Home » অর্থনীতি » সম্পদ লুটের যুদ্ধ আর আগ্রাসন (পর্ব – ১)

সম্পদ লুটের যুদ্ধ আর আগ্রাসন (পর্ব – ১)

ফারুক চৌধুরী

war-businessইতিহাস বিচিত্র। যুদ্ধের ইতিহাস কম বিচিত্র নয়। নানা নাম, নানা ঘটনা বিচিত্র পথ ধরে চলে গেছে যুদ্ধের ইতিহাসে, অধ্যায়ের পর অধ্যায় ধরে।

প্রতি পথে, প্রত্যেক পথের মোড়ে যুদ্ধের ইতিহাস হয়ে উঠেছে রহস্যময়। সে রহস্য কতো বিষয়, কতো পাত্রপাত্রী, কতো নায়কপ্রতিনায়ক, নায়িকাপ্রতিনায়িকায় পূর্ণ। ইতিহাসেরই এ অংশ যুদ্ধের ইতিহাস। স্বাভাবিকভাবেই, যুদ্ধের ইতিহাসে জড়িয়ে আছে নানান স্বার্থ, নানান শ্রেণী, জড়িয়ে আছে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি, তাতে প্রভাব ফেলেছে আবিষ্কারউদ্ভাবনঅভিযানবিজ্ঞানপ্রযুক্তিভূগোলমনস্তত্ব। আর এ সবেরই সঙ্গে রয়েছে আগ্রাসী যুদ্ধের ইতিহাস।

যুদ্ধের আর আগ্রাসী যুদ্ধের ইতিহাস এ যুদ্ধকেই ঘিরে। তবে কেবল যুদ্ধকে ঘিরে নয়, ইতিমধ্যেই উল্লেখিত হয়েছে যে, তাতে রয়েছে অর্থনীতি, রাজনীতি, তাতে রয়েছে শ্রেণী স্বার্থ, তাতে রয়েছে অস্ত্রের বিবর্তন ও বিকাশ।

আর তাতে জড়িয়ে আছে অশ্রুও হাসি, বিজয়ের আনন্দ ও পরাজয়ের গ্লানিবেদনা, জড়িয়ে আছে আগুন ও বারুদ, বীরত্ব ও কাপুরুষতা। অর্থাৎ মানুষ রয়েছে কেন্দ্র ভূমিতে। অগণিত সে মানুষ কখনো সরব, কখনো অনেক কথা বুকে নিয়ে নীরব।

যুদ্ধের আর আগ্রাসী যুদ্ধের কতো নাম। বিচিত্র সে সব নাম, রহস্যঘেরা সে সব কখনো। কখনো নামের সঙ্গে যুদ্ধের মিল খুঁজে পাওয়া ভার, কখনো নামই বলে দেয় যুদ্ধের বা আগ্রাসী যুদ্ধের পরিচয়, কখনো ভূগোল স্পষ্ট হয়ে ওঠে সে নামের মধ্যে, কখনো ফুটে ওঠে যুদ্ধের সময়কার কূটনীতি বা ভূরাজনীতি, কখনো বুঝতে অসুবিধা হয় না কোন কোন পক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত বা কোন দিকে কোন স্বার্থ, কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যাক।

() ওয়ার অব দি ফার্স্ট কোয়ালিশন, () ওয়ার অব দি সেকেন্ড কোয়ালিশন, () ওয়ার অব দি থার্ড কোয়ালিশন, () ওয়ার অব দি ফোর্থ কোয়ালিশন। প্রথমটি শুরু হয়েছিল ১৭৯২ সালে। তা শেষ হয় পাঁচ বছর পরে ১৭৯৭ সালে। প্রথমটি ছিল বিপ্লবী ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পরিচালিত। এ যুদ্ধ জোট প্রথমে তৈরি করেছিল অস্ট্রিয়া ও প্রুশিয়া, ১৭৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একে একে তাতে যোগ দেয় ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড, স্পেন, নেপলস, সার্দিনিয়াপিডমন্ট আর যাজক শাসিত রাজ্যগুলো। দ্বিতীয়টির শুরু ১৭৯৮ সালে, সমাপ্তি ১৮০১ সালে। তৃতীয়টির আরম্ভ ১৮০৫ সালে, শেষ ১৮০৭ সালে। শেষটির সূচনা ১৮১৩ সালে তা অন্তে পৌঁছায় ১৮১৪ সালে। এ যুদ্ধে জোটের সৈন্যরা প্যারিসে ঢোকে ১৮১৪ সালের ৩১ মার্চ, ১১ এপ্রিল নেপোলিয়নের সিংহাসন ত্যাগ নিশ্চিত করে, আর ৩০ মে তে প্যারিসে সম্পাদিত হয় ফরাসিদের সঙ্গে প্রাথমিক শান্তি চুক্তি।

