Home » অর্থনীতি » শুকিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নদী (পর্ব – ১)

শুকিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নদী (পর্ব – ১)

. ইনামুল হক

riverপৃথিবীর পানিসম্পদের উপর এর পাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের অধিকার ঐতিহাসিক এবং জন্মগত। এই পানিসম্পদ নদীপথে সাগরের দিকে প্রবাহিত হয় বা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট জলাধারে মজুদ থাকে। নদী, হ্রদ, বিল বা জলাধারের উপর কেবল মানুষই নয় এদের আশে পাশের প্রাণী ও উদ্ভিদেরও ঐ পানি সম্পদের উপর ঐতিহাসিক ও জন্মগত অধিকার আছে। কারণ একটি এলাকার পানি সম্পদ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের উপর পরস্পর নির্ভর করেই ঐ এলাকার প্রাণী ও মানুষ বেঁচে থাকে, তাই ঐ এলাকা তাদের বাসভূমি। তবে প্রতিটি নদীর থাকে একটি অববাহিকা, যে অববাহিকার উজানের মানুষ প্রায়শঃই ভাটির মানুষের জলের অধিকার হরণ করার কাজে লিপ্ত হয়। তারা কেবল হরণই নয় যে পানি ভাটিতে প্রবাহিত হচ্ছে তা দূষিতও করে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছোটবড় ৫৪টির অধিক আন্তর্জাতিক নদীর উজানে রয়েছে ভারত। ভারত ও চীন এর প্রায় সবকটি নদীর পানি প্রত্যাহার করার জন্য হস্তক্ষেপ করছে, যার ফলে নদীগুলির বাংলাদেশ অংশে পানি পাওয়া নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

ভারত ১৯৭৫ সালে গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ব্যারেজ চালু করে বাংলাদেশের নদী প্রবাহে প্রথম আঘাত হানে এবং এর প্রবাহের একটি বিরাট অংশ প্রত্যাহার করে ভাগিরথী নদীতে চালান করে দেয়। গঙ্গা নদীর গড় ন্যুনতম প্রবাহ ৭০,০০০ কিউসেক যা’ ফারাক্কা ব্যারেজ চালূ হবার আগে পুরোটাই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতো ও বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শাখা নদীগুলিকে যোগান দিত। গঙ্গা নদীর পানি বন্টন নিয়ে ১৯৭৭ সালে প্রথম যে চুক্তি হয় তাতে গ্যারন্টি ক্লজ দিয়ে ৩৪,৫০০ কিউসেক পানি পাওয়া গিয়েছিল। ১৯৮২ সালে ঐ চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ভারত অতিরিক্ত হারে পানি প্রত্যাহার করতে থাকে, ফলে আর চুক্তিই করা যায়নি। ১৯৯০ এর দশকে ভারত বাংলাদেশের জন্যে এত কম পানি ছাড়তে থাকে যে, তা ১০,০০০ কিউসেকে এসে দাড়ায়। ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ন্যুনতম প্রবাহ ৩৪,৫০০ এবং ২৭,৬৩৩ কিউসেক হারে পানি ছাড়ের দ্বিতীয় চুক্তি হয়। তবে বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে ন্যুনতম পানি প্রবাহের কোন গ্যারান্টি দেয়া হয়নি। বাংলাদেশ এখন অনেক বছরেই চুক্তি অনুযায়ী পানি পাচ্ছে না, কিন্তু এমন চুক্তি অনুযায়ী বলারও কিছু নেই। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলি এখন ক্রমশঃ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে মরতে বসেছে এবং লবণাক্ততা সুন্দরবন এলাকা ছাড়িয়ে ক্রমশঃ উজানের দিকে ঠেলে উঠছে।

