Home » রাজনীতি » ছাত্রলীগ মানেই ত্রাস ভয় হত্যা খুন

ছাত্রলীগ মানেই ত্রাস ভয় হত্যা খুন

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

political-cartoons-44১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে বাঙালি জাতির ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদশে ছাত্রলীগ। কিন্তু এসবই এখন অতীত। বর্তমানে ছাত্রলীগ আর আদর্শিক কোনো সংগঠন নয়, এটি একটি লাঠিয়াল সন্ত্রাসী বাহিনী। খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, শিক্ষক লাঞ্ছনা, যৌনসন্ত্রাস ও ভর্তিবাণিজ্য এখন ছাত্রলীগের আদর্শ। সংগঠনটির বর্তমান কর্মীরা শিক্ষাঙ্গনে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী রূপ ধারণ করেছে। অর্থ আর আধিপত্য বিস্তারে প্রতিনিয়ত তারা হামলাসংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। চলছে অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন। এতে কখনো জীবন হারাচ্ছে সাধারণ ছাত্র, পথচারী এমনকি শিশু। আবার কখনো নিহত হচ্ছে নিজেদের এবং প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের কর্মী। তবু কোন কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না ছাত্রলীগকে। সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র, সন্ত্রাস ও পুলিশের সহায়তায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ছাত্রলীগ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত সরকারের সময় দেশের নিরীহ ছাত্র, মুটে মুজুর, নিজেদেরও কর্মী এবং প্রতিপক্ষ সংগঠনের কর্মীসহ অসংখ্য ছাত্র এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করে ছাত্রলীগ। রক্ষা হয়নি নিষ্পাপ শিশু সন্তানও। সর্বশেষ গত বছরের ২৪ জুন চট্টগ্রামে রেলের দরপত্র নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গোলাগুলিতে শিশু পুত্র আরমানসহ দুজন মারা যায়।

ছাত্রলীগ সর্বসাম্প্রতিক যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাহলো খুলনা আজম খান কমার্স কলেজ এবং ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। খুলনা আজম খান কমার্স কলেজে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। আর হল পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে।

রাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা

এ বছরের শুরুতেই পুরানো চেহারায় ছাত্রলীগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ভর্তি ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্যকোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় অস্ত্র হাতে হামলা করে ছাত্রলীগ। সেদিন বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এলে পরপর কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর পরপরই আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হতে দেখা যায় সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনটির নেতাকর্মীদের। প্রশাসনিক ভবনের পূর্ব পাশ থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর তারা অস্ত্র হাতে হামলা করে। এসময় পুলিশের সামনেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায় ছাত্রলীগ। এক পর্যায়ে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ছুটোছুটি শুরু করলে পুলিশের সামনেই তাদের পেটাতে দেখা যায় ছাত্রলীগ কর্মীদের। এরপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে ঘুরতে থাকে। এ সময় আন্দোলনে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীতে তারা মারধর করে। এ সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যায়। ছাত্রলীগের মারধরের সময় পুলিশ পুরোপুরি নিরব ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের আন্দোলন নস্যাত করতে পুলিশের ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ওপর এই হামলা চালিয়েছে।

