Home » অর্থনীতি » লাভবান ভারত

লাভবান ভারত

রাজনৈতিক অস্থিরতা :: বন্ধ কয়েক হাজার গার্মেন্টস নিটওয়্যার ফ্যাক্টরি

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

garments-2রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি পোশাকশিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর তিন মাসে যেখানে সর্বোচ্চ রফতানি আদেশ আসে সেখানে তা ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ কমে গেছে বলে জানা যাচ্ছে। এ আদেশগুলো চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশে। কার্যাদেশ পাকাপোক্ত করতে ভারত এরই মধ্যে এ শিল্পে অরোপিত ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করেছে বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমানে ভারত ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করছে। বাংলাদেশ করছে ২১ বিলিয়ন ডলারের। বোঝাই যাচ্ছে এভাবে চললে পোশাক রফতানিতে আমাদের ছাড়িয়ে যেতে ভারতের কোনোই অসুবিধা হবে না। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি পোশাকশিল্পের যে ক্ষতিসাধন করছে, তার দায়ভার অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর। দিনের পর দিন টানা অবরোধহরতালে রফতানি পোশাক বহনকারী গাড়িতে হামলার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে গার্মেন্টস মালিকদের যেসব সমস্যায় পড়তে হয়েছে তা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোকে বারবার আহ্বান করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতাদের ঢাকার অফিস থেকে এ দেশের পরিস্থিতির খবর প্রতিদিন হেড অফিসে পাঠানো হচ্ছে। তারাও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। যেকোনো নেতিবাচক খবর তাদের ভবিষ্যত ক্রয় আদেশকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বেদেশিক আয়ের প্রধান উৎস এ খাতের যেকোনো ক্ষতি আমাদের অর্থনীতির জন্য চরম হুমকি।

ওভেন ও সোয়েটার খাত নিয়ে কাজ করা তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ২০০৮ সালে সারা দেশের ওভেন কারখানার যে তালিকা তৈরি করে, তাতে মোট কারখানা ছিল পাঁচ হাজার ৬০৮টি। ২০১২ সালে তৈরি করা তালিকায় চালু কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৬০টি। তাদের হিসাবে গত চার বছরে গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে দুই হাজার ৩৪২টি। বর্তমানে এ সংখ্যা আরো বেশি বলেই জানাচ্ছে সংগঠনটি। অব্যাহত শ্রমিক ছাঁটাই, মাসের পর মাস মজুরি বকেয়া পড়া, রাতের অন্ধকারে কারখানার দরজা বন্ধ করে মালিকের পলায়নের মতো অনাকাক্ষিত দৃশ্যের অবতারণা হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই।

এ সময়ের মধ্যে নিটওয়্যার কারখানা বন্ধ হয়েছে আরো এক হাজারের মতো। সুতার জন্য হাহাকার করতে করতে বন্ধ হয়ে গেছে হ্যান্ডলুম ও পাওয়ারলুম সেক্টরের আরো ৬০ হাজার তাঁত। উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) দেয়া তথ্যানুযায়ী, তাদের সংগঠনভুক্ত এক হাজার ৭৬৫ কারখানার মধ্যে অনুযায়ী মাত্র ৭৭০টি চালু অবস্থায় আছে। বাকিগুলো এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। দামি মেশিনগুলো রক্ষার প্রয়োজনে পোশাকের আরেক উপখাত টেক্সটাইলস্পিনিং কারখানাগুলো পুরো বন্ধ করা না হলেও চালু রাখা হয়েছে নামে মাত্র। এ খাতের উদ্যোক্তাদের আরেক সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। দেশের সর্বাধিক ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা ৩৬০টি কমপোজিট টেক্সটাইল মিলের পাশাপাশি দেড় হাজারের মতো উইভিং ফ্যাক্টরির মালিকও এ সংগঠনের সদস্য। তাদের দাবি, লাখ লাখ টন সুতা অবিক্রীত থাকায় টেক্সটাইল মিলগুলো তাদের উৎপাদনক্ষমতার অর্ধেক ব্যবহার করে লোকসান দিয়ে কোনোমতে চালু রয়েছে। বিকল হয়ে পড়ার ভয়ে কোটি কোটি টাকার মেশিন চালু রাখতে গিয়ে তারা তেল পোড়াচ্ছেন লাখ লাখ টাকার। আর উইভিং মেশিনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধেকেরও বেশি।