নাম শোনা যায়, () ১৮৯৮ সালের স্পেনিশএমেরিকান ওয়ার বা স্পেনীয়আমেরিকান যুদ্ধের () স্পেনীয় গৃহযুদ্ধের প্রথমটির শুরু ১৮৯৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হাভানায়, মার্কিন রণতরী মেইন ধ্বংসের মধ্যদিয়ে। তা ছড়িয়ে পড়ে ফিলিপাইনে, ম্যানিলা বে’তে বা ম্যানিলা উপসাগরে, কিউবাতে, পুর্টো রিকোতে। ম্যানিলা বে’র যুদ্ধে ধ্বংস হয় স্পেনীয় রণতরীর একটি স্কোয়াড্রন। কিউবাতেও তাই ঘটে। দু জায়গাতেই মার্কিন পক্ষে একটি প্রাণহানি ঘটে না। আর যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৮৯৮ সালের ডিসেম্বরে প্যারিসে শান্তি চুক্তি সম্পাদনের মধ্যদিয়ে। এ যুদ্ধের মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পেয়ে যায় ফিলিপাইন, ওয়াম ও পুর্টো রিকো। কিউবাকে ছেড়ে দেয় স্পেন, আর তা দখল করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

দ্বিতীয় যুদ্ধটি অর্থাৎ স্পেনীয় গৃহযুদ্ধ ঘটে ১৯৩৬৩৯ সালের মধ্যে, একদিকে প্রজাতন্ত্রী সরকার, প্রেসিডেন্ট আজাফিয়ার নেতৃত্বে পপুলার ফ্রন্ট রিপাবলিকান গর্ভনমেন্ট, অন্যদিকে ফ্যাসিস্ট খুনীরা।

সরকারের মধ্যে জোরালো হয়ে উঠছে সমাজতন্ত্রী প্রবণতা, যাজকতন্ত্রবিরোধী ঝোক। স্পেনীয় মরক্কোয় ১৯৩৬ সালের ১৮ জুলাই সামরিক কমান্ডারদের বিদ্রোহের মধ্যদিয়ে গৃহযুদ্ধের শুরু। বিদ্রোহের দু মাসের মধ্যে মারা যায় বিদ্রোহীদের নেতা জেনারেল সানহুরহো। জেনারেল ফ্রাংকো বিদ্রোহের মাথায় বসেই নিজেকে ঘোষণা করে চিফ অব দি স্পেনিশ স্টেট, স্পেন রাষ্ট্রের প্রধান। প্রজাতন্ত্রী সরকারের নিয়ন্ত্রণে যাকে রাজধানী মাদ্রিদ বার্সেলোনা, বিলবাও, ভ্যালেনসিয়া নগর। বিদ্রোহী ফ্যাসিস্টদের পক্ষে দাঁড়ায় কাদিজ, সারাগোসা, সেভিল। স্পেন হয়ে ওঠে সমাজতন্ত্রী ও ফ্যাসিস্টদের আদর্শগত যুদ্ধের ক্ষেত্র। সম্প্রতি বিলুপ্ত সোভিয়েট ইউনিয়নের নেতৃত্বে এখন স্ট্যালিন। তিনি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে সাহায্য করতে থাকেন। সোভিয়েট ইউনিয়ন থেকে স্পেনে পাঠানো হয় বিশেষজ্ঞ, কারিগর। পৃথিবী বিখ্যাত মনীষীরা প্রজাতন্ত্রী সরকারের পক্ষে লড়াই করার জন্য গড়ে তোলেন ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেড। হিটলারের নিয়ন্ত্রণাধীন ফ্যাসিস্ট জার্মানি মদদ জোগায় স্পেনীয় ফ্যাসিস্টদের, পাঠায় বোমারু বিমান। ইটালীয় ফ্যাসিস্টরাও মদদ যোগায়, পাঠায় ৫০ হাজার খুনী সৈন্য। এ গৃহযুদ্ধে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ।।