শাহবাগে কোটাবিরোধী আন্দোলনে হামলা

গত বছরের ১২ জুলাই মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের আন্দোলনে ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে আবারো প্রতিয়মান হয় ছাত্রলীগ কোনো ছাত্র সংগঠন নয় বরং সন্ত্রাসী সংগঠন। বর্তমানে চাকরি ক্ষেত্রে ৫৬ ভাগ কোটা অনুসরণ করা হয়। এদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩৬ ভাগ। এছাড়া রয়েছে আঞ্চলিক কোটা, প্রতিবন্ধী, সংখ্যালঘু, নারীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কোটা। বাকী ৪৪ ভাগ দিয়ে মেধার মূল্যায়ন করা হয়। এমন পদ্ধতির প্রথা ও নজির পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া বিরল। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসন আমলে বাঙালি জাতি চাকরি ক্ষেত্রসহ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে বঞ্চিত, নিপীড়িত ও অত্যাচারিত হয়েছে সীমাহীন ভাবে। কিন্তু রক্তে বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে এই বৈষম্য ও অধিকার কেড়ে নেয়ার মাত্র আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পণ্য করে রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা হাসিলে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতাসীনরা। বিশে^র উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো যখন মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করে বিশ্বসভায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই করছে, ঠিক তখন বাংলাদেশ সরকার কোটার মাধ্যমে প্রশাসনকে ব্যবহার করার পায়তারা করে যাচ্ছে। সর্বশেষ নির্লজ্জভাবে যখন ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কোটা প্রথা অনুসরণ করে মেধাবীদের বঞ্চিত করে ফল প্রকাশ করে তখন কোটা বিরোধী আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)সহ সব ধরনের সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১০ সড়ক অবরোধ, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট পালন করে লাখ লাখ চাকরি প্রার্থী শিক্ষার্থী।

১২ জুলাই এ দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী শাহবাগ মোড় অবরোধ করতে গেলে ছাত্রলীগ ও পুলিশ তাদের উপর একযোগে হামলা করে। আন্দোলনকারীদের ছাত্রদল ও শিবির সম্বোধন করে পৈশাচিক হামলায় চালিয়ে ১৫ থেকে ২০ শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত করে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। অন্যদিকে পুলিশের গুলিতে আহত হয় আরো পাঁচ ছাত্র। সন্ত্রাসী হামলার মুখে স্থবির হয়ে যায় একটি যৌক্তিক আন্দোলন।

সরকার এ হামলার বিচার না করে বরং সন্ত্রাসীদের প্রশংসায় মেতে উঠে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসীদের ধন্যবাদ জানিয়ে আন্দোলনকারীদের ভিডিও ফুটেজ দেশে চাকরি থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য শোনা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য বড়ই দুর্ভাগ্যের। তার এ বক্তব্যে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা আরো বেশি উৎসাহিত হয়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে পাহাড়া চৌকি বসিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে। ছাত্রলীগ এখন কোন ছাত্র সংগঠন নয়, এটি একটি সন্ত্রাস লালান ও আশ্রয় দান সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগ মানে ত্রাস, ভয়, হত্যা ও খুন।

বুলেটে বিদীর্ণ শিশু রাব্বি, বাকরুদ্ধ মা

২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তার, টেন্ডারবাজি ও নিয়োগবাণিজ্য নিয়ে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে পাশের গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের ১০ বছরের শিশু রাব্বি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। দাদিকে ডেকে আনতে গিয়ে ছাত্রলীগের বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। শিশুকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পাগল প্রায় অসহায় বাবা মা মুনিরা বেগম। ছেলের কথা মনে করে প্রতিমূহুর্তে হাউ মাউ করে কেদে উঠেন মা। শিশু সন্তানকে হারিয়ে বাবামা এখন নির্বাক। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর এসিড সন্ত্রাস

এর আগে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। ভিসি বিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ওপর দেশী অস্ত্র দিয়ে হামলার পাশাপাশি এসিড সন্ত্রাস চালায় তারা। এসিড দিয়ে ঝলসে দেয় কয়েক শিক্ষকের মুখমন্ডল ও শরীর। গুরুতর আহত ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. মতিউর রহমান ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন। হামলার সময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ক্যাম্পাসে অর্ধশতাধিক ককটেল বি¯েম্ফারণ ঘটায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করলেও কাউকে গ্রেফতার করেনি। এমনকি হামলার সময় উপস্থিত পুলিশ কাউকে বাধাও দেয়নি।

রংপুর মেডিকেলে মধ্যরাতে ছাত্রী নিপীড়ন

মধ্যরাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজানুর রহমান মিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক সুমন প্রধানের নেতৃত্বে ৫০৬০ জন ক্যাডার লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রী হোস্টেলে প্রবেশ করার ঘটনাও ঘটিয়েছে। এ সময় তারা ইন্টার্নি চিকিৎসক ও ছাত্রীদের মারধর, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং কয়েকজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হন ১০ ছাত্রী ও ইন্টার্নি চিকিৎসক।

