Home » অর্থনীতি » জ্বালানি খাত :: অনিয়ম আর পরিবেশ বিপর্যয়

জ্বালানি খাত :: অনিয়ম আর পরিবেশ বিপর্যয়

এম. জাকির হোসেন খান

electricity-21বাংলাদেশে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ভবিষ্যতের জ্বালানি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জন্য জরুরি কিন্তু সে নিরাপত্তার নামে বেঁচে থাকার প্রধান উপদান প্রকৃতি ও পরিবশের নির্বিচার ক্ষতি নিশ্চিতভাবেই আত্মঘাতী। বর্তমান সরকার কর্তৃক সংশোধিত সংবিধানের ১৮() অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্য নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলভূমি, বন ও বন্য প্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন”। অথচ বাস্তবে সরকার জ্বালানি নিরাপত্তার নামে পরিবেশ এবং প্রতিবেশ ধ্বংশ করে অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতকে ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবেশের স্থায়ী ক্ষতি সাধনে সরকার পিছপা হচ্ছে না।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জ্বালানি চাহিদার প্রধান নির্ভরতা এখনো প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর, যা প্রায় ৭৫ শতাংশ। গড়ে প্রতিদিন ২৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বাপেক্স (৯৬০ এমএমসিএফডি) এবং বহুজাতিক কোম্পানি (১০৪০ এমএমসিএফডি) যৌথভাবে ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে। চাহিদার এ ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজনীয় গ্যাস উত্তোলনে বাপেক্স সফল হলেও আশির দশকের শুরুতে এক শ্রেণীর সরকারি ও বেসরকারি স্বার্থান্বেসী গ্রুপ এ খাতে উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার নামে বিদেশী আইওসিগুলোকে দেশের জ্বালানি খাতে হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং নাগরিক সংগঠন অভিযোগ করেছে, বহুজাতিক কোম্পানির টাকায় নীতি নির্ধারকদের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার খরচ পরিশোধ, বিদেশে বাড়ি বা ফ্লাট ক্রয়, ব্যাংক ব্যালেন্স বৃদ্ধি এবং শেয়ার বাজার ও ব্যবসায় কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করার সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংসকারী বিভিন্ন চুক্তি করা হচ্ছে। আর নীতিনির্ধারকদের সুবিধা নেয়ার প্রমাণ পদ্মা সেতু কেলেংকারির মাধ্যমে আমাদের সামনে স্পষ্ট। বহজাতিক কোম্পানি অক্সিডেন্টাল ও নাইকো টেংরাটিলার প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা, দায়িত্বহীনভাবে পুড়িয়ে ধ্বংসের মাধ্যমে ঐ অঞ্চলের পরিবেশ এবং প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে। কিন্তু বিভিন্ন সরকারের সময়ে এ কোম্পানি দু’টো হতে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের কোনো চেষ্টা না করে উল্টো অভিযুক্ত এসব কোম্পানির দায়ভার গ্রহণকারী শেভরনের সাথে সরকারের গ্যাস ও তেল সম্পদের উত্তোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন অস্বচ্ছ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের জনগণ তাদের সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব হারাচ্ছে। কিন্তু এসব কোম্পানির পরিবেশ নষ্টের দায় পুরোটাই জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের লাওয়াছড়ায় শেভরন কর্তৃক গ্যাস উত্তোলনের ফলে ঐ অঞ্চল ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখিন হচ্ছে।

বিভিন্ন সময়ে বহুজাতিক কোম্পানির সাথে রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনাশী বিভিন্ন চুক্তি হলেও রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ তা জানতে পারছে না। সব ধরনের চুক্তির আগে সংসদে আলোচনার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা না মেনেই সরকারগুলো বিভিন্ন চুক্তি করছে। ক্ষমতাসীন সরকারের বিগত ক্ষমতার মেয়াদে ভারতের সাথে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত চুক্তি করলেও তা আদৌ প্রকাশ করা হয় নি। প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ইকোনোমিষ্টের মতে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে শক্তিশালী রাষ্ট্রেসমূহের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। উইকিলিকস প্রকাশিত গোপন তারবার্তার মাধ্যমে ১/১১ পরবর্তী তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময়ে তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের এশিয়া এনার্জিসহ পরিবেশ বিনষ্টকারী বহুজাতিক কোম্পানির পক্ষে বৈধঅবৈধ আবদারের কথা প্রকাশ পায়।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি প্রদান করা হলেও বিলিয়ন ডলারের জাতীয় সম্পদকে কাজে লাগাতে পিডিবি বা বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ২ লাখ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় বাজেট হতে সামান্য কয়েকশ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় নি। কেন বা কার স্বার্থে বাপেক্স বা পিডিবিকে কার্যকর করা হচ্ছে না? বাংলাদেশ সরকার কেন দেশের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আমলে না নিয়ে প্রাণ ও পরিবেশের স্থায়ী ক্ষতি করা হবে এমন চুক্তি করছে। আর তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী এসব চুক্তির বিরোধিতাকারীদের উপর করের টাকায় পরিচালিত পুলিশ (হালে ঠ্যাঙারে বাহিনী) বাহিনীকে দমন নিপীড়ন করা হচ্ছে। যদি দেশের স্বার্থেই এসব চুক্তি হয় তা প্রকাশে বাঁধা কোথায়? জাতীয় নিরাপত্তার কি প্রশ্ন এতে জড়িত? যারা দেশের ও অর্থনীতির স্বার্থ বিরোধী এসব কাজে জড়িত তারা চেতনার নামে ধরাছোয়ার বাইরে থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় লুটপাটের সংস্কৃতিকে পুষ্ট করছে।