তৈরি পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজার টন তৈরি পোশাক আকাশপথে শিপমেন্ট করা হয়েছে। এতে রফতানিকারকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আর যথাসময়ে কাঁচামাল আনতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের চার্জ গুনতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ খাতে উৎপাদন ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আগামীতে এ খাতের দেশের রফতানি আয় কমে যাবে। কারণ প্রতিদিনের হরতালঅবরোধে পোশাক ও বস্ত্র শিল্প খাতে ক্ষতির পরিমান আড়াইশ’কোটি টাকা। আর গত দেড় মাসের মধ্যে ২৮ দিনই হরতালঅবরোধ ছিল। সে হিসাবে এ খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ হাজার কোটি টাকা। অবরোধের কারণে বন্দরে পণ্য পাঠাতে হাইওয়ে পুলিশের প্রহরায় কিছু পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে গেলেওসেক্ষেত্রে ৫ গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে। এ অবস্থায় শিপমেন্ট রক্ষার্থে রফতানিকারকরা আকাশপথে প্রায় ১০ গুণ বেশি ভাড়ায় পণ্য পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। অস্বাভাবিক খরচ ও সময়মতো বিমানের সিডিউল নিয়ে অনিশ্চয়তায় অর্ডার বাতিলেরকারণে উৎপাদিত পণ্য দেশে স্টকলটে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া সময় মতো পণ্য না পেলে বিদেশী ক্রেতাদের ডিসকাউন্ট দিতে হয়। আবার এ সুযোগে ক্ষেত্রবিশেষে রফতানি মূল্য পরিশোধেও অনীহা বা বিলম্ব করছেন ক্রেতারা। তাছাড়া সময়মত পণ্য বুঝে না পেয়ে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানই শেষপর্যায়ে রফতানি আদেশ বাতিল করে দিচ্ছে।

পোশাক রফতানি কমেছে

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের রফতানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রফতানি খাত পোশাক শিল্প ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্রেতা দেশগুলো নজর রাখছে বাংলাদেশের ওপর। কিন্তু সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ ও প্রতিযোগী সক্ষমতায় অগ্রগতির কারণে আপাতত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে না বিদেশী ক্রেতারা। তবে এই অবস্থায় রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পোশাক শিল্প এখন কঠিন সময় পার করছে। এ শিল্প হরতালঅবরোধের আওতামুক্ত হলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘœ ঘটায় সে সুযোগ নিতে পারছে না উদ্যোক্তারা।

জানা গেছে, চলতি ২০১৩১৪ অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২শকোটি মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৪শকোটি মার্কিন ডলার বেশি। দেশের রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশ আসে বস্ত্র খাত থেকে। কিন্তু সব কিছু ঠিক থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রফতানি অর্ডার কমে আসার পাশাপাশি উৎপাদন কমেছে। ব্যয় বেড়েছে পরিবহন খাতের। রফতানি মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং বহু অর্ডার বাতিল হওয়ায় কঠিন সময় পার করছে বস্ত্রশিল্প খাত। বিশেষ করে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প রয়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে।

এছাড়া চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে ওষুধ, জাহাজ, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক, সিরামিকস ও কৃষিজাত পণ্য রফানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে ইউরোপ ও আমেরিকার প্রধান প্রধান ক্রেতারা এরই মধ্যে বিজিএমইএসহ অন্য খাতের উদ্যোক্তাদের সতর্ক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। কোন কোন আমদানিকারক দেশ বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলছে।

জানা গেছে, বিশ্ব মন্দা ও ইউরোজোনের ঋণ সঙ্কটের কারণে বহির্বিশ্বে তৈরি পোশাকের চাহিদা ও দাম দুটোই কমেছে। কিন্তু ওই সময় বেড়েছে শ্রম মূল্য, সুতা এবং গ্যাসবিদ্যুতের দাম। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে তৈরি পোশাকের বড় রফতানিকারক চীন ও ভারত এ শিল্পে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানেও শ্রম মূল্যসহ অন্য খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সে তুলনায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়নি।

অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ শিল্পকে আরো বেকায়দায় ফেলেছে। তারপরও প্রতিযোগী সক্ষমতায় বাংলাদেশ এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। চীন ও ভারতের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠার কারণে পোশাক রফতানিতে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস২০১৩ তে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক রফতানির বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশ আগের বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে। ২০১২ সালে বিশ্বে মোট পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের অংশ ছিল ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। আর ২০১৩ সালে তা সামান্য কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ।

কিন্তু কারখানার কর্মপরিবেশ নিরাপদ করা, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি ঘটানো ও নিম্নতম মজুরি বৃদ্ধির জন্য চাপ তৈরি হয়েছে। এ সময় চাপের মুখেও চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাক রফতানিতে উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি বজায় আছে। তবে এটা কতদিন ধরে রাখা যাবে তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। এ খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সহিংসতায় পোশাক ক্রেতারা বাংলাদেশে আসার সাহস পাচ্ছে না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বায়ারদের বাংলাদেশ সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আর তাই অর্ডার আনতে বায়ারদের চীন ও হংকংয়ের কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে রফতানিকারকদের। এ অবস্থায় অর্ডার ও পোশাকের দাম কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। কয়েকটি বিদেশী বায়িং হাউস এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তাদের লোকাল অফিস হংকং, সিঙ্গাপুর ও চীনে শিফট করেছেন বলে খবর মিলছে।

এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে ক্রেতা দেশগুলো কোনো ব্যবস্থা নেয় কিনা, তা নিয়েও দুঃচিন্তায় রয়েছে গার্মেন্ট উদ্যোক্তারা। দেখার বিষয় নতুন সরকার বিষয়গুলো কীভাবে মোকাবেলা করে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মজুরি দেয়া নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষও দানা বেঁধে উঠলে তা এ শিল্পের জন্য আরো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য বিশেষজ্ঞরা সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

গ্রেড অনুযায়ী বেতনভাতা দিচ্ছে মালিকরা

দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোয় গত ডিসেম্বরের বেতন পরিশোধ শুরু হয়েছে। নিজ নিজ গ্রেডে নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন হাতে আসবে, এমনটাই আশা করছিলেন শ্রমিকরা। তবে মালিকপক্ষ বকেয়া পরিশোধে গ্রেড অবনমনের পন্থা অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে অনেক বড় কারখানার বিরুদ্ধে। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, নতুন কাঠামোর গেজেটে পদবিন্যাসে কিছু অস্বচ্ছতার সুযোগেই মালিকরা বিভিন্ন গ্রেডে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী শ্রমিকদের পদবিন্যাস করছেন। শ্রমিক নেতাদের দাবি, নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি পরিশোধের শুরু থেকেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এতে করে পোশাক খাতের শ্রম অসন্তোষ নতুন করে দানা বাঁধতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে তারা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আরো সমন্বয়ের প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

এদিকে গ্রেড অবনমনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট মালিকরা। তাদের দাবি, শ্রমিক নেতারা ঢালাওভাবে এ ধরনের মন্তব্য করছেন। দুই বছর আগে একজন এন্ট্রি লেভেলের শ্রমিককে তার গ্রেড অনুযায়ী নির্ধারিত ৩ হাজার টাকার বেশিই মজুরি দেয়া হতো। একটি কাঠামো অনুসরণের জন্য মৌখিকভাবেই গ্রেড বলা হতো সেভেন। সেই শ্রমিক এখন অভিজ্ঞ হয়ে উঠলে তার গ্রেডও পরিবর্তন হয়েছে। আর এক্ষেত্রে মজুরি সমন্বয়ের চেষ্টা করছেন মালিকরা। এখানে গ্রেড কমিয়ে আনার সুযোগ নেই। বেশির ভাগ কারখানায় তিন থেকে ছয় গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকদের সপ্তম গ্রেডের শ্রমিক হিসেবে দেখানোর পন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করছে মালিকপক্ষ। ৫ নম্বর গ্রেডের শ্রমিকের মজুরি পুরনো কাঠামো অনুযায়ী ৩ হাজার ৫৫৩ টাকা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী তার প্রাপ্য ৬ হাজার ৪২ টাকা। কিন্তু এ শ্রমিককে ৭ নম্বর গ্রেড দেখিয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা বেতন দেয়া হচ্ছে। কোনো কোনো কারখানায় শ্রমিকের পরিচয়পত্র বদলে ফেলার অপচেষ্টাও হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতারা।।