বিশ্বজিতের আলোচিত হত্যাকাণ্ড

ছাত্রলীগের হাতে সবচেয়ে পাশবিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে গত ২০১২এর ৯ ডিসেম্বর। ওই দিন অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন বিশ্বজিৎ দাসকে। হাসপাতালে গিয়েও আশ্রয় নিয়েও প্রাণে রক্ষা পায়নি বিশ্বজিৎ। ফিনকি দিয়ে বের হওয়া রক্ত গায়ে মেখে রক্তপিপাসা মিটায় ছাত্রলীগ। পরে অবশ্য জনমতের কারণে একটি বিচার কার্য হয়েছিল সত্য। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ। ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রদল নেতা আবিদুর রহমান নিহত হন। এভাবে ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র আবু বকর সিদ্দিক, ১৫ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাসরুল্লাহ নাসিম, ৭ জানুয়ারি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রমৈত্রীর সহসভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী, ১২ জুলাই সিলেট এমসি কলেজে নিজ দলের কর্মী পলাশ, ২০০৯ সালের ১৩ মার্চে ছাত্রলীগশিবির সংঘর্ষে নিহত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান নোমানী এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ওরফে রাজীব নির্মমভাবে হত্যা করে ছাত্রলীগ।

তবে ছাত্রলীগ এই হত্যা, সন্ত্রাস, টেন্ডাবাজী, চাঁদাবাজী যখন আওয়ামী লীগের স্বার্থ উদ্ধার হয় তখন মন্ত্রী এমপিদের এই সন্ত্রাসীদের বাহবাহ দিতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে উৎসহ উদ্দীপনাও দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন মন্ত্রীরা। যেটি গত বছরের ৯ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছেন। তিনি ছাত্রলীগকে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে বলেছেন। তার এ নির্দেশের পরদিনই প্রাণ দিতে হয়ে বিশ্বজিৎকে।

কিন্তু এরপরই দেখা যায় আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের দুমুখো আচরণ। তারা খুনিদের রক্ষার জন্য উঠে পরে লাগেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর বক্তব্য দিয়েছেন হত্যাকারী খুনিরা ছাত্রলীগের কেউ নয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের এসব অপরাধ নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা এসব করছে তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়। তার বহিরাগত। কিন্তু এ বহিরাগতদের বন্য দশা আর কত দিন?

সিলেটের এমসি কলেজে অগ্নিসংযোগ

সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন দেয় ছাত্রলীগের বহিরাগত কর্মীরা। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে পরিস্কারভাবে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ২০১২ সালের ৮ই জুলাই এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি কলেজ অধ্যক্ষ ধীরেশ চন্দ্র সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। ২০০ পৃষ্ঠার এ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট থেকে মিছিল নিয়ে তারা ছাত্রাবাসে পৌঁছে আগুন দেয়। আগুন লাগানোর পর তারা ছাত্রাবাস এলাকায় উল্লাসও করে। সিলেট জেলার তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থসহ জেলা ছাত্রলীগের পদবিধারী অনেক নেতা সদিনের আগুন ধরানোর সঙ্গে জড়িত। তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ছাত্রাবাস জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার জন্য পুরোপুরি পুলিশের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তারা বলেন, ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বহিরাগতদের কোন ধরনের বাধা দেয়নি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কলেজের ভাইসপ্রিন্সিপাল মো. আল হেলাল ভূঁইয়া জানান, ২০১২ সালের ৮ জুলাই সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় প্রথমে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

ছাত্রলীগের বক্তব্য

এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা দায় স্বীকার না করে বিভিন্নভাবে ঘটনাগুলোকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা চালিয়েছেন। বেশিরভাগ থেকে ছাত্রলীগের বক্তব্য ছিলো, শিবির ঠেকাতে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। তাদেও দ্বিতীয় যুক্তি হলো, ছাত্রলীগের ভেতর কিছু অন্য সংগঠনের কর্মীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে আর তাদের দ্বারায় এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। গত ২ ফেব্রুয়ারির ঘটনা সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিবির ক্যাডাররা ঢুকে পড়েছিলো। তাই ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।।