গঙ্গা নদীর পানি বন্টনের দ্বিতীয় চুক্তির পর ভারতের সাথে অন্যান্য নদীগুলির পানি বন্টনের কথাও আসতে থাকে। প্রথমেই আসে তিস্তার কথা। ঐতিহাসিকভাবে, তিস্তার পানি আসে হিমালয়ের হিমবাহগুলো থেকে, যার সাথে যোগ দেয় এর গতিপথের ঝর্ণা ও উপনদীগুলির প্রবাহ। এই প্রবাহ বসন্ত আসার সাথে বাড়তে থাকে যখন তাপবৃদ্ধির কারণে তুষার ও হিমবাহগুলি গলতে শুরু করে। বর্ষার অতিবৃষ্টি (সারা সিকিমে বছরে গড় বৃষ্টিপাত ২৭৪০ মিলিমিটার) অনেক সময় ভাটির ডুয়ার্স সমতলে বন্যা সৃষ্টি করে। ভারতের পানি বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র তিস্তার পানি প্রসঙ্গে লিখেছেন, এন্ডারসন সেতুর তলায় এই প্রবাহ অনেক সময় ৯০ কিউমেকে নেমে আসে। [১ কিউমেক (কিউবিক মিটার প্রতি সেকেন্ডে)=৩৫.৩ কিউসেক (কিউবিক ফিট প্রতি সেকেন্ড)]। এই সেতুটি দার্জিলিং কালিমপং সড়কে অবস্থিত যার ২৫ কিলোমিটার ভাটিতে সিভক শহরের কাছে তিস্তা নদী ডুয়ার্সের সমতলে প্রবেশ করেছে। তারও ১৫ কিলোমিটার ভাটিতে গজলডোবা ব্যারেজ নির্মিত। গজলডোবার ৬৫ কিলোমিটার ভাটিতে তিস্তা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের কাউনিয়া রেল সেতুর কাছে আমরা গড়ে ২০০ কিউমেক ন্যুনতম প্রবাহ পেয়েছি। কিন্তু এখন তিস্তা ব্যারেজের কাছে এই প্রবাহের পরিমাণ ১০০০ কিউসেক থেকে ৪০০ কিউসেকের (২৮ থেকে ১১ কিউমেক) মত।

ভারত ১৯৮২ সালে গজলডোবায় ব্যারেজ নির্মাণ করে সেচের জন্য পানি প্রত্যাহার শুরু করে, যার ফলে বাংলাদেশের ভেতরে তিস্তা নদী ও তিস্তা সেচ প্রকল্প মার খেতে থাকে। বিগত মার্চ ২০১০ দিল্লীতে বাংলাদেশ ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৩৭তম বৈঠকের সময় বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র রায় তিস্তার পানি গজলডোবা পয়েন্টে ৫০৫০ হারে ভাগাভাগির দাবী তুলেছিলেন। ঐসময় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা না চাইতেই ৩,৫০০ কিউসেক পানি পাচ্ছি, আলাপের মাধ্যমে আরও বেশী পাবো। (দি ডেইলী স্টার, ১৮.০৩.২০১০)। জানুয়ারী ২০১১ ঢাকায় সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ৮,০০০ কিউসেক ও ভারত ২১,০০০ কিউসেক পানির পাওয়ার দাবী তোলে। এই দুই মিলে ২৯,০০০ কিউসেক হয়, কিন্তু তিস্তার ন্যুনতম গড় প্রবাহ ছিলো ১০,০০০ কিউসেক। যাই হোক, এই বৈঠকের পর থেকেই বাতাসে সংবাদ ভাসতে থাকে যে, তিস্তার পানি চুক্তি আসন্ন, এবং তা’ হচ্ছে ২০% পানি নদীর জন্যে রেখে ৫০৫০ হারে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাগাভাগির ফর্মুলায়। বিগত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ হাসিনা মনমোহন শীর্ষ বৈঠক হবার আগে বলা হলো তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি হচ্ছে নদীর জন্যে ২০% পানি আলাদা রেখে ৪৮৫২ ভাগের ফর্মুলায়। কিন্তু ঐ বৈঠক ব্যর্থ হয়ে যায়।

