবরা সক্রিয় হয়ে উঠবেই। বিএনপির দলজোট ভাঙতে ব্যর্থ আওয়ামী লীগকে আরও বড় চাপের মোকাবেলা করতে হবে মার্চের পরেই।

বিগিনিং অব দ্য এন্ড অর্থাৎ শেষের শুরুটা হয়েছে ৫ জানুয়ারি থেকে। এখন বাংলাদেশের কিংবা কিংবা বিশ্বের যে কোন দেশের লোকই কাউন্টডাউন করতে পারেন। আর এই তথাকথিত শক্ত সরকারের ভেতর থেকেই আসবে বড় আঘাত, সেটা করবে এই ধূর্তদের পক্ষ থেকেই। তার তো গুণপনার শেষ নেই, শৃঙ্খলাকেবিশৃঙ্খলা কী করে করতে হয় তা সে জানে। ধৈর্য ধরে ঘাপটি মেরে থেকে কীভাবে স্বার্থ হাসিল করতে হয় তাও তার জানা। না হলে এই বয়সেও মাস খানেক বিনা কারণে হাসপাতালে কাটানো অন্য যে কোনো লোকের পক্ষে অনেকটাই দূরুহ। স্বৈরাচারীকে ঢিল খেতে অভ্যস্ত হতে হয় পাটকেল মারার জন্য। সেই প্রস্তুতিই এখন চলছে তার। যারা একে নিয়ে খেলছে তাদের জানার কথা তার এ্যম্বিশনটা কী। সেটা হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আবার আসীন হওয়া। আগের বারের চেয়ে এবার আওয়ামী লীগ তাকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। জাতিকে চমকে দিয়ে নিকট ভবিষ্যতে আরও খানিকটা এগিয়ে দেয়া হবে তাকে এবং তখনই সে শুরু করবে তার আসল ভেলকি দেখানো। অতএব সাধু সাবধান। প্লেনের টিকেট ধরিয়ে দিয়ে বিশ্ব ঘোরার লোভ দেখিয়ে এই বিশেষ বেহায়াকে সামলাতে পারবে না আওয়ামী লীগ।।

১টি মন্তব্য

  1. ভাল লাগল লেখাগুলো পড়তে।