এর বিপরীতে দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবাদের প্রকৃত চিত্র আমাদের সামনেই রয়েছে। ২০১১ সালে ইকুয়েডরের একটি আদালত কোটি আমাজন বনের আশেপাশের জলাভূমিতে কোটি গ্যালন বিষাক্ত পদার্থ নিক্ষেপের মাধ্যমে গবাদিপশু, ক্ষেতের ফসল ধ্বংস ও ক্যান্সার রোগের বিস্তারের অভিযোগে শেভরনকে ৯৫০ কোটি ডলার (প্রায় ৭৬,০০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশের এক বছরের কর রাজস্বের সমপরিমাণ) জরিমানা করে। ৩০ হাজার ইকুয়েডরবাসীর পক্ষে পরিবেশবাদী একজন আইনজীবি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রথম এক দশক আইনী লড়াই চালিয়ে যায় এবং পরবর্তী কালে ইকুয়েডরের আদালত হতে দশ বছর পর এ রায় পায়। অথচ মাগুরছড়া গ্যাস বিস্ফারণের মাধ্যমে ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয় হলেও ইউনোকলকে জরিমানা বাবদ আজ পর্যন্ত কোনো অর্থ প্রদান করতে হয়নি। প্রকৃত জাতীয়তাবাদীরা কখনো কর্পোরেট শক্তির প্রিয়পাত্র হতে পারে না; ভেনিজুয়েলার প্রয়াত মহান জাতীয়তাবাদী নেতা হুগো শ্যাভেজ বা ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ইভা মোরালেস বা কিউবার ফিদেল ক্যাষ্ট্রো দেশের স্বার্থে জীবনবাজি রেখেছেন। অথচ এর বিপরীতে তথাকথিত উৎপাদিত গ্যাস তৃতীয় পক্ষ তথা পিডিবির কাছে বেশি মূল্যে বিক্রির সুবিধা দিতে শেভরনের পক্ষে তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা ওকালতি করে (ডেইলি সান, ২৭ মে ২০১৩)

জ্বালানি সংকটের নামে সততা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার পথ রুদ্ধ করে বিদ্যুত ও জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির নামে “বিদ্যুত ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০” প্রণয়ন করে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য যাচাই ছাড়াই সরকারের পছন্দানুযায়ী ‘কমিশন বাণিজ্যের’ লক্ষে রেন্টাল বিদ্যৎ কেন্দ্রের ন্যায় স্বল্পকালীন কিন্তু ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলেও দায়ের বোঝা বেড়েই চলেছে। ২০১২১৩ এবং ২০১৩১৪ অর্থ বছরে বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবশে বান্ধব নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎজ্বালানি নির্ভর উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ না করার ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দায়িত্বহীন আচরন আসলে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে মায়ের ন্যায় রক্ষা প্রদানাকরী বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত (৫৭৭,০০ হেক্টর) ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন, বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন, এর নিকটে বিদ্যুতের তথাকথিত ঘাটতি মেটানোর জন্য এর নিকটে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বসানোর মাধ্যমে এর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে। বাংলাদেশের মোট সংরক্ষিত বনভূমির ৪১ ভাগ জায়গা জুড়ে অবস্থিত জীববৈচিত্র্য পরিপূর্ণ, রয়েল বেঙল টাইগারসহ প্রায় ৪২৫ প্রজাতির সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জিনসমৃদ্ধ বিভিন্ন প্রাণী ও বৃক্ষের অবস্থান এ সুন্দরবনে। উপকূলীয় ভূমিক্ষয় রোধ এবং পলিমাটি জমাটবদ্ধ হতে এবং সুনামি বা যেকোনো ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের ৩০৪০ শতাংশ জনবসতি এলাকায় আসার পূর্বে সুন্দরবন তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম। গত ৫০ বছরে ক্ষতি হতে সুরক্ষা প্রদানের আর্থিক মূল্য হিসাব করলে তা ট্রিলিয়ন ডলারের কম হবে না। তাছাড়াও ফারাক্কার উজানে বাঁধের ফলে বাংলাদেশে আশংকাজনক হারে মিষ্টি পানি কম আসায় সুন্দরবন অঞ্চলের পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে বহুগুণে। উল্লেখ্য, অতিরিক্ত লবণাক্ততার ফলে সুন্দরবনের গাছগুলো ধ্বংসের মুখে। গাছগুলো আগা মরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়াও, ২০০০২০১০ সময়কালে বড় ধরনের অবকাঠামো ও ইটভাটা তৈরি, অনিয়মতান্ত্রিক এবং অপরিকল্পিত ভাবে সম্পদ আহরণ, নির্বিচার গাছ কাটা এবং স্বল্প প্রবাহকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় লোনা পানি চিংড়ি চাষের জন্য সরিয়ে নেয়ার ফলে সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ এমনিতে কমে এর বনভূমি হারাচ্ছে।

আইপিসিসি’র ৪র্র্থ প্রতিবেদন অনুসারে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধিও ফলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। আর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানো হলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব বলে ভবিষ্যতে কিছু থাকবে না বলেই বিজ্ঞানীরা আশংকা করেছেন। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭ এর ৭() ধারা মতে এ এলাকাটি ‘লাল চিহ্নিত এলাকা’ যেখানে কোন শিল্প স্থাপনে পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) সাপেক্ষে ‘পরিবেশ ছাড়পত্র’ নেয়ার বাধ্যতা থাকলেও পূর্ণ ইআইএ ছাড়াই ২১ জুলাই ২০১১ তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তর সুন্দরবন এলাকায় রামপালে ভারতবাংলাদেশের যৌথ প্রকল্প হিসবে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বেআইনী ‘পজিশনাল ছাড়পত্র’ দেয়। এমনকি যে প্রাথমিক সমীক্ষার ভিত্তিতে এ ছাড়পত্র দেয়া হয় সেখানে এ প্রকল্পের ফলে সুন্দরবনের উপর প্রকৃত প্রভাব বেমালুম চেপে যাওয়া হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন হলে অন্যান্য ক্ষতির সাথে পিএম২.৫ নামে উপাদানের ঘন মেঘমালা সৃষ্টি হয়ে আস্তে আস্তে তা পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, পশুর নদী তীরবর্তী সুন্দরবন এলাকা হতে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুরত্ব ৯.৫ কিমি; অর্থাৎ বাফার জোনের ভেতরেই প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্থান। গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভারতের ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশান এ্যাক্ট ১৯৭২ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৫ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন বাঘ,হাতি সংরক্ষণ অঞ্চল, জৈব বৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান, বন্য প্রাণীর অভায়ারণ্য কিংবা অন্য কোন ধরণের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকা চলবে না বিধায় মধ্য প্রদেশে জনবসতি সম্পন্ন এলাকায় কৃষিজমির ওপর ভারতের কেন্দ্রিয় গ্রীণ প্যানেল এনটিপিসিকে ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়নি (দি হিন্দু পত্রিকা, ভারত, ৮ অক্টোবর ২০১০)

প্রশ্ন হলো, ভারতীয় আইনে যা অনুমোদিত নয়, তা লংঘন করে একই ভারতীয় এসটিপিসি বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক ব্যুহ্য সুন্দরবন, যা কোনোভাবেই নতুন করে তৈরি করা সম্ভব নয়, ধ্বংসের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে তার উত্তর না দিয়ে উন্নতি প্রযুক্তি বসানোর ধু¤্রজাল তৈরি করা হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতি রোধে বিদ্যুত উতপাদনের উন্নততর প্রাযুক্তিক কৌশল নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সেটাতো ভারতেও সম্ভব ছিলো, তাহলে সেখানে তা স্থাপনে অনুমতি দেয়া হলো না কেন? ৬০ শতাংশ মান রক্ষাই শতার্ধীন সেক্ষেত্রে তথাকথিত মান রক্ষা যে এনটিপিসি’র ফাঁকাবুলি তা, ফারাক্কা চুক্তি এবং টিপাইমুখ ড্যাম নির্মাণ সংক্রান্ত ভারতের অবস্থানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়াও ভারত সহ বাংলাদেশে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ব্যবস্থাপনার মান এবং এর প্রভাব দেখলে এটা পরিস্কার, তথাকথিত মান রক্ষা হলো কথার কথা, মূল উদ্দেশ্য অন্য কিছু। বিকল্প স্থান হিসাবে লবণচূড়ার নাম থাকলে কেন সরকার এ জায়গাতেই বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর? প্রশ্নবোধক আরো বিষয় হলো, এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমির চেয়েও প্রায় ৩ গুণ বেশি জায়গা অধিগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব এবং আঞ্চলিক শক্তিধর রাষ্ট্রের কোনো ভূকৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে কি না বাংলাদেশের পরিবেশ এবং প্রতিবেশ রক্ষায় তা দ্রুত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।।