আনন্দবাজার পত্রিকা ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে মমতা ব্যানার্জির যে মন্তব্য প্রকাশ করে তাতে জানা যায়, প্রস্তাবিত চুক্তিটি ছিলো ’লোক দেখানো’। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিস্তায় এমনিতেই পানি নেই। তার উপর সিকিমে পানি সেচ এবং জল বিদ্যুতের জন্য নদীর উপরে দু’টি বড় বাঁধ তৈরি হচ্ছে। সেই বাঁধ দুটি হয়ে গেলে পশ্চিমবঙ্গে জলের সরবরাহ আরও কমে যাবে। তিনি আরও বলেন, তাঁর সাথে হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভাল। কিন্তু কেবলমাত্র কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে যদি ’লোক দেখানো’ একটা চুক্তি হয়, তা’ হলে তা’ বাস্তবোচিত হবে না। মমতা কেন্দ্রকে বলেন, ৫০% দূরে থাক। তিনি বাংলাদেশকে ২৫% পানি দিতে সম্মত হয়েছিলেন, তা দেওয়াও এখন কঠিন। কারণ তিস্তায় বলতে গেলে জলই নেই। আমাদের প্রশ্ন হলো, তাহলে তিস্তার জল যাচ্ছে কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমরা যা’ তথ্য পেয়েছি তা’হলো, ১৯৮২ সালে গজলডোবা ব্যারেজ চালু করার আগে থেকেই নানা স্থানে সেচের জন্য তিস্তা নদী থেকে ক্রমবর্ধমান হারে পানি উত্তোলন করায় এবং সিকিমে নির্মিত পর্যটন ও জলবিদ্যুত জলাধারগুলিতে পানি আটকে রাখায় প্রবাহ কমতে থাকে। তিস্তা অববাহিকায় বর্তমানে ৫টি নির্মিত, ৪টি নির্মীয়মান ও ৩১ টি প্রস্তাবিত ড্যাম প্রকল্প আছে (sandrp.in)

 teesta-river-basin-map

চিত্র ১: সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে তিস্তা নদীর অববাহিকায় নির্মিত, নির্মীয়মান ও নির্মীতব্য ড্যামসমূহের অবস্থান

তিস্তা নদীর প্রবাহে সিকিমের ড্যাম প্রকল্প এবং ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প মিলে এক জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কল্যাণ রুদ্র বিগত ৬ সেপ্টেম্বর কলকাতাতে বলেন, গজলডোবা ব্যারেজের কাছে তিস্তার ন্যুনতম প্রবাহ হলো ৩৫০০ থেকে ৪০০০ কিউসেক (twocircles.net)। কল্যাণ রুদ্র আরও বলেন, সিকিমে প্রস্তাবিত ২৩টি Low Flow’ damsনির্মিত হলে পানি আরও কম পাওয়া যাবে। কিন্তু ভারত গজলডোবা ব্যারেজ দিয়ে তিস্তার এই সমূদয় পানি সরিয়ে ফুলপুরের কাছে মহানন্দায় ফেলছে ও মহানন্দা নদী দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিহারের মেচী নদীতে। ভারত মেচী নদীতে একটি ব্যারেজ নির্মাণ করছে, যার ফলে উত্তরবঙ্গ ও বিহারে তার আন্তঃ নদী সংযোগ পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। ভারতের এসকল কাজ এক নদীর অববাহিকার পানি অন্য নদীর অববাহিকায় চালান করা যা’ মোটেই আন্তর্জাতিক নিয়মসিদ্ধ নয়। তিস্তার পানির এই অন্যায় প্রত্যাহার বন্ধ না হলে নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে আদৌ কোন পানি বন্টন চুক্তি হওয়ার ভরসা পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা বর্তমানে যে ৪০০ কিউসেক থেকে ১০০০ কিউসেক পানি পাচ্ছি তা’হলো ব্যারেজের ভাটিতে ঝর্ণা ও অন্যান্য কিছু উপনদীর যোগ দেয়া পানি।

