Home » আন্তর্জাতিক » ক্ষমতা ভাগাভাগির মহাদ্বন্দ্বে নেপাল

ক্ষমতা ভাগাভাগির মহাদ্বন্দ্বে নেপাল

কমল দেব ভট্টরাই

অনুবাদ: মোহাম্মদ হাসান শরীফ

nepal-3সঙ্কটের অন্ধকার গর্ত থেকে বের হতে পারছে না নেপাল। নির্বাচনের পরও যেভাবে নিত্যনতুন সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তাতে করে দেশটিতে গণতান্ত্রিক যাত্রা কতটুকু মসৃণ হবে তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই সঙ্কটের আগুনে ঘি ঢালছে বিদেশি শক্তিগুলো।

দেশটিতে সদ্য গঠিত সংবিধান পরিষদের প্রথম সভা কে ডাকবেন তা নিয়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, তা মাত্র কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। সরকার ২২ জানুয়ারি প্রথম সভা ডাকবেতা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এবার বিবাদ শুরু হয়েছে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে। আর এই বিবাদের ফলে পরিষদের প্রধান কাজ তথা সংবিধান রচনার গুরুদায়িত্বটি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংবিধান পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইসচেয়ারম্যান কে হবেন তা নিয়েই সর্বশেষ অচলাবস্থা।

গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশকারী ডানপন্থী দল নেপালি কংগ্রেস (এনসি) সরকারের নেতৃত্ব দেয়ার দাবি উত্থাপন করেছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম দল সিপিএনইউএমএল (কমিউনিস্ট পার্টি) কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন মেনে নিলেও রাষ্ট্রপতি যাদবের স্থলে নতুন কাউকে চাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েই দলগুলোর মধ্যে মারাত্মক বিবাদের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কংগ্রেস যুক্তি দেখাচ্ছে, রাষ্ট্রের প্রধান পদটি ক্ষমতাভাগাভাগির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। এখন যেটা করা দরকার তা হলো, নতুন সংবিধান ঘোষণা পর্যন্ত বর্তমান সরকারের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা। এদিকে, মাওবাদী পার্টি সাংবিধানিক পরিষদ চেয়ারম্যানের পদটি দাবি করেছে। তারা সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানও দাবি করেছে।

মাওবাদী পার্টি প্রকাশ্যে জানিয়েছে, নেপালি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার তারা মেনে নেবে এবং সংবিধান প্রণয়নপ্রক্রিয়ায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। তবে রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকায় তারা কংগ্রেস ও ইউএমএলের মধ্যে কোনো সম্ভাব্য জোটে যোগ দেবে না বলে জানিয়েছে।

নেপালি কংগ্রেস জানিয়েছে, তাদের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় হচ্ছে এক বছরের মধ্যে সংবিধান প্রণয়নের জন্য মাওবাদী পার্টিসহ সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করা।

২০০৮ সালে আগের সংবিধান পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে নেপাল পাঁচটি সরকার দেখেছে। বারবার সরকার পরিবর্তনের ফলে সংবিধান প্রণয়নের আসল কাজটিই হয়নি। মারাত্মক দলাদলির কারণে গত বছর ওই পরিষদ ভেঙে দিতে হয়। এতে করে দেশটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে আরো বেশি জটিলতায় পড়ে।

এবারও কি দেশটি সেদিকে যাবে? কেউ জানে না। জানার কথাও নয়। নেপালের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে অচলাবস্থার জন্য বিদেশি শক্তিগুলোকে দায়ী করছে। তারা বলছে, ভারত ও পাশ্চাত্যের সরকারগুলো তাদের দেশের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে। মাওবাদী মুখপাত্র অগ্নি সাপকোতা সম্প্রতি প্রকাশ্য জনসভাতেই বলেছেন, পাশ্চাত্যের সরকারগুলো ক্ষমতা ভাগাভাগি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান প্রণয়নপ্রক্রিয়ায় বাধার সৃষ্টি করছে। বিদেশিদের হস্তক্ষেপের কারণেই আগের মেয়াদেও সংবিধান প্রণয়ন করা যায়নি।।