বাংলাদেশে নির্মিত তিস্তা ব্যারেজের কাছে তিস্তা নদীর সর্বাধিক গড় প্রবাহ ছিলো ২,৮০,০০০ কিউসেক এবং সর্বনিম্ন গড় প্রবাহ ছিলো ১০,০০০ কিউসেক। এর উজানে ক্রমবৃদ্ধির হারে পানি সরিয়ে নেয়ার কারণে এর প্রবাহ ১,০০০ কিউসেকে এসে দাড়িয়েছে, এমনকি খরার সময় তা’ ৫০০ কিউসেক হয়ে যায়। ভারত ১৯৮২ সালে গজলডোবা ব্যারেজ নির্মাণ করে তাদের সেচ প্রকল্পে দেবার জন্যে এবং মহানন্দা নদীতে পাঠিয়ে দেবার জন্যে তিস্তা নদী থেকে পানি সরিয়ে নিচ্ছে। উত্তরবঙ্গের কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার ৯.২২ লক্ষ হেক্টর জমিতে তিস্তার পানি দিয়ে সেচ দেবার জন্য ভারতের বিশাল পরিকল্পনা আছে। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে দোয়ানীর কাছে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করেছে যার আওতায় বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও বগুড়া জেলার ৬.৩২ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচ দেবার পরিকল্পনা আছে।

আমরা মমতা ব্যানার্জিকে বলবো তিস্তার পানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের কলহের সুযোগে বানরের রুটিভাগের মত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যে তিস্তার পানির সিংহভাগ উত্তর ভারতে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেটা কি তিনি দেখতে পাচ্ছেন? সিকিমের নির্মিত ও নির্মীয়মান ড্যামগুলি যে তিস্তা নদীকে ক্রমশঃ মেরে জলশূন্য করে ফেলছে তা’ কি তিনি দেখতে পাচ্ছেন? ভারত জটিলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশের দোয়ানীতে পানির প্রবাহের ১৫ বছরের রেকর্ড চেয়েছে, আমরা কি ভারতের কাছে তিস্তার পানি প্রত্যাহারের সকল রেকর্ড চাইতে পারি না?

হাসিনা মনমোহন শীর্ষ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা নানা কথা বলেছেন, কিন্তু পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস যা’ বলেছেন সেটাকেই সরকারী অবস্থান বলা যায়। তিনি বলেন, তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি চূড়ান্ত হয়েই আছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার অবস্থান থেকে এক বিন্দুও ছাড় দেবে না। বাংলাদেশের এই অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর উপর একটি চ্যালেঞ্জ। তবে কথাগুলি যত সহজে বলা হলো বিষয়টি তত সহজ নয়। তিস্তা নদীর পানি চুক্তির সাথে আরও অনেকগুলি বিষয় জড়িত যেসকল বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করেছিল বলে মনে হয় না; যেমন, গজলডোবা পয়েন্টে ক্রমহ্রাসমান পানি প্রবাহ, কেন্দ্রীয় সরকারের আন্তনদী সংযোগ পরিকল্পনায় এর সম্পৃক্ততা এবং উত্তরবঙ্গের ছয়টি জেলায় বিস্তৃত বিশাল তিস্তা সেচ প্রকল্পের কার্যকারিতা। তবে প্রতীয়মান হয় যে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গ্যারান্টিবিহীন একটি কাগুজে চুক্তিতে সম্মতি দেবার জন্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চাপ দিচ্ছিল।।

(চলবে…)

১টি মন্তব্য

  1. গুরুত্বপূর্ন একটা পোষ্ট! ভারত তো আমাদের নদী গুলো পানি ইচ্ছা মত দিচ্ছে, শুকিয়ে মারছে আমাদের নদীগুলোকে। এই নিয়ে কোন দৃঢ় পদক্ষেপ বা প্রতিবাদ আমরা এখনও দেখতে পাই নি।

    ঢাকার আশে পাশে প্রায় প্রতিটি পানির নদীর বিষাক্ত করা হচ্ছে। কলকারখানাগুলো কোন প্রকার প্ল্যান্ট ট্রিটমেন্ট ছাড়াই সরাসরি নদীতে দূষিত পানি ফেলছে।
    এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ খুব